ধারাবাহিক নাটক “ভিতরের মানুষ”
রচনা: অধ্যাপক বিরুন-আল-রশিদ

দৃশ্য: ১
স্থান মৌমিতাদের বাসা
সময় দিন।

[ মৌমিতার মা বিছানার চাদরটা ধৌত করার উদ্দেশ্যে বালতিতে রাখছে। মৌমিতার মা সংসারের প্রতি বিতৃষ্ণ ]

মৌমিতার মা সংসারে এসে শান্তি আর পেলাম না। না পারলাম একটা কাজের লোক রাখতে। আর উনি… উনি হচ্ছেন তুলসী ধোয়া সাধুপুরুষ। ওনার সাথে চাকুরী করে অন্যরা গাড়ি-বাড়ির মালিক হচ্ছে। আর উনি… মাস শেষে বেতন যা পান তাই তিনি খান। চাকুরী করেন বেতন পান। উপরি নিবেন কেন ? আমার হচ্ছে জ্বালা। মাস শেষ না হতেই এর কাছে হাত পাত ওর কাছে হাত পাত। তার উপরে প্রতিদিন রাস্তা থেকে একজন না একজন আল­াহর মেহমান ধরে নিয়ে আসবেন। আবে বাবা দেশে কি ধনী লোকের অভাব আছে ? কই ……. তারাতো কেউ এই আল­াহর মেহমানদের বাসায় নিয়ে যায় না। কবে যে একটু সুখের মুখ তা আল­াহই জানে !
[এমন সময় সদর দরজা থেকে ঙ/খ এ মৌমিতার বাবার ডাক শোনা যাবে]
মৌমিতার বাবা মৌমিতা মা ……………. মৌমিতা মা ………।
মৌমিতার মা ঐ যে তিনি এলেন।
[ মৌমিতার মা রুম ছেড়ে বাইরে আসবে ]
কাট্
দৃশ্য ২
স্থান ডাইনিং রুম
সময় দিন।

[ সাদামাটা ডাইনিং রুমে ঔড়ষু-সরহফবফ মৌমিতার বাবা একজন বোবা পাগলা টাইপের লোক নিয়ে ওহ করবে ]
মৌমিতার বাবা বস বাবা ………. চেয়ারটায় বস। [ মৌমিতার মা রুমে ওহ করবে ] এই যে মৌমিতার মা। আল­াহর মেহমানকে কিছু খেতে দাও।
মৌমিতার মা এস তুমি ……….. এস। [ মৌমিতার মা ঙঁঃ হবে ]
মৌমিতার বাবা তুমি বস …….. দেখি তোমার জন্য খাবার কি জুটে !
[ মৌমিতার বাবা রুম থেকে ঙঁঃ হবে ]

কাট
দৃশ্য ৩
স্থান বেড রুম
সময় দিন।

[মৌমিতার মা [ মৌমিতার মা বিরক্ত হয়ে মৌমিতার বাবাকে বলবে ] তুমি কেমন মানুুষ বলত ……. প্রতিদিন আল­াহর মেহমানদের ধরে নিয়া আস। বাসায় খাবার আছে কি নাই সে খবর কি তুমি রাখ ?
মৌমিতার বাবা আরে গিন্নি ….. আমিতো মেহমান ধরে নিয়ে আসি না। আল­াহই আমার সামনে মেহমান যোগাড় করে দেন। আল­াহ ভরসা।
মৌমিতার মা আমার কপাল ! ঘরে শুধু তোমার খাবার টুকুই আছে।
মৌমিতার বাবা আল­াহ ভরসা। মুখ দিয়েছেন যিনি আহারও দেন তিনি। চিন্তার কোন কারণ নাই গিন্নি। যা আছে পাঠিয়ে দাও। আল­াহ ভরসা।
[ মৃদু হেসে মৌমিতার বাবা রুম থেকে ঙঁঃ হয়ে যাবে। মৌমিতার মা রাগে ফুলতে থাকবে ]
কাট
দৃশ্য ৪
স্থান ডাইনিং রুম
সময় দিন।
[ পাগল লোকটা খাওয়ার জন্য উৎসুক হয়ে আছে। মৌমিতার বাবা তা তা লক্ষ্য করছে। মৌমিতার মা ভাত-তরকারী টেবিলের উপর রেখে রাগে দাঁড়িয়ে থাকবে ]
মৌমিতার বাবা আল­াহ ভরসা। বিসমিল­াহ কর বাবা। নাও। [ ক্ষুধার্ত লোকটা দ্রুত ভাত-তরকারী একত্রিত করে হাবু-খুবু করে খেতে শুরু করবে ] হ্যাঁ …… এ জন্যেই কবি লিখে গিয়েছেন …… ‘‘ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়।” বুঝলে মৌমিতার মা আমার মনে হয় নিশ্চয় কবি দেখেছিলেন। তাই কবি এমন বাস্তব কবিতা লিখতে পেরেছিলেন। বুঝলে গিন্নি একে না দেখলে কবিতার মর্মার্থটা আমার বুঝাই হত না……..। একেই বলে অভিজ্ঞতা। বুঝলে….।
[ মৌমিতার মা বিরক্ত হয়ে রুম ত্যাগ করবে ] আল­াই ভরসা।
[ ক্ষুধার্ত লোকটা বাসন সাবার করে পানি খেয়ে শান্তির নিঃশ্বাস নিল। মুখে মৃদু হাসি। লোকটা মৌমিতার বাবার পা ছুঁয়ে ছালাম নিবে ]
আরে …….. আরে ….. একি করছ ? যাও এবার তোমার গন্তব্যে গমন কর। যাও বাবা। আল­াই ভরসা।
[ লোকটা রুম থেকে ঙঁঃ হয়ে যাবে। মৌমিতার বাবা লোকটার পিছনে পিছনে গেট পর্যন্ত এগিয়ে বিদায় দিল। এমন সময় পাশের ফ্ল্যাট থেকে ঙ/খ এ বাসন কোসনের ঢিল মারা আওয়াজ শোনা যাবে। মৌমিতার বাবা হাঁ-করে ঐ ফ্ল্যাটের দিকে তাকিয়ে থাকবে।

কাট্
দৃশ্য ৫
স্থান জাফর সাহেবের বাসা
সময় দিন।
[ জাফর সাহেবের স্ত্রী জাফর সাহেবের সাথে রাগ করে বাসন-কোসন ঢিল মেরে মেঝের মধ্যে ফেলে দিবে। জাফর সাহেব স্ত্রীকে শান্ত করতে চেষ্ঠা করে ব্যর্থ হচ্ছে। ]
জাফর সাঃ স্ত্রী আমি আর তোমার সংসারই করব না। তোমার সাথে চাকুরী করে অন্যরা গাড়ি-বাড়ির মালিক হচ্ছে। আর তুমি একটা ফ্রিজ পর্যন্ত আমাকে এনে দিতে পারছনা।
জাফর সাহেব দেখ ওরাতো ঘুষের টাকায় ওসব করছে।
জাফর সাঃ স্ত্রী তুমিও তাই করবে।
জাফর সাহেব তুমি আমাকে ঘুষ খেতে বলছ ?
জাফর সাঃ স্ত্রী ওরা যদি খেতে পারে … তুমি পারবেনা কেন ?
জাফর সাহেব রূপমের মা ……… সবকিছু সবার কিন্তু হজম হয় না।
জাফর সাঃ স্ত্রী ওদের যদি হজম হয় তোমার কেন হজম হবে না ? আমি তোমার কোন কথা শুনতে চাইনা। এক সপ্তাহের মধ্যে যদি ফ্রিজ না আনতে পার তাহলে আমি তোমার সংসার ছেড়ে চলে যাব। এ আমার শেষ কথা।
[ জাফর সাহেবের স্ত্রী রুম ছেড়ে চলে যাবে। জাফর সাহেব চিন্তিত ]

কাট
দৃশ্য ৬
স্থান অফিস কক্ষ
সময় দিন।
[ জাফর সাহেব চেয়ারে বসছে উঠছে। টেবিলে রাখা ফাইলটা ধরছেছাড়ছে ]
জাফর সাহেব [স্বগতঃ] ফাইলটা কি আটকে দিব ? আটকে দেই। যদি একটা ফ্রিজ পাওয়া যায়।
[ জাফর সাহেব তড়িঘড়ি করে ফাইলটা ড্রয়ারে রেখে দিবে। এমন সময় মৌমিতার বাবা রুমে ওহ করবে ]
মৌমিতার বাবা কিহে ভাই সাহেব …. আবহাওয়া অফিসের কোন সংকেত নেই…. অথচ আপনার ঘরে শোনলাম ঝড়ের আওয়াজ। ব্যাপারটা কি ? বলেন তো দেখি।
জাফর সাহেব ঝড় নিত্য দিনই বইছে ভাই সাহেব।
মৌমিতার বাবা কারণ ?
জাফর সাহেব কারণ অন্যরা চাকুরী করে বাড়ি কিনছে, গাড়ি কিনছে … আর আমি একটা ফ্রিজও কিনতে পারছিনা … এই নিয়ে তুমুল কান্ড।
মৌমিতার বাবা হ্যাঁ ….. এমন অভিযোগতো আমার ঘরেও তবে] ঈড়হঃৎড়ষ এ আছে। আসি ভাই সাহেব। কাজ করুন আল­াহ ভরসা।
[ মৌমিতার বাবা রুম ছেড়ে চলে আসবে। একজন রুমে ওহ করবে।
একজন আসসালামু আলাইকুম স্যার, আমার ফাইলটা।
জাফর সাহেব আপনার ফাইলটা আটকে গিয়েছে।
একজন জি !
জাফর সাহেব হ্যাঁ ওহংঢ়বপঃরড়হ না করে আপনার ফাইল ছাড় দেয়া হবে না।
একজন [ মৃদু হাসি ] তা কি লাগবে স্যার ?
জাফর সাহেব ইয়ে …….. আমিতো না ……. স্যার একটা ফ্রিজ পেলেই খুশি।
একজন ঙশ স্যার। আজই চলুন কিনে দিচ্ছি। কাল এসে ফাইলটা নিয়ে যাব। চলুন স্যার।
জাফর সাহেব জি …….. ঠিক আছে ……… চলুন।
[ উভয়ে রুম ত্যাগ করবে ]
কাট
দৃশ্য ৭
স্থান জাফর সাহেবের বাসা
সময় দিন।
[ ঘরে ফ্রিজ বসানো হচ্ছে। জাফর সাহেবের স্ত্রী খুব খুশি। ২ জন শ্রমিক ফ্রিজ ঘরে বসিয়ে দিয়ে চলে যাবে ]
জাফর সাঃ স্ত্রী ঃ তুমি বস। তোমার জন্য চা করে নিয়ে আসছি। [ জাফর সাহেবের স্ত্রী ঙঁঃ হবে ]

কাট
দৃশ্য ঃ ৮
স্থান ঃ অফিস রুম
সময় ঃ দিন।
[ স্মার্ট পোষাকে জাফর সাহেব ফাইল আটকে আটকে গ্রাহকদের কাছ থেকে ঘুষ নিচ্ছে। একটুপরে মৌমিতার বাবা রুমে ওহ করবে ]
মৌমিতার বাবা ঃ কি প্রতিবেশী ……… আজ খুব খুশি খুশি মনে হচ্ছে। ঝড় কি থেমে গেছে ?
জাফর সাহেব ঃ হ্যাঁ ভাই সাহেব …. থেমে গেছে।
মৌমিতার বাবা ঃ আল­াহ ভরসা …… খবরটা শুনে খুশি লাগছে।
জাফর সাহেব ঃ আসেন না একদিন ভাবিকে নিয়ে বেড়াতে।
মৌমিতার বাবা ঃ আল­াহ্ ভরসা …. আসব। কাজ করুন। [মৌমিতার বাবা রুম থেকে ঙঁঃ হবে ]
জাফর সাহেব ঃ ………… এর নীচে হলে পারব না ভাই।
একজন ঃ ঠিক আছে তাই দিব।
জাফর সাহেব ঃ কাল নিয়া আসবেন। ফাইল পেয়ে যাবেন।
একজন ঃ আসি ……….. স্লামালিকুম।
জাফর সাহেব ঃ ঙক [ একজন রুম থেকে ঙঁঃ হবে ]

কাট
দৃশ্য ঃ ৮
স্থান ঃ জাফর সাহেবর বাসা
সময় ঃ দিন।
[ ড্রইং রুমে জাফর সাহেবের স্ত্রী সাজ-গোছ করছে। তাদের একমাত্র ছেলে ৭/৮ বছরের রূপম ফিট-ফাট্ পোষাক পরে ড্রইং রুমে ওহ করবে। ]
রূপম ঃ আম্মু ……..। এটা পরেছি।
জাফরের স্ত্রী ঃ সেকি ! তোমার তো কম করে হলেও ১০০ সেট পোষাক আছে। এর চেয়ে অনেক সুন্দর সুন্দর। সেখান থেকে একটা না পরে এটাই পরেছ ?
রূপম ঃ এত পোষাকের মধ্য থেকে কোনটা যে পরব কোনটা যে বাদ দিব বুঝতে পারছিনা আম্মি।
[ ঙ/খ এ ড্রইং রুমে চা খেতে খেতে জাফর সাহেব স্ত্রীকে ডাকবে ]
জাফর সাহেব ঃ কই ……. এস না তোমরা …..।
জাফর সাঃ স্ত্রী ঃ ঠিক আছে বাবা। চল।
[ জাফরের স্ত্রী এবং রূপম ড্রইং রুমে ওহ করবে ]
রূপম ঃ আব্বু আমাকে কেমন দেখাচ্ছে ?
জাফর সাহেব ঃ তোমকে বেশ মানিয়েছে আব্বু। চল তোমাদের মার্কেটে নামিয়ে দিয়ে আমি অফিসে যাব। চল। [ সবাই রুম থেকে বের হয়ে আসবে ]

কাট
দৃশ্য ঃ ৯
স্থান ঃ রাস্তা
সময় ঃ দিন।
[ রিকসায় জাফর সাহেব, তার স্ত্রী ও ছেলে রূপম। রিকসা মার্কেটের দিকে যাচ্ছে। হঠাৎ একটা গাড়ির সাথে ধাক্কা লেগে রিক্সা উল্টে যাবে। রূপম ছাড়া ওরা স্বামী স্ত্রী মারাতœক আঘাত পাবে ]
দৃশ্য ঃ-১০
সময় ঃ দিন।
স্থান ঃ রাস্তা।
[এ্যম্বুলেন্সের আওয়াজ শোনা যাবে ]

