ঈদুল আজহার দিন অনেকেই গরু কোরবানি ও মাংস বিতরণ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। সে কারণে বেড়াতে বের হতে পারেননি। তবে ঈদের পর দিন বৃহস্পতিবার (২৩ আগস্ট) বেড়াতে বের হয়েছেন। আর এ বেড়ানোর জায়গা হিসেবে অনেকেই হাতিরঝিলকেই বেছে নিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার হাতিরঝিল ঘুরে দেখা যায়, দুপুরের পর থেকেই এ এলাকায় প্রচুর লোকের সমাগম হয়েছে। বিশেষ করে হাতিরঝিলের আশপাশ এলাকা রামপুর, বাড্ডা, তেজগাঁও, মগবাজার, শাহাজানপুর, খিলগাঁও এলাকা থেকে প্রচুর লোক এসেছেন। আবার অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকেও এসেছেন। বিকেলে হাতিরঝিলের পারাপার ব্রিজগুলোতে ছিল উপচেপড়া ভিড়। এছাড়া ঝিলপাড়ে বসেও সময় কাটাচ্ছেন তারা।

প্রতিবার ঈদের সময় হাতিরঝিলে ভিড় বেশি হয়। তবে কোরবানির ঈদের পর দিন থেকেই বেশি ভিড় হয়ে থাকে হাতিরঝিলে। এখানে মুক্ত বাতাস, খোলামেলা পরিবেশ, ঝিলপাড় মানুষকে টেনে আনে। এছাড়া হাতিরঝিলের বোটেও চড়তে পছন্দ করেন অনেকেই।

খিলগাঁও থেকে ঘুরতে আসা আরিফ বেগ বলেন, হাতিরঝিলের মতো খোলামেলা পরিবেশ ঢাকা শহরে খুব কম রয়েছে। সে কারণেই এখানে আসি। এখানের মুক্ত বাতাস আমার ভালো লাগে।

রামপুরা থেকে বেড়াতে আসা মোবারক হোসেন বলেন, হাতিরঝিলের পরিবেশ প্রকৃতি সবারই ভালো লাগে। ঈদের ছুটিতে তাই এখানেই আসি। ঝিলের পাশে বসে সময় কাটিয়ে থাকি।

হাতিরঝিল ঘুরে দেখা যায়, অনেকেই বোটে চড়ছেন। এ বোটে সাধারণত প্রয়োজনেই চড়ে থাকেন যাত্রীরা। রামপুরা থেকে গুলশান লিঙ্ক রোড, লিঙ্ক রোড থেকে এফডিসি, এফডিসি থেকে রামপুরা সময় বাঁচানোর লক্ষ্যেই এ বোটে চড়েন যাত্রীরা। তবে ঈদের ছুটিতে আর সময় বাঁচাতে নয়, সময় কাটাতেই বোটে চড়ছেন সাধারণ মানুষ। উপভোগ করছেন পরিবেশ। এছাড়া ওটায়ারট্যাক্সি রাইডেও ছিল অনেক ভিড়।

বিকেলে রামপুরা থেকে বোটে চড়ার উদ্দেশে অনেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এদের মধ্যে ফরিদ শেখ নামে একজন ভ্রমণার্থী বলেন, হাতিরঝিলে বোটে চড়তে খুব ভালো লাগে। ঝিলের লেকে বোটে ভেসে বেড়ানোর আনন্দই আলাদা। তবে বোটে চড়ার জন্য অনেক সময় দীর্ঘলাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এটা কিছুটা বিরক্তিকর। তবে বোটে চড়ার পর সেই বিরক্তি আর থাকে না।

হাতিরঝিল এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিবারই ঈদের সময় এখানে ভিড় হয়। এবারো ব্যতিক্রম নয়। ঈদের ছুটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এখানে লোকজন সময় কাটাতে আসবেন।

Share