বাবা-মা, পাঁচ বোন আর এক ভাই নিয়ে সুখের জীবন আমাদের। পাঁচ বোনের মধ্যে আমি সবার ছোট। আমার ছোট ছিল একমাত্র ভাই। কিন্তু সুখটা বেশিদিন স্থায়ী হলো না। আমার বসয় যখন দশ তখন মারা যান মা। এর তিন বছর পর বাবাকে হারাই। বাবার চাকুরীর টাকা দিয়ে চলত আমাদের সংসার। মা-বাবাহীন অসহায় হয়ে পড়ি আমরা। এত বড় সংসার কিভাবে চলবে তা ভেবে কুলকিনারা পাচ্ছিলাম না।

হাসিনা নামে এক ভাড়াটিয়া ছিল আমাদের। সে নাচ গান করত। স্টেজ পারফর্ম করতে লম্বা ট্যুরে বিদেশ যেত। একদিনের ঘটনা। সেজে গুজে রেডি হচ্ছে সে। আগ বাড়িয়ে জিজ্ঞেস করি-আপু তুমি কোথায় যাবা? সে বলে, এফডিসিতে যাবে। এফডিসি কি তখনও আমি জানি না। প্রশ্ন করি-এফডিসি কি? উত্তরে তিনি বলেন, যেখানে নায়ক নায়িকারা শুটিং করেন। আমি বলি- আমাকে তোমার সঙ্গে নিবা? আমাকে সঙ্গে নিলে আমার বড় বোন বকা দিতে পারে এই ভয়ে সে আমাকে নিতে অনিহা প্রকাশ করে। আমি তাকে বলি- আমি তোমার সঙ্গে গেছি এ কথা আমার বোন কখনও জানতে পারবে না। আমি তোমার সঙ্গে লুকিয়ে যাব। আমাকে সে তার সঙ্গে নিয়েই এফডিসিতে যায়।

এফডিসির পুরনো গেট। যারা পুরনো তারাই একমাত্র জানেন সে গেটের কথা। আজ সবাই যে গেট দিয়ে ঢোকেন, এটা ছিল না তখন। তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ডের ঘিঞ্চি এড়িয়ে নানা ঝক্কি সামলিয়ে তবেই না এফডিসির গেট। হাসিনা আমাকে নিয়ে সে গেটের সামনে এসে হাজির হয়। দেখলাম সবাই তাকে চিনে, নানাজন তার সাথে কুশল বিনিময় করে। আমাকে নিয়ে ঢুকতে গিয়ে দারোয়ানের বাধার মুখে পড়ে। আমাকে দেখেই তারা বুঝতে পারে আমি নতুন। কি আর করা, হাসিনা আমাকে একটি রুমে বসিয়ে বলে, তুমি এখানে বসে থাক আমি একটু পরেই চলে আসব। হাসিনার ফেরার নাম গন্ধ নেই। আমি তো এখানে নতুন। কাউকে চিনি না। তার জন্য বসেই থাকি। পরে জেনেছি, এটা এক্সট্রা শিল্পীদের ওয়েটিং রুম। শুটিংয়ের জন্য কাউকে দরকার হলে এখান থেকেই নিয়ে যাওয়া হয়।