কাট

দৃশ্য ঃ ১১
সময় ঃ দিন।
স্থান ঃ হাসপাতাল।
[ হাসপাতালে জাফর সাহেব মুমূর্ষ অবস্থায় বেডে। মৌমিতার বাবা রুমে ওহ করবে ] মৌমিতার বাবা ঃ ডাক্তার সাহেব…….জাফর সাহেবের অবস্থা কেমন ?
ডাক্তার ঃ কিছুই বলা যাচ্ছে না।
মৌমিতার বাবা ঃ ওনার স্ত্রী
ডাক্তার ঃ ঝঢ়ড়ঃ-ফবধঃয
মৌমিতার বাবা ঃ ইন্নানিল­াহে ……………… রাজিউন। ওদের ছেলে ?
ডাক্তার ঃ সামান্য ডড়ঁহফবফ ……….. ভয়ের কিছু নেই।
মৌমিতার বাবা ঃ আল­াহ ভরসা।
[ জাফর সাহেবের জ্ঞান ফিরবে। মৌমিতার বাবা কাছে বসবে ]
জাফর সাহেব ….. কাঁদবেন না। আল­াহ ভরসা।
জাফর সাহেব ঃ [ অতি কষ্ঠে ] ভাই সাহেব ……. এ আমার পাপের ফল। অবৈধ উপার্জন সইল না। ভাই সাহেব আমার রূপমকে আপনার কাছে রেখে গেলাম। ওকে আপনার মত করে আপনার আদর্শে বড় করবেন। আমার অন্তিম ইচ্ছেটা পূরণ করবেন …….. আ …………।
[ জাফর সাহেব মারা যাবে ]
মৌমিতার বাবা ঃ ইন্না ……………….. রাজেউন।
কাট
দৃশ্য ঃ ১২
সময় ঃ দিন।
স্থান ঃ মৌমিতাদের বাসা
[ মৌমিতার মা মৌমিতাকে খাতা দেখছে। এমন সময় মাথায় ব্যান্ডেজ বাঁধা রূপমকে নিয়ে মৌমিতার বাসায় ওহ করবে ]
মৌমিতার বাবা ঃ মৌমিতা …………..।
মৌমিতা ঃ আব্বু ……। ও কে আব্বু ?
মৌমিতার বাবা ঃ ও রূপম। তোমার জাফর আঙ্কেলের ছেলে। আজ থেকে ও আমাদের এখানেই থাকবে। তোমার সাথেই খেলবে, পড়বে।
মৌমিতা ঃ ভালই হয়েছে আব্বু। আমার খেলার সাথী হল।
[ মৌমিতার মা রাগ করে রুম ত্যাগ করবে ]
মৌমিতার বাবা ঃ মৌমিতা তুমি রূপমের সাথে কথা বল। আমি একটু আসছি।
মৌমিতা ঃ আচ্ছা আব্বু। [ মৌমিতার বাবা রুম ত্যাগ করবে ] এস রূপম …….. এখানে বস। তুমি বুঝি ব্যথা পেয়েছ ?
রূপম ঃ [মাথা নেড়ে হ্যাঁ জানাবে ]
মৌমিতা ঃ ব্যথা পাচ্ছ ?
রূপম ঃ [মাথা নেড়ে হ্যাঁ জানাবে ]
মৌমিতা ঃ ঔষধ খেলে সেরে যাবে।
কাট
দৃশ্য ঃ ১৩
সময় ঃ দিন।
স্থান ঃ মৌমিতাদের বাসা
[ মৌমিতার মা রাগে ফুলছে। মৌমিতার বাবা রুমে ওহ করবে ]
মৌমিতার বাবা ঃ মৌমিতার মা ……… এইমাত্র একটু আগে ছেলেটির মা-বাবা গাড়ি এক্সিডেন্টে মারা গেছে। ছেলেটির বাবা জাফর সাহেব আমার সাথেই চাকুরী করতেন। কার এক্িসডেন্টের কথা শোনে হাসপাতালে দেখতে যাই। ১ মিনিটের জন্য জাফর সাহেব জ্ঞান ফিরে পান। আর তাদের একমাত্র ছেলে রূপমকে আমার হাতে তুলে দিয়ে নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন। মিনিটের মাথায় ছেলেটি এতিম হয়ে গেল। চিন্তা করোনা মৌমিতার মা। আল­াহ ভরসা। মনে কর ও মৌমিতার মতই একজন। আমাদের ছেলে নেই। মনে কর রূপম আমাদেরই ছেলে। আল­াহ ভরসা।
কাট
দৃশ্য ঃ ১৪
সময় ঃ দিন।
স্থান ঃ মৌমিতার রুম।
[ ঋষধংয ঋড়ৎধিৎফ এ মৌমিতা ও রূপম স্কুলে যাচ্ছে। এক টেবিলে বসে লেখাপড়া করছে। পুতুল দিয়ে খেলা করছে। উঠোনে কানামাছি খেলছে। দু’জন ঝগড়া করছে আবার মিলে যাচ্ছে ইত্যাদি। অর্থাৎ কত আপন হয়ে যে দু’জন বড় হয়ে উঠেছে এক এক করে এ দৃশ্যগুলো দেখানো হবে। ধীরে ধীরে দু’জন বড় হয়ে উঠেছে। ওরা দু’জন মৌমিতা এবং রূপম বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছে। একসাথে বাড়ি ফিরছে। বাড়ি ফিরে ফ্রি বন্ধুত্বে দুষ্টামিতে মেতে উঠছে।
দৃশ্য ঃ ১৫
[ মৌমিতা নিজ শয়ন কক্ষে বিছানা চুল এলিয়ে দিয়ে বই পড়ছে। চুলগুলো স্টিলের খাটের ফাঁকে ঝুলছে। রূপম মৌমিতার রুমের দিকে যে আসছে মৌমিতা বুঝতে পেরে ভান করে ঘুমিয়ে যাবে। রূপম দরজায় দাঁড়িয়ে মৌমিতার সাথে দুষ্টামী করার প্রয়াসে খুব সাবধানে মৌমিতা কি অবস্থায় আছে তা দেখে নিবে। রূপম সতর্ক সাবধানে ধীরে ধীরে রুমে প্রবেশ করবে। কাছাকাছি এসে উঁকি দিয় দেখবে মৌমিতা ঘুমিয়ে আছে কি না ? মৌমিতা ঘুমিয়ে আছে নিশ্চিত হয়ে মতলব আটতে থাকবে কি দুষ্টামিটা করা যায়। মাথার কাছে আসতেই চোখে পড়ল এলোমেলো চুলগুলি স্টিল খাটের ফাঁকে পড়ে আছে। রূপম দুই দিকের চুল গুলি দিয়ে স্টিল খাটের বেড়ির সাথে বেঁধে দিল। এবার রূপম মৌমিতাকে সজাগ করার জন্য কাঁশি দিল। মৌমিতা সজাগ হচ্ছে না দেখে এবার ডাকবে। ]
রূপম ঃ মৌমিতা ……… এই মৌমিতা ……..। [ মৌমিতা মাথা সোজা করে হাই তুলল ] এমন ভর দুপুরে ঘুমিয়ে আছিস ! উঠে বস।
মৌমিতা ঃ [ উঠতে গিয়ে চুলে টান লাগলে ব্যাথায় চিৎকার দিয়ে শুয়ে পড়বে ] উহ্ ….. মাগো…..।
রূপম ঃ মৌমিতা ………. কি হয়েছে ?
মৌমিতা ঃ আমার চুল।
রূপম ঃ চুল ! [মুচকি হেসে] অহ্ ….. বুঝেছি। চুলে তোর উঁকুন হয়েছে। তাই কামড়ে দিয়েছে। দাঁড়া আমি দেখে দিচ্ছি। অহ্ …. না ! তোর চুল খাটের সাথে কে যেন বেঁধে রেখেছে। তোর রুমে আজকাল ভূত-টুত আসতে শুরু করল নাকি।
মৌমিতা ঃ হ্যাঁ …….. আগে চুলটা খুলে দে। ভূতটা তোকে দেখিয়ে দেই।
রূপম ঃ আচ্ছা বাবা ………. খুলে দিচ্ছি। [ রূপম চুল খুলে দিবে ]
মৌমিতা ঃ আজকাল আমার রুমে ভূত-টুত আসতে শুরু করেছে ………..। তাই না ….. !
রূপম ঃ [ মাথা ঝাকিয়ে হ্যাঁ জানাবে ]
মৌমিতা ঃ দেখাচ্ছি মজা ! [ মৌমিতা বালিশ নিয়ে রূপমকে ঢিল দিবে। রূপম বালিশ বুকে চেপে ধরবে। ]
রূপম ঃ এই ………. একি হচ্ছে ………. !
মৌমিতা ঃ ভূত তাড়াচ্ছি …… ভূত ………। তবে রে ………..।
[ মৌমিতা আরেকটি বালিশ নিয়ে রূপমকে তাড়া করবে। রূপম খাটের চারিপাশে ঘুরতে থাকবে।]
রূপম ঃ এই ………… এসব কি হচ্ছে ?
মৌমিতা ঃ ভূত তাড়াচ্ছি ……….. ভূত। [রূপম দরজার সামনে এসে উপস্থিত]
রূপম ঃ এই …… ভাল হবে না বলে দিচ্ছি ………….।
[ এমন সময় মৌমিতার মা দারজায় এসে দাঁড়াবে। মৌমিতা বালিশ দিয়ে ঢিল ছুঁড়লে রূপম কাত হয়ে সরে যাবে। বালিশ মৌমিতার মায়ের কোলে। মৌমিতার মা ও বালিশটা রূপমের মত বুকে চেপে ধরে রাখবে। মৌমিতার মা বিরক্ত হয়ে তাকাবে। রূপম এবং মৌমিতা লজ্জা পাবে।
মৌমিতা ঃ মা !
মৌমিতার মা ঃ মৌমিতা…..। [ মা বালিশ বিছানায় রেখে ] তোরা এখন বড় হয়েছিস। রূপম……..।
রূপম ঃ জি…….মামী…….। [রূপম বলিশ পায়ের কাছে রেখে দিবে ]
মৌমিতার মা ঃ লেখাপড়া শেষ করেছ। এখন একটা চাকুরী-বাকরীর ব্যবস্থা কর। বুঝতেই তো পারছ …. তোমার মামা রিটায়ার্ড মানুষ। সারা জীবন সৎ আর নীতি নিয়েই থেকেছে। দু’ পয়সা স য় করা তার হয় নি। ছোট বেলা থেকেই তোমরা দু’জন একসাথে বড় হয়েছ। সেদিন যা মানাত আজ কি তা আর মানায় ? তুমি কিছু মনে কর না। সেদিন যা মানাত আজ কি তা আর মানায় ? তুমি কিছু মনে কর না। নিতান্তই কাছের লোক বলে তোমাকে কথাগুলো বললাম। ভেবে দেখ।
[মৌমিতার মা রুম থেকে ঙঁঃ হয়ে যাবে। রূপম ও রুম থেকে বের হয়ে যাবে।]
মৌমিতা ঃ রূপম …………।
রূপম ঃ মৌমিতা ……….. মামী ঠিক কথাই বলেছেন। মামার অন্ন খেয়েই আমি বড় হয়েছি। এ সংসারের প্রতি আমারও একটা দায়িত্ব আছে। আমি আজ থেকেই চাকুরীর
মৌমিতা ঃ [স্বগতঃ] আমার জন্য রূপম কষ্ট পেল ! [ মৌমিতা খুব কষ্ট পাচ্ছে। মৌমিতার বাবা মৌমিতাকে ডাকতে ডাকতে রুমে প্রবেশ করবে ]
মৌমিতার বাবা ঃ মৌমিতা …………. এই যে মা মৌমিতা। [কাছে এসে] মৌমিতা …. ! মন খারাপ ?
মৌমিতা ঃ [ স্তম্ভিত ফিরে পেয়ে ] বাবা ……. তুমি কখন এলে ?
মৌমিতার বাবা ঃ অনেকক্ষণ !
মৌমিতা ঃ অনেকক্ষণ ?
মৌমিতার বাবা ঃ হ্যাঁ ………. এবার বল মৌমিতার মন খারাপ কেন ?
মৌমিতা ঃ কই নাতো !
মৌমিতার বাবা ঃ তোর চোখ কিন্তু তা বলছে না।
মৌমিতা ঃ বাবা …….. মা ………।
মৌমিতার বাবা ঃ ব্যাস্ আর বলতে হবেনা। তোর মাকে আমি আচ্ছা করে বকে দিচ্ছি। তুই একটু হাস মা।
মৌমিতা ঃ বাবা ……..! [হাসি ]
মৌমিতার বাবা ঃ আল­াহ ভরসা। কই তুমি মৌমিতার মা ……. । [ ডাকতে ডাকতে মৌমিতার বাবা রুম থেকে বের হয়ে যাবে ]
কাট
দৃশ্য ঃ ১৬
[ মৌমিতার মা রুমে বসে আছে। মৌমিতার বাবা রুমে ওহ করবে।]
মৌমিতার বাবা ঃ কই …….. দশটা না পাঁচটা না …….. একটা মাত্র মেয়ে আমার, তাকে তুমি বকেছ কেন?
মৌমিতার মা ঃ মেয়েতো বড় হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া শেষ করেছে। সে বিষয়ে কি খেয়াল আছে?
মৌমিতার বাবা ঃ অহ্ ….. তাই তো !
মৌমিতার মা ঃ এখন কি আর ওদের ছেলেমী করা সাজে ?
মৌমিতার বাবা ঃ না।
মৌমিতার মা ঃ এখন ভাবেন, কি করবেন ?
মৌমিতার বাবা ঃ কি করব মানে ? তারা সবেমাত্র লেখাপড়া শেষ করেছে। এখন তারা নিজের রিলাক্স করবে। হাসবে .. খেলবে। ওহলড়ু করবে। তারপর সিদ্ধান্ত নিবে কে কি করবে ?
মৌমিতার মা ঃ উঃ ……. সারাটি জীবন নিজের জীবন নিয়ে উদাসীন ছিলেন, মেয়ের জীবন নিয়েও কি উদাসীন হবেন ?
মৌমিতার বাবা ঃ সেইজন্যইতো ঘড় ঃবহংরড়হ এর মানুষ। স্ত্রী, মেয়ে, মা রূপম সবাইকে নিয়ে আমি সূখী।
মৌমিতার মা ঃ কিন্তু আমি চাইনা আমার মেয়ে চাল নেই চুলো নেই এমন কারো সঙ্গী হোক।
মৌমিতার বাবা ঃ [সিরিয়াস হয়ে] ছালেহা ……….. ।
মৌমিতার মা ঃ হ্যাঁ ………. আমি চাই না আমার মেয়ে হিসেব করে চলতে গিয়ে মাসের শেষে ধার করুক। আমি চাইনা আমার মেয়ের জীবন ভাড়া বাসায় কাটুক।
মৌমিতার বাবা ঃ ছালেহা গাড়ি-বাড়ি টাকা-পয়সা এসবের নামই কি শুধু সুখ !
মৌমিতার মা ঃ আমি জানি তোমার সাথে তর্কে আমি পারব না। তুমি শিক্ষক। তুমি ভাব পৃথিবীর সকল মানুষই তোমার ছাত্র। কিছু হলেই লজিকের লেকচার দিতে শুরু কর। আমি মেয়ের সুখের জন্য যা করা দরকার এখন থেকে আমি তাই ভাববো।
[ মৌমিতার মা দ্রুত রুম ত্যাগ করবে। মৌমিতার বাবা কষ্টকে জয় করে বলবে….. ]
মৌমিতার বাবা ঃ ছালেহা …… নয় বছরে আমার যা হয়নি ……. ৬০ বছরে এসে তা আর কি হবে না ? আমি হলাম একজন আদর্শবান মানুষ। ঠিক তেমনি একজন আদর্শবান পিতাও। কারো মনের উপর জোর আমি কখনোই করব না।
কাট
দৃশ্য ঃ ১৭
[ রূপম তার ছোট্ট রুমে টেবিলে বসে দরখাস্ত লিখছে। মৌমিতা সেজেগুজে রূপমের কক্ষে ওহ করবে।
মৌমিতা ঃ রূপম ………। এই রূপম ………।
রূপম ঃ কিরে কোথাও যাচ্ছিস ?
মৌমিতা ঃ হ্যা …… চল।
রূপম ঃ মৌমিতা আমার একটু কাজ আছে। তুই যা।
মৌমিতা ঃ তোর যে কি কাজ আছে …… সে আমার জানা আছে। উঠত।
রূপম ঃ আহ ………. মৌমিতা ……….. তুই যা না।
মৌমিতা ঃ দাঁড়া ……….. তোকে কাজ আমি করাচ্ছি। [ মৌমিতা রূপমের গেঞ্জির কলার ধরে টেনে উঠাবে ] উঠ ………..।
রূপম ঃ মৌমিতা ……… কি করছিস ………।
মৌমিতা ঃ এতদিন যা করেছি আজও আমি তাই করছি। আয় বলছি। [রূপমকে টেনে রুম থেকে বের করে আনবে ]
রূপম ঃ মৌমিতা ……..।
কাট
দৃশ্য ঃ ১৮
[ পাশের রুমে মৌমিতার দাদী পান খাচ্ছে। মৌমিতা রূপমের কলার ধরে টেনে এনে দাদীর রুমে ওহ করবে ]
মৌমিতা ঃ আয় …….. বলছি।
দাদী ঃ কিরে ! আবার তোদের কি হয়েছে ?
মৌমিতা ঃ দাদী …… তুমিই বল রূপমকে ছাড়া আমি কোথাও গিয়েছি ?
দাদী ঃ না ………… একদম না।
মৌমিতা ঃ আজ আমি বলেছি একটু ইউনিভার্সিটিতে ঘুরতে যাব। ও বলে ওর নাকি কাজ আছে। ও যাবে না। তুমি জিজ্ঞেস কর ওর কি এমন কাজ আছে ?
রূপম ঃ দাদী ……. আমি বড় হয়েছি।
দাদী ঃ ঠিক। মৌমিতাও তো বড় হয়েছে, তাইতো ওর সিকিউরিটি হিসাবে তোকেও নিতে চাচ্ছে।
মৌমিতা ঃ [কলার ছেড়ে] দাদী ………..।
দাদী ঃ হ্যারে দাদী। রূপম কেতো তোর সাথে যেতেই হবে।
রূপম ঃ দাদী ………..।
দাদী ঃ এ্যাহুঁ ……….. আমি বলছি …….. তুই যা।
মৌমিতা ঃ [গেঞ্জির কলার ধরে ] চল ……….।
[ মৌমিতা রূপমকে টেনে নিয়ে রুম থেকে ঙঁঃ হয়ে যাবে। দাদী হাসতে থাকবে ]
দাদী ঃ এখনও ছেলেমী কাটেনি। পাগলী মেয়ে।
[দাদী মুখে চুন লাগাবে]
কাট
দৃশ্য ঃ ১৯
[ একটা শপিং ব্যাগ হাতে মৌমিতার মা রাস্তার ধারে রিক্সার জন্য দাঁড়িয়ে আছে। একটা খালি রিক্সা সম্মূখে এলে ডাকবে]
মৌমিতার মা ঃ এই রিক্সা ……….। যাবে ?
রিক্সাওয়ালা ঃ যাব।
মৌমিতার মা ঃ মালিবাগ মোড় থেকে একটু ভিতরে।
রিক্সাওয়ালা ঃ ৩০ টাকা।
মৌমিতার মা ঃ কেন ……… ? ভাড়াতো ২০ টাকা। ৩০ টাকা দিব কেন ?
রিক্সাওয়ালা ঃ যাব না ……। [ রিক্সাওয়ালা চলে যাবে ]
মৌমিতার মা ঃ বেয়াদব …….. [ মৌমিতার মা মন খারাপ করে দাঁড়িয়ে আছে। একটা ঞধীর পধন এসে সামনে থামবে। ঞধীর পধন থেকে হ্যান্ডসাম এক যুবক বের হয়ে আসবে ]
সাকিব ঃ আমাকে চিনতে পেরেছেন আন্টি ?
মৌমিতার মা ঃ তুমি ………. !
সাকিব ঃ আমি সাকিব। মৌমিতার বন্ধু। আমি মৌমিতার সাথে আপনাদের বাসায় একদিন গিয়েছিলাম। মৌমিতার নোট আনতে।
মৌমিতার মা ঃ অহ্ …….. তুমি সেই সাকিব ! তা কেমন আছ বাবা ?
সাকিব ঃ আপনাদের দোয়ায় ভাল আছি আন্টি। মৌমিতা কেমন আছে ?
মৌমিতার মা ঃ ভাল আছে।
সাকিব ঃ আপনি এখন কোথায় যাবেন আন্টি ?
মৌমিতার মা ঃ বাসায় যাব। দেখনা রিক্সাওয়ালাদের কি দাপট। ১০ টাকার ভাড়া ৩০ টাকা। বলে কিনা গেলে যাবেন …….. না গেলে নাই। কেমন একটা অরাজকতা দেখেছ ?
সাকিব ঃ ঠিকই বলেছেন আন্টি। সময়ে ওরা আটকিয়ে বেশী ভাড়া আদায় করে। আন্টি …. আপনি যদি কিছু মনে না করেন তাহলে আমি আপনাকে পৌঁছে দেই।
মৌমিতার মা ঃ না ………. না …….. থাক না।
সাকিব ঃ আন্টি আপনার বাসায় গেলে এক কাপ চা-তো খেতে পারবো।
মৌমিতার মা ঃ হ্যা …… হ্যা ………. তা পারবে।
সাকিব ঃ প্লীজ ………….. আসুন আন্টি।
[শাকিব গাড়ির দরজা খুলে দিবে। মৌমিতার মা গাড়িতে উঠে বসবে। শাকিব গাড়ি চালাবে]
কাট
দৃশ্য Ñ ২০

[মৌমিতা ও রূপম বাড়ির গেট থেকে বের হয়ে একটা রিক্সা ডেকে দু’জন রিক্সায় উঠে বসবে ।রিক্সা চলবে ]
কাট
দৃশ্য Ñ ২১
[বিপরীত রাস্তা দিয়ে শাকিবের গাড়ি এসে গেটের সামনে থামবে। গাড়ি থেকে শাকিবও মৌমিতার মা নামবে ।]
মৌমিতার মা ঃ এস শাকিব। [শাকিবও মৌমিতার মা বাড়ির ভিতর ওহ করবে । রুমের ভিতর ওহ করবে ] এস বাবা। তুমি বস। আমি চা করে আনছি ।
[ [মৌমিতার মা রুম থেকে ঙঁঃ হয়ে যাবে। শাকিব এদিক ওদিক তাকিয়ে দেয়ালে টাঙ্গানো মৌমিতার ছবির উপর নজর ফেলবে এবংশাকিব আতœতৃপ্তির হাসি হাসবে। মৌমিতার মা চা নিয়ে রুমে ওহ করবে ]
মৌমিতার মা ঃ শাকিব…….চা। [শাকিব সোফায় বসে চা খাচ্ছে ] শাকিব… তুমি এখন কি করছ ?
শাকিব ঃ আন্টি আমি ঊীঢ়ড়ৎঃ-ওসঢ়ড়ৎঃ এর ব্যবসা করছি ।
মৌমিতার মা ঃ তা ব্যবসা কেমন চলছে ?
শাকিব ঃ আপনাদের দোয়ায় ভাল আন্টি ।মাসে দু’চার লাখ টাকা চৎড়ভরঃ পাই ।
মৌমিতার মা ঃ বল কি। তাহলে তো শহরে তোমার বাড়ি হয়ে যাবে।
শাকিব ঃ হয়ে যাবে না আন্টি-হয়েছে।
মৌমিতার মা ঃ বল কি! কোথায় ?
শাকিব ঃ উত্তরায় ।
মৌমিতার মা ঃ গাড়ি ।
শাকিব ঃ এ গাড়িটা আমারই আন্টি। [মৌমিতার মা শুনে অবাক ! এমন সময় মৌমিতার দাদী বলতে বলতে রুমের দিকে আসবে ]
দাদী ঃ কে এল বউ মা ? কার সাথে কথা বলছ ? [রুমে ওহ করবে] ও কে বউমা ?
মৌমিতার মা ঃ ও হচ্ছে শাকিব আম্মা। মৌমিতার বন্ধু ।
শাকিব ঃ [দাড়িয়ে] আস্-সালামু ওয়ালাইকুম দাদী।
দাদী ঃ বস ভাই বস। [সবাই বসবে ] তোমাদের বাসা কোথায়?
শাকিব ঃ উত্তরায়।
দাদী ঃ তোমাদের দেশের বাড়ি ?
শাকিব ঃ চিটাগাং।
দাদী ঃ তোমাদের সবাই এখন উত্তরায় ?
শাকিব ঃ জি না। আমি একাই থাকছি ।
দাদী ঃ তোমার মা- বাবা……।
শাকিব ঃ ওনারা দেশের বাড়িতেই থাকেন ।
মৌমিতার মা ঃ আম্মা ও উত্তরায় নিজে বাড়ি বানিয়েছে। আর ওর নিজের গাড়িতে করেই আমাকে বাসায় নিয়ে এসেছে ।
দাদী ঃ তাই নাকি ! তা কি কাজ করছ ভাই; যে এত অল্প সময়ে গাড়ি বাড়ির মালিক হয়েছে।
শাকিব ঃ আমি ব্যবসা করছি।
দাদী ঃ আহ্! ঠিক আছে ভাই। তোমরা কথা বল। আমি যাই। [দাদী রুম থেকে ঙঁঃ হয়ে যাবে।
শাকিব ঃ আজ আমি উঠি আন্টি।
মৌমিতার মা ঃ শাকিব। ঢাকায় তো তোমার কেউ নেই। আমাকে তুমি মায়ের মতই মনে করতে পার। যখন তোমার মনে চাইবে তখনি চলে আসবে।
শাকিব ঃ জি-আন্টি। আসি। [শাকিব রুম থেকে ঙঁঃ হবে। মৌমিতার মায়ের মুখে মিষ্টি হাসি]
মৌমিতার মা ঃ কি লক্ষী ছেলে !
কাট
দৃশ্য Ñ ২২
[মৌমিতা এবং রূপম পার্কে হাঁটছে]
মৌমিতা ঃ কিরে …… মুরুব্বী হয়ে গেলি নাকি ! মুখে কোন রা … নেই চোখে কোন টা .. নেই।
রূপম ঃ মৌমিতা …. আমরা এখন বড় হয়েছি। এ কথা তোকে মানতে হবে।
মৌমিতা ঃ রূপম … মায়ের সেদিনের কথায় এখনও তুই রাগ করে আছিস ?
রূপম ঃ মৌমিতা মামা আর মামীকে মা-বাবার স্থলেই দেখে আসছি। ওরা আমার মত এতিম ছেলেকে নিজের সন্তানের মত লালন-পালন করে বড় করেছে। মামা-মামীর অন্ন পুষ্টে আমার রক্ত মাংস। সারা জীবন তাঁদের সেবা করলেও এ ঋণ শোধ হবে না। উনাদের খশিই-তো আমার খুশি।
মৌমিতা ঃ রূপম ….. এত ভারী ভারী কথা আমি বুঝিও না ….. শোনতেও চাইনা। আমি তোর সাথে আগেও যেমন….. এখনও তেমন। আরে বাবা ……. ওরা মুরুব্বী ….. ওরাতো শাসন কিছু করবেই। সবকিছু ধরে রাখলেতো আর চলে না।
রূপম ঃ মৌমিতা …..।
মৌমিতা ঃ কি ……. তোর পেঁচা মুখটা ভাংবি ? নইলে কিন্তু আমি চিৎকার দিব।
রূপম ঃ মৌমিতা …….।
মৌমিতা ঃ [জোরে কেঁদে উঠবে] অ্যাঃ …….. অ্যা ……।
রূপম ঃ মৌমিতা ……… প্লীজ মৌমিতা থাম।
মৌমিতা ঃ তাহলে তুই হাস।
রূপম ঃ মৌমিতা ……… তুই ……. [ মিষ্টি হাসি ] তুই না ……..। [হাসতে হাসতে হাত ধরাধরিতে দু’জন হাটছে ] আচ্ছা মৌমিতা তুই-আমি এভাবে কি সারা জীবন থাকতে পারব।
মৌমিতা ঃ একশ বার …… হাজার বার। তুই-আমি বাবা-মা দাদী কেউ কাউকে ছেড়ে কোথাও যাব না। এক বাসায় একসাথে খাব। একসাথে মজা করব।
রূপম ঃ (স্বগত:) তুই কিসের কথা বলছিস হয়ত আমি বুঝি! কিন্তু তুই যা বলছিস তা কি হবে?
মৌমিতা ঃ রূপম……. এই রূপম……. কি ভাবছিস?
রূপম ঃ না……. ভাবছি…… অনেকতো হল। এবার বাসায় চল।
মৌমিতা ঃ হ্যা……যেতে পারি তবে এক শর্তে। বাসায় ফিরে তুই কিন্তু গুঁমরা হয়ে থাকতে পারবি না। প্রমিজ……। [মৌমিতা হাত পেতে দিবে। রূপম মৌমিতার হাতে হাত রেখে প্রমিজ দিবে। ]
রূপম ঃ প্রমিজ !
মৌমিতা ঃ চল ।
[উভয়ে বাসায় ফিরতে রওয়ানা হবে।]

কাট
দৃশ্য Ñ ২৩
সময় Ñ রাত
[মৌমিতার বাবা খাটে হেলান দিয়ে বই পড়ছে। মৌমিতার মা চুলের খোপা বাঁধতে বাঁধতে পাশে এসে বসবে।]
মৌমিতার মা ঃ শোন….. একটা ভাল ঘর পেয়েছি।
মৌমিতার বাবা ঃ কার জন্যে?
মৌমিতার মা ঃ মৌমিতার জন্য।
মৌমিতার বাবা ঃ কেন ….. মৌমিতার কি ঘর নেই?
মৌমিতার মা ঃ এ জন্যই কিন্তু তোমার সাথে আমার লাগে। রাখতো তোমার বই। [হাত থেকে বই নিয়ে] ভাল করে শোন।
মৌমিতার বাবা ঃ অচ্ছা.,….।
মৌমিতার মা ঃ একটা ভাল ছেলে পেয়েছি। নাম শাকিব। মৌমিতার বন্ধু। একই ডির্পামেন্টে লেখাপড়া করে। ছেলেটি ওসঢ়ড়ৎঃ ঊীঢ়ড়ৎঃ এর ব্যবসা করে এখন কোটিপতি। উত্তরায় আলিশান বাড়ী দামী গাড়ি সব তার নিজের ও হপড়সব এ করেছে। নিজের বাড়ীতে সে একাই থাকে। তার মা – বাবা সবাই দেশের বাড়ী চিটাগাং এই থাকে। দেখতেও বেশ হ্যান্ডসাম। আমাদের মৌমিতাকে ওর পছন্দ হয়েছে। সারা জীবন মেয়েকে নিয়ে আমি যে রকম স্বপ্ন দেখে এসেছি আল­াহ বোধ হয় সে রকমই মিলিয়ে দিয়েছে। তুমি কি বল?
মৌমিতার বাবা ঃ মৌমিতাদের পড়াশুনা শেষ হয়েছে। সেত ১ বছর হল। এরই মধ্যে তারই ইয়ার মেট এত টাকার মালিক হল কিভাবে? তোমার কথায় এর নামই বোধ হয় আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ।
মৌমিতার মা ঃ আহ ্…. সব কিছু তুমি ঘধমধঃাব ঝবহপব এ দেখনাতো। যোগ্যতা থাকলে এমনিতেবই হয়। আহ্ যেমন ছেলে তেমন তার ব্যবহার। জানো আমাকে সে মায়ের মতই শ্রদ্ধা করে। অমি ঠিক করেছি তার সাথেই মৌমিতার বিয়ে দিব।
মৌমিতার বাবা ঃ তার আগে দেখ ….. মৌমিতা কি বলে?
মৌমিতার মা ঃ ও আবার কি বলবে? আমরা যা করব ওর ভালর জন্যই করব।
মৌমিতার বাবা ঃ দেখ ছালেহা …. আমি ব্যক্তি স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। মেয়ে বড় হয়েছে। তার মতামতের প্রয়োজন আছে।
মৌমিতার মা ঃ সে নিয়ে তুমি ভেব নাতো। মৌমিতাকে যা বলার আমিই বলব।
মৌমিতার বাবা ঃ যা কিছুই কর ভেবে চিন্তেই কর। আমার ঘুম পাচ্ছে। আমি শুয়ে পড়লাম। বাতিটা নিভিয়ে দিও। [মৌমিতার মা বাতিটা নিভিয়ে দিবে।]
কাট
দৃশ্য Ñ ২৪
[দাদী তসবিহ্ গুনছে। এমন সময় রূপম একটা চিঠির খাম হাতে রুমে ওহ করবে।]
রূপম ঃ দাদী …… ওহঃবৎারবি পধৎফ পেয়েছি। আগামীকাল ইন্টারভিউ। আমার জন্য দোয়া কর দাদী।
দাদী ঃ আয় ভাই ……. কাছে। তোকে একটু দোয়া করে দেই। [রূপম কাছে বসবে। দাদী কিছু ছুরা – কেরাত পড়ে রূপমের চোখে মুখে ফু দিয়ে দিচ্ছে। এমন সময় মৌমিতা দরজায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তা দেখছে আর হিংসায় ফুলছে।]
রূপম ঃ দাদী ……। [দাদীর কাঁধে মাথা রাখবে।]
দাদী ঃ আল­াহ্ নিশ্চয় তোর দিকে চাইবে।
[মৌমিতা রুমে ওহ করবে।]
মৌমিতা ঃ দাদীটা যেন উনার একার। আর দাদী ……. তুমিও যেন ওর একার।
দাদী ঃ মৌমিতা তুইও বস।
মৌমিতা ঃ [দাদীর পাশে বসে] আচ্ছা দাদী ….. বলতো তুমি কাকে বেশী ভালবাস?
দাদী ঃ তোদের দু’জনকেই আমি সমান ভালবাসি।
মৌমিতা ঃ দাদী …..। [মৌমিতা দাদীকে জড়িয়ে ধরবে। রূপম এ সুযোগে আস্তে করে উঠে এসে খাটের পিছনে চলে আসবে। মৌমিতার ওড়নাটার দুই মাথা এক করে খটের সাথে বেধেঁ দিয়ে ভাল মানুষের মত পাশে আবার বসে যাবে।]
মৌমিতা ঃ দাদী …. আমরা দু’জনও তোমাকে সমান ভালবাসি। তোমাকে ছেড়ে আমরা কোথাও যেতে চাইনা দাদী।
দাদী ঃ পাগলামী …..।
রূপম ঃ আমি গেলাম দাদী।
দাদী ঃ যা ভাই। [রূপম যেতে উদ্যত]
মৌমিতা ঃ আমিও যাই দাদী।[মৌমিতা যেতে উদ্যত হলে ওড়নায় টান লেগে খাটে বসে পড়বে।]
দেখেছ দাদী …. এটা রূপমের কাজ। [রূপম হাসবে]
দাদী ঃ আচ্ছা ভাই ….. আমিই খুরে দিচ্ছি।
মৌমিতা ঃ দাঁড়া …… তোকে চারটা কিল না দিয়ে আমি ছাড়ছিনা। [মৌমিতা রূপমকে তাড়া করবে] দাঁড়া বলছি …. দাঁড়া ….। [দাদী হাসবে]
কাট

