ঢাকার পর এবার কুমিল্লার চান্দিনায় দুই স্কুলছাত্রীকে চাপা দিয়েছে একটি ট্রাক। এতে ঘটনাস্থলেই আকলিমা আক্তার (১৬) নামে এক স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও এক ছাত্রী। মঙ্গলবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা ও মুরাদনগর উপজেলার সীমান্তবর্তী গোমতা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আকলিমা মুরাদনগর উপজেলাধীন বাবুটিপাড়া গ্রামের কৃষক আবদি মিয়ার একমাত্র মেয়ে। সে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন গোমতা এলাকার গোমতা ইসহাকিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। আহত তামান্না একই গ্রামের মনির হোসেনের মেয়ে। তারা একই সাথে লেখাপড়া করতো।

এদিকে এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী প্রায় দেড়ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে অন্তত ১১টি ট্রাক ভাংচুর করে। বেলা ৩টায় হাইওয়ে ও জেলা পুলিশের সমন্বয়ে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল হান্নান সরকার জানান, ক্লাস চলাকালীন সময়ে দশম শ্রেণির বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থী তামান্না অসুস্থ হয়ে পড়ে। টিফিনের বিরতির সময় অসুস্থ তামান্না ছুটি চেয়ে প্রধান শিক্ষকের নিকট একটি লিখিত দরখাস্ত দিলে প্রধান শিক্ষক তার ছুটি মঞ্জুর করে বাড়ি পাঠানোর সিদ্ধান্ত দেন। তামান্না একা বাড়ি যেতে পারবে না বিধায় তার সহপাঠী একই গ্রামের আকলিমাকেও ছুটি দিয়ে বাড়িতে পাঠান।

তারা মহাসড়কের পাশ ঘেঁষে বাড়ি ফেরার সময় পিছন থেকে বালুবাহী ট্রাক চাপায় ঘটনাস্থলেই আকলিমা নিহত হয়। এতে আহত হয় তামান্নাও। তাকে উদ্ধার করে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানান, নিহত আকলিমা ও আহত তামান্না মহাসড়কের পাশ ঘেঁষে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলো, কিন্তু ট্রাক চালকের বেপরোয়া গতিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার প্রার্থনা করছি।

হাইওয়ে পুলিশ ইলিয়টগঞ্জ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পরপর ঘাতক ট্রাকটি পালিয়ে যাওয়ায় আটক করা সম্ভব হয়নি। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ফাঁড়িতে নিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার আশ্বাস দিয়ে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

Share