আন্তর্জাতিক

‘ব্রেক্সিটের দিন’ স্থগিত হবে ইইউ’র আইন

বৃটেনের রাণীর পরবর্তী ভাষণে ‘গ্রেট রিপিল বিল’ নামে নতুন একটি বিল উত্থাপন করবেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে। ৪৪ বছর আগে যে আইনের বলে বৃটেন ইউরোপে প্রবেশ করেছিল, এই বিল ওই আইনকে অকার্যকর করবে। স্কাই নিউজ মনে করছে, আগামী বছর বৃটেনের আইন থেকে ইউরোপিয়ান কমিউনিটিস অ্যাক্ট দূর করার জন্যই এই উদ্যোগ নেয়া হবে। তাতে ইইউ’র আইন ও নীতিমালা অভ্যন্তরীণ আইনে পরিণত হবে এবং পরবর্তীকালে তা যুক্তরাজ্যের সংসদের গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গ্রহণ বা বর্জন করা হবে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে। যার অর্থ হলো- বৃটেন আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার অনেকদিন পর পর্যন্তও ইইউ’র অনেক আইন বলবৎ থাকতে পারে।
এদিকে সানডে টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠেয় জার্মানির নির্বাচনের আগেই প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে অনুচ্ছেদ ৫০ সক্রিয় করবেন। সানডে টাইমসে দেয়া সাক্ষাৎকারে তেরেসা আবারও বলেন, ২০২০ সালের আগে তিনি সাধারণ নির্বাচন দেবেন না। তিনি সতর্ক করেছেন, আগাম নির্বাচন ‘অস্থিতিশীলতা’র কারণ হতে পারে।
ব্রেক্সিটবিষয়ক মন্ত্রী ডেভিড ডেভিস বলেছেন, বিদ্যমান আইনে পরিবর্তন আনার বিষয়ে সরকার ‘সহজ পথ গ্রহণ’ করবে। তিনি বলেন, ‘ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার দিন বাস্তবসম্মত স্থানগুলোতে ইইউ’র আইনকে নিজেদের আইন দিয়ে প্রতিস্থাপিত করা হবে। ব্রেক্সিটবিষয়ক আলোচনা ও আমাদের বেরিয়ে যাওয়ার ফলাফলকে প্রতিফলিত করে, এমনভাবে এখানকার নির্বাচিত রাজনীতিবিদদের ওই পরিবর্তন আনতে হবে।’
‘গ্রেট রিপিল বিল’ ইইউ আইনের আধিপত্যের অবসান ঘটাবে। এই আইন কার্যকর হলে ইউরোপিয়ান কোর্ট অব জাস্টিসের রায় যুক্তরাজ্যের ওপর আর প্রয়োগ হবে না। এই বিলে সেকেন্ডারি লেজিসলেশন ব্যবহার করে আইন পরিবর্তনের ক্ষমতাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে বিস্তৃত পরিসরের সংশোধনী ও নতুন আইন প্রণয়নের বিষয়গুলো পৃথক বিলে উত্থাপন হতে পারে। ডেভিস বলেন, ‘এর জন্যই জনগণ ভোট দিয়েছিল- আমাদের নিজ দেশের সার্বভৌম প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতেই আরেকবার ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব ফিরিয়ে আনা।’
বৃটেনের সাবেক মন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’র কাছে ‘ব্রেক্সিট ব্লুপ্রিন্ট’ উত্থাপন করে দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে ইইউ থেকে বৃটেনের বেরিয়ে আসার বিষয়ে চাপ প্রয়োগ করার পর এ ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। রোববার টোরি পার্টির সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের আগেই সাবেক মন্ত্রীদের এই পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়েছে। সাবেক এসব মন্ত্রীর মধ্যে রয়েছেন ইয়ান ডানকান স্মিথ, জন রেডউড, ওয়েন প্যাটারসন ও পিটার লিলি। তবে কনজারভেটিভ পার্টির অনেক সদস্যই এখন এই পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। জানা গেছে, শিক্ষাবিষয়ক সাবেক সেক্রেটারি নিকি মরগান ওই সম্মেলনে সতর্কবার্তা তুলে ধরবেন। তিনি তুলে ধরবেন ‘হার্ড ব্রেক্সিটে’র কথা, যাতে যুক্তরাজ্য ইইউ’র একক বাজারকে প্রত্যাখ্যান করছে এবং ইউরোপিয়ান নাগরিকদের জন্য নিজেদের সীমান্ত বন্ধ রাখছে। এটা গোঁড়ামি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নিকি মরগান। তিনি সম্মেলনে যে বক্তব্য রাখবেন তার কিছু অংশ এরই মধ্যে প্রকাশিত হয়েছে দ্য অবজারভারে। তাতে বলা হয়েছে, ‘অনেকেই রয়েছেন যাদের জন্য গণভোটের ফলাফল যথেষ্ট নয়। তারা আমাদের কাছে ‘হার্ড ব্রেক্সিট’ চান, যাতে আমরা ইইউ থেকে বেরিয়ে আসবো… এবং জনগণকে তাদের নাগরিকদের সম্পর্কে বলতে দেবো যা অসহিষ্ণুতা ও গোঁড়ামিকে সমর্থন দেয়।’
তবে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ডমিনিক গ্রিভ সতর্ক করেছেন যে, এটা বলা হয়েছে- ‘প্রধান ইস্যু হলো এই প্রস্তাব গৃহীত হলে তা দীর্ঘমেয়াদে সমাধান  দেবে না। কারণ আমাদের আইন ও ইইউ’র আইনের মধ্যেকার পার্থক্য শুরু হবে তাৎক্ষণিকভাবেই। যেসব ব্যবসায়ী ইইউ’র মতো সমান সুবিধা চায়, তাদের জন্য এটা পুনঃনিশ্চয়তা  দেবে না। এটা স্পষ্ট নয় যে, আমরা এরপরও ইইউ’র আইনই প্রতিফলিত করবো কিনা।’
ইউনিভার্সিটি অব এসেক্সের ইইউ আইন বিষয়ের অধ্যাপক স্টিভ পিয়ার্স বলেন, ইইউ বিধান প্রতিস্থাপন করতে তেরেসা মে’র পরিকল্পনা ‘সম্ভবত ব্রেক্সিটের ক্রান্তিকাল উত্তরণে সবচেয়ে সহজ পথ’। তিনি স্কাই নিউজকে বলেন, ‘নীতিগতভাবে এটা ঠিক আছে। এটা বড় ধরনের আইনি ও ব্যবহারিক শূন্যতা এড়াতে পারে। কিন্তু ভবিষ্যতে কোনো ইইউ আইনের পরিবর্তন হবে এবং কে সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে, তা একটি বড় বিষয়। এই সিদ্ধান্ত নেয়া কি সোজাসাপ্টাভাবে সরকারের ওপর অর্পিত ক্ষমতা না কি সংসদীয় আইনের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নেবে সংসদ?’ অধ্যাপক পিয়ার্স আরো বলেন, ‘আমার মনে হয় এই বিলের ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত প্রভাব বিস্তার করতে এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।’

 

মানবজমিন থেকে নেয়া