দৃশ্য Ñ ২৫
[ড্রইংরুমে শাকিব এবং মৌমিতার মা বসে আছে। রূপম হাসতে হাসতে রুমে ওহ করবে পিছনে পিছনে মৌমিতাও ওহ করবে।]
মৌমিতা ঃ রূপম …..।
মৌমিতার মা ঃ মৌমিতা …..।
মৌমিতা ঃ তুমি শাকিব না।
শাকিব ঃ হ্যা …..। তুমি কেমন আছ মৌমিতা ?
মৌমিতা ঃ ভাল। রূপম ….. শাকিব আর আমি একই ডির্পাটমেন্টে পড়তাম। শাকিব – রূপম আমার কাজিন।
শাকিব ঃ হ্যালো …..।
রূপম ঃ থ্যাংকস্ । [শাকিব ও রূপম করর্মদন করবে]
মৌমিতার মা ঃ মৌমিতা ….. শাকিব আরেক দিন এসেছিল। ও নুতন গাড়ী কিনেছে। তাই আজ আমাদের নিয়ে বেড়াতে যেতে চায়।
মৌমিতা ঃ মা ….।
মৌমিতার মা ঃ রূপম যদি যেতে চায়। তাকেও নিয়ে নে। কি রূপম যাবে তুমি ?
রূপম ঃ না … মামী। আমার কাল একটা ইন্টারভিউ আছে। আমাকে একটু পড়তে হবে। আপনারা যান মামী।
[রূপম রুম থেকে ঙঁঃ হয়ে যাবে]
মৌমিতার মা ঃ মৌমিতা …. তুই ফ্রেশ হয়ে নে মা।
শাকিব ঃ প্লীজ মৌমিতা …..।
মৌমিতা ঃ মা …..।
মৌমিতার মা ঃ তোদের সাথে আমিও একটু বেড়িয়ে এলাম।
মৌমিতা ঃ ঠিক আছে ….। [মৌমিতা ড্রেসআপ হতে যাবে]
কাট
দৃশ্য Ñ২৬
[রূপম জানালার কাছে দাঁড়িয়ে আছে।মৌমিতা,শাকিব এবং মৌমিতার মা গাড়িতে উঠে বসবে। রূপম অপলক চেয়ে থাকবে। গাড়ি চলে যাবে]
কাট
দৃশ্য Ñ ২৭
[গাড়ি চলছে। শহরের কোলাহল ছেড়ে সবুজ প্রকৃতির রাস্তা ধরে গাড়ি চলছে। পড়ন্ত বিকেলে গাড়ি ফিরছে। গাড়ি উত্তরার একটি সুরম্য বাড়ির ভিতর ওহ করবে। সিংহ দরজায় গাড়ি থামিয়ে শাকিব নেমে এসে পিছনের ঢালা খুলে দিল।]
শাকিব ঃ প্লীজ আন্টি। [মৌমিতা এবং মৌমিতার মা গাড়ী থেকে নেমে এল।] আসুন।
[শাকিবের সাথে মৌমিতা ও মৌমিতার মা বাড়ীর ভিতর ওহ করল। অত্যাধুনিক ড্রইং রুমে শাকিব বসতে আহŸান জানাল।] প্লীজ আন্টি বসুন।
মৌমিতার ঃ বাহ্ ….. সুন্দর করে সাজিয়েছ।
শাকিব ঃ প্লীজ মৌমিতা ….. বস।
আব্দুল ….. আব্দুল …..। [ভিতরের রূম থেকে আব্দুল বেরিয়ে এল]
আব্দুল ঃ জে ভাইজান।
শাকিব ঃ খাবার সাজিয়েছ ?
আব্দুল ঃ জে ভাইজান ….. আসেন।
শাকিব ঃ চলুন আন্টি। এস মৌমিতা।

[সবাই ড্রইংরুমে ওহ করবে। ড্রইং টেবিলে হরেক রকম খাবার সাজানো। মৌমিতার মা খুশিতে আত্মহারা।]
মৌমিতার মা ঃ সেকি ….. এত আয়োজন।
শাকিব ঃ আন্টি গরীবের সামান্য আয়োজন। এ আর বেশী কি! নিন …..। [সবাই কাঁটা চামিচ দিয়ে খেতে শুরু করবে। শাকিব বার বার মৌমিতার দিকে তাকাবে।]

[স্বগতঃ “মৌমিতা ….. রানী এবং রাজত্ব দু‘টোই এখন আমার হাতে। রাজকন্যাকে পেতে আর ঠেকায় কে ?]
মৌমিতারমা ঃ [টিস্যু পেপারে মুখ মুছে] আজ তাহলে উঠি বাবা।
শাকিব ঃ চলুন আন্টি ….. আমি আপনাদের পৌছে দিচ্ছি। প্লীজ …..।
[সবাই গাড়িতে এসে উঠল। গাড়ি শাকিব ড্রাইভ করছে।]
কাট
দৃশ্য Ñ ২৮
[গাড়ি মৌমিতাদের বড়ির গেটে এসে থামল। জানালা দিয়ে রূপম সব দেখছে। সবাই গাড়ি থেকে নামল।]
মৌমিতার মা ঃ আবার এস বাবা।
রূপম ঃ জি আন্টি … [ মৌমিতার মা বাড়ির ভিতর চলে যাবে] আসি মৌমিতা ….. বাই….।
মৌমিতা ঃ [কষ্টে হেসে] বাই …..।
[শাকিব গাড়ি ছেড়ে চলে যাবে মৌমিতা হাত নাড়িয়ে বিদায় দিবে।]
কাট

দৃশ্য Ñ ২৯
[রূপম জানালায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মৌমিতা সোজা তার রুমে ওহ করবে।]
মৌমিতা ঃ রূপম ….. তুই কি কিছু বলবি না ?
রূপম ঃ জি ….. কি বলব ?
মৌমিতা ঃ তোর কিছুই বলার নেই ? রূপম তোর কি কিছুই করার নেই ?
রূপম ঃ মৌমিতা ….. আমি কি করব ?
মৌমিতা ঃ [রাগে] ঠিক আছে ….. তুই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তামাশাই দেখ। কাপুরুষ। [মৌমিতা দ্রুত রুম থেকে চলে যাবে]
কাট

দৃশ্য Ñ ৩০
[সন্ধ্যা। মৌমিতার মা বারান্দার লাইটটি নিভিয়ে রুমের ভিতর ওহ করল। টেলিফোনটা বেজে উঠল। টেলিফোন রিসিভ করল।]
মৌমিতার মা ঃ হ্যালো …..।
ইন্টার কাট
মৌমিতার মা ঃ অহ্ ….. শাকিব ….. কিছু বলবে ?
শাকিব ঃ আন্টি ….. আমার বাড়ি আপনার পছন্দ হয়েছে ?
মৌমিতার মা ঃ কি যে বল না বাবা ….. এমন বাড়ি কারো কি পছন্দ না হয়ে পারে ?
শাকিব ঃ আন্টি ….. যদি কিছু মনে না করেন। তাহলে একটা কথা বলতে চাই।
মৌমিতার মা ঃ না … না… মনে করার কি আছে ? তুমি নির্দ্বিধায় বল।
শাকিব ঃ আন্টি ….. মৌমিতাকে আমার খুব পছন্দ। অ্মাকে যদি আপনার পছন্দ হয়ে থাকে .।
মৌমিতার মা ঃ [খুশি] হ্যা নিশ্চয় …তোমাকে আমার খুব পছন্দ হয়েছে।
শাকিব ঃ তাহলে শুভ কাজটি শীঘ্রই সেরে ফেলতে চাই।
মৌমিতার মা ঃ হ্যা ………… তাই হবে …………… তাই হবে।
শাকিব ঃ থ্যাংক ইউ আন্টি ………… থ্যাংক ইউ।
মৌমিতার মা ঃ [মৌমিতার মা ফোনটা রেখে ডেকে বলবে] ওগো ……… শোনছ ……..।

কাট
দৃশ্য Ñ ৩১
[মৌমিতার বাবা বেডে শুয়ে পত্রিকা পড়ছে। মৌমিতার মা রুমে ওহ করবে]
মৌমিতার মা ঃ ওগো শোনছ ……. খুশির খবর। আল­াহ আমার ডাক শোনেছে। শাকিব আমাদের মৌমিতাকে পছন্দ করেছে। মৌমিতাকে আমি ওর সাথেই বিয়ে দিব। এ বয়সেই কোটিপতি। উত্তরায় আলিশান বাড়ি। আমার মৌমিতা খুব সুখে থাকবে। কই ……. তুমি কিছু বলছ না যে ?
মৌমিতার বাবা ঃ ছালেহা। আমি ভাবছিলাম অন্য কিছু।
মৌমিতার মা ঃ কি ?
মৌমিতার বাবা ঃ আমাদেরতো একটিমাত্র মেয়ে। তাই চেয়েছিলাম সারাজীবন আমাদের ঘরেই রেখে দিতে।
মৌমিতার মা ঃ কি আবোল তাবোল বক্ছ Ñ মেয়ে বড় হলে কি ঘরে রাখা যায় ?
মৌমিতার বাবা ঃ ইচ্ছে করলে রাখা যায়।
মৌমিতার মা ঃ যেমন !
মৌমিতার বাবা ঃ আমি বলছিলাম রূপমের কথা।
মৌমিতার মা ঃ দেখ Ñ চালহীন-চুলোহীন কোন ছেলের হাতে আমার মেয়েকে আমি কোনদিনই তুলে দেব না। আমি শাকিবের হাতেই আমার মেয়েকে তুলে দেব। আমার মেয়ে রাজনরানীর মত সুখী হবে এটাই আমার শেষ কথা। তুমি প্রস্তুতি নাও। আম্মাকে খুশির খবরটা জানিয়ে আসি।
[ মৌমিতার মা রুম থেকে ঙঁঃ হয়ে যাবে ]

কাট
দৃশ্য Ñ ৩২
[মৌমিতার দাদী খাটে বসে পান খাচ্ছে। মৌমিতার মা রুমে ওহ করবে]
মৌমিতার মা ঃ আম্মা ……।
দাদী ঃ এস বউ মা।
মৌমিতার মা ঃ [দাদীর কাছে বসে] আম্মা …………. শাকিব আমাদের মৌমিতাকে পছন্দ করেছে। [পাশের রুমে মৌমিতা মায়ের কথা শুনে জানালার কাছে এসে দাঁড়াবে]
দাদী ঃ কোন শাকিব বউ মা ?
মৌমিতার মা ঃ সেই শাকিব ……….. যে ছেলেটি সেদিন আমাদের বাসায় এসেছিল। আম্মা।
দাদী ঃ অহ্ ……. সেই ছেলেটি যার উত্তরায় বাড়ি আছে ?
মৌমিতার মা ঃ হ্যা ……….. আম্মা …….. সেই ছেলেটি। আম্মা আমি আর মৌমিতা ওর বাড়ি দেখে এসেছি। আমার খুব পছন্দ হয়েছে। আপনি দোয়া করবেন আম্মা আমাদের মৌমিতা সুখে থাকবে।
দাদী ঃ সুখতো আর টাকা-পয়সায় হয়না বউমা। সুখ অন্য জিনিস। দেখ …….. তোমাদের মেয়ে তোমরা যা ভাল মনে হয়, তাই কর।
মৌমিতার মা ঃ জী আম্মা। তাই হবে। যাই আম্মা।
দাদী ঃ হুঁম ……..। [মৌমিতার মা রুম থেকে চলে যাবে]।
ইন্টার কাট
[মৌমিতা খুব আপ-সেট হয়ে পড়বে। মৌমিতা দাদীর রুমে ছুটে আসবে। দরজায় দাড়িয়ে ডেকে উঠবে ]
মৌমিতা ঃ দাদী ………..।
দাদী ঃ মৌমিতা ………।
মৌমিতা ঃ [দৌড়ে এসে দাদীর কোলে মাথা রেখে] দাদী ………………। আমি কি তোমাদের এতই বোঝা হয়ে গেছি যে, আমাকে তাড়াতে পারলেই বাঁচ ? দাদী Ñ আমি তোমাকে ছেড়ে কোথাও যাব না।
দাদী ঃ মৌমিতা ……….। শোন ………. আহ্ …….. কি হয়েছে ? আমাকে বল।
মৌমিতা ঃ দাদী ……. আমি এবাড়ি ছেড়ে কোথাও যাব না।
দাদী ঃ পাগলী Ñ মেয়েরা কি চিরদিন বাপের বাড়ি থাকবে ?
মৌমিতা ঃ আমি থাকতে চাই দাদী।
দাদী ঃ হুম …. বুঝিরে ….. আমি সবই বুঝি। কিন্তু তোর মাতো কিছুই বুঝতে চায়না।
মৌমিতা ঃ দাদী ….. মাকে তুমি বুঝাও দাদী। আমি এ বাড়ি ছেড়ে কোথাও যাব না।
দাদী ঃ ঠিক আছে আমি বুঝাব। যা বোন …….. রাত হয়েছে শোয়ে পড়।
[মৌমিতা ধীর পায়ে রুম থেকে চলে আসবে]
দাদী ঃ (স্বগতঃ) রপমের যদি একটা চাকুরী হত।
কাট

দৃশ্য Ñ ৩৩
[মৌমিতার রান্না ঘরে চা বানাচ্ছে। দাদী রুমে ওহ করবে]
মৌমিতার মা ঃ আম্মা ……।
দাদী ঃ বউমা ….. । মৌমিতা বিয়ে করতে চাচ্ছে না।
মৌমিতার মা ঃ ও বললেই হলো ?
দাদী ঃ বউ মা ……… মেয়ে তোমাদের বড় হয়েছে। জোর করে কোন কিছু করতে যেও না। তাতে কোন রকম বিপত্তি ঘটতে পারে। কথাটা ভেবে দেখ। আসি।
[দাদী চলে যাবে। মৌমিতার মা রাগে ফুলবে]
মৌমিতার মা ঃ (স্বগতঃ) হুঁম ……. মা -ছেলের এক কথা …….. চালহীন-চুলোহীন রূপম !
[মৌমিতার মা চা নাড়তে নাড়তে হঠাৎ চিন্তা করবে ]
(স্বগতঃ) হুঁম …. ! মেয়ে বড় হয়েছে। জোর করে কোন কিছু করতে গেলে কোনরকম বিপত্তি ঘটতেও পারে। আমাকে তাহলে কৌশলে এগুতে হবে।
[চা কাপে ঘুরপাক খেতে থাকবে]
কাট
দৃশ্য Ñ ৩৪
[রূপম টেবিলে পড়ছে। চা নিয়ে মৌমিতার মায়ের প্রবেশ]
মৌমিতার মা ঃ রূপম ……।
রূপম ঃ মামী ………।
মৌমিতার মা ঃ তোমার চা [টেবিলে রাখবে]
রূপম ঃ মামী আপনি আমার জন্য চা নিয়ে এলেন ?
মৌমিতার মা ঃ কেন মা কি তার ছেলের জন্য চা নিয়ে আসতে পারে না ?
রূপম ঃ মামী ! আপনি…. বসেন।
মৌমিতার মা ঃ রূপম আমি কি সেই ছোট্ট বেলা থেকে তোমাকে খাইয়ে পড়িয়ে বড় করে তুলিনি ?
রূপম ঃ মামী আমার জন্মের পর থেকে যেদিন জ্ঞান হয়েছে সেদিন থেকেই আপনাকে আর মামাকেই আমি চিনেছি। মা- বাবার অভাব কি কোনদিন আমাকে বুঝতে দেন নি।তাই আপনারা শুধু আমার মামা –মামীই নন- আমার কাছে মা-বাবার মত।
মৌমিতার মা ঃ তাহলে আমি যদি কোন বিপদে পড়ি তুমি কি আমাকে উদ্ধার করবে না।
রূপম ঃ মামী…… আমার জীবনের বিনিময়ে হলেও আপনাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করব।
মৌমিতার মা ঃ আমি যে একটা বিপদে পড়ে গেছি বাবা !
রূপম ঃ মামী …..আমার দ্বারা কি সেই বিপদ উদ্ধার হবে ?
মৌমিতার মা ঃ হ্যা….বাবা …তুমিই পার এ বিপদ থেকে আমাকে উদ্ধার করতে। কথা দাও বাবা তুমি আমাকে এ বিপদ থেকে আমাকে উদ্ধার করবে।
রূপম ঃ কথা দিলাম মামী। আপনি বলুন।
মৌমিতার মা ঃ তুমি আমাকে বাচাঁলে বাবা। রূপম…….আমি শাকিবের সাথে মৌমিতার বিয়ে ঠিক করেছি। কিন্তু মৌমিতা এ বিয়ে ভেঙ্গে দিতে চায়। যদি তাই হয় তবে আমার ও তোমার মামার মান-সম্মান ধুলোয় মিশে যাবে। তাই তুমি এমন একটা কিছু কর যাতে মৌমিতা বিয়েটা ভেঙ্গে না দেয়।
রূপম ঃ মামী ….. মৌমিতাকে আমি বুঝিয়ে বলব।
মৌমিতার মা ঃ না। ও তোমার কথা শুনবে না।
রূপম ঃ তাহলে আমি কি করব মামী ?
মৌমিতার মা ঃ ওর সামনে এমন একটা কিছু কর। যাতে তোমাকে ও পছন্দ করে। প্লীজ …..।
রূপম ঃ মামী। আমি তাই করব।
মৌমিতার মা ঃ আর একটা কথা বাবা। আমি যে তোমাকে এসব বলেছি কাউকে তুমি বলবে না।
রূপম ঃ [মাথা নেরে] হুঁ ….ম।
মৌমিতার মা ঃ তুমি লক্ষী ছেলে বাবা। [মৌমিতার মা চলে যাবে]
[ঋষধংয – নধপশ এ মৌমিতার সাথে দুষ্টমীর দৃশ্য গুলা রূপম এক এক করে দেখতে থাকবে। রূপম পাথরচাপা কান্নায় ভেঙ্গে পড়বে। কাগজ কলম হাতে নিবে।]
কাট