একজন এসে আমাকে বলেন, এই মেয়ে তুমি শুটিং করবা? আমি কিছুই বুঝি না। শুধু ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকি। তিনি আমাকে হাত ধরে ভিতরে নিয়ে যান। নক করতেই খুলে যায় দরজা। তিনি আমাকে নিয়ে সেই ঘরের মধ্যে ঢুকে যান। আমি ভয় পেয়ে যাই। দেখি পুরো ঘর অন্ধকার। আমি চিৎকার করে উঠি। সঙ্গে সঙ্গে আলো জ্বলে ওঠে। তিনি ধমক দিয়ে বলেন, এই বাবু চুপ করো, দেখো না এখানে ডাবিং হচ্ছে। আলো জ্বলে ওঠার পরই দেখি রুমে আরো মানুষ আছে। চোখের সামনে সিনেমার মতো পর্দায় সাড়া শব্দহীন ছবি নড়াচড়া করে। আমি তাকিয়ে তাকিয়ে দেখি। কিছুক্ষণ পর কলা, সিঙ্গারা খেতে দেওয়া হয় আমাকে। এরপর তিনি বলেন, ঐ মাইকের সামনে গিয়া তুমি ডাবিং করবা। কারো ওপর নির্যাতন হলে যেমনটি করেন ঠিক তেমন। আমিও মাইকের সামনে গিয়ে তাদের শিখিয়ে দেওয়া বুলি আউড়াই। ডাবিং শেষ হয়। আমি চলে আসব-এমন সময় আমাকে ১০০ টাকা দিতে উদ্যত হন। আমি সে টাকা নেওয়ার সাহস পাই না। তাকে বলি, ভাই আমাকে কলা সিঙ্গারা দিয়েছেন আমি এতেই খুশি। টাকা নেব না। তিনি এক রকম জোর করেই আমার হাতে টাকাটা গুজে দেন। এটাই চলচ্চিত্রে আমার প্রথম ইনকাম। যিনি আমাকে প্রথম কাজ করালেন পরে জানলাম তিনি নজরুল ভাই। ফখরুল হাসান বৈরাগী ভাইয়ের প্রোডাকশন ম্যানেজার।

পরে পরিচয় হয় চান ভাইয়ের সঙ্গে। তিনি ছিলেন সোহানুর রহমান সোহান ভাইয়ের প্রোডাকশন ম্যানেজার। তিনি আমাকে বলেন, এই মেয়ে তুমি শুটিং করবা? কাল কাপড় চোপর নিয়ে এফডিসিতে আসতে পারবা? আমি সায় দিই। পরের দিন নির্দিষ্ট সময়ে গিয়ে হাজির হই এফডিসিতে। চান ভাই আমাকে গুলশান, উত্তরা না ধানমন্ডি- কোথায় যে নিয়ে গিয়েছিলেন আজ তা বলতে পারব না। তিনি আমাকে নিয়ে যেখানে হাজির হন সেখানকার কাউকে আমি চিনি না। শুধু একজনকে চেনা চেনা লাগে। মনে পড়ে বড় বোন আমাকে সিনেমা হলে ছবি দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলেন। তাকে দেখে ভালো লাগে আমার। চান ভাই বলেন, তিনি ওমর সানি। সিনেমার নায়ক। তাকে তুমি চেনো? বিদগুটে চেহারার আরও একজন। মাথা ভর্তি ঝাকড়া চুল,চোখ দুটো বড় বড়। তাকে দেখে ভয় পেয়ে যাই। চান ভাই বলেন, আরে বাবু, ভয়ের কিছু নেই। উনি কাবিলা, অভিনয় করেন। আজ তার সঙ্গেই তোমাকে অভিনয় করতে হবে।

আমার সাহস যোগাতে এগিয়ে আসেন স্বয়ং সানি ভাই। তিনি আমার এক হাত আর কাবিলা ভাই ধরে থাকেন অন্য হাত। ক্যামেরা-এ্যাকশন বলার সঙ্গে সঙ্গে সানি ভাই আমার হাত ছেড়ে দেন। কাবিলা ভাই আমার হাত ধরে নাসির খান ভাইয়ের সামনে গিয়ে দাঁড়ান। তিনি আমাকে দেখেই কাবিলা ভাইয়ের দিকে ঘৃণাভরে তাকান এরপর ধূর ধূর করে তাড়িয়ে দেন। শট ওকে হয়। করতালি দেন সবাই। আমার প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোটা এভাবেই। ছবির নাম ছিল অগ্নিপথ। এরপর এফডিসিতে আনাগোনা বেড়ে যায় আমার। অন্যরকম এক আনন্দ কাজ করে মনের ভিতর। ঘরে মন টিকে না। এভাবেই সব নাচের মেয়ে আর এক্সট্রা শিল্পীদের সঙ্গে চেনা জানা হয়ে যায় আমার। তাদের কেউ কেউ আবার কাজও জুটিয়ে দেয় আমাকে।

রুপনগরের রাজকন্যা ছবিতে টেলিসামাদ ভাইয়ের জুটি হয়ে অনেকের নজরে আসি আমি। এরপর কখন যে দিলদার ভাইয়ের জুটি হয়ে যাই তা আজ আর মনে নেই। শুধু দিলদার ভাই নয়, আফজাল শরিফ ভাই, বাঙ্গালি ভাই এবং কাবিলা ভাইয়ের কমেডিয়ান জুটি হয়ে অসংখ্য ছবিতে কাজ করি। তবে আমার যত পরিচিতি তার সবই দিলদার ভাইয়ের জুটি হয়েই।১৯৯৫ সালের কথা। ছোটখাটো চরিত্র করে ততদিনে চলচ্চিত্রের চেনাজানা একজন হয়ে গেছি। চলচ্চিত্রে আমার দুই বছরের মধ্যেই ছায়াছন্দ পত্রিকায় আমার আর শাবানা আপার ছবি দিয়ে কভার স্টোরি ছাপা হয়। শিরোনাম ছিল ‘শাবানার পথ ধরে নাসরিন’। সে পত্রিকাটি আজও আমি রেখে দিয়েছি। শহীদুল ইসলাম খোকন ভাই একদিন বলেছিলেন, এই মেয়ে তোমাকে চাল ডালের ব্যবস্থা করে দিই, তুমি কিছুদিন ঘরে বসে থাকো। তোমার কোনো কাজ করতে হবে না। আমি তোমাকে রুবেলের বিপরীতে নায়িকা করব।

শ্রদ্ধেয় পরিচালক আজিজুর রহমান ভাই আমাকে বলতেন, তুমি তো বোম্বের মমতাজ। তোমাকে দিয়েই হবে। আরেক শ্রদ্ধেয় পরিচালক ছিলেন জহিরুল হক। তিনি আমাকে হেলেন নামে ডাকতেন। তিনি একদিন আমার শান্তিনগরের বাসায় তার সুজন সখি ছবির নায়িকা হওয়ার জন্য প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু আর করা হয়নি। তারও আগের এক ঘটনা। কাঞ্চন ভাইয়ের সঙ্গে ছবির একটি গানে অংশ নিই আমি। সেখানে দেখে এটিএম ভাই পছন্দ করেন আমাকে। তিনি কাঞ্চন ভাইকে বলেন, তুই না নায়িকা খুঁজছিস? এই মেয়েটাকে তো নিতে পারিস। তোর সাথে মানাবে বেশ। এরপর এটিএম ভাই বলেন, এই মেয়ে তুমি কাঞ্চনের বাসা চেনো? আমি বলি, না চিনি না। তিনি আমাকে বাসার ঠিকানা দিয়ে সন্ধ্যার পর কাঞ্চন ভাইয়ের বাসায় যেতে বলেন। তখন ছিল রোজার মাস। ইফতারের পর পরই আমি কাঞ্চন ভাইয়ের মগবাজারের বাসায় যাই। সেখানে এটিএম ভাই আমাকে চলচ্চিত্রের নানা নিয়মকানুন শিখান। কিভাবে নায়কের সঙ্গে কথা বলতে হবে, মিশতে হবে-ইত্যাদি। ৪/৫ দিন এভাবেই চলে। একদিন ব্যান্ডশিল্পী জেমস ভাই আসেন কাঞ্চন ভাইয়ের বাসায়। কাঞ্চন ভাইয়ের একটি ফ্ল্যাট আছে সেটি তিনি ভাড়া নিতে চান। কাঞ্চন ভাই তার সঙ্গে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আমি এটিএম ভাইকে বলে চলে আসি। এরপর আমাকে আর ডাকা হয় না। কেন ডাকা হয় না তা নিয়ে কোনো মাথা ব্যথাও ছিল না আমার। মনে মনে ভাবি, হয়ত কোনো সমস্যা আছে।

একদিন এফডিসিতে এটিএম ভাইয়ের সঙ্গে দেখা। তাকে বলি, ভাই আমাকে তো আর ডাকলেন না। তিনি বলেন, তুমি তো একটা পাগল, তোমার মাথায় নাকি সমস্যা আছে? আমি তো কাঞ্চনের কাছে বকাঝকা খেলাম। বলল, মাথায় ছিট আছে এমন মাইয়া দিছ আমার নায়িকা হিসেবে! এজন্যই তো সে সোনিয়াকে নিয়েছে। কে বলেছে এ কথা, এটিএম ভাইয়ের কাছে জানতে চাই আমি। তিনি বলেন, কে আর বলবে? দিলদার বলেছে। এমন সময় দিলদার ভাই এসে সামনে দাঁড়ান। এটিএম ভাই তখন বলে ওঠেন, তুমি না বললা নাসরিন পাগল। তাকে নিয়ে তুমি কাজ করছ কেমনে? তুমি তো মিয়া মেয়ের ভবিষ্যতটা নষ্ট করে দিলা। তার কথার কোনো জবাব না দিয়েই দিলদার ভাই চোখের আড়াল হয়ে যান। পরে আমি তাকে ধরি। বলি, দিলদার ভাই আপনি আমাকে কাজটা করতে দিলেন না ক্যান? তিনি বলেন, বাদ দাও তো সব। তুমি কি বসে আছ? আমার সঙ্গে কাজ করছ না? ৩০০/৫০০ টাকা পাচ্ছ না? যা হবার তা হয়ে গেছে, ওসব নিয়ে ভেবে মন খারাপ করো না। শুধু কাজ করে যাও। এভাবেই সাত পাঁচ বোঝাতে থাকেন। কোনটা ঠিক আর কোনটা ঠিক নয় তা বোঝার ক্ষমতাও ছিল না আমার। আমি শুধু কাজের মধ্যেই ডুবে থাকতে চেয়েছি।

এক সময় বড় হই আমি। এফডিসির বাইরেই ছিল বস্তি। সে বস্তির একদল মাস্তান আমাকে চোখে চোখে রাখত। আমাকে কিডন্যাপ করতে চাইত। নানা ভাবে ডিসটার্ব করত। আমাকে কেউ কাজে নিলে তাকে হুমকি দিত। আমাকে সেফ করতেই অভিনেতা নানা শাহ ভাইকে পিস্তলের গুলি ফোটাতে হয়েছিল। এসব কারণে ইচ্ছে থাকলেও আমাকে নিয়ে কেউ রিস্ক নিতে চাইত না। টাকা দিয়ে কাজ করাবেন, সেখানে শিল্পীর অভাব আছে? আমাকে নিয়ে তারা অযথা ঝামেলায় জড়াবেন কেন? আমি জানতাম এফডিসি হলো কেপিআই এরিয়া। এখান থেকে আমাকে কেউ উঠিয়ে নেওয়ার সাহস পাবে না। কিন্তু আমার তো গাড়ি নেই। গেট দিয়ে বের হলেই যদি ধরে? এভাবে কত যে, ভয়ের মধ্যে কেটেছে আমার তা বোঝানো যাবে না।

দিলদার ভাইয়ের সঙ্গে জুটিটা ভালোই ছিল। কে যেন তার স্ত্রীর কাছে আমাকে নিয়ে গীবত করেন। স্ত্রীর মন রক্ষার জন্যই তিনি আমার সঙ্গে ছবি করা বন্ধ করে দেন। আমিও তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করিনি। কাবিলা ভাইয়ের সঙ্গে আমি ব্যস্ত হয়ে পড়ি। দিন যত যাচ্ছিল নানা কারণে আমিও তার সঙ্গে কাজ না করার চিন্তা ভাবনা করছিলাম। কারণ, এটিএম ভাইয়ের ওই কথাটি সবসময় আমার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল। দিলদার, তুমিতো মেয়েটার ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিলা। এজন্য তার প্রতি আমার একটা ক্ষোভ ছিল। কারণ, তার কারণেই আজ আমি নায়িকা হতে পারিনি। তার সঙ্গে অভিনয় করার কারণে কোনো হিরো আমার নায়ক হতে চায়নি। তারা দিলদারের নায়িকা বলে তাচ্ছিল্য করেছে। আব্দুল্লাহ ছবিতে নতুন আপাকে দিলদারের নায়িকা হওয়ার কারণেই তো তিনি তার ইমেজ হারিয়েছেন। এজন্যই হয়তো কোনো হিরো আমার সঙ্গে কাজ করতে সাহস পায়নি। আবার মাঝে মাঝে ভাবি, দিলদার ভাই না হলে তো আমি এত পরিচিতিও পেতাম না। নায়িকা হওয়ার চিন্তায় বসে থাকলে আবার হারিয়েও যেতে পারতাম।

সলো নায়িকা না হতে পারি, সহনায়িকা তো হয়েছি। আলেকজান্ডার বো, সোহেল আর মেহেদী ছাড়া সবার সাথেই তো নায়িকা হয়েছি। কাঞ্চন ভাই, মান্না ভাইয়েরও নায়িকা হয়েছি। এরপরও অনেক কষ্ট আর অবহেলার কথা মনে হলে কান্না পায় আমার। সাম্পানওয়ালা ছবির শুটিং চলছে। সাদা একটা ড্রেস পরেছি আমি। হঠাৎ করেই মৌসুসী বললেন, আমিতো সাদা পরব। তুই এ ড্রেসটা খুলে ফেল। খুলে আমি লাল কালারের ড্রেস পরি। শুটিংয়ে শট দেওয়ার জন্য গাড়িতে উঠব- এমন সময় মৌসুমী আবার বলেন, আমি লাল ড্রেস পরব, তুই অন্য কালারের ড্রেস পর। আমাকে রেখেই শুটিংয়ের গাড়ি চলে যায়। এরপর টিয়ে কালারের একটি ড্রেস পরে শুটিং করতে হলো আমাকে। গোলাপজান ছবির শুটিংয়ে আমাকে দেখে তো মৌসুমী বিষণ রেগে গেলেন। আমি থাকলে তিনি শুটিংই করবেন না। কথাগুলো মনে হলে এখনো কান্না পায় আমার।

চলচ্চিত্রে ২৪ বছর পার করে দিলাম অথচ আমি এখনও জুনিয়র রয়েই গেলাম। হাতির বাচ্চা যেন সব সময় ছোটই থাকে। সে যেন আর বাড়ে না। আমার অবস্থাও তাই। গত বছর মুক্তি পেয়েছে আমার সত্তা ছবিটি। এ ছবিতে আমি একজন পতিতার চরিত্রে অভিনয় করেছি। আমার অভিনয় দেখে অনেকেই বলেছেন, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়ার মতো নাকি অভিনয় করেছি আমি। জানি না কি হবে, নাকি অধরাই রয়ে যাবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। তারপরও আল্লাহর কাছে হাজার শোকরিয়া যে, আমি এক মেয়ে এবং এক ছেলের মা। রিয়েলের মতো ভালো স্বামী পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। হয়তো কোনোদিন কোন পূণ্য কাজ করেছিলাম, যে কারণে আল্লাহ আমাকে এমন স্বামী উপহার দিয়েছেন। স্বামী সন্তান নিয়ে আমার সংসার আমার স্বর্গ। আল্লাহর কাছে একটাই চাওয়া আমি যেন আমার সন্তানদের ভালো মনের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারি। তারা যেন কোনদিন কাউকে অবহেলা না করে।

Share