চট্টগ্রাম: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে না বলে জানিয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান।

তিনি বলেন, ‘সরকার এবারও একতরফা নির্বাচন করে জয়ী হতে চায়। তাই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে আটকে রেখেছে। খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে বিএনপি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিবে না। এটি এখন পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্ত।’

বৃহস্পতিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে নগরের কাজীর দেউড়ি ভিআইপি টাওয়ারে প্রতিবারের ন্যায় এবারও প্রায় ৬ হাজার মানুষের জন্য মেজবানের আয়োজন করেন তিনি।

সেখানে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রসঙ্গে বাংলানিউজের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় আব্দুল্লাহ আল নোমান দলের এমন সিদ্ধান্তের কথা জানান।

আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, আমরা সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে। নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে বিএনপি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে চায়। সবচেয়ে বড় কথা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি। তাকে মুক্তি দিলে নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে।

তিনি বলেন, বিএনপি এবং খালেদা জিয়া এখন যে সবচেয়ে জনপ্রিয়, তার প্রমাণ মিলছে সাম্প্রতিক সময়ের নির্বাচনগুলোতে। সুষ্ঠু নির্বাচন দিলে সরকার যে জিতবে না সেটি তারা ভালো করেই জানে। তাই খালেদা জিয়াকে আটকে রেখে বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে চায়।

জনগণই খালেদাকে বের করে এনে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে দাবি করে আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, কোনো শাসক রাষ্ট্রে বেশি দিন টিকতে পারেনি আর পারবেও না। সবকিছু সময়ই বলে দেবে। জনগণের শক্তি আমাদের কাছে বড় শক্তি। এই জনগণই খালেদাকে মুক্তি করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে।

‘সরকার জনগণের অধিকার খর্ব করতে চায়। জনগণ যাতে ভোট না দিতে পারে, সেজন্য নানা পরিকল্পনা নিয়ে রেখেছে তারা। এমনকি জনগণকে রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছে। তাদের মূল লক্ষ্যই ভোটবিহীন আরেকটা নির্বাচন করে জয়যুক্ত হওয়া’ যোগ করেন আব্দুল্লাহ আল নোমান।

এদিকে বেলা ১১টা থেকে বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী মেজবানে অংশ নেন। এ সময় আব্দুল্লাহ আল নোমানের ছেলে ও ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির (ইডিইউতে) প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চেয়ারম্যান সাঈদ আল নোমান আগত অতিথিদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

উপস্থিত ছিলেন, নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, বাংলাদেশ শিক্ষক ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি ড. সিদ্দিক আহমেদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এএম নাজিম উদ্দিন, শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক শেখ নসরুল্লাহ বাহার, নগর বিএনপির সহ-সভাপতি এম এ ছবুর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি খুরশেদুল আলম প্রমুখ।

Share