দৃশ্য Ñ ৩৫
[মৌমিতার মা রুম গুছাচ্ছে। মৌমিতার রুমে ওহ করবে।]
মৌমিতা ঃ মা ….. এ বিয়ে বিয়ে আমি করতে চাই না।
মৌমিতার মা ঃ মৌমিতা ….. আমি যে শাকিবকে কথা দিয়ে ফেলেছি মা।
মৌমিতা ঃ মা ….. আমি এ বাড়ি ছেড়ে কোথাও যাব না।
মৌমিতার মা ঃ মৌমিতা সব মেয়েদেরই বিয়ের পর অন্য বাড়িতেই যেতে হয় মা।
মৌমিতা ঃ যতে অন্য বাড়ি যেতে না হয় সে ব্যবস্থা করলেই তো পার মা।
মৌমিতার মা ঃ তুই কি ….. রূপমকে নিয়ে ভাবছিস ?
[মৌমিতার মৌনতা হ্যা জানাবে]
মৌমিতা ঃ ঠিক আছে ….. দেখ রূপম কি বলে ?
[মৌমিতার মা রুম থেকে ঙঁঃ হয়ে যাবে] মৌমিতার মুখে একটু হাসি ফুটবে মৌমিতাও রূপমের উদ্দেশ্যে রুম থেকে বের হবে।]
কাট
দৃশ্য Ñ ৩৬
[রূপম চিঠি লিখছে।]
রূপম ঃ আমার নদী,
আমার চাকুরীটা হয়ে গেলেই একটা ছোট্র বাসা ভাড়া নিব। বাসায় উঠেই তোমাকে বউ সাজিয়ে সে বাসায় তুলে আনব। অর ক’টা দিন অপেক্ষা কর লক্ষীটি। প্লীজ …..।
ইতি
তোমার রূপম
[চিঠি লেখা শেষ হতেই মৌমিতা রুমে ওহ করবে।]
মৌমিতা ঃ রূপম ….. তুই কি চাস তোর কাছ থেকে আমি চিরদিনে জন্য হারিয়ে যাই ?
রূপম ঃ মেয়েরা বড় হলে চিরদিন কি আর এক সাথে থাকতে পারে ?
মৌমিতা ঃ যা করলে এক সাথে থাকা যায় সে ব্যবস্থা করলেই পারিস।
রূপম ঃ মৌমিতা …..।
মৌমিতা ঃ রূপম ….. আমি কি বলতে চাই তুই কি কিছুই বুঝিস না ? আমি এখনও বলছি যদি একটা কিছু ঘটে যায় ….. সেদিন কিন্তু তুই আমাকে কোন দোষ দিতে পারবি না।
রূপম ঃ না ….. আমি তোকে দোষ দিব কোন সাহসে ? আমিতো …..।
[হাত নাড়া দিতেই চিঠিটা উড়ে মৌমিতার কাছে এসে পড়বে। মৌমিতা চিঠিটা কুড়িয়ে হাতে নিবে এবং পড়বে।] আমার নদী, আমার একটা চাকুরী হয়ে গেলেই ………।
মৌমিতা ঃ রূপম ….. তুই তাহলে অন্য মেয়েকে পছন্দ করিস ! রূপম ভূল করে আমিই আলেয়ার পিছনে ছুটেছি। রূপম ……. আজ আর আমার কোন দুঃখ নেই। হ্যাঁ ……. আমি শাকিবকেই বিয়ে করব। তোর পথ পরিস্কার করে দেব।
[মৌমিতা দৌড়ে রুম থেকে বের হয়ে আসবে।]
ইন্টার কাট
দৃশ্য Ñ ৩৭
[ সানাই বাজছে। বিয়ের সাজে মৌমিতা মা, বাবা, দাদীর কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছে। রূপম দূর থেকে মৌমিতাকে দেখছে। শাকিব মৌমিতাকে নিয়ে গাড়িতে উঠবে।]
একটা ট্রাজিক গান হতে পারে Ñ
‘‘আজ দু’জনার দু’টি পথ ওগো
দুটি দিকে গেছে বেঁকে…….।”
[দু’ চোখ বেয়ে পানি পড়ছে রূপমের]
কাট
দৃশ্য Ñ ৩৮
[শাকিব এবং নতুন বউ মৌমিতা নাস্তা করছে। মৌমিতার মাথার কাপড় পড়ে যাবে। শাকিব নাস্তা শেষে মিষ্টি হেসে মৌমিতার মাথায় শাড়ীর আঁচল তুলে দিবে। মিষ্টি হেসে শাকিব ব্রীফকেস নিয়ে বিদায় নিবে।]
কাট
দৃশ্য Ñ ৩৯
[রূপমের রুমের কলিং বেল বাজবে। রূপম দরজা খুলে দিবে। ডাক পিয়ন দরজায় দাড়ানো]
ডাকপিয়ন ঃ রূপম সাহেবের চিঠি।
রূপম ঃ আমিই রূপম।
ডাকপিয়ন ঃ নিন। [ পিয়ন চিঠি দিয়ে চলে যাবে। রূপম চিঠি খুলে দেখবে অঢ়ঢ়ড়রহঃসবহঃ ষবঃঃবৎ এমন সময় রুমে ওহ করবে ]
দাদী ঃ রূপম ……… কি পড়েছিস।
রূপম ঃ আমার চাকুরী হয়েছে দাদী।
দাদী ঃ আলহামদুলিল­াহ —- আল­াহ তোর দিকে মুখ তুলে তাকিয়েছে। [রূপম পা ছুঁয়ে সালাম করবে।] বেঁচে থাক ভাই ….. বেঁচে থাক।
রূপম ঃ মামা-মামীকে জানিয়ে আসি দাদী।
দাদী ঃ যা ……….. তাই যা। [রূপম রুম থেকে বের হবে]
[স্বগতঃ] হুঁম ! সেইতো হল ….. মাঝপথ থেকে অনেকটা সময় হারিয়ে গেল।
কাট
দৃশ্য Ñ ৪০
[মামা-মামী রুমে চা খাচ্ছে। এমন সময় রূপম রুমে ওহ করবে]
রূপম ঃ মামা ………. আমার চাকুরী হয়েছে। [রূপম উভয়ের পা ছুঁয়ে সালাম করবে]
মৌমিতার বাবা ঃ ঈড়হমৎধঃঁষধঃরড়হ সু নড়ু. আমি বড় খুশি হয়েছি।
রূপম ঃ আগামীকাল আমার জয়েনিং উধঃব। দোয়া করবেন মামা। মা দোয়া করবেন।
মৌমিতার মা ঃ হ্যা ….. দোয়া করি তুমি যেন ভাল থাক।
মৌমিতার বাবা ঃ [পকেট থেকে টাকা বের করে] নে হাত খরচা।
রূপম ঃ মামা ……….।
মৌমিতার বাবা ঃ আরে নে ……. ধর আরে নে Ñ ধর। বেতন পেয়ে না হয় পরিশোধ করে দিস। [রূপম টাকা নিবে] যা তোর গোজ গাজ আজই সেরে রাখ। [রূপম রুম থেকে চলে যাবে] রড় ভাল ছেলে। [চায়ে চুমুক দেবে]
দৃশ্য Ñ ৪১
স্থান Ñ অফিস রুম।
সময় Ñ রাত।
[হাই ফাই অফিস রুমে শাকিব বসে টেলিফোনে আরাপরত। এমন লাল টেলিফোন বেজে উঠবে। শাকিব রিসিভ করবে।]
টেলিফোনে কথা হচ্ছে ঃ বস। গাড়ি মোড়ে এসেছে ।
শাকিব ঃ ঙশ …….অঃঃধপশ……
টেলিফোনে ঃ ঙশ….ইড়ংং।
কাট
দৃশ্য Ñ ৪২
স্থান Ñ শহুরে রাস্তা।
সময় Ñ রাত।
[চার জন যুবক মাইক্রো বাসটি সম্মুখে দিয়ে আসা টেক্সি গাড়ির সামনে থামিয়ে দিবে। এক জন যুবক গাড়ি থেকে নেমে টেক্সির ড্রাইভারকে গালি দিবে।]
একজন যুবক ঃ এই শুয়রের বাচ্চা…….গাড়িতে লাগিয়ে দিলি যে ?
ভদ্রলোক ঃ [ কাঁচ নামিয়ে ] এই ছেলে গালি দিচ্ছ কেন ?
[ যুবকটি পিস্তল বের করে ভদ্রলোকের মাথায় ঠেকাবে। সাথে অন্য ৩জন মাইক্রো বাস থেকে নেমে টেক্সির দরজা খুলে ভদ্রলোকের মুখে টেপ লাগিয়ে দিবে এবং কাপরে
চোখ বেঁধে বের করে মাইক্রো বাসে তুলে নিয়ে নিমিষে উধাও হয়ে যাবে।]
কাট
দৃশ্য Ñ ৪৩।
স্থান Ñ অন্ধকার অফিস রুম।
সময় Ñ রাত।
[ভদ্রলোককে কিডন্যাপের একজন কাছে বসে বলছে ]
একজন ঃ আপনি আপনার মোবাইল দিয়ে আপনার ম্যানেজাকে বলবেন এই মাত্র ব্যাংক থেকে শ্রমিকদের বেতন দেয়ার জন্য যে ১০,০০০ লক্ষ টাকা উত্তোলন করেছে। সেই টাকাটা নিয়ে যেন এখানে চলে আসে। ম্যানেজার একা আসবে।এর ভিন্ন কোন কথা বললে একটা গুলি খরচ করব। ঙশ ?

ভদ্রলোক ঃ [মাথা ঝাঁকিয়ে বলবে হাঁ। মুখের টেপ খুলে দিবে। ভদ্রলোকের নিজের মোবাইলে সে তাই বলবে ]
[একজন মোবাইল ড়ভভ করে দিবে।]
কাট
দৃশ্য Ñ ৪৪
স্থান Ñ অফিস রুম
সময় Ñ দিন
[ম্যানেজার তার কক্ষে কর্মরত। শাকিব রুমে রহ করবে]
শাকিব ঃ আসতে পারি ?
ম্যানেজার ঃ আরে….শাকিব সাহেব যে…. আসুন ….আসুন….বসুন। তা স্যার কেমন আছেন ?
শাকিব ঃ সেকথাই আপনাকে বলতে এসেছি। স্যার অতি সেক্্েরট কাজে গত রাতে দেশের
বাইরে চলে গেছেন। বিষয়টি একান্তই গোপনীয়। আমি আর আপনি ছাড়া কেউ যেন
জানতে না পারে। উপরের কেউ যদি জানতে চায় তাহলে যেন উত্তর দিতে পারেন ।
সে জন্য আপনার আর আমার জানা।
ম্যানেজার ঃএত অল্প সময়ে স্যার আপনাকে এত বিশ্বাস করে ফেললেন। স্যার কতদিন বাইরে
থাকবেন ?
শাকিব ঃ কম করে হলেও মাস তিনেক।
ম্যানেজার ঃ তাহলে ফাইন্যান্স অপারেশন করবে কে?
শাকিব ঃ সে দায়িত্ব লিখিত ভাবে স্যার আমাকে দিয়ে গেছেন।
ম্যানেজার ঃ অহ…… ঠিক আছে।
স্যার কি ছেলে Ñ মেয়ে রিভব এর সাথে রিহঃবৎ-াধপঃরড়হ কাটাতে অসবৎরপধ
গেছেন নাকি?

শাকিব ঃ শুধু জানেন…..ঐঁংনধহফ রিভব এর ঝধঢ়ধৎধঃরড়হ এর বিতৃষ্ণা মিটানোর জন্যই স্যার অন্য দেশে রিলাক্স করতে গিয়েছেন। ঞযধঃ’ং ধষষ.
ম্যানেজার ঃ ড়শ.
শাকিব ঃ সাভারের প্রজেক্টের জন্য আগামী কাল এক কোটি টাকা লাগবে।
ম্যানেজার ঃ বেশী অসড়ঁহঃ হলে ব্যাংক ম্যানেজারকে অবশ্যই স্যারের রিং করে বলে দিতে হবে
শাকিব ঃ স্যার ইতিমধ্যে ব্যাংক ম্যানেজারকে বলে দিয়েছেন। আপনি শুধু অফিসিয়াল প্রসেস মেনটেন করুন। আপনাকে খুশী করা হবে।
ম্যানেজার ঃ ড়শ.
শাকিব ঃ থ্যাংক ইউ। [হাতে করমর্দন করে রুম থেকে শাকিব ড়ঁঃ হবে।]
কাট
দৃশ্য Ñ ৪৫
স্থান Ñ শাকিবের বাড়ি
সময় Ñ দিন
[শাকিব গাড়িতে বাসায় ফিরবে। গেটে র্হন বাজাবে। দারোয়ান গেট খুলে দিবে। গাড়ি বাড়ির ভিতর র্পার্কিং করে। শাকিব নেমে আসবে। শাকিবের বন্ধু (একজন) ছেলেটা পিয়াল কয়েকটা শাড়ির প্যাকেট হাতে নিয়ে নামবে, শাকিবের পিছনে পিছনে পিয়াল ড্রইং রুমে ওহ করবে। ড্রইং রুমে সোফায় বসে মৌমিতা একটা ম্যাগাজিন পড়ছে ]
শাকিব ঃ কি করছ মৌমিতা ?
মৌমিতা ঃ জি… একটা আর্টিকেল পড়ছিলাম ।
[ পিয়াল বক্স গুলি টেবিলের উপর রেকে বরবে ]
পিয়াল ঃ আসি বস ।
শাকিব ঃ দাঁড়াও [ মানি ব্যাগ থেকে ৫০০ টাকার নোট বের করে হাতে দিবে ]
পিয়াল ঃ থ্যাক ইউ বস । পিয়াল চলে যাবে]
মৌমিতা ঃ এত বক্স কেন ?
শাকিব ঃ তোমার জন্য ।
মৌমিতা ঃ আমার জন্য ।
শাকিব ঃ হ্যা…তোমার জন্য ব্যস্ততার জন্য বিয়ের পরত মার্কেটিং করা হয়ে উঠেনি….. তাই।
মৌমিতা ঃ তাই বলে এক সাথে এত ?
শাকিব ঃ এ আর তেমন কি ! রাজ কন্যা তো আমি পেয়েছি। তাকে খুশি রাখাইতো আমার খুশি। তুমি যেদিন মার্কেটে যাবে সেদিন পুরো মার্কেটাই তুলে আমি বাড়িতে নিয়ে আসব।
মৌমিতা ঃ পাগল নাকি !
শাকিব ঃ তুমি যাই বল।
মৌমিতা ঃ হয়েছে …..এবার খেতে এস, বুয়া ……..বুয়া ।
বুয়া ঃ [ রুমে ওহ করবে ] জে ম্যাডাম ?
মৌমিতা ঃ টেবিলে সাহেবের খাবার লাগাও।
বুয়া ঃ জে… আচছা [ বুয়া ড়ঁঃ হয়ে যাবে ]
মৌমিতা ঃ আলিম চাচা…… আলিম চাচা ….
আলিম চাচা ঃ [ রুমে ওহ করে ] জে আম্মা ?
মৌমিতা ঃ এ বক্স গুলি তুলে রাখুুন তো ।
আলিম চাচা ঃ আচ্ছা
মৌমিতা ঃ চল শাকিব। [ শাকিব ও মৌমিতার রুম থেকে ড়ঁঃ হবে]
কাট
দৃশ্য Ñ ৪৬
স্থান Ñ ডাইনিং রুম ।
সময় Ñ দিন ।
[ডাইনিং টেবিলে কাজের বুয়া খাবার সাজাচেছ, শাকিব ও মৌমিতা ডাইনিং রুমে ওহ করবে। মৌমিতা শাকিবের প্লেটে খাবার দিচেছ]
শাকিব ঃ বুয়া …..
বুয়া ঃ জে স্যার ?
শাকিব ঃ ভোলামিয়া গ্রামের বাড়ি থেকে কবে ফিরবে ?
বুয়া ঃ কইছিলত এক সপ্তাহ পরেই ফিরে আইব ।
শাকিব ঃ আচছা [খাবার মুখে দিবে, মৌমিতাও খাচেছ] বুয়া….তুমি যাও আমরা নিয়েই খাচিছ।
বুয়া ঃ জে আচছা [ বুয়া ড়ঁঃ হয়ে যাবে ]
শাকিব ঃ মৌমিতা …….।
মৌমিতা ঃ হুমঁ ।
শাকিব ঃ একদিনও তোমাদের বাড়িতে যাবার কথা বলছনা যে ?
মৌমিতা ঃ জি….না মানে তোমার ব্যস্ততা…….এত বড় বাড়ি ……একা ফেলে রেখে বলি কি করে ?
শাকিব ঃ [ মৃদু হাসি ] সত্যি…আমি ভাগ্যবান পুরুষ।
মৌমিতা ঃ জি…্.।
শাকিব ঃ জি….. তানা হলে কি এত সহজে আমি তোমাকে পেতাম ? শোন, কাল আমরা তোমাদের বাড়িতে বেড়াতে যাচিছ।
মৌমিতা ঃ সত্যি।
শাকিব ঃ হুঁম। কই পাতে কিছু দাও ,
মৌমিতা ঃ অহ…… সরি ……. । [শাকিবের প্লেটে মাংশ দিতে গেলে ]
শাকিব ঃ [ হাত ধরে ] অ্যা হুম। তোমার প্লেটে ?
[উভয়ের মৃদু হাসি ]
কাট
দৃশ্য Ñ ৪৭
স্থান Ñ মৌমিতদের বাসা
সময় Ñ দিন
[মৌমিতার বাব ও মা বিকেলে চা খাচ্ছে ]
মৌমিতার মা ঃ মেয়েটা একদিন ও এলনা
মৌমিতার বাবা ঃ যাও। গিয়ে নিয়ে এস।
মৌমিতার মা ঃ হুঁম। তাই যাব।
ওহঃবৎ পঁঃ
[বাইরের বারান্দায় বসে দাদি চা খাচ্ছে। এমন সময় গেটে এসে গাড়ি থামল মৌমিতা এবং মৌমিতার স্বামী শাকিব গাড়ি থেকে নেমে বাড়ির ভিতর ওহ করল। দাদীদে কে আনন্দে ডাকতে থাকবে]
দাদী ঃ বউ মা ………বউ মা ………., দেখ তো কে এসেছে ……কে এসেছে….. ।
ওহঃবৎ পঁঃ
মৌমিতার মা ঃ কে এসেছে আম্মা ?
দাদী ঃ বাইরে এসেই দেখ। আমাদের মৌমিতা ………………..
ওহঃবৎ পঁঃ
[মৌমিতার মা খুশিতে রুম থেকে বাইরে আসবে। পিছনে মৌমিতার বাবাও বের হয়ে আসবে।]
মৌমিতার মা ঃ মৌমিতা ……. কেমন আছিস মা ?
মৌমিতা ঃ [কোলাকুলি] ভাল মা …….. খুব ভাল। বাবা কেমন আছে ?
মৌমিতার বাবা ঃ ভাল মা। তুই ভাল আছিস ?
মৌমিতা ঃ হ্যা বাবা ভাল আছি।
[মৌমিতা দাদীকে জড়িয়ে ধরবে]
দাদী ….. কেমন আছ দাদী ?
দাদী ঃ ভালরে বুবু ……. ভাল আছি।
মৌমিতার মা ঃ শাকিব ……….. তুমি ঘরে এস বাবা।
শাকিব ঃ না আম্মা। অফিসে আমার কাজ আছে। মৌমিতা আজ আপনাদের কাছেই থাকবে। কাল এসে আমি ওকে নিয়ে যাব।
মৌমিতার মা ঃ সেকি বাবা এক কাপ চা অন্তত খেয়ে যাও।
শাকিব ঃ থাক না।
মৌমিতার বাবা ঃ মৌমিতার মায়ের হাতের চা তোমার খুব প্রিয়। খেয়ে যাও এক কাপ।
মৌমিতার মা ঃ হ্যা বাবা…….. আমার হাতের চা তোমার ভাল লাগবে। এস।
শাকিব ঃ ঠিক আছে।
[মৌমিতার বাবা, শাকিব ও মৌমিতার মা রুমের ভিতর প্রবেশ করবে।]
মৌমিতা ঃ দাদী ………. একজনকে দেখছি না ?
দাদী ঃ তুই রূপমের কথা বলছিস ?
মৌমিতা ঃ হ্যা
দাদী ঃ রূপম চলে গেছে।
মৌমিতা ঃ বিয়ে করে নতুন বউকে নিয়ে নতুন বাসায় উঠেছে নিশ্চয়।
দাদী ঃ নারে মৌমিতা। তুই যা ভাবছিস তা না।
মৌমিতা ঃ তবে ?
দাদী ঃ রূপমের চাকরী হয়েছে। এক বৎসর ট্রেনিং তারপর জয়েন।
মৌমিতা ঃ অহ্ ….। থাক সে সব কথা। আগে বল …… তুমি একদিনও আমাকে দেখতে গেলে না কেন ?
দাদী ঃ শরীরটা আজকাল ভাল যাচ্ছে নারে বুবু।
মৌমিতা ঃ দাদী ….. বিদেশের যে কোন হাসপাতালে নিয়ে তোমাকে চিকিৎসা করানোর ক্ষমতা এখন মৌমিতার আছে দাদী।
দাদী ঃ সে আমি জানিরে বুবু। কিন্তু সময় ফুরিয়ে এলে কোন হাসপাতালেই কাজ হবে নারে বুবু।
মৌমিতা ঃ ওসব কথা বলনাত দাদী। চল …… তোমার ঘরে যাই।
দাদী ঃ চল। [উভয়ে ঘরের দিকে মুভ করবে।]
ইন্টার কাট
[ডাইনিং রুমে টেবিলে চায়ের কাপ রেখে শাকিব মৌমিতার মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছে।]
শাকিব ঃ আসি।
মৌমিতার মা ঃ এস বাবা। [রুম থেকে বের হতেই সামনে মৌমিতা এবং দাদীর মুখোমুখি হবে শাকিব।]
শাকিব ঃ আগামীকাল এসে তোমাকে নিয়ে যাব মৌমিতা। আসি দাদী।
দাদী ঃ এস ভাই। [শাকিব চলে যাবে।]
কাট
দৃশ্য Ñ ৪৮
স্থান Ñ অফিস রুম।
সময় Ñ সন্ধ্যা
[শাকিব তার রুমে বসে একটা ম্যাগাজিন পড়ছে। লাল টেলিফোন বেজে উঠবে।]
শাকিব ঃ ণবং ………. ড়ঢ়বৎধঃরড়হ ংঁপপবংং ? ঠবৎু মড়ড়ফ. ইব পধৎবভঁষ. ঙশ !
[টেলিফোন রেখে দিবে।]
কাট
দৃশ্য Ñ ৪৯
স্থান Ñ মৌমিতাদের বাসা
সময় Ñ সন্ধ্যা
[মৌমিতা, মৌমিতার বাবা, দাদী ডাইনিং টেবিলে খেতে বসেছে। মৌমিতার মা খাবার পরিবেশন করছে।]
মৌমিতা ঃ জান দাদী ……… আমার মায়ের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। টেবিল ভর্তি খাবার। একবেলায় সব আইটেম খেয়ে শেষ করা যায় না। তার উপর বাড়ি ভর্তি কাজে লোক। আমাকে কিছুই করতে হয় না।
মৌমিতার মা ঃ হাজার শুকুর। আমার যা হয়নি, আমার মেয়ের তা হয়েছে। এতেই আমি খুশি।
মৌমিতার বাবা ঃ বেশী খুশি ভাল না।
মৌমিতার মা ঃ হ্যা ……. তুমিতো তা পারনি। তাই তোমার কাছে ভাল লাগবেনা।
মৌমিতার বাবা ঃ হুঁম ! তুমিতো সারাটা জীবন আমাকে অভিযুক্তই করে গেলে !
[মৌমিতার বাবা হাত ধুয়ে চেয়ার থেকে উঠে যাবে।]
মৌমিতা ঃ সেকি বাবা …… উঠে যাচ্ছ যে !
মৌমিতার বাবা ঃ তুই খা মা। [মৌমিতার বাবা আউট হবে।]
মৌমিতা ঃ মা ……………।
মৌমিতার মা ঃ তোর বাবা বরাবরই এতটুকু খায়।
দাদী ঃ হ্যা ……. বউমা ঠিকই বলেছে। তুই খাতো বুবু। খা।
কাট
দৃশ্য Ñ ৫০
স্থান ঃ মৌমিতাদের বাসা
সময় ঃ দিন।

