খাদ্য ও পুষ্টি

সজনে ডাঁটার স্বাস্থ্য উপকারিতা


সজনে ডাঁটা গরমের সবজি। সজনে ডাঁটা দিয়ে রান্না করা হয় মজাদার তরকারি। সজনে ডাঁটা ও সজনের পাতা তো বটেই পুরো সজনে গাছটাই যেন পুষ্টির এক চমৎকার উৎস। এমনকি সজনের বাকল, ফুল এবং শিকড় পর্যন্ত ব্যবহৃত হয় ঔষধি হিসেবে। সজনে বীজের তেল ও বাকল নানা ধরনের ওষুধ প্রস্তুতের কাজে ব্যবহৃত হয়। বীজের তেল পারফিউম ও কসমেটিক্সে ব্যবহৃত হয়। উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সজনে ডাঁটা খাওয়া উচ্চরক্ত চাপের রোগীদের জন্য বেশ উপকারী। সজনে দেহের কোলেস্টোরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া উচ্চরক্ত চাপের চিকিৎসায় সজনের পাতাও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। সজনের পাতার (কচিনয়) রস প্রতিদিন নিয়ম করে ৪-৬ চা-চামচ খেলে উচ্চরক্ত চাপের সমস্যা অনেকাংশে কমে যায়। টিউমার বা আঘাতজনিত ফোলা উপশমে টিউমার যখন একেবারে প্রাথমিক অবস্থায় থাকে তখন সজনের পাতা এই টিউমার নিরাময় করতে পারে। প্রাথমিক অবস্থায় টিউমার ধরা পরলে তাতে সজনে পাতা বেটে প্রলেপের মতো ব্যবহার করলে টিউমারের ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া ব্যথা বা আঘাত পেলে দেহের কোনো অংশ ফুলে উঠলে একই উপায়ে তা নিরাময় করা সম্ভব। বাতের ব্যথা উপশমে বাতের ব্যথা উপশমে সজনে গাছের ছাল বেশ কার্যকর। এই পদ্ধতি বেশ প্রাচীনকাল থেকে ব্যবহার হয়ে আসছে। সজনে গাছের ছাল তুলে তা বেটে রস চিপে নিয়ে এই রস নিয়মিত প্রতিদিন ৪-৬ চা- চামচ খেলে বাতের ব্যথা প্রায় ৬৫% উপশম হয়। দাঁতের মাড়ির সুরক্ষায় অনেক সময় দাঁতের মাড়ির সমস্যায় ভুগে থাকেন অনেকে। দাঁতের গোড়া থেকে রক্তপড়া এবং মাড়ি ফুলে যাওয়া সমস্যায় ইদানীং অনেককে পড়তে দেখা যায়। এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে সজনে পাতা। সজনে পাতা ১/২ মগ পানিতে ফুটিয়ে নিয়ে সেই পানি দিয়ে ভালো করে প্রতিদিন কুলকুচা করতে হবে। এতে মাড়ির সকল সমস্যার সমাধান হয়। হেঁচকি ওঠা উপশমে হেঁচকি ওঠা যে কত কষ্টের তা যারা ভুক্তভোগী তারা ঠিকই জানেন। একবার হেঁচকি উঠা শুরু করলে তা বন্ধ হতে চায় না সহজে। কিন্তু সজনে এই সমস্যার সমাধান করতে পারে বেশ সহজে। সজনে পাতার রস ৯/১০ ফোঁটা আধ গ্লাস দুধের সাথে মিশিয়ে পান করে ফেলুন একনিশ্বাসে। দেখবেন হেঁচকি ওঠা দ্রুত বন্ধ হয়ে যাবে। পেটের সমস্যা সমাধানে বহুকাল আগে থেকে সজনে হজমের সহায়ক খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পেটে গ্যাস হলে, বদহজম হলে এবং পেটে ব্যথা হলে সজনের তৈরি তরকারীর ঝোল খেয়ে নিন। দেখবেন পেটের গোলমাল অনেক উপশম হয়ে গিয়েছে। বসন্ত প্রতিরোধে বসন্ত প্রতিরোধে সজনে ডাঁটা এবং ফুল ভাজা বা তরকারি করে খেলে জলবসন্ত ও গুটিবসন্তে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা থাকে না। অন্ধত্ব নিরাময়ে অন্ধত্ব নিরাময়ে উপকার দেয় সজনে। অন্ধত্ব থেকে রক্ষা পেতে অপুষ্টির অভাব থেকে দূরে থাকতে ওহফরধহ জড়ুধষ ঈড়সসড়হবিধষঃয ঝড়পরবঃু ভড়ৎ ইষরহফ ভিটামিনসমৃদ্ধ সজনে ও সজনে পাতা খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়াও সজনা ফলের নির্যাস যকৃত ও প্লীহার অসুখে, ধনুষ্টংকার ও প্যারালাইসিসে উপকারী। সজনার ডাঁটা কৃমিনাশক ও জ্বরনাশক বলে দেশীয় ডাক্তাররা পক্ষাঘাত রোগে প্রয়োগ করেন। ব্লাড সুগার রোগটি নিয়ন্ত্রণে রাখে সজনার পুষ্টি। কারণ এতে আছে ডায়াটিরি ফাইবার। ১০০ গ্রাম সজনায় পাওয়া যায় প্রোটিন ২.৫ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ৩.৭ গ্রাম, ক্যালরি ২৬, ভিটামিন বি ৪২৩ মি. গ্রাম, ভিটামিন সি ১২০ মি. গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩০ মি. গ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ২৪ মি. গ্রাম, ফসফরাস ২৫৯ মি. গ্রাম, পটাসিয়াম ১১৬ মি. গ্রাম. আয়রন ৫.৩ মি. গ্রাম, সালফার ৩৭ মি. গ্রাম এবং পর্যাপ্ত অ্যামাইনো এসিড।