হাড় কাঁপানো ও কনকনে শীতে ব্যাহত হয়েছে ছিন্নমূল মানুষের জীবনযাত্রা। বেশী বিপদে পড়েছে শ্রমজীবী মানুষ। শীতের প্রকৌপ বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষের পাশাপাশি গবাদি পশুসহ অন্যান্য প্রাণীকূলও কাহিল হয়ে পড়েছে।

দিনাজপুরে মঙ্গলবার সারাদিন সূর্যের দেখা মেলেনি। রাস্তা-ঘাট ছিলো ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা ও আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল। সকালের দিকে কুয়াশার কারণে অনেক যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাফেরা করতে দেখা গেছে। শীতের কারণে রাস্তা-ঘাট এবং হাট-বাজারে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি কম ছিল। এছাড়া তীব্র শীতে শিশু ও বৃদ্ধসহ অন্যান্য মানুষ ঠান্ডাজণিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।

ডিসেম্বরের শুরুতে শীতের তীব্র বেড়েছিল। মাঝে বেশ ক’দিন পর নতুন বছরের শুরুতে জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে সামান্য শীত অনূভুত হয়। পৌষ মাসের শেষের দিকে এসে আবারও শীতের প্রকোপ বেড়েছে।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুরে মঙ্গলবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিকে তীব্র ঠাণ্ডার কারণে খেটে খাওয়া দিন মুজুর ও শ্রমজীবী মানুষকে সব চেয়ে বেশী দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এসব মানুষ ঘর থেকে হতে পারেনি। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে তাদের কষ্ট করতে হয়েছে।

অপরদিকে, শীতের প্রকোপ বদ্ধি পাওয়ায় মঙ্গলবার সারা দিন দিনাজপুর বড় ময়দান শহীদ মিনার সংলগ্ন পুরাতন গরম কাপড়ের দোকানে ছিন্নমূল মানুষসহ সব শ্রেণির পেশার মানুষের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। আর এ সুযোগে দোকানিরা গরম কাপড়ের দাম খানিকটা বাড়িয়ে দিয়েছেন।

জেলার ১৩ উপজেলায় ছিন্নমূল মানুষের মাঝে সরকারিভাবে ইতিমধ্যে প্রায় ৪২ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ব্যাংক-বীমাসহ বিভিন্ন সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) ও ব্যক্তি উদ্যোগে শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।

Share