[ মৌমিতার বাবা বিছানায় গা এলিয়ে আরাম করছে। এমন সময় মৌমিতা রূপে ওহ করবে]
মৌমিতা ঃ বাবা ………..।
মৌমিতারবাবা ঃ মৌমিতা ….. আয় মা ….. বস।
মৌমিতা ঃ বাবা ….. তুমিতো এরকম নিরব স্বভাবের ছিলে না।
মৌমিতার বাবা ঃ মানুষ সবসময় এক রকম থাকে রে ? বয়স হয়েছে … কোনমতে ইমান নিয়ে বিদায় নিতে পারলেই হয়।
মৌমিতা ঃ বাবা ….. মা …..।
মৌমিতার বাবা ঃ হ্য..হ্যা ….সব মাÑবাবাই ছেলেÑমেয়ের মঙ্গল চায়। এ আর দোষের কি ? যা.. মা … রাত, শুয়ে পড় ….. আল­াহ ভরসা। যা …।
[মৌমিতার রুম থেকে বের হয়ে আসবে।]
কাট
দৃশ্য Ñ ৫১
স্থান Ñ মৌমিতাদের বাসা
সময় Ñ রাত
[মৌমিতার বেড রুমে ওহ করবে। বিছনায় গা এলিয়ে দিবে। ঘুমাবার চেষ্ঠা করছে। চোখ বুঁজে এলে ঋষধংয ইধপশ এ রূপমের সাথের দুষ্টামীর দৃশ্যগুলো দেখতে থাকবে।
টেবিলের উপর রূপমের একটি বাঁধাই করা ছবি আছে। মৌমিতা ঘুম থেকে উঠবে।]
মৌমিতা ঃ আমি এসব কি ভাবছি। ওতো এখন আমার কেউ না। [টেবিলের ছবিটা উল্টা করে রেখে দিবে]
কাট
দৃশ্য Ñ ৫২
স্থান Ñ ভোলাদের গ্রামের বাড়ি।
সময় Ñ দিন।
[ভোলার মা ভোলাকে মুড়ি ও কাঁচা মরিচ খেতে দিয়েছে। ভোলা খাচ্ছে।]
ভোলা মিয়া ঃ জান মা। মিতা আপা ……….।
ভোলার মা ঃ মিতা আপা নাত্ মৌমিতা …….।
ভোলা মিয়া ঃ অহ্ মৌমিতা আপাÑআমারে খুব আদর করে। আমি কালই ঢাকায় চইলা যামু মা। আপায় বার চায় আছে।
ভোলার মা ঃ তার আগে তুই তোর ঘটক চাচার সাথে একটু দেখা কইরা আয়। তোর ঘটক চাচায় যা যা কয় তা তা আমার কাছে আইয়া কবি।
ভোলা মিয়া ঃ আইচ্ছা Ñ আমি অহনই যাইতাছি। [যেতে উদ্যত]
ভোলার মা ঃ ভোলা ………. যা যা কয় মনে রাখিছ কিন্তু।
ভোলা ঃ আইচ্ছা মা ………..।
[ভোলা যেতে থাকবে।]
কাট
দৃশ্য Ñ ৫৩
স্থান Ñ ঘটক চাচার বাড়ি
সময় Ñ দিন
[ঘটক চাচা বারান্দায় বসে শরীরে তেল মালিশ করছে। ভোলা ওহ করবে।
ভোলা মিয়া ঃ ঘটক চাচা …….. আমি ভোলা।
ঘটক চাচা ঃ আরে . ভোলা যে ………. তা কেমন আছ বাবা ?
ভোলা মিয়া ঃ জি …… খুব ভাল চাচা। মিতা আপায় আমারে খুব আদর করে।
ঘটক চাচা ঃ মিতা আপা ……….. ?
ভোলা মিয়া ঃ অহ্ …. মৌমিতা আপা।
ঘটক চাচা ঃ তাই বল …….. তা কেমন আছে তারা ?
ভোলা মিয়া ঃ ভালা আছে চাচা ……… খুব ভালা আছে। মায় কইল আপনে নাকি আমারে দেহা করতে কইছেন ?
ঘটক চাচা ঃ হ …….। মোড়াডায় বস। শোন তোমার মায়রে গিয়া কইবা মেয়ের বাবা নগদ বিশ হাজার ট্যাকা দিব। আর একখান ১র্৪র্ টেলিভিশন দিব। তোমার মায় যদি রাজি হয়, তয় যেন আমার লগে দেহা করে। মনে থাকবতো তোমার ?
ভোলা মিয়া ঃ তয় কন কি ? মুখস্থ করতে করতে যামু না …….। নগদ বিশ হাজার ট্যাকা, ১র্৪র্ টেলিভিশন। তাইলে আমি যাই চাচা ………।
ঘটক চাচা ঃ যাও বাবা ……….. যাও।
ভোলা মিয়া ঃ নগদ বিশ হাজার ট্যাকা, ১৪র্ র্ টেলিভিশন ………।
[ভোলা মিয়া মুখস্ত করতে করতে পথ চলছে। কিছুদূর আসার পর সামনে পড়েছে একটা ছোট্ট খাল। খালের পাশে এসে থমকে দাঁড়াবে। এদিক ওদিক তাকাবে পাড় হবার কিছুই দেখতে না পেয়ে নীচে নামবে। শার্ট, জুতা ও প্যান্টস্ খুলে হাতে নিবে। হাফ-প্যান্টস্ ভিজিয়ে খাল পাড় হবে। খালের পাড়ে উঠে প্যান্টস্, শার্ট, জুতা পরবে। ঘটক চাচার কথা এতক্ষণ যা মুখস্ত করতে করতে আসছিল তা ভোলা মিয়া বেমালুম ভুলে গেছে। চেষ্ঠা করছে স্মরণ করতে কিছুতেই মনে করতে পারছে না।
ভোলা মিয়া ঃ ঘটক চাচা কি কি জানি কইল ? হায় ……….. হায় …………. কিছুই মনে নাই ……… কি হইল ………… কই হারাইলাম Ñ পাইছি ……… এই খালেই আমি তা হারাইছি। খুইজা লই ……।
[আবার ভোলা মিয়া জামা-কাপড় খুলে খালের মধ্যে ডুবাতে শুরু করবে]
হায় …….. হায় …….. হারায়ে গেছে ……….।
[ ভোলা মিয়া ডুব দেয় উঠে, মুখে বলে ‘‘হায় Ñ হায় হারায়ে গেছে” ]
ইন্টার কাট
[দুইজন পুলিশ হেঁটে আসছে। ১ম পুলিশ বলবে]
১ম পুলিশ ঃ স্যার Ñ আজ মনে হয় অলক্ষীর মুখ দেখেছি। একটা আসামীও ধরতে পারলাম না।
২য় পুলিশ ঃ ঠিকই বলেছিস। চল ফিলে যাই।
১ম পুলিশ ঃ কি আর করা। চলেন যাই।
[পুলিশ ২জন খালের পাড় এসে উপস্থিত]
দেখছে ভোলা মিয়া ডুবাচ্ছে আর বলছে Ñ
“হায় …. হায় হারায়ে গেছে” ১ম পুলিশ ভাল করে তা শুনে ২য় পুলিশকে বলবে]
১ম পুলিশ ঃ স্যার ………. এই বেটা মনে হয় দামী কোন জিনিস খালের মধ্যে হারায়ে ফেলছে। যদি পাইয়া যাই ………. পুষে যাবে স্যার। আপনে আমার পোষাক ধরেন। আমি নাইমা যাই।
[১ম পুলিশ খালে ডুব শুরু করবে]
২য় পুলিশ ঃ [স্বগতঃ] আমার মনে হয় ……… ও পাইয়া গেছে। আমার ভাগ দেওনের ভয়ে উঠতেছে না। আমিও নাইমা শেয়ার করি। তাহলে আমাকে বাদ দিতে পারবে না।
[২য় পুলিশও খালে নেমে ডুবাতে থাকবে। হঠাৎ ভোলা মিয়া ডুব বন্ধ করে পাড়ে উঠে আসবে]
ভোলা মিয়া ঃ পাইছি …………… পাইছি।
[পুলিশ ২জন উঠে আসবে।]
১ম পুলিশ ঃ শোন …….. আমরা তোমার সাথে অনেক পরিশ্রম করেছি। মহামূল্যবান জিনিসটার অর্ধেক আমাদের দিতে হবে।
ভোলা মিয়া ঃ কয় কি ? কেমনে দিমু ?
১ম পুলিশ ঃ [ধমক] এই ………. আমরা পুলিশ বারোটা বাজায় দিমু।
ভোলা মিয়া ঃ [কেঁদে] ধমক দেন কে ? মিতা আপায় আমাকে কত আদর করে।
২য় পুলিশ ঃ আগে বল জিনিসটা কি ?
ভোলা মিয়া ঃ পুলিশ স্যার …….. ্আপনে আমার মৌমিতা আপার মতন। ধমক দেন না। আপনারে আমি কই ভাল কইরা হুনেন। পুলিশ স্যার আমার নাম ভোলা মিয়া। মায় আমারে কইছে ঘটক চাচায় যা যা আমাকে কয় তা যেন মায়ের কাছে যাইয়া বলি। আমি তো ভোলা মিয়া ……… তাই ঘটক চাচায় কইছে নগদ বিশ হাজার টাকা আর ১র্৪র্ টেলিভিশন মেয়ের বাপ দিব। এই খাল পাড় আইসা কেমনে পাড় হমু কেমনে পার হুম চিন্তা করতে শেষে সঁতার দিয়া পাড় হইলাম। কিন্তু পাড়ে উইঠা ঘটক চাচার কথা গেছি গা ভুইলা। ভাবলাম খাল পাড় হইতে যেহেতু ভুইলা গেছি তাইলে খালের মধ্যেই তা হারাইয়া ফেলছি। তাই খালে নাইমা খুঁজতাছিলাম কই হারাইছি। খুঁজতে খুঁজতে হঠাৎ পাইয়া গেলাম চাচায় কইছে নগদ বিশ হাজার ট্যাকা আর ১র্৪র্ টেলিভিশন। পুলিশ স্যার আমি যাইগা মায়ের কাছে গিয়া কইগা।
১ম পুলিম ঃ অ্যা …….. শালায় কয় কি হুদার মইধ্যে ডুব ! শালা [১ম পুলিশ লাথি দিয়া ভোলার পায়ে আঘাত করবে।]
ভোলা মিয়া ঃ মারেন কে ? মৌমিতা আপায় আমারে আদর করে।
২য় পুলিশ ঃ গে ……. গে ……….. গেলি……….[হাঁচি দিবে]
[ভোলা দৌড়ে চলে যাবে।]
কাট
দৃশ্য Ñ ৫৪
স্থান Ñ ভোলাদের বাড়ি
সময় Ñ দিন।
[ভোলার মা উঠান ঝাড়– দিচ্ছে। ভোলা বাড়িতে ওহ করবে।]
ভোলা মিয়া ঃ মা ……….. ওমা ……….. [ হাঁচি দিবে]
ভোলার মা ঃ ভোলা ………… তোর এই অবস্থা কেন ?
ভোলা মিয়া ঃ মা ……. ঘটক চাচায় যা যা কইছে তা তা মুখস্ত করতে করতে আইতেছিলাম। পথে খাল পাড় হইতে যাইয়া চাচায় যা যা কইছে তা তা হারাইয়া ফেলছি। ভাবলাম খালের মইধ্যে নিশ্চয় হারাই ফেলছি। তাই শুরু করলাম ডুব। তাই আমার এই অবস্থা মা।
ভোলার মা ঃ হায়রে ভোলা …..। তা কি কি কইছে তোর চাচায় ?
ভোলা মিয়া ঃ মা ঘটক চাচায় কইছে বিশ হাজার ট্যাকা আর ১র্৪র্ টেলিভিশন দিতা।
ভোলার মা ঃ আমারে দিতে কইছে !
ভোলা মিয়া ঃ হ।
ভোলার মা ঃ নাকি মেয়ের বাপে তোরে দিব কইছে ?
ভোলা মিয়া ঃ অ্যা ….হ মা, মেয়ের বাপে দিব কইছে।
ভোলার মা ঃ তাহলে ঐখানে তোরে বিয়া দিমু ভোলা।
ভোলা মিয়া ঃ এ্যা ……… হে …… আমি যেমন মাইয়া মানুষ। আমারে বিয়া দিব। থাকুম না আমি গ্রামে। আইজই চইলা যামু মৌমিতা আপার কাছে।
[হাঁচি দিবে। ঘরে ঢুকে কাপড়-চোপড় ব্যাগে নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে ঢাকায় রওয়ানা দিবে।]
ভোলার মা ঃ ভোলা ………. কই যাইতাছত্ বাবা ?
ভোলা মিয়া ঃ আমারে দিবা বিয়া ………..। আমি ঢাকায় চললাম।
ভোলার মা ঃ ভোলা …. শোন ভোলা ………….।
[ভোলা দৌড়ে রেল ইস্টিশনের দিকে চলে যাবে।]
কপাল ! আমার একলা জীবন একলাই কাটাইতে অইব।
[হাতের ঝাড়– ফেলে রেখে বিষন্ন মনে বারান্দায় বসবে।]
কাট
দৃশ্য Ñ ৫৫
স্থান Ñ মৌমিতাদের বাসা
সময় Ñ দিন
[শাকিব ঞধীর ঈধন এর দরজাটা খুলে ড্রাইভিং সিটে বসবে। একটু পরে হর্ণ বাজাবে।]
ইন্টার কাট
[ঘরের ভিতর থেকে মৌমিতা গাড়ির আওয়াজ শোনতে পাবে। পাশে থাকবে দাদী, মৌমিতার মা, মৌমিতার বাবা।]
মৌমিতা ঃ ওর বোধ হয় তাড়া আছে মা। আসি বাবা। আসি দাদী।
দাদী ঃ মাঝে মাঝে এসে তোর এই দাদীকে দেখে যাস বুবু।
মৌমিতা ঃ আসব দাদী। আসি ………….।
[ মৌমিতা রুম থেকে বের হবে। পিছনে পিছনে সবাই বের হবে। ]
ইন্টার কাট
[মৌমিতা গাড়ির কাছে এসে হাত নেড়ে বাড়ির সবাইকে বিদায় জানিয়ে গাড়িতে উঠে বসবে। গাড়ি চলতে শুরু করবে। ]
কাট
দৃশ্য Ñ ৫৬
স্থান Ñ শাকিবের বাড়ি
সময় Ñ দিন।
[গাড়ি শাকিবের বাসায় ওহ করবে। শাকিব ও মৌমিতা গাড়ি থেকে নেমে বাড়ির ভিতরে ঢুকে যাবে।]
কাট
দৃশ্য Ñ ৫৭
স্থান Ñ ড্রইং রুম
সময় Ñ দিন
[শাকিব ও মৌমিতা ড্রইং রুমে প্রবেশ করতেই দেখবে ভোলা মিয়া ভেজা জামা গায়ে সিড়ির পাশে দাঁড়িয়ে আছে।]
মৌমিতা ঃ ভোলা …. কিরে তোর এ অবস্থা কেন ?
ভোলা মিয়া ঃ আপা …… মায়, কইল আমারে বিয়া দিব। তাই আমি পালাইয়া আইছি।
[শাকিব ভোলার কথা শুনে মুচকি হেসে উপর তলায় উঠে যাবে।]
মৌমিতা ঃ তাই ! কিন্তু …. তুই ভিজলি কে করে ?
ভোলা মিয়া ঃ আপা ……… ঐ খালে ………….।
মৌমিতা ঃ বুঝেছি ….. সে কথা পরে শোনা যাবে। আগে তুই কাপড়-জামা পাল্টে নে।
[মৌমিতা সিড়ি বেয়ে উপর তলায় উঠে যাবে। কাশেম চাচা ওহ করবে।]
কাশেম চাচা ঃ ভোলা … তোর এ অবস্থা কেনরে ?
ভোলা মিয়া ঃ চাচা ঐ খালে হারাইছি …. ডুবাইয়া পাইছি।
কাশেম চাচা ঃ [হাসতে হাসতে] ভোলা …. ভোলামী আর গেল না ……।
[কাশেম চাচা ঙঁঃ রপড যাবে।]
কাট
দৃশ্য Ñ ৫৮
স্থান Ñ রান্না ঘর
সময় Ñ দিন।
[কাজের বুয়া চুলায় পাক করছে। ভোলা তরকারী কাটছে। কাজের বুয়া ভোলার দিকে তাকাবে। ভোলা তাকালে মুখ ফিরিয়ে নিবে।]
ভোলা মিয়া ঃ নবিতুন তুই বার বার আমার দিকে তাকাছ কেন ?
কাজের বুয়া ঃ আপনেও বার বার আমার দিকে তাকান কেন ?
ভোলা মিয়া ঃ আমি তাকাই না ।
কাজের বুয়া ঃ না তাকাইলে ….. আমি যে তাকাই Ñ তা আপনে দেখেন কেমনে ?
ভোলা মিয়া ঃ দেখ …….. মায় কিন্তু আমারে বিয়া দিব।
কাজের বুয়া ঃ তা আপনে কি মাইয়া মানুষ না পুরুষ মানুষ।
ভোলা মিয়া ঃ কেন .. ? তুই দেখস না আমি পুরুষ মানুষ।
কাজের বুয়া ঃ পুরুষ মানুষরেতে বিয়া দেওনের কথা হুনি নাই। জানি মাইয়া মানুগ্ বিয়া দেয়।
ভোলা মিয়া ঃ দেখ নবিতুন ……. তুই যদি জ্বালাস ….. তাইলে আমি গেরামেই চইলা যামু।
[ ঙ/খ এ মৌমিতা ভোলাকে ডাকার আওয়াজ শোনা যাবে।]
মৌমিতা ঃ ভোলা ……।
ভোলা মিয়া ঃ আপায় ডাকতাছে। নাইলে তরে বুঝাইতাম। যাই।
[ভোলা রান্না ঘর থেকে ঙঁঃ হবে।]
কাজের বুয়া ঃ ভোলা নাথ …………।
কাট
দৃশ্য Ñ ৫৯
স্থান Ñ অন্ধকার রুম
সময় Ñ রাত
[অন্ধকার রুমে কিডন্যাপ করা চৌধুরী সাহেবের মুখ ওপা বাঁধা। একজন পিস্তল ঠেকিয়া রাখবে। আরেকজন দলিলে সই করতে বলবে। ]
একজন ঃ সই করুন।[ ধমক ] করুন সই।
চৌধুরী ঃ [সই করবে। চোখে মুখে আগুনের ফুলকি ]
কাট
দৃশ্য -৬০
স্থান – অন্ধকার রুমের বারান্দা।
সময়- রাত।
ঃ [একজন রুমের বাইরে এসে মোবাইল করবে।]
ইন্টার-কাট
ঃ [ শাকিব ও মৌমিতা ঘুমিয়ে আছে। পাশের টেলিফোনটা বেজে উঠবে। টেলিফোনের আওয়াজে শাকিব জেগে উঠবে। এবং ফোন রিসিভ করবে। শব্দ পেয়ে মৌমিতাও জেগে যাবে। শাকিব তা টের পাবে না। ]
ইন্টার কাট
একজন ঃ বস …. বাড়ির দলিলে সই দিয়েছে। নগদ টাকা ও ব্যাংকে ফুরিয়ে এসেছে।
ইন্টার কাট
শাকিব ঃ ইব ঈধৎবভঁষ . ও যেন আর আলোর মুখ দেখতে
ইন্টার কাট
একজন ঃ বুঝেছি বস। আজ রাতেই সেরে ফেলব।
ইন্টার কাট
শাকিব ঃ ঙক ! ঠবৎু ঈধৎবভঁষষু কাক-পক্ষীও যেন খুঁজে না পায় ঙক ।
ইন্টার কাট
একজন ঃ ঙক বস।
ইন্টার কাট
মৌমিতা ঃ এতরাতে কে ফোন করল ?
শাকিব ঃ অফিস থেকে। কাল যেন সকাল সকাল অফিসে যাই।
মৌমিতা ঃ ঠবৎু ঈধৎবভঁষষু কেন ?
শাকিব ঃ অফিসের কিছু কিছু কাজ আছে ঈধৎবভঁষষু করতে হয়। সে তুমি বুঝবে না। ঘুমাও।
[শাকিব বেড লাইটটা ঙঋঋ করে দিয়ে শুয়ে পড়বে।]
কাট
দৃশ্য Ñ ৬১
স্থান Ñ জিয়া আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট
সময় Ñ রাত।
[প্লেন নামছে। একটি কালো টেক্সি ক্যাব বিমান বন্দর ছেড়ে দ্রুত উত্তরার দিকে যাচ্ছে। সামনে চেক পোষ্ট। গাড়ি চালাচ্ছে শাকিবের বিশ্বস্ত বন্ধু পিয়াল। গাড়িটি শাকিবের। চেক পোষ্ট দেখে গাড়ি অন্যদিকে টার্ন নিতে চাইলে পুলিশের সন্দেহ হবে। পুলিশ ‘‘হোল্ড” বললে পিয়াল গাড়ি থেকে নেমে দৌড়ে পালাবে। পুলিশ গাড়িটা সিজ করবে।]
ইন্টার কাট
[পিয়াল আড়ালে লুকিয়ে থেকে মোবাইলে রিং দিবে শাকিবকে।]
ইন্টার কাট
[শাকিব ফোন রিসিভ করবে।]
ইন্টার কাট
পিয়াল ঃ হ্যালো … বস। গাড়ি পুলিশ সিজ করেছে। আমি পালিয়ে এসেছি। এখন সি.আই.ডি. অফিসে। তাড়াতাড়ি গাড়ি ছাড়ার ব্যবস্থা করুন। এক কেজি মাল আছে। সর্বনাশ হয়ে যাবে।
ইন্টার কাট
শাকিব ঃ অহ্ পিয়াল ……. লাইন ক্লিয়ার নেবে না ?
পিয়াল ঃ নতুন অফিসার এসেছে। তাই বুঝতে পারিনি।
শাকিব ঃ ঙক.
[ শাকিব সি. আই. ডি. অফিসে ফোন করবে।]
ইন্টার কাট
[সি.আই.ডি. অফিসে নতুন অফিসার রূপম ফোন রিসিভ করবে। ওল্টাদিকে মুখ থাকবে। চেনা যাবে না নতুন অফিসার কে ?]
রূপম ঃ হ্যালো।
ইন্টার কাট
শাকিব ঃ আমি নেতা শাকিব বলছি। গাড়িটা আমার।
রূপম ঃ জি। আপনি আমাদের অফিসে আসুন। গাড়িটা বুঝিয়ে দিচ্ছি।
শাকিব ঃ ঙক.
কাট
দৃশ্য Ñ ৬২
স্থান Ñ সি.আই.ডি. অফিস
সময় Ñ রাত।
[রূপম চেয়ার ঘুরিয়ে বসে আছে। শাকিব রুমে প্রবেশ করবে।]
শাকিব ঃ আসতে পারি ?
রূপম ঃ ইয়েস। বসুন।
শাকিব ঃ আমি নেতা শাকিব।
রূপম ঃ ঞযধঃ’ং ঋরহব [রূপম চেয়ার ঘুরিয়ে মুখোমুখি হবে।]
শাকিব ঃ [চিনতে পেরে] আপনি ………… !
রূপম ঃ অফিসার রূপম।
শাকিব ঃ আপনি মৌমিতার …………………।
রূপম ঃ ও ফড়হ’ঃ শহড়ি যিড় রং গড়ঁসরঃধ.
শাকিব ঃ আপনি ……..।
রূপম ঃ ও ধস ওহংঢ়বপঃড়ৎ রূপম। গাড়িটি কি আপনার ?
শাকিব ঃ হ্যা।
রূপম ঃ চলুন দেখি। [রূপম ও শাকিব রুম থেকে বাহির হবে।]
কাট
দৃশ্য Ñ ৬৩
স্থান Ñ অফিসের সম্মূখে পার্কিং স্থান।
সময় Ñ রাত।
[শাকিব ও রূপম গাড়ি কাছে এসে দাঁড়াবে। অন্য ২ জন অফিসার ও অপেক্ষমান দাঁড়িয়ে]
রূপম ঃ দেখুনতো আপনার গাড়ি কিনা ?
শাকিব ঃ হ্যা।
রূপম ঃ আপনার গাড়ির ক্যারিয়ারতো অটো লক, তাই না ?
শাকিব ঃ হ্যা।
রূপম ঃ লকটা একটু খুলুনতো।
শাকিব ঃ কেন ?
রূপম ঃ আমরা একটু সার্চ করব।
শাকিব ঃ কেন ?
রূপম ঃ আহ্ ….. খুলুনই না।
শাকিব ঃ দেখুন ……. এখানকার সবাই নেতা শাকিবকে ভাল করে চেনে।
রূপম ঃ জি …….. আপনি যদি লক না খুলেন। তাহলে বাধ্য হব লক ভেংগে ফেলতে। আমি চাইনা আপনার দামী গাড়িটা নষ্ট হোক। কই খুলুন।
শাকিব ঃ দেখুন ….. আপনি বেশী বাড়াবাড়ি করছেন।
রূপম ঃ অসীম ……।
অসীম ঃ ইয়েস স্যার।
রূপম ঃ ওনার কাছ থেকে রিমোট নিয়ে ক্যারিয়ারটা খুলে ফেলুন।
অসীম ঃ দিন। দিন।
রূপম ঃ পকেট থেকে নিয়ে নিন।
[অসীম পকেট থেকে রিমোট নিয়ে গাড়ির পিছনের ক্যারিয়ার খুলে ফেলবে। দেখবে একটা কাঁচের জার। জার ভর্তি কোবরা সাপের বিষ। অসীম হাতে নিয়ে]
অসীম ঃ স্যার [রূপমের হাতে নিয়ে পরীক্ষা করবে।]
রূপম ঃ বলুন মিঃ নেতা শাকিব। এগুলো কি ?
শাকিব ঃ ও ফড়হদঃ শহড়.ি
রূপম ঃ ঙক……. এগুলো আমরা বিশেষজ্ঞ দিয়ে পরীক্ষা করাচ্ছি। অতক্ষণ পর্যন্ত ণড়ঁ ধৎব ঁহফবৎ ধৎৎবংঃ
শাকিব ঃ ডযধঃ !
রূপম ঃ ণবং অসীম, বিক্রম ওনাকে রুমে নিয়ে আস।
অসীম ঃ চলুন। [রূপম, শাকিব, অসীম ও বিক্রম রুমের ভিতর ওহ করবে।]
কাট
দৃশ্য Ñ ৬৪
স্থান Ñ শাকিবের বাড়ি
সময় Ñ সকাল
[মৌমিতা মাথা আচড়াচ্ছে। এমন সময় টেলিফোন বেজে উঠবে।]
মৌমিতা ঃ হ্যালো।
ইন্টার কাট
পিয়াল ঃ ম্যাডাম আমি পিয়াল। শাকিব ভাইকে সি.আই.ডি. অফিসে আটকে রেখেছে।
মৌমিতা ঃ কেন ?
পিয়াল ঃ ঠিক জানিনা। আপনি একটু দেখুন ম্যাডাম। রাখি।
মৌমিতা ঃ হ্যালো ……. হ্যালো ……। [টেলিফোন রেখে] ভোলা ……….. ভোলা …….।
ভোলা মিয়া ঃ [দৌড়ে এসে] জি আপা ?
মৌমিতা ঃ ড্রাইভারকে গাড়ি বের করতে বল।
ভোলা মিয়া ঃ জি আপা ……..। [ভোলা রুম থেকে বাহির হবে।]
[মৌমিতা ব্যাগ কাঁধে নিয়ে সিড়ি দিয়ে নেমে এসে গাড়িতে উঠে বসবে। গাড়ি চলবে।]
কাট
দৃশ্য Ñ ৬৫
স্থান Ñ সি.আই.ডি. অফিস
সময় Ñ সকাল
[সি.আই.ডি. অফিসে মৌমিতার গাড়ি প্রবেশ করবে। মৌমিতা গাড়ি থেকে নেমে রুমের ভিতর প্রবেশ করবে। রুমে রূপম বসে কাজ করছে।]
মৌমিতা ঃ আসতে পারি ?
রূপম ঃ ণবং
মৌমিতা ঃ আমার স্বামীকে আটকে রেখেছেন কেন ?
রূপম ঃ কে আপনার স্বামী ?
মৌমিতা ঃ শাকিব চৌধুরী।
রূপম ঃ অহ ….. তাহলে আপনি তার স্ত্রী।
মৌমিতা ঃ কেন …… আপনার কি তাতে কোন সন্দেহ আছে ?
রূপম ঃ তা কেন ?
মৌমিতা ঃ না …… আপনাদের কাজ তো মানুষকে সন্দেহ করা
রূপম ঃ [মাথা উপরে তুলে মৌমিতার দিকে তাকাবে। মৌমিতা রূপমকে চিনে ফেলবে। মৌমিতা তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠবে।]
মৌমিতা ঃ অহ্ …… তুমি ! তাহলে তুমি আমার স্বামীকে আটকে রেখেছ ?
রূপম ঃ আটকে রাখিনি, আটকে আছে
মৌমিতা ঃ হোয়াট ? কি করেছে সে ?
রূপম ঃ চোরাচালানী
মৌমিতা ঃ মিথ্যে কথা
রূপম ঃ রূপম কোনদিন মিথ্যে বলে না
মৌমিতা ঃ হ্যাঁ রূপম সাহেব। আপনি যে কতটা সত্যবাদী তা সেদিনই চিনেছি Ñ যেদিন আপনার প্রিয়াকে লেখা চিঠি আমি পড়েছি।
রূপম ঃ মৌমিতা Ñ মিথ্যে বেশীদিন স্থায়ী হয় না আর সত্য কোনদিন চাপা থাকে না
মৌমিতা ঃ কথায় আর চিঁড়ে ভিজবে না মিষ্টার রূপম। আমার স্বামীকে স্ব-সম্মানে ছেড়ে দিন
রূপম ঃ মৌমিতা ……. অবৈধ কোবরা সাপের বিষ তোমার স্বামীর গাড়িতে পাওয়া গিয়েছে যার মূল্য ৫ কোটি টাকা।
মৌমিতা ঃ তোমার কোন কথাই আমি বিশ্বাস করি না। তুমি ঈর্ষাপরায়ণ হয়ে আমার সুখের ঘরে আগুন লাগাতে চাও। আমাদের অন্নে পুষ্টে বড় হয়ে এই তোমার প্রতিদান ?
রূপম ঃ আমার দূর্বল জায়গায় আঘাত কর না মৌমিতা।
মৌমিতা ঃ আমি আমার স্বামীকে নিয়ে যাব। সেদিনই বিশ্বাস হবে যেদিন তুমি হাতে-নাতে প্রমাণ দেখাতে পারবে। তার আগে নয়। বাই মিঃ রূপম।
[মৌমিতা রুম থেকে বের হয়ে যাবে। রূপম চুপ করে চেয়ারে বসে থাকবে। মিঃ অসীম রুমে প্রবেশ করবে।]
অসীম ঃ স্যার …….. ম্যাডাম মিঃ শাকিবকে নিয়ে যাচ্ছে।
রূপম ঃ যেতে দিন।
অসীম ঃ ঙক স্যার। [অসীম ঙঁঃ হবে। রূপম হতবাক চেয়ে থাকবে।]
কাট
দৃশ্য Ñ ৬৬
স্থান Ñ সি.আই.ডি. অফিস চত্বর
সময় Ñ দিন
[শাকিব ও মৌমিতা সি.আই.ডি. অফিস. থেকে বের হয়ে নিজেদের গাড়িতে উঠে বসবে। শাকিব ড্রাইভ করে গাড়ি নিয়ে বের হয়ে আসবে।]
কাট
দৃশ্য Ñ ৬৭
স্থান Ñ শাকিবের বাড়ি
সময় Ñ দিন
[গাড়ি শাকিবের বাসায় ওহ করবে। শাকিব গাড়ি পাকিং করবে। মৌমিতা গাড়ি থেকে নেমে সোজা বাড়ির ভিতর ওহ করবে। শাকিব পিছনে পিছনে বাড়ির ভিতর ওহ করবে।]
ইন্টার কাট
[মৌমিতা নিজ রুমে ওহ করে খাটের উপর বসে পড়বে। শাকিব রুমে ওহ করবে।]
মৌমিতা ঃ শাকিব ….. আমি জানিনা রূপম মিথ্যে বলছে …. না তুমি মিথ্যে বলবে ? সত্যিই তোমার গাড়ীতে কোবরা সাপের বিষ ছিল ?
শাকিব ঃ মৌমিতা … আমি ছিলাম অফিসে। ড্রাইভার তার কোন আত্মীয়কে লিভ দেবে বলে আমাকে অনুরোধ করে। আমি সরল বিশ্বাসে তাকে এয়ারপোর্টে গাড়ি নিয়ে যেতে বলি। বিশ্বাস কর এর বেশী কিছু আমার জানা নেই।
মৌমিতা ঃ তোমার গাড়ি কখনো কাউকে আর দিবে না। প্লীজ শাকিব আমাকে যেন আর ছোট না হতে হয় ।
শাকিব ঃ ঙশ … তাই হবে। আচ্ছা ওকি তোমাদের সেই রূপম না ?
মৌমিতা ঃ হ্যাঁ।
শাকিব ঃ তাহলে আমি পরিচয় দিতে চাইলাম অথচ না চেনার ভান করল।
মৌমিতা ঃ অনেকদিন পর দেখেছে নয়ত ওদের পেশাটাই এমন।]
শাকিব ঃ ঞযধঃ’ং ৎরমযঃ.
মৌমিতা ঃ যাও….. বাথরুম থেকে ঋৎবংয হয়ে আস, খাবে। বুয়া……টেবিলে খাবার লাগাও তো।
(মৌমিতা রুম থেকে বের হয়ে যাবে।)
(ঙ/খ এ বুয়ার কন্ঠে শোনা যাবে।]
বুয়া ঃ দিতাছি ম্যাডাম।
শাকিব ঃ [মুখে মৃদু হাসি] তুরুপের তাস। একেই কাজে লাগাব।
কাট
দৃশ্য Ñ ৬৮
স্থান Ñ রূপমের বেড রুম
সময় Ñ রাত
[রূপম বিষন্ন মনে বেডে গা এলিয়ে আছে। ডেক্সে রাখা ক্যাসেট প্লেয়ারে গান বাজবে Ñ ‘‘আমার বলার কিছু ছিল না ……… নাগো …………………..”]
[একটু পরেই রূপমের টেলিফোন বেজে উঠবে। রূপম ক্যাসেট প্লেয়ার বন্ধ করে টেলিফোন রিভিস করবে।]
রূপম ঃ হ্যালো ……………..।
[টেলিফোনের অপর প্রান্ত থেকে শোনা যাবে।]
অস্পষ্ট গলায় ঃ “রূপম সাহেব !” [মানব ছায়া দেখা যাবে]
রূপম ঃ ণবং, জঁঢ়ড়স রং ংঢ়বধশরহম.
অস্পষ্ট গলায় ঃ [ঙ/খ] কেমন আছেন ?
রূপম ঃ কে বলছেন আপনি ?
অস্পষ্ট গলায় ঃ আমাকে আপনি চেনেন।
রূপম ঃ নাম বলুন প্লীজ।
অস্পষ্ট গলায় ঃ সময় হলে নিশ্চয় বলব।
রূপম ঃ আপনি কি বলতে চান ?
অস্পষ্ট গলায় ঃ বলতে চাই ……. গতকাল যে গাড়িটা আটকিয়েছিলেন …….. ঐ গাড়িটা আর কখনই আটকাবেন না।
রূপম ঃ ও ংবব ………আপনি কি রূপমকে ভয় দেখাচ্ছেন ?
অস্পষ্ট গলায় ঃ ভয় দেখাচ্ছি না …….. বলুন মায়া দেখাচ্ছি।
রূপম ঃ ডযধঃ ?
অস্পষ্ট গলায় ঃ ণবং আপনি যদি ফের আমার কাজে বাধা হন। তার দায় ভার বর্তাবে মৌমিতার উপর।
রূপম ঃ ডযধঃ ফড় ুড়ঁ সবধহ ?
অস্পষ্ট গলায় ঃ ও সবধহ …….. মৌমিতার উপর চলবে নির্যাতন।
রূপম ঃ ঝঃঁঢ়রফ …….
অস্পষ্ট গলায় ঃ ণবং. জবসবসনবৎ রঃ. [ফোন কেটে দিবে]
রূপম ঃ হ্যালো ……… হ্যালো ……. । ইডিয়েট ………… রাবিস।
[রূপম রাগে Ñ ক্ষোভে ফোপাতে থাকবে। ক্যাসেট প্লেয়ার জোরে ছেড়ে রাগ মিটাতে চাইবে। আবার ক্যাসেট প্লেয়ার বন্ধ করে দিবে। চিন্তা করতে থাকবে।]
ও আমাকে তুরুপের তাস হিসাবে ব্যবহার করতে চাচ্ছে। ও যে অন্ধকার জগতের সাথে জড়িত একথা কি মৌমিতা জানে ? মৌমিতাকে কি আমি তা জানাব ? না সেতো আমার কথা বিশ্বাস করবে না। তাহলে কি মামা-মামীকে জানাব ? না ওনাদের জানানোও ঠিক হবেনা। মামীতো বিশ্বাস করবেনই না আর মামা খুবই কষ্ট পাবেন। প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত আমাকে অপেক্ষা করতে হবে। দাদীকে কি কিছু বলা যায় ? [চিন্তিত]
কাট
দৃশ্য Ñ ৬৯
স্থান Ñ সি. আই. ডি. অফিস
সময় Ñ দিন
[রূপম অফিসে বসে কাজ করছে। এমন সময় অসীম ও বিক্রম রুমে প্রবেশ করার অনুমতি চাইবে।]
অসীম ঃ আসব স্যার ?
রূপম ঃ এসো। [অসীম ও বিক্রম রুমে প্রবেশ করবে।] কি ব্যাপার ! অসীম, বিক্রম দু’জনকেই বেশ উৎফুল­ মনে হচ্ছে আজ ?
অসীম ঃ বসব স্যার ?
রূপম ঃ ডযু হড়ঃ ……… ? বস।
বিক্রম ঃ স্যার ………. সব সময়ইতো আপনার মুখে আপনার মামার গল্প শুনি। আমরা আজ সেই মামাকে স্বচক্ষে দেখতে চাই স্যার।
রূপম ঃ ঠিক বলেছ এযুগে আমার মামার মত মানুষই হয় না।
অসীম ঃ আমরা সেই সৎ মানুষটিকে দেখতে যাব।
রূপম ঃ এখনই ?
বিক্রম ঃ হ্যা স্যার। আজ আমাদের কোন কাজ নেই।
রূপম ঃ তাই হারিয়ে যেতে নেই মানা। ঙশ … চল। [সবাই রুম থেকে বের হবে।]
কাট
দৃশ্য Ñ ৭০
স্থান Ñ মৌমিতাদের বাসা
সময় Ñ দিন।
[টেক্সি ক্যাব মৌমিতাদের বাসার সামনে এসে থামবে। রূপম, অসীম ও বিক্রম টেক্সি ক্যাব থেকে নামবে। তিনজনের হাতে তিনটা কাগজের শপিং ব্যাগ। বাড়ির ভিতর প্রবেশ করে কলিং বেল টিপ দিবে। মৌমিতার মা এসে দরজা খুলে দিবে।]
মৌমিতার মা ঃ রূপম !
রূপম ঃ কেমন আছেন মামী ?
মৌমিতার মা ঃ জি …….. ভাল।
রূপম ঃ ওরা আমার সহকর্মী। অসীম-বিক্রম।
অসীম ও বিক্রম ঃ স্লামালিকুম।
মৌমিতার মা ঃ ওয়ালাইকুম আসসালাম। এসো ……… ভিতরে এস। [সবাই ভিতর বাড়ি প্রবেশ করবে।] বস। [সবাই সোফাতে বসবে। দাদী পাশের রুম থেকে বলবে]।
দাদী ঃ কে এল বউ মা ?
মৌমিতার মা ঃ রূপম এসেছে আম্মা ………….।
দাদী (ঙ/খ) ঃ রূপম এসেছে ………। [দাদী রুমে প্রবেশ করবে।] রূপম …….. এতদিন তোর দাদীর কথা পড়ল তাহলে। তুইতো বেঈমান হয়ে গিয়েছিস।
রূপম ঃ দাদী ………..।
দাদী ঃ আগে বল তুই কেমন আছিস ? তোর চাকরী কেমন চলছে ? তুই কোথায় থাকিস ? বিয়ে-শাদী করে ফেলেছিস কি না ? বল ……।
রূপম ঃ দাদী প্রথমত আমি ভাল আছি। দ্বিতীয়ত ঢাকায় পোস্টিং নিয়ে এসেছি। তৃতীয়ত ছোট্ট একটা বাসায় থাকছি। চতুর্থত এখনও বিয়ে-শাদীর সময় হয়নি। এবার বল তুমি কেমন আছ ?
দাদী ঃ বুড়োদের আর থাকারে ভাই। এই বেঁচে আছি।
রূপম ঃ মামী ……. মামাকে দেখছি না যে ?
মৌমিতার মা ঃ তোমার মামা একটু বাইরে গেছে। [এমন সময় মৌমিতার বাবার ডাক শোনা যাবে। হাতে বাজারে ব্যাগ।]
মৌমিতার বাবা ঃ মৌমিতার মা …….। [এবার তিনি রুমে প্রবেশ করলেন।] আরে …… রূপম …… !
রূপম ঃ মামা ….। [রূপম মৌমিতার বাবার পা ছুঁয়ে সালাম নিবে। দেখাদেখি অসীম ও বিক্রমও সালাম নিবে।]
মৌমিতার বাবা ঃ আরে ……. আরে ….. এসব কি করছ তোমরা ?
রূপম ঃ মামা …….. এ হচ্ছে অসীম।
অসীম ঃ আস-স্লামালিকুম্
মৌমিতার বাবা ঃ ওয়ালাইকুম আস-সালাম।
রূপম ঃ আর ও হচ্ছে বিক্রম।
বিক্রম ঃ আস-স্লামালিকুম।
মৌমিতার বাবা ঃ ওয়ালাইকুম আস-সালাম।
রূপম ঃ মামা …….. ওরা দু’জনই আমার কলিগ।
মৌমিতার বাবা ঃ আল­াহ ভরসা ….। বস …. বস তোমরা। রূপম তুই কেমন আছিস ?
রূপম ঃ আপনার দোয়ায় ভাল মামা।
মৌমিতার বাবা ঃ আল­াহ ভরসা ….। মৌমিতার মা …… ওদের চাÑনাস্তা দিয়েছ ?
মৌমিতার মা ঃ দিচ্ছি। [মৌমিতার মা বাজারের ব্যাগ নিয়ে রুম থেকে বের হয়ে যাবে।]
রূপম ঃ মামা ওরা দু’জন আমার মুখে তোমার কথা শোনে তোমাকে দেখতে এসেছে।
মৌমিতার বাবা ঃ কি বল …. আমারতো দেখবার মত কিছুই নেই। পেনশনের টাকা পাচ্ছি বলে ভাড়া দিয়ে কোনমতে চলছি আর কি। যেদিন তাও বন্ধ হয়ে যাবে সেদিন গ্রামের বাড়িতে চলে যাওয়া ছাড়া আমার আর কোন পথ থাকবে না। সেজন্যে আমার কোন আফসোস নেই। সবাই আল­াহ ভরসা।
অসীম ঃ মামা ……….. মানুষেরা আপনার মত সৎ আর ভাল হয় না কেন ?
মৌমিতার বাবা ঃ পারে বাবা ………. পারে। ইচ্ছে করলেই পারে।
বিক্রম ঃ ইচ্ছে করেনা কেন মামা ?
মৌমিতার বাবা ঃ মানুষ দূর্নীতির প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছে। মানুষ অসম প্রতিযোগিতায় আকাশ ছুঁতে চায়। সে কারনে সৎ ইচ্ছেগুলো মুখ থুবরে পড়ে আছে।
[এমন সময় মৌমিতার মা চা-নাস্তা নিয়ে রুমে প্রবেশ করবে।]
মৌমিতার বাবা ঃ নাও ……. একটু চা নাস্তা কর।
রূপম ঃ [প্যাকেটগুলো হাতে নিয়ে] মামী ………… এটা আপনার জন্য। এটা মামার জন্য আর এটা দাদীর জন্য। প্লীজ মামী। [মৌমিতার মায়ের হাতে দিবে]
মৌমিতার বাবা ঃ রূপম ……. এ তুই ঠিক করিসনি। এখন তোর দাড়াবার সময়। এখন টাকা-পয়সা এভাবে খরচ করা তোর মোটেও উচিত হয়নি।
রূপম ঃ মামা …….. আপনি নিজে অভূক্ত থেকে আপনার খাবার আপনি ক্ষুধার্তকে খাইয়িয়ে দেন। আমিতো আপনার কাছ থেকেই তা শিখেছি।
মৌমিতার বাবা ঃ নাও …… নাও ……. চা ঠান্ডা হয়ে যাবে তো। [সবাই চা নিবে।]
দাদী ঃ তোমরা বসে কথা বল। আমার পান খাবার পিপাসায় ধরেছে। পান খেয়ে আসি। [দাদী রুম থেকে বের হবে।]
মৌমিতার বাবা ঃ মৌমিতার মা শাক্-সব্জি যা এনেছি তাই পাক কর। অনেকদিন পর রূপম এসেছে। ওদের খাইয়ে দাও।
মৌমিতা মা ঃ জি …….। [ মৌমিতার মা বের হবে। সবাই চা পান করতে থাকবে।]
রূপম ঃ অসীম ……… তোমরা মামার সাথে কথা বল। আমি একটু দাদীর কাছ থেকে আসছি। [রূপম রুম থেকে বের হয়ে যাবে।]
মৌমিতার বাবা ঃ বুঝলে বাবা …….. রূপম খুবই ভালো ছেলে।
অসীম ঃ হ্যা স্যার খুবই ভাল মানুষ।
বিক্রম ঃ দোয়া করবেন মামা, আমরও যেন স্যারের মত ভাল হতে পারি।
মৌমিতার বাবা ঃ ইচ্ছেটাই হল বড় কথা। ইচ্ছে করলে অবশ্যই পারবে। তোমরা হচ্ছ দেশের ভবিষ্যৎ। তোমরা যদি সৎ না হও তহলে এ দেশটা টিকবেনা। আবার রাক্ষসদের দখলে চলে যাবে। তোমরা দেশটাকে বাঁচাও। আল­াহ মালিক। তোমরা একটু বস বাবা। আমি নামাজটা পড়ে আসি। আল­াহ …. ভরসা।
[মৌমিতার বাবা রুম থেকে বের হয়ে যাবে।]
কাট
দৃশ্য Ñ ৭১
স্থান Ñ দাদীর রুম।
সময় Ñ দিন
[দাদী পান খাচ্ছে। রূপম রুমে প্রবেশ করবে।]
দাদী ঃ আয় ভাি ….. বস।
রূপম ঃ দাদী ….. কথাটা যে কিভাবে বলব। তা বুঝে উঠতে পারছিনা।
দাদী ঃ কি এমন কথা … বল দেখি শুনি।
রূপম ঃ দাদী ……….. মামা, মামী …… তোমাকে আমার বাসায় নিয়ে যেতে চাই। একথাটা মামাকে বলার সাহস পাচ্ছি না।
দাদী ঃ নারে ভাই ……। আমি তো মৌমিতার বাবাকে পেটে ধরেছি। আমিতো ওকে চিনি ….. ও ভাঙ্গবে তুব মচকাবে না। ও কারোর বাসায়ই যাবে না।
রূপম ঃ দাদী …. আমরতো তোমরা ছাড়া আর কেউ নেই। আমি যদি আমার বেতন থেকে তোমাদের কিছু টাকা দেই তো মামা কি নেবেন না ?
দাদী ঃ রূপম। ও ঠিক করেছে। অসুবিধায় পড়ে গেলে ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যাবে।
রূপম ঃ দাদী …. তাহলে আমি তোমাদের কেউ না ?
দাদী ঃ তা কেনরে …….. তুই আমাদের বাড়িতে আসবি-যাবি যোগাযোগ রাখবি-এইতো। তা…. কিরে ? যার সাথে হাসলি, খেললি, পড়লি বড় হলি তার কথা দেখি একবারও বললি না ?
রূপম ঃ অহ্ …….. দাদী ……… কথার ধ্যানে একিদমই ভুলে গিয়েছি। তা মৌমিতা এখন কেমন আছে দাদী ?
দাদী ঃ ভাল। গত সপ্তাহে মৌমিতা এসেছিল। একরাত থেকেও গেছে। তোর রুমেই শুয়ে থেকেছে।
রূপম ঃ দাদী ……. আমার রুমটা একটু দেখে আসি।
দাদী ঃ যা ……….. [রূপম রুম থেকে বের হয়ে যাবে।]
কাট
দৃশ্য Ñ ৭২
স্থান Ñ রূপমের রুম
সময় Ñ দিন
[রূপম তার বেডরুমে প্রবেশ করবে। খাট, জানালা এগুলো দেখে নিবে। ঋষধংয ইধপশ এ রূপম মৌমিতার সেই দৃশ্যটি দেখবে। রুম থেকে সেদিন মৌমিতা রূপমের গেঞ্জির কলার ধরে যে টেনে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। এভাবে আরো অনেক অন্তরঙ্গ মুহুর্ত ঋষধংয ইধপশ এ দেখবে। অবশেষে সেই চেয়ার টেবিলে এসে বসবে। দেখবে তার ছবিটা উল্টানো। ফ্রেমে বাঁধা উল্টে রাখা ছবিটা ঠিক করে টেবিলে বসিয়ে রাখবে। মৌমিতার মা রুমে প্রবেশ করবে।]
মৌমিতার মা ঃ রূপম … তোমার জন্য সবাই খাবার টেবিলে বসে আছে। এস বাবা।
রূপম ঃ জি মামী। [মৌমিতার মায়ের পিছু পিছু রূপমও চলে আসবে।]
কাট
দৃশ্য Ñ ৭৩
স্থান Ñ ডাইনিং রুম
সময় Ñ দিন।
[মৌমিতার বাবা, অসীম, বিক্রম খেতে বসেছে। রূপম রুমে প্রবেশ করবে।]
মৌমিতার বাবা ঃ বস। [রূপম চেয়ারে বসবে, মৌমিতার মা পরিবেশনরত।]
রূপম ঃ মামী ……. আপনি …… দাদী ……… আপনারাও বসুন না।
মৌমিতার মা ঃ আমরা পরে বসব। তোমরা খাও।
[সবাই খেতে থাকবে।]
কাট টু কাট
দৃশ্য Ñ ৭৪
স্থান Ñ শাকিবের বাড়ি
সময় Ñ দিন
[ডাইনিঙ রুমে মৌমিতা শাকিবের বাসনে মাংস দিচ্ছে। শাকিব হাত ঠেকিয়ে দিবে।]
শাকিব ঃ কি করছ ? মৌমিতা……….. তুমি নাও।
মৌমিতা ঃ এ বয়সে এক কম খেতে নেই। নাওতো।
[দু’জন আরামে খাচ্ছে। মৌমিতা ভোলাকে ডাকবে।] ভোলা ……….।
ভোলা মিয়া ঃ [রুমে প্রবেশ করবে] জি আপা ?
মৌমিতা ঃ ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা নিয়া আয়।
ভোলা মিয়া ঃ জি আপা। [ভোলা রুম থেকে বের হয়ে যাবে।]
কাট
দৃশ্য Ñ ৭৫
স্থান Ñ ড্রইং রুম
সময় Ñ দিন
[ভোলা ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা নিতে ফ্রিজ খুলবে।]
ভোলা মিয়া ঃ আপায় কইছে ঠান্ডা নিতে। ঠান্ডা ………..। [খুঁজবে এবং বরফ খন্ড ট্রেতে তুলবে এবং ডাইনিং রুমের দিকে রওয়ানা হবে।]
কাট
দৃশ্য Ñ ৭৬
স্থান Ñ ডাইনিং রুম
সময় Ñ দিন
[মৌমিতা ও শাকিবের খাওয়া শেষের পথে। ডাইনিং রুমে বরফ খন্ড নিয়ে ভোলা মিয়া।]
মৌমিতা ঃ ভোলা ঠান্ডা কোথায় ?
ভোলা মিয়া ঃ [বরফ দেখিয়ে] এইতো আপা।
মৌমিতা ঃ এতো বরফ খন্ড !
ভোলা মিয়া ঃ খুব ঠান্ডা আপা ।
মৌমিতা ঃ [ রাগে ] ভোলা…..।
শাকিব ঃ এই হলো তোমাদের গ্রামের ভোলা মিয়া এই রকম ভুলতো সে করবেই। [হাসি ]
মৌমিতা ঃ ভোলা এগেুলো তোর মাথায় দে। নিয়ে যা…।
ভোলা মিয়া ঃ জি আপা …। [ ভোলা বরফ নিয়ে রুম থেকে বের হয়ে যাবে]
মৌমিতা ঃ বুয়া.. এই বুয়া……।
বুয়া (ঙ/খ) ঃ আসতাছি ম্যাডাম…… [বুয়া রুমে প্রবেশ করবে ] জি ম্যাডাম ?
মৌমিতা ঃ ফ্্িরজ থেকে আমাদের জন্য ঠান্ডা নিয়া আস ।
বুয়া ঃ জি আপা। [বুয়া রুম থেকে বের হয়ে যাবে ]
ইন্টার-কাট
[ভোলা বরফ খন্ড নিয়া ফ্রিজের সামনে দাড়িঁয়ে আছে এমন সময় বুয়া প্রবেশ করবে।]
বুয়া ঃ কি হলোরে ভোলা মিয়া? এইখানে খারাইয়া রইলা যে ?
ভোলা ঃ আপায় কইল ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা নিয়ে আয়। নিয়া গেলাম ফেরত দিল।
বুয়া ঃ [হাসি ] এইডা ঠান্ডা নাকি ?
ভোলা ঃ হ ধইরা দেখ। বরফের লাহাইন ঠান্ডা ।
বুয়া ঃ এক কাম কর। এইডা মাথায় দিয়া দাড়াঁইয়া থাক দেখবা তোমার কি আরাম লাগতাছে।
ভোলামিয়া ঃ হ্ আপায়তো কইছে মাথায় দে দিমু ?
বুয়া ঃ হ্ ।
ভোলামিয়া ঃ আইচ্ছ্।া [ভোলা বরফ খন্ড মাথায় নিয়া দাড়িঁয়ে থাকবে ]
বুয়া ঃ [মুচকি হাসবে ও ফ্রিজ থেকে সেভেন-আপ এর বোতল নিয়ে বের হয়ে যাবে।]
ইন্টার কাট
[মৌমিতা ডাইনিং রুম থেকে ড্রইং রুমে প্রবেশ করবে। প্রবেশ করেই দেখবে মাথায় বরফ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ভোলা মিয়া। বরফ গলে ভোলার সারা শরীর ভিজে গেছে। পানিতে মেঝে ভিজে যাচ্ছে।]
মৌমিতা ঃ ভোলা ……… একি !
ভোলা মিয়া ঃ আপনেও কইছেন, বুয়া কইছে বরফ খন্ড মাথায় দিতে। তাই দিছি।
মৌমিতা ঃ উহ ……. ভোলা ……. তোকে আমি গ্রামের বাড়িতেই পাঠিয়ে দিব।
ভোলা মিয়া ঃ আমি যামু না আপা।
মৌমিতা ঃ অসহ্য ………. আব্দুল চাচা ………….. বুয়া ………………।
[আব্দুল চাচা ও বুয়া রুমে প্রবেশ করবে।] আব্দুল চাচা এই গাধাটাকে বাথরুমে নিয়ে যান। বুয়া ………. তুমি মেঝের পানিটুকু মুছে ফেল। যত্তসব।
[মৌমিতা বের হয়ে যাবে। আব্দুল চাচা ভোলাকে ধরে বাথরুমের দিকে নিয়ে যাবে। বুয়া মুচকি হাসবে আর মেঝের পানি মুছবে।]
ভোলা মিয়া ঃ হাসবি না বুয়া ……….. বড় আরাম লাগতাছে।
কাট
দৃশ্য Ñ ৭৭
স্থান Ñ অফিস রুম
সময় Ñ দিন
[শাকিব অফিস রুমে বসে আছে। এস্ত রুমে দরজা খুলে ভিতরে প্রবেশ করবে পিয়াল। দরজা লক করে দিবে।]
শাকিব ঃ পিয়াল ! [পিয়াল হাঁপাচ্ছে।] কি হয়েছে ?
পিয়াল ঃ [কাছে এসে] ……। সর্বনাশ! টি’ চৌধুরীর স্ত্রী, ছেলে, মে য়ে ওরা দেশে ফিরেছে। টি’ চৌধুরীকে না পেয়ে ওরা ঈওউ অফিসে রিটেন দিয়েছে। ইতিমধ্যে টি’ চৌধুরীর নিখোঁজ সংবাদ পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। কখন কি জানি হয়ে যায় বস। আমার খুব ভয় করছে।
শাকিব ঃ আমাদের একটু সাবদানে পা ফেলতে হবে। কেউ যাতে সন্দেহ না করতে পারে আমাদের এখন সে রকম আচরণই করতে হবে। যেখানেই ভয় সেখানেই রাত হয়। আস্তানায় চলে যাও।
পিয়াল ঃ ঙশ বস। [পিয়াল রুম থেকে ঙঁঃ হবে।]
শাকিব ঃ ঈওউ …… ! চিন্তার কি ! তুরুপের তাসতো আমার হাতেই। ও ধস হড়ঃ ধভৎধরফ !
[চেয়ারে বসে মোবাইলে গেম খেলতে থাকবে]
কাট
দৃশ্য Ñ ৭৮
স্থান Ñ শাকিবের বাড়ি
সময় Ñ দিন
[ঞধীর গেটে এসে হর্ণ বাজাবে। দারোয়ান গেট খুলে দিবে। ঞধীর ভিতরে প্রবেশ করবে। নেমে আসবে মিসেস চৌধুরী, ছেলে আতিক ও মেয়ে ঐশী। ওরা তিনজন ড্রইং রুমে প্রবেশ করবে।]
মিসেস চৌধুরী ঃ রহিম ……… রহিম ……..। [ভোলা মিয়া রুমে প্রবেশ করবে।] এই রহিম কোথায় ?
ভোলা মিয়া ঃ জি ……. রহিম নামেতো এইখানে কেউ নাই।
মিসেস চৌধুরী ঃ রহিম নাই ? তুমি কে ?
ভোলা মিয়া ঃ জি…….. আমি ভোলা মিয়া।
মিসেস চৌধুরী ঃ তোমাকে এ বাড়িতে কে রেখেছে ?
ভোলা মিয়া ঃ জি ……… আপায়।
মিসেস চৌধুরী ঃ আপা কে ?
ভোলা মিয়া ঃ আপা মানে ……. মিতা আপা ………।
মিসেস চৌধুরী ঃ মিতা আপা কে ?
ভোলা মিয়া ঃ না …….. না মিতা আপা না ……… মৌমিতা আপা।
মিসেস চৌধুরী ঃ মৌমিতা আপা কে ?
মৌমিতা ঃ [মৌমিতা ঙ/খ বলবে।] কি হয়েছে রে ভোলা ? ভোলা …….। [মৌমিতা রুমে এবার প্রবেশ করবে।] কে আপনারা ? বসুন।
মিসেস চৌধুরী ঃ তুমি কে ?
মৌমিতা ঃ জি আমি মৌমিতা।
মিসেস চৌধুরী ঃ মৌমিতা তো শুনেছি ….. তুমি কে ? কোত্থেকে এসেছ ? কি তোমার পরিচয় তাই বল ?
মৌমিতা ঃ জি ………. আপনি এসব বলছেন ?
মিসেস চৌধুরী ঃ বারে ……… আমার বাড়ি ……. আমার ঘর আমি এসব কি বলছি মানে ?
মৌমিতা ঃ দেখুন আপনি কে তা আমি জানিনা। আপনি আমার বাড়ি এসেছেন তাই আপনি আমার মেহমান। আর আমি এ বাড়ির কর্তী।
মিসেস চৌধুরী ঃ ডযধঃ ?
মৌমিতা ঃ ণবং ম্যাডাম। আমি এ বাড়ির মালিক মিঃ শাকিবের স্ত্রী। আমার ঐঁংনধহফ এ বাড়ির মালিক।
মিসেস চৌধুরী ঃ ডযধঃ ?
মৌমিতা ঃ ণবং. ও ধস গৎং. ঝধশরন. [এমন সময় শাকিবের গাড়ির আওয়াজ বাইরে শোনা যাবে।]
ইন্টার কাট
[শাকিব গাড়ি পার্কি করে বাড়ির ভিতর ড্রইং রুমে প্রবেশ করবে।]
শাকিব ঃ মৌমিতা …….. ওনারা ………।
মৌমিতা ঃ ও ধস ভধফবঁঢ় শাকিব। তুমি কথা বল। আমার মাথা ধরেছে। [মৌমিতা রুম থেকে বের হবে। ভোলাও বের হবে।]
শাকিব ঃ জি ……….. আপনারা ?
মিসেস চৌধুরী ঃ আপনি ………… আপনি ……….।
আতিক ঃ প্লীজ আম্মা। আমি বলছি। আমি জনাব টি. চৌধুরীর ছেলে আতিক চৌধুরী, ওর নাম ঐশী। আমার ছোট বোন।
শাকিব ঃ অহ্ ও ংবব. প্লীজ বসুন ম্যাডাম ….. বসুন। ঝড়ৎৎু আপনাদের চিনতে পারিনি। দেখুন কয়েকমাস আগে আমি চৌধুরী সাহেবের কাছ থেকে কিনে রেখেছি।
আতিক ঃ কিন্তু ডেডিতো এ ব্যাপারে আমাদের কিছুই জানাননি।
শাকিব ঃ দেখুন ব্যবসায়িক দিক থেকে আমার সাথে চৌধুরী সাহেবের পরিচয়। টাকার প্রয়োজনে বাড়ি বিক্রি করার কথা বললেন …….. আমিও রেখে দিলাম।
আতিক ঃ ডেডি কোথায় আছেন ………. আপনি কি জানেন ?
শাকিব ঃ আমাকে শুধু বললেন …… দেশের বাইরে যাবেন, এতটুকুই।
আতিক ঃ আপনি কি জানেন……… গত ৬ মাস যাবৎ আব্বা নিঁেখাজ? কেউ কোন খোজ খরব দিতে পারছেন না !
শাকিব ঃ কই ………. না ত ……… এমন কিছু কেউ জানায়নিত ! উহ্ …….. াবৎু ংধফ !
আতিক ঃ আপনি বাড়িটা রেজিষ্ট্রি করেছেনত?
শাকিব ঃ হ্যাঁ ……. তা না হলে কি মুশকিলই হত ?
আতিক ঃ ঙশ …..। চল আম্মা আমরা পুরাতন বাড়িতেই উঠি।
শাকিব ঃ সেকি ! আগে খাওয়া দাওয়া করুন। তারপর যান।
আতিক ঃ আবার হয়ত দেখা হবে। খাওয়া দাওয়াটা সেদিনের জন্য রেখে গেলাম। চল ঐশী যাই।
[মিসেস চৌধুরী, ঐশী ও আতিক রুম থেকে প্রস্তান হবে। শাকিব একটু চিন্তিত। এমন সময় মৌমিতা রুমে প্রবেশ করবে।]
মৌমিতা ঃ আপদ গেল তাহলে! বাপরে বাপ……মহিলা তো নয় যেন দারোগা। আমি কে? কোÑথেকে এলাম? বলে কি না আমার বাড়িÑআমার ঘর? বেটি পাগল নাকি?
শাকিব ঃ কিছুটা ……. ক্ষুধা লেগেছে, খেতে দিবে।
মৌমিতা ঃ চল।
[ উভয়ে রুম থেকে প্রস্তান হবে] কাট।
দৃশ্য Ñ ৭৯
স্থান ঃ ঈওউ অফিস।
সময় ঃ দিন
[রুপম কক্ষে বসে কাগজ পত্র পরখ করছে। এমন সময় বিক্রম ও অসীম রুমে প্রবেশ করবে]
অসীম ঃ স্যার …….।
রুপম ঃ এস। বস শোন দেশের একজন নামকরা ব্যবসায়ী জনাব টি, চৌধুরী গত ৬ মাস যাবৎ নিখোঁজ আছেন। আমি এইমাত্র তার ফাইল হাতে পেয়েছি। এ ক্যাসের দায়িত্ব পড়েছে আমাদের উপর, এই নাও তোমাদের দু’জনার দ’ুটি ফাইল। ষ্টাডি কর। [ফাইল নিয়ে অসীম ও বিক্রম যেতে উদ্যত]
শোন …….।
বিক্রম ঃ জ্বি স্যার ঃ
রুপম ঃ আগামীকাল থেকেই শুরু হবে আমাদের অপারেশন।
অসীম ঃ ঙশ স্যার।
রুপম ঃ যাও। [অসীম ও বিক্রম প্রস্তান করবে রুপম ফাইল দেখতে থাকবে] কাট।
দৃশ্য Ñ ৮০
স্থান ঃ ড্রইং রুম।
সময় ঃ দিন
[ঐশী দেয়ালে টাঙ্গানো বাবার ছবিটা দেখছে। এমন সময় আতিক রুমে প্রবেশ করবে]।
আতিক ঃ ঐশী ……..।
ঐশী ঃ ভাইয়া।
আতিক ঃ তুই কি একটা জিনিস লক্ষ্য করেছিল ?
ঐশী ঃ কি ভাইয়া?
আতিক ঃ ঐ লোকটা ………।
ঐশী ঃ কোন লোকটা ভাইয়া?
আতিক ঃ যে লোকটা আমাদের নতুন বাড়িটা কিনে রেখেছে।
ঐশী ঃ হ্যাঁ ……. ভাইয়া ……..আমার কেমন জানি সন্দেহ হচ্ছে।
আতিক ঃ তুই ঠিক ধরেছিস। আমারও কেমন জানি সন্দেহ হচ্ছে।
[এমন সময় কলিংবেল বাজবে]
ইন্টার কাট
[আতিক রুম থেকে বের হয়ে সদয় দরজা খুলে দাঁড়াবে। রুপম, অসীম, ও বিক্রম দাড়িয়ে আছে। ]
আতিক ঃ আপনারা?
রুপম ঃ আমি ঈওউ অফিসার রুপম, ওরা দ’জন সহকর্মী।
আতিক ঃ ঠিক আছে ………. ভিতরে আসুন।
ইন্টার কা
[রুপম, অসীম বিক্রম ও আতিক ড্রইংরুমে প্রবেশ করবে]
আতিক ঃ বসুন। পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি ……….. ও আমার একমাত্র ছোট বোন ঐশী। আর উনি হচ্ছেন ঈওউ অফিসার রুপম, ওনারা ওনার সহকর্মী।
ঐশী ঃ আস্সালামু আলাইকুম।
রুপম ঃ ওয়ালাইকুম আসÑসালাম।
ঐশী ঃ ঠিক আছ ভাইয়া তোমরা কথা বল। আমি যাই।
রুপম ঃ নাÑনা । আপনি যাবেন না। আপনিও বসুন আপনার থাকাটা ও প্রয়োজন। মিঃ আতিক আপনি বরং আপনার আম্মাকে এখানে আসতে বলুন।
আতিক ঃ ঐশী তুই বস। আমি আম্মাকে নিয়ে আসছি।
[আতিক রুম থেকে প্রস্তান হবে]
রুপম ঃ দেয়ালে টাঙ্গানো ঐ ছবিটা নিশ্চয় আপনার আব্বা।
ঐশী ঃ হুঁম। [রুপম ভাল করে ছবিটা দেখতে ব্যস্ত]
ইন্টার কাট
[আতিকে আম্মা তার বেডরুমে শুয়ে আছে। আতিক রুমে প্রবেশ করে ডাকবে]
আতিক ঃ আম্মা ঈওউ অফিসার রুপম এসেছে। তোমার সাথে কথা বলতে চায়।
মিসেস চৌঃ ঃ ঠিক আছে। চল [মিসেস চৌধুরী ও আতিক রুম থেকে বের হবে]।
ইন্টার কাট
[ড্রইং রুমে মিসেস চৌধুরী ও আতিক প্রবেশ করবে]
রুপম ঃ আস্-সালামু আলাইকুম।
মিসেস চৌঃ ঃ ওয়ালাইকুম আস্-সালাম।
রুপম ঃ বসুন প্লীজ। আপনার কি কাউকে সন্দেহ হয়?
মিসেস চৌঃ ঃ দেখুন আমি দেশের বাইরে থাকি ? বছরের এ সময়টায় দেশে আসি। তাই ভাল করে চেনা নেই কারা ওনার বন্ধু বা শত্র“।
রূপম ঃ আতিক সাহেব …. আপনার কি কাউকে সন্দেহ হয়।
আতিক ঃ আব্বা কোথায় যাবেন…… ম্যানেজার সাহেবের নিশ্চয় জানার কথা। তিনি কিছুই জানবেন না এ কি করে হয়।
রূপম ঃ [অসীম ও বিক্রম কে বলবে ] নোট ইট। ঐশী আপনার কি বলার আছে?
ঐশী ঃ যে ভদ্রলোক আব্বার অতি শখের নতুন বাড়টা কিনে নিয়েছেন বললেন ঠিক তার কিছুদিন পর থেকে আমাদের আব্বার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
রূপম ঃ ঞযধঃ’ং ধহ রসঢ়ড়ৎঃধহঃ ঢ়ড়রহঃ. নোট ইট। প্লীজ আপনাদের এ বাড়ির ঠিকানাটা বলুনতো।
আতিক ঃ রোড নং ১, বাড়ি নং ২৭, সেক্টর ৪, উত্তরা, ঢাকা।
রূপম ঃ প্রয়োজন হলেই আমরা আপনাদের সাহায্য চাইব। ডোন’ট ওরি। আশা করি অল্পদিনের মধ্যেই আমারা ঝঁপপবংং হব। আজ আমরা উঠি। বি পেসেন্ট আতিক সাহেব।
[রূপম আতিকের সাথে করমর্দন করে বিদায় নিবে অসীম ও বিক্রমও তাই করবে]
কাট
দৃশ্য Ñ ৮১
স্থান ঃ শাকিবের বাড়ি।
সময় ঃ দিন
[রূপম, অসীম ও বিক্রম গাড়ি নিয়ে শাকিবের বাড়ির গেটে হাজির, গাড়ি থেকে নামবে বিক্রম, দারোয়ান সালাম দিবে।
দারোয়ান ঃ আসসালামু আলাইকুম।
বিক্রম ঃ মালিককে বল অফিসিয়াল কাজে দেখা করতে এসেছি।
দারোয়ান ঃ জ্বি ……… [ইন্টার কমে রিং দিবে]
ইন্টার কাট

