টাইফয়েড হলে কিভাবে বুঝবেন ।

সাধারণত টাইফয়েড জ্বরের তীব্রতা বেশী হয় এবঙ তা পর্যয়ক্রমে বাড়তে থাকে । প্যারাসিটামল জাতীয় ঊষধ খেয়ে কিছুটা কমলে, পুরোপুরি সেরে যায় না । সাত দিনের বেশী এ জ্বর থাকতে পারে, এর সঙ্গে মাথা ব্যাথা, বমি, ডাইরিয়া আবার কখনো কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে । রোগী জ্বরের ঘোরে প্রায় অচেতন হয়ে পড়তে পাড়ে বা প্রলাপ বকতে পারে । তবে কফ, কাশি এবং হারে হারে ব্যাথা কম থাকে ।

দূষিত পানিসহ খাবারের মাধ্যমে টাইফয়েডের জীবানু শরীরে প্রবেশ করে । প্রথমে পরিপাক তন্ত্রে বাসা বাধলে ো পরে এই জীবানু সারা দেহের রক্তে ছরিয়ে পড়ে, সঠিক সময়ে এর চিকিতসা না হলে নানা অঙ্গর জটিলতা সৃষ্টি হয় । টাইফয়েডের জটিলতা খুব খারাপ ধরনের হয় যেমন পরিপাকতন্ত্র ফুটো হয়ে রক্তক্ষণ, শ্বাসতন্ত্র, মস্তিক্সে প্রদাহ, মেরুদন্ড বা সন্ধিতে প্রদাহ, স্নায়ুর সমস্যা, কিডনি বিকল  ইত্যাদি । তাই রোগ সনাক্ত করে দ্রুত চিকিতসা করানো উচিত ।

পাচ দিনের মধ্যে জ্বর না কমলে ডাক্টারের পরামর্শে রক্ত পরীক্ষা করা উচিত । রক্তে শ্বেত রক্তকণিকা মাত্রা কমে এলে টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়েছে বলে মনে করা হয় । রক্ত পরীক্ষার প্রতিবেদন আসার আগেই,  শিরায় উচ্চ মাত্রার এন্টিবায়োটিক দিয়ে দ্রুত চিকিতসা শুরু করা দরকার । এ সময় রোগীকে পূর্ণ বিশ্রাম, প্রচুর তরল সুষম খাদ্য থেতে হবে ।

লক্ষ্যনিয় বিষয় জ্বর নামতে চার থেকে পাচ দিন লাগতে পারে এসময় ধৈয্য ধরে চিকিতসা করতে হবে ।

 

ডা: গোবিন্দ চন্দ্র রায়

সহযোগী অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ, শহীদ সোহরায়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

Share