জাতীয়

রক্তস্নাত সেই ২১ আগস্ট আজ

বিভীষিকাময়-ভয়াল, রক্তস্নাত সেই ২১ আগস্ট আজ। বারুদ আর রক্তমাখা বীভৎস রাজনৈতিক হত্যাযজ্ঞের দিন। মৃত্যু-ধ্বংস-রক্তস্রোতের নারকীয় গ্রেনেড হামলার ১৫তম বার্ষিকী। ২০০৪ সালের এ দিনে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের ক্ষমতায় থাকাকালে সভ্যজগতের অকল্পনীয় এক নারকীয় হত্যাকাণ্ড চালানো হয় ২০০৪ সালের এ দিনে। গ্রেনেডের দানবীয় সন্ত্রাস আক্রান্ত করে মানবতাকে।
রক্ত-ঝড়ের প্রচণ্ডতায় আরো একবার মলিন হয়ে যায় বাংলা ও বাঙালির মুখ। বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এদিন আয়োজন করা হয়েছিলো শান্তি সমাবেশ। গ্রেনেডের আঘাতে সেই শান্তি সমাবেশ মুহূর্তেই পরিণত হয়েছিল মৃত্যুপুরীতে।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট। দিনটি ছিল শনিবার। বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউয়ের ওই সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা। হাজার হাজার মানুষের সমাগমে ওই সমাবেশটি মহাসমাবেশে রূপ নেয়। সমাবেশের শেষ পর্যায়ে ট্রাকের ওপর তৈরি অস্থায়ী মঞ্চে বক্তব্য দিতে শুরু করেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলে বক্তৃতা শেষ করে ট্রাক থেকে নামার মুহুর্তেই শুরু হয় নারকীয় গ্রেনেড হামলা। শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এবং আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা মানবঢাল তৈরি করে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেন বঙ্গবন্ধু কন্যাকে।

পরিকল্পিত হামলায় মৃত্যুর দুয়ার থেকে শেখ হাসিনা ফিরে এলেও ওইদিন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয় পুরো এলাকা। এ ভয়ঙ্কর গ্রেনেড হামলার পর সেদিন স্লিন্টারের আঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিলেন শত শত মানুষ। রক্তে ভিজে লাল হয়ে যায় পিচঢালা কালো পথ। ২১ আগস্টের সেই রক্তাক্ত ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন ১৬ জন। নারী নেত্রী আইভি রহমান ৫৮ ঘণ্টা মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ২৪ আগস্ট মারা যান। আহত হওয়ার পর প্রায় দেড় বছর মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে মারা যান আওয়ামী লীগের জনপ্রিয় নেতা ও ঢাকার প্রথম নির্বাচিত মেয়র মোহাম্মদ হানিফ।

নারকীয় ওই হত্যাযজ্ঞের পরও থেমে থাকেনি ষড়যন্ত্র। গ্রেনেড হামলার ঘটনায় শুরু থেকেই হোতাদের আড়াল করতে, তদন্তের গতি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা শুরু হয়। তৎকালিন সরকারের সময়ে তদন্তের নামে জাতির সামনে হাজির করা হয় নানা ‘আষাঢ়ে গল্প’। আর এসব গল্পের মাধ্যমে প্রথম থেকেই বিষয়টিকে বিতর্কিত করার কাজ চলতে থাকে। তবে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির পর পাল্টে যায় গোটা পরিস্থিতি। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এসেই নতুন করে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার তদন্ত শুরু করে। আর দ্বিতীয় দফা তদন্তে বেরিয়ে পড়ে আসল ঘটনা।