[শাকিব ড্রইং রুমে বসে চা খাচ্ছে এবং রিমোট টিপে টিভি দেখছে। টেলিফোন বাজবে, শাকিব টেলিফোন ধরে]
দারোয়ান ঃ স্যার ……. তিনজন লোক অফিসিয়াল কাজে আপনার সাথে সাক্ষাৎ করতে এসেছে।
ইন্টার কাট
শাকিব ঃ পাঠিয়ে দাও।
ইন্টার কাট
[দারোয়ান গেট খুলে দিবে। গাড়ি ভিতরে প্রবেশ করবে। রূপম ও অসীম গাড়ি থেকে নেমে বিক্রম সহ ড্রইং রুমে প্রবেশ করবে। শাকিব রূপমকে দেখে অতি উৎসাহে রিমোট টিভি বন্ধ করে ডবষপড়সব জানাবে।]
শাকিব ঃ আরে রূপম সাহেব। আপনি ! আসুন ….. আসুন। প্লীজ বসুন। আপনি দয়া করে যে গরীবের বাড়িতে পা রেখেছেন আমি ভীষন খুশি হয়েছি। আপনারা কিছু মনে করবেন না প্লীজ। উনি আমর স্ত্রীর বড় ভাই। এই প্রথম আমার বাড়িতে এসেছেন। তাই খুশিতে আমি আত্মহারা বলতে পারেন। মৌমিতা ……….. মৌমিতা ………… এসে দেখ ……… কে এসেছে ? বুয়া ………. চা নাস্তা নিয়ে আস বুয়া ……….। তারপর বলুন কেমন আছেন? দিনকাল কেমন যাচ্ছে।
[এমন সময় মৌমিতা রুমে প্রবেশ করবে]
মৌমিতা ঃ কে এসেছে ?
শাকিব ঃ রূপম। [মৌমিতা রূপম চোখাচোখি।] শোন মৌমিতা .. রূপম সাহেব আমারা বড় কুটুম্ব। তুমি এক্ষনি ভোলাকে বাজারে পাঠিয়ে দাও। আর নিজ হাতে রান্না কর। দুপুরে ওনাদের না খাইয়িয়ে আমি ছাড়ছিনা।
রূপম ঃ না Ñ না Ñ অফিসে কাজ আছে। আমরা বেশীক্ষণ দেরী করতে পারবনা।
শাকিব ঃ আহা …. তুমি যাওতো মৌমিতা …. আমি দেখছি।
মৌমিতা ঃ জি …….। [মৌমিতা রুম থেকে প্রস্থান হবে। বুয়া চা-নাস্তা নিয়ে রুমে প্রবেশ করবে।]
শাকিব ঃ [পরিবেশন করে] প্লীজ ….. নিন।
রূপম ঃ শাকিব সাহেব আপনি এত ব্যস্ত হচ্ছেন কেন ? বসুন প্লীজ।
শাকিব ঃ আপনারা এঁবংঃ আমি ঐড়ংঃ এটাইতো করণীয়, নিন। [সবাই চা নাস্তা করবে।]
রূপম ঃ শাকিব সাহেব। আজ বরং উঠি। আরেকদিন কথা হবে।
শাকিব ঃ ঘড় …….. ঘড় মৌমিতা পাক বসিয়ে দিয়েছে। এটা কিন্তু ভারী অন্যায় হবে। লাে র সময় প্রায় ঘনিয়ে। শ্বশুর বাড়ির মেহমান না খেয়ে বিদায় নিলে মৌমিতা বেশী করে কষ্ট পাবে। আপনি কি তা চান ?
রূপম ঃ জি ……..।
শাকিব ঃ ঝরঃ উড়হি চষবধংব
রূপম ঃ ঙক !
শাকিব ঃ ঞযধহশং ম্যাগাজিন প্লীজ। [রূপমের হাতে ম্যাগাজিন তুলে দিবে।]
কাট
দৃশ্য Ñ ৮২
স্থান Ñ অফিস রুম
সময় Ñ দিন
[টি. চৌধুরীর ফার্মের ম্যানেজার কক্ষে কর্মরত। রূপম, অসীম ও বিক্রম রুমে প্রবেশ করবে।]
রূপম ঃ আসতে পারি ?
ম্যানেজার ঃ আসুন। বসুন। [রূপম, অসীম ও বিক্রম বসবে।]
রূপম ঃ আপনি কতদিন ধরে চাকরী করছেন ?
ম্যানেজার ঃ বেশী দেন হয়নি। বছর দুই।
অসীম ঃ ম্যানেজার সাহেব। আপনিতো জানার কথা টি. আই. চৌধুরী কোথায় গিয়েছেন ?
ম্যানেজার ঃ দেখুন …….. স্যার ব্যক্তিগত বিষয়ে আমাকে কখনোই কিছু জানাননি। বরং কোথায় যান, কেন যান, কি জন্যে যান তা স্যারের পার্সোনাল সিকিউরিটি মি. শাকিবকে বলে যান।
বিক্রম ঃ মি. শাকিবকে যে বলে যান তা আপনি জানলেন কিভাবে ?
ম্যানেজার ঃ জি মি. শাকিব আমাকে জানালেন স্যার কিছু দিনের জন্য দেশের বাইরে যাচ্ছেন। কেউ জানতে চাইলে আমি যেন তা বলে দেই। আমি বেশী কিছু জানতে চাইলে আমাকে জানালেন ওঃ রং যরং ঢ়বৎংড়হধষ ধভভধরৎং. এর বেশী কিছু জানার প্রয়োজন নেই।
রূপম ঃ আচ্ছা। এতদিন ঋরহধহপরধষ ঈড়ৎৎবংঢ়ড়হফবহপব ধরে কে করেছে ?
ম্যানেজার ঃ এটা মি. শাকিবই করছেন।
অসীম ঃ মি. শাকিব কেন ?
ম্যানেজার ঃ মি. শাকিব আমাকে একটা অথোরাইস লেটার দেখালেন। দেখলাম ওখানে স্যারের অথোরাইজেশন দেয়া আছে।
রূপম ঃ আপনি কি সেই অথোরাইজেশনের কপি দেখাতে পারেন ?
ম্যানেজার ঃ জি। আমি তার এককপি আপনাকে সরবরাহ করতে পারি।
রূপম ঃ ওকে। তাই দিন।
[ম্যানেজার এককপি প্রদান করবে।]
ঠিক আছে আজ উঠি। প্রয়োজনে আবার আপনার সাহায্য চাইব।
ম্যানেজার ঃ ওয়েলকাম।
কাট
দৃশ্য Ñ ৮৩
স্থান Ñ করিডোর
সময় Ñ রাত
[রূপম ইজি চেয়ারে দোল খাচ্ছে। উঠে পায়চারী করছে।]
রূপম ঃ (স্বগতঃ) বার বার একটি নামই জড়িয়ে পড়ছে। মি. শাকিব। মৌমিতার জীবনে এতবড় কলংক আসবে ? ওদের বাড়ির অন্ন আমার রক্ত-মাংসে। আমি কি করতে পারি ? কিছুই না। অন্যায় করলে শাস্তি পাবে এটাইতো স্বাভাবিক।
[রূপম করিডোর থেকে উঠে এসে বেড রুমে প্রবেশ করবে। টেলিফোন করবে।]
ইন্টার কাট
[মৌমিতার বেড রুম। মৌমিতা টেলিফোন রিসিভ করবে।]
মৌমিতা ঃ হ্যালো …….
ইন্টার কাট
রূপম ঃ মৌমিতা ……… আমি রূপম। মৌমিতা আমি এখনও নিশ্চিত না টি. আই চৌধুরীর নিখোঁজ কার বা কাদের হাত রয়েছে ? তবে বার বার একটা নাম কেন উচ্চারিত হচ্ছে……… তাও বুঝতে পারছিনা। তাই তোমাকে …………।
ইন্টার কাট
মৌমিতা ঃ ও ধিহঃ ঃড় শহড়,ি যিধঃ ফড় ুড়ঁ সবধহ ?
ইন্টার কাট
রূপম ঃ মৌমিতা আমি চাইনা এমন কিছু সত্যি হোক। কিছু সাক্ষ্য-প্রমান যদি তাই বলে আমারতো কিছুই করার থাকবেনা।
ইন্টার কাট
মৌমিতা ঃ হ্যা Ñ হ্যা Ñ তুমিতো আমার দরদী শত্র“। তুমিতো তাই চাইবে। কর Ñ প্রমাণ কর। জোর করেই করনা। তোমার হাতে এখন কলম আছে, ক্ষমতা আছে। ক্ষমতার বাহাদুরীটা দেখাওনা। তুমি ভেবেছো আমি খুব দুর্বল ? মোটেও না। আমার ঘর, আমার সংসার, আমারই বিশ্বাস। ভাংবো কিন্তু মচকাবো না। তুমি ভেব না তোমার কাছে জোর হাত করে কোনদিন আমি গিয়ে দাঁড়াবো। অন্যায়ের পক্ষে রায় দেয়অ আর ছোট হওয়ার শিক্ষা আমার বাবা আমাকে দেননি। আশা করি তুমি ভাল করেই বুঝতে পেরেছ …… আমি কি বলেছি ?
[মৌমিতা রিসিভার রেখে দিবে।]
ইন্টার কাট
রূপম ঃ হ্যালো ……. মৌমিতা ……….। [রিসিভার নামিয়ে রাখবে।] আমি জানি তুমি আমাকে ভূল বুঝেই যাবে। কিন্তু আমিও আমার নৈতিকতাকে বিসর্জন দিতে পারিনা। দায়িত্ব এবং কর্তব্যই আমার একমাত্র সাধনা। এটা আমার প্রথম কেস্, আমাকে সাকসেস্ হতেই হবে।
[চোখে-মুখে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা।]
কাট
দৃশ্য Ñ ৮৪
স্থান Ñ অফিস রুম
সময় Ñ রাত
[আলো-ছায়ায় মুখখানা ক্লোজ এ দেখা যাবে। পিয়াল আঁধারে সম্মূখে বসা আছে।]
শাকিব ঃ নো ……. যে করেই হোক ওদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করতে হবে। পিয়াল ……..।
পিয়াল ঃ বস্ ।
শাকিব ঃ তোমার দল নিয়ে এমন ভীতির স ার করবে। যে ভীতির কারণে মিসেস চৌধুরী তার মেয়ে-পুত্রকে নিয়ে দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়।
পিয়াল ঃ ওকে বস ! [চোখে-মুখে জিগাংসা।]
কাট
দৃশ্য Ñ ৮৫
স্থান Ñ টেলিফোন সেন্টার
সময় Ñ রাত
[টেলিফোন সেন্টারে পিয়াল প্রবেশ করবে।]
পিয়াল ঃ এই নাম্বারটা লাগান।
টেলিফোন মাঃ ঃ [মোবাইল দিবে] নিন ……… রিং হচ্ছে।
পিয়াল ঃ [সেট কানে তুলে বুথ ঘরে ঢুকবে।]
ইন্টার কাট
[ ঐশী বেড রুমে ঢুকে টেলিফোন রিসিভ করবে ]
ঐশী ঃ হ্যালো …….।
পিয়াল ঃ কে ?
ইন্টার-কাট
ঐশী ঃ আমি চৌধুরী সাহেবের মেয়ে ঐশী।
ইন্টার-কাট

