ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের আবাসিক সমস্যা সমাধানে বিদ্যমান গাবতলী সিটি পল্লীতে বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হবে। থাকবে সব ধরনের অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধাও। মিরপুর বন্যা নিরোধক বেড়িবাঁধের কাছে চার একর জমিতে ডিএনসিসি’র পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের গাবতলী সিটি পল্লীটি অবস্থিত।

বর্তমানে সেখানে ৭২০টি পরিচ্ছন্নতা কর্মী পরিবারের সদস্যরা টিনশেড বাড়িতে বসবাস করছেন। বাসস্থানের অবস্থা অত্যন্ত করুণ হওয়ায় তারা নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। নতুন বহুতল ভবনগুলোতে এসব বাসিন্দাদের জন্য উন্নতমানের বাসস্থান ও শিক্ষা সুবিধার ব্যবস্থা করবে ডিএনসিসি।
ডিএনসিসি সূত্র জানায়, বর্তমানে ডিএনসিসি’র ২ হাজার ৮০০ জন স্থায়ী পরিচ্ছন্নতা কর্মী রয়েছেন। ‘গাবতলী সিটি পল্লীতে ডিএনসিসি’র পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য বহুতল বিশিষ্ট আবাসিক ভবন নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় এসব পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য আধুনিক আবাসন গড়ে তোলা হবে।

২০৩ কোটি ৩৫ লাখ ২১ হাজার টাকা ব্যয়ে চলতি জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের জুন মেয়াদে সিটি পল্লীতে সকল অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্পের আওতায় ১৫তলার চারটি ভবনের সাতটি ব্লক নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি ব্লকের ১৫তলা ভবনের প্রতিটি ফ্লোরে আটটি করে ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি ভবনে থাকবে দু’টি প্যাসেঞ্জার লিফট।
প্রতিটি ফ্ল্যাটের আয়তন হবে সাড়ে ৮০০ বর্গমিটার। প্রতিটি ব্লক ও প্রতিটি ভবনের প্রতি তলায় ১৬টি ইউনিট হিসেবে মোট ৪৪টি ইউনিট থাকবে। প্রতি পরিবারের চারজন হিসেবে মোট ১ হাজার ৭৯২ জন লোক বসবাস করতে পারবেন।

প্রতি ইউনিটে দু’টি বেডরুম, একটি কিচেন, একটি টয়লেট ও একটি বারান্দা থাকবে। ইউনিট এরিয়া, বারান্দা, লবি ও সিঁড়িতে খোলামেলা পরিবেশ থাকছে।
সিটি পল্লীতে চারতলার একটি স্কুল, ছয়তলার উন্নতমানের ডে কেয়ার, উপাসনালয়, বিনোদন কেন্দ্র, শরীরচর্চা, কেন্দ্র, কমিউনিটি সেন্টার, সীমানা প্রাচীর, অভ্যন্তরীণ রাস্তা, বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন এবং নিজস্ব পানির সুব্যবস্থা থাকবে।

মোট কথা, একজন নাগরিকের যতো ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকা দরকার, তার সকল ব্যবস্থা থাকবে।

পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য মিরপুর বেড়িবাঁধের কাছে ১৯৯৩ সালে ওই চার একর জমি হস্তান্তর করে অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশন। এখানকার ৭২০টি পরিবারের মধ্যে ১৫০টি পরিবারকে সেমি পাকা ঘর করে দেয় ডিসিসি। বাকি ৫৭০টি পরিবার নিজ খরচে কাঁচাঘর নির্মাণ করে বসবাস শুরু করে।

এ কলোনিতে কোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধা নেই। নেই কোনো চলার পথ, ঘর-বাড়ি, খেলার মাঠ, স্কুলসহ বসবাসের উপযুক্ত পরিবেশ। পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের দীর্ঘদিনের এসব সমস্যার সমাধানেই হচ্ছে গাবতলী বহুতল আবাসন সিটি পল্লী।
ডিএনসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেসবাহুল ইসলাম বলেন, ‘যারা আমাদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখেন, তারাই বসবাস করেন অপরিচ্ছন্ন স্থানে। এটি আমরা দীর্ঘদিন ধরেই উপলব্ধি করে আসছি। দেরিতে হলেও ডিএনসিসি’র পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য আমরা আধুনিক বহুতল সিটি পল্লী তৈরি করতে যাচ্ছি। এখানে সকল ধরনের নাগরিক সুবিধা থাকবে। উন্নতমানের আবাসিক এলাকার চেয়ে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সিটি পল্লী কোনো অংশে কম উন্নত হবে না’।

‘প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কোনো টাকা-পয়সা ছাড়াই পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা ফ্ল্যাটে বসবাস করতে পারবেন। পদ অনুসারে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ফ্ল্যাট দেবো। যতো দিন চাকরি থাকবে, ততোদিন তারা বসবাস করতে পারবেন’।

Share