সিরাজগঞ্জ, রাজবাড়ী ও কুমিল্লায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ চারজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার ভোরে ও বৃহস্পতিবার রাতে এসব ঘটনা ঘটে।

সিরাজগঞ্জ ও কুমিল্লায় নিহত তিন ব্যক্তি ডাকাত ও রাজবাড়ীতে নিহত ব্যক্তি পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির সক্রিয় সদস্য বলে দাবি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর।

প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:

রাজবাড়ী: রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ লালন হালদার (৪২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। পুলিশের দাবি, নিহত ব্যক্তি পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির সক্রিয় সদস্য ছিলেন।

শুক্রবার ভোরে পাংশা উপজেলার সুইসগেট এলকায় এ ঘটনা ঘটে। লালন হালদার পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত জীতেন হালদারের ছেলে।

পাংশা থানার ওসি আহসান উল্লাহ সমকালকে বলেন, চরমপন্থী নেতা লালন উপজেলার হাবাসপুর এলাকয় পদ্মা নদীর তীরে রাতে গোপন বৈঠক করছিল, এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় চরমপন্থী দলের সদস্যরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি ছোড়ে। জবাবে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এতে লালন গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে পাংশা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, ঘটনাস্থল থেকে ১টি ওয়ান শুটার গান, ১টি একনলা বন্দুক ও ৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় র‌্যাব-১২’র সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ হজরত আলী (৪২) নামে এক ডাকাতের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার পাইকপাড়ার শ্বশানঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

র‌্যাবের দাবি, উল্লাপাড়ার উধুনিয়া পঙ্খুরুয়া গ্রামের মাহমুদ আলীর ছেলে হযরতের বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ কমপক্ষে ১০টি মামলা রয়েছে। র‌্যাব ঘটনাস্থল থেকে দুইটি শুটার গান, ১৪টি কার্তুজ, একটি কুড়াল, একটি হাসুয়া ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে।

র‌্যাব-১২, সিরাজগঞ্জ’র স্পেশাল কোম্পানি কমান্ডার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাকিবুল ইসলাম খান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাবের অভিযানে ডাকাত হযরত আলী গুলিবিদ্ধ হন। বাকিরা পালিয়ে যায়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। উল্লাপাড়া থানা পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা: কুমিল্লায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আল আমিন ও এরশাদ নামে দুই ডাকাত নিহত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে জেলার তিতাস উপজেলার বাতাকান্দি-আসমানিয়া বাজার সড়কের নারায়নপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ডিবি পুলিশের ২ জন এসআইসহ ৪ ডিবি পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও গুলিসহ ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত কিছু সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে।

অভিযানে অংশ নেয়া ডিবির এসআই শাহ কামাল আকন্দ জানান, ডাকাতি প্রতিরোধে ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন মৃধার নেতৃত্বে জেলার তিতাস এলাকায় ডিবির একটি টিম অবস্থান করছিল। গভীর রাতে ওই উপজেলার বাতাকান্দি-আসমানিয়া বাজার সড়কের নারায়নপুর কবরস্থানের সামনের রাস্তায় ডাকাতির প্রস্তুতির খবর পেয়ে ডিবির টিমটি রাত আড়াইটার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে। ডিবি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দল পুলিশের উপর এলোপাতাড়ি  গুলি ও ইট-পাথর নিক্ষেপ করতে থাকে। এক পর্যায়ে পুলিশও আত্মরক্ষায় ২১ রাউন্ড শর্টগানের গুলি চালায়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ৭ ডাকাতকে আটক করা হয়। এদের মধ্যে মাথায় গুলিবিব্ধ হয়ে গুরুতর আহত আল আমিন ও এরশাদ নামের ২ ডাকাতকে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেওয়ার পর চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত ডাকাত আল-আমিন (৩০) তিতাস উপজেলার উত্তর মানিকনগর গ্রামের খোরশেদ আলমের পুত্র এবং অপর ডাকাত এরশাদ (৩২) জেলার বুড়িচং উপজেলার কংশনগর গ্রামের চরেরপাড় গ্রামের নুরুল ইসলামের পুত্র।

নিহত ডাকাত এরশাদের বিরুদ্ধে ৯ টি এবং আল-আমিনের বিরুদ্ধে ৫টি ডাকাতি মামলা বিচারাধীন। আটককৃত ডাকাতদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ৩-৪ করে মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Share