পিয়াল ঃ ভাল করে শোন চৌধুরী সাহেবের মেয়ে। তোমার আম্মাকে কইবা যদি জানের মায়া থাকে তবে তোমাগ লইয়া যেন অতি সত্বর ছাইড়্যা আমেরিকায় চইলা যায়। তা না অইলে তোমার সুন্দর মুখখানা অসুন্দর বানাইয়া দিমু। তোমার ভাই আতিক চৌধুরীকে নিখোঁজ কইরা দিমু।
ইন্টার-কাট
ঐশী ঃ কে আপনি ?
ইন্টার-কাট
পিয়াল ঃ যা কইছি …….. তার ব্যতিক্রম হইলে টের পাইবা কে আমি ?
ঐশী ঃ আপনার সাহস তো কম নয়।
পিয়াল ঃ বেশী সাহস দেখাইবা না মাইয়া, এসপার-ওসপার কইরা দিমু।
[মোবাইল অফ করে দিবে।]
[ঐশী ভয় পাচ্ছে। এমন সময় মিসেস চৌধুরী রুমে প্রবেশ করবে।]
মিসেস চৌধুরী ঃ ঐশী ….. কে ফোন করেছে ?
ঐশী ঃ [ভয়ে ফোন রেখে মায়ের কোলে জড়িয়ে ধরবে] আম্মা ………….।
মিসেস চৌধুরী ঃ ঐশী ……… ঐশী ……… কি হয়েছে মা ! ঐশী …….. তাকা আমার দিকে। কি হয়েছে…….. আমাকে বল।
ঐশী ঃ [ভয়ে ভয়ে] আম্মা, টেলিফোনে বলল ………..।
মিসেস চৌধুরী ঃ হ্যা ……… বল কি বলল ?
ঐশী ঃ আম্মা …. আমাকে, তোমাকে, ভাইয়াকে এ্যামেরিকায় চলে যেতে বলল। নয়ত ……..।
মিসেস চৌধুরী ঃ আ Ñ হা ……… কে বলল ? কেন বলল ?
ঐশী ঃ আম্মা ………. আমরা যদি এ্যামেরিকায় চলে না যাই ……… তবে আমাদেরকে মেরে ফেলবে।
মিসেস চৌধুরী ঃ ঐশী !
ঐশী ঃ আমার ভীষণ ভয় হচ্ছে আম্মা।
মিসেস চৌঃ ঃ টেলিফোন বাজলে তুই ধরবি না। আমাকে ডাকবি। আমি ধরব। আয় মা আজ রাতে আমার ঘরেই ঘুমাবি।
[মিসেস চৌধুরী ও ঐশী রুম থেকে প্রস্থান করবে।]
কাট
দৃশ্য Ñ ৮৬
স্থান Ñ ঐশীদের বাড়ি
সময় Ñ দিন
[সকাল বেলা আতিক ফ্রেশ হয়ে জামা-কাপড় পরে আয়নাতে মাথা আচড়াচ্ছে আর ডাকছে।]
আতিক ঃ ঐশী …….. তাড়াতাড়ি তৈরী হয়ে নে।
[আতিক ডাইনিং রুমে প্রবেশ কর এক গ্লাস পানি খাবে। মিসেস চৌধুরী প্রবেশ করবে।]
মিসেস চৌধুরী ঃ আতিক ……. কোথায় যাবি ?
আতিক ঃ আম্মা ……….. লুচিদের বাসায়।
মিসেস চৌধুরী ঃ হ্যা Ñ তাই যা। লুচির মাকে আমার সালাম দিস। আর বলিস লুচিকে নিয়ে যেন বেড়াতে আসে।
আতিক ঃ জি আম্মা। [মিসেস চৌধুরী বের হয়ে যাবে। ঐশী তৈরী হয়ে রুমে প্রবেশ করবে।]
ঐশী ঃ দেখত ভাইয়া ……… ম্যাচিং ঠিক আছে কিনা ?
আতিক ঃ ঠিক আছে মানে ……. একদম হিন্দি ছবির নায়িকা।
ঐশী ঃ ভাইয়া …….. ঠাট্টা করিস নাত। আসলেই খারাপ লাগছে ? ঠিক আছে পাল্টে আসি তাহলে।
আতিক ঃ আরে না Ñ না ÑÑ এ পোষাকেই তোকে ভারী মিষ্টি লাগছে। চল।
আতিক ও ঐশী রুম থেকে বের হয়ে ট্যাক্সিতে উঠবে। দারোয়ান গেট খুলে দিবে।]
কাট

দৃশ্য Ñ ৮৭
স্থান Ñ রাস্তা
সময় Ñ দিন
[ট্যাক্সি ড্রাইভ করছে আতিক। পাশে বসা ঐশী।]
কাট

দৃশ্য Ñ ৮৮
স্থান Ñ লুচিদের বাড়ি
সময় Ñ দিন
[বাইরে কলিং বেল বাজবে। লুচির মা দরজা খুলবে। সামনে দাঁড়ানো আতিক ও ঐশী। লুচির মা চিনতে পারছে না।]
লুচির মা ঃ তোমরা ……….।
আতিক ঃ আন্টি …… আমি আতিক ও আমার ছোট বোন ঐশী।
লুচির মা ঃ [চিনবে] দেখ দেখি কি কান্ড ……….. তোমাদের আমি চিনতেই পারছিনা। এস ভিতরে এস। [সবাই ড্রইং রুমে ঢুকবে।] তোমার মা কেমন আছে ?
আতিক ঃ জি আন্টি, ভাল।
লুচির মা ঃ তুমি কেমন আছ মা-মণি ?
ঐশী ঃ ভাল আন্টি। আপনি কেমন আছেন ?
লুচির মা ঃ ভাল। দেখ দেখি কি কান্ড ………. তোমাদের বসতে না দিয়েই কথা বলতে শুরু করেছি। বস বাবা, বস মা। [সবাই বসবে।]
আতিক ঃ আন্টি …. মা বলেছেন লূচিকে নিয়ে আমাদের বাসায় বেড়াতে যেতে।
লুচির মা ঃ হ্যা .. অনেক দিন হয় তোমার মায়ের সাথে সাক্ষাৎ নেই। আর হবেই কিভাবে তোমরা থাক বিদেশে। দেখ দেখি কি কান্ড লুচিটা এখনও ঘুম থেকেই উঠেনি। লুচি …. লুচি…… দেখ এসে করা এসেছে …….।
আতিক ঃ আন্টি ….. লুচি নিশ্চয় ঐশীর মতই বড় হয়ে গিয়েছে।
লুচির মা ঃ আর বল না বাবা। সারাক্ষণ হই Ñ হই Ñ রই Ñ রই । বাড়িটা মাথায় তুলে রাখে। আর ওদিকে ঘুম থেকে ওঠতে বারোটা বাজিয়ে। মেয়েদের এমন আলসে হলে কি চলে ?
[নাইট ড্রেস পরেই চোখ কচলাতে কচলাতে লুচি ড্রইং রুমে প্রবেশ করবে।]
লুচি ঃ কে এসেছে না ?
লুচির মা ঃ দেখ দেখি কি কান্ড …….. এ হচ্ছে আতিক আর ও হচ্ছে ঐশী। তোর চৌধুরী আন্টির ছেলে-মেয়ে।
লুচি ঃ অহ্ ……. আতিক ভাই, ঐশী ……… কেমন আছ তুমি ?
ঐশী ঃ ভাল ……… তুমি কেমন আছ ?
লুচি ঃ ভাল। কতদিন পর দেখা। তোমরাতো ভুলেই গেছ আমাদের।
লুচির মা ঃ দেখ দেখি কি কান্ড … তোমরা কথা বল। আমি তোমাদের জন্য চা-নাস্তার ব্যবস্থা করছি।
[লুচির মা রুম থেকে বের হয়ে যাবে।]
লুচি ঃ আতিক ভাই …….. দেশে কতদিন আছেন ?
আতিক ঃ এ মুহুর্তে বলতে পারছিনা।
লুচি ঃ থেকেই যান না। এমন আন্তরিকতা বিদেশে পাবেন কোথায় ? কি ঐশী .. ঠিক বলেছি ?
ঐশী ঃ একদম ঠিক। দশে দশ।
লুচি ঃ তা বলে আর অসুবিধাটা কোথায় ? কি আতিক ভাই . কিছু বলেন …. নয়ত বিদেশে থাকার যুক্তি দেখান। কি বিলাস ছাড়া আর আছে নাকি যুক্তি ?
আতিক ঃ আছে। এ মুহুর্তে বলব না।
লুচি ঃ কি মুহুর্ত-মুহুর্ত শুরু করছেন ? আসলে ছেলেদের স্বভাবই এ রকম। নিজেদেরকে খুব রাশভারী মনে করে। মেয়ে মানুষদের যেন কোন দামই নাই। আরে বাবা এদেশের মেয়েরা এখন দেশ চালাচ্ছে। কোন সেক্টরে এমন আছে যে মেয়েদের অংশগ্রহণ ছাড়া শুধু পুরুষদের মেধায়ই চলছে ? আরে বাবা দেশ রক্ষায় রণক্ষেত্রেও এখন বঙ্গনারীরা আছে। তাহলে এত বিদেশ প্রীতি কেন ? আমি বাবা বুঝতে পারছিনা। আমি কম কথার মানুষ। ভূল হলে ক্ষমা করবেন। কি ঐশী …. আমি কি ভূল বললাম ?
ঐশী ঃ [হেসে] একদম ঠিক। দশে দশ।
লুচি ঃ কারেকট। ণড়ঁ ধৎব সু নবংঃ ভৎরবহফ. [এমন সময় লুচির মা ট্রলিতে করে চা-নাস্তা নিয়ে রুমে প্রবেশ করবে।]
আতিক ঃ আন্টি ……. আপনি ………।
লুচির মা ঃ দেখ দেখি কি কান্ড .. নিজের ছেলেমেয়েদের নিজের হাতে খাওয়াবো। এর েেচয়ে আনন্দের কিছু আছে নাকি ?
আতিক ঃ তা না —- আমাদের দেশে কাজের লোকেরাই সব কিছু করে কিনা —– তাই।
লুচির মা ঃ তা ঠিক বলেছ। আমি কিন্তু নিজের হাতেই এখন সবকিছু করতে পছন্দ করি।
লুচি ঃ ঠিক বলেছ মা। নিজের হাতে বানানো খাবারের মজাই আলাদা।
লুচির মা ঃ হুম ! তা নিজের হাতে তো বানানো কিছুই শিখলেনা ?
লুচি ঃ মা হচ্ছে বটবৃক্ষের ছায়া। মা আছে সব আছে। কি বল ঐশী ?
ঐশী ঃ একদম ঠিক। দশে দশ।
লুচি ঃ নিন Ñ নিন আতিক ভাই। চা ঠান্ডা হয়ে যাবে। [ আতিকের হাতে তুলে দিবে। সবাই চা খাবে।] বাহ্ —- চমৎকার চা বানিয়েছ মা। দেখ তোমার মেয়েও এমন চমৎকার চা-ই বানাবে।
আতিক ঃ আন্টি। আজ আমরা উঠি।
লুচির মা ঃ দেখ দেখি কি কান্ড ……….. দুপুরের খাবার খেয়ে তারপরে যেও।
লুচি ঃ না .. না । আজই সব পর্ব সেরে গেলে আরেকদিন হবে কি ? তারচেয়ে বরং দুপুরের খাবারটা বাকীই থাক। আরেকদিন এলে এ রকম গল্প করার সুযোগ পাওয়া যাবে।
লুচির মা ঃ দেখ দেখি কি কান্ড …… ওর কথায় তোমরা কিছু মনে কর না। ও এরকমই বলে।
ঐশী ঃ না …… না আন্টি। লুচি ঠিক কথাই বলেছে। আরেকদিন আসার সুযোগ রইল। কি বল ভাইয়া।
আতিক ঃ হ্যা … হ্যা ……. ঠিক বলেছিস। দশে দশ।
ঐশী ঃ আসি আন্টি [ঐশীর মুচকি হাসি] আসি লুচি।
লুচি ঃ আতিক ভাই ……… আবার আসার সুযোগ কিন্তু করেদিলাম। আসবেন কিন্তু।
আতিক ঃ আসি আন্টি।
লুচির মা ঃ এস বাবা। [আতিক ও ঐশী রুম থেকে বের হবে।] লুচি ………. তুই যে কি আবোল Ñ তাবোল বলিস না ………..। ছেলেটা যদি মাইন্ড করে ?
লুচি ঃ তুমি দেখ। আতিক ভাই কোন মাইন্ডই করবে না। ও ঠিকই আসবে। আমি ফ্রেশ হতে গেলাম মা। [ লুচি বের হবে]
লুচির মা ঃ [ট্রে ঘুচাতে ঘুচাতে] পাগলি মেয়ে।
কাট
দৃশ্য Ñ ৮৯
স্থান Ñ রাস্তা
সময় Ñ দিন
[একটা আইসক্রীমের দোকানের সামনে আতিক গাড়ি পাকিং করবে। গাড়ী থেকে আতিক নামবে।]

আতিক ঃ [গাড়ি কাঁচ খোলে।] ঐশী একটু বস। আমি দুইটা ঈগলু নিয়া আসছি। [আতিক দোকানের ভিতর প্রবেশ করবে।]
[দুইজন অপরিচিত রেঅক উল্টোদিকে মুখ করে ঐশীর দুই জানালার দুই পাশে দাঁড়াবে। ঐশী লুকিং গ্লাসে ছায়া দেখে ভয় পাবে। দ্রুত জানালার কাঁচ উপরে তুলতে চাইলে হাত দিয়ে কাঁচ তোলা থামিয়ে দিবে। ঐশী ভয়ে কিছুই বলতে পারবে না।]
একজন (পিয়াল) ঃ চিৎকার দিলে গলা টিপে ধরব। আমরা ছায়ার মত তোমাদের পিছনে লাইগা আছি। ঐদিন টেলিফোনে যা কইছি তা যদি না কর তাহলে দুনিয়া থাইকা সরাইয়া দিমু। [দুই দিক থেকে দুