যখন থেকে জার্সি নম্বরের শুরু, তখন থেকে প্রতিটি ক্লাব বা জাতীয় দলে কেউ না কেউ ১০ নম্বর জার্সিটি পরছেন। কিন্তু ‘নাম্বার টেন’কে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার কৃতিত্ব দু’জনের- পেলে আর ম্যারাডোনার। এ শতাব্দীতে দীর্ঘ সময় ধরে নাম্বার টেনের মর্যাদা উঁচিয়ে রাখা মানুষটি হচ্ছেন মেসি। গতকালই ১০ নম্বর জার্সিতে ১০ বছর পূর্ণ করলেন বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন এ তারকা।

‘নাম্বার টেনের টেন ইয়ার’ পূর্তির দিনে সামাজিক মাধ্যমে মেসি ও বার্সেলোনা সমর্থকরা উচ্ছ্বসিত। ১০ সম্পর্কিত মেসির নানা তথ্য উল্লেখ করে আলাদা আলাদা কনটেন্ট তৈরি করে বার্সেলোনার ওয়েবসাইটও। জানানো হয়, ১০ নম্বর জার্সি পরই পাঁচবার করে লা লীগার সর্বোচ্চ গোলদাতা, গোল্ডেন শু ও ব্যালন ডি’অর জিতেছেন মেসি। এই জার্সিতে ৫২৭টি ম্যাচ খেলে গোল করেছেন ৫১০টি, অ্যাসিস্ট আরও ১৯২ গোলে। ২০০৮ সালের ২৪ জুলাইয়ের আগে বার্সেলোনার ১০ নম্বর জার্সি পরতেন রোনালদিনহো। মেসি পরতেন ১৯ নম্বর জার্সি। দুই বছর ‘১৯’-এ থাকার আগে ‘৩০’ পরেছেন আরও দুই বছর। এক দশক আগে রোনালদিনহো যখন ইতালিয়ান ক্লাব এসি মিলানে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তখনই উত্তরসূরি হিসেবে মেসিকেই জার্সিটি দিতে বলে যান। পরবর্তী সময়ে এক সাক্ষাৎকারে মেসি বলেন, ‘তিনি চলে যাওয়ার কয়েক মাস আগেই এ নিয়ে কথা বলেছিলেন। আমাকে বললেন, ১০ নম্বর জার্সি পরতে। সত্যি বলতে, এই নম্বরের ওজন তখনও অতটা আমার মাথায় ছিল না। যদি বুঝতাম, তাহলে ১০ নম্বর জার্সি নিতাম না।’ ১০ নম্বর জার্সিতে মেসি তার প্রথম ম্যাচটি খেলতে নামেন স্কটিশ ক্লাব হাইবারনিয়ানের বিপক্ষে। মেসি সেদিন বার্সার ৬-০-এর জয়ে একটি গোলও করেন। তবে প্রাক-মৌসুম প্রীতি ম্যাচ ছিল বলে গোলটি তার ক্যারিয়ারে যোগ করা হয় না। আনুষ্ঠানিকভাবে মেসির নামে ১০ নম্বর জার্সি বরাদ্দ দেওয়া হয় ৩ আগস্ট। প্রথম প্রতিযোগিতামূলক খেলেন আগস্টের শেষ দিন লা লীগায় নুমান্সিয়ার বিপক্ষে। বার্সেলোনার পথ ধরে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলও ২০০৮-০৯ মৌসুম থেকে মেসির জন্য ১০ নম্বর জার্সি নির্ধারণ করে দেয়, যার ধারাবাহিকতা চলছে এখন পর্যন্ত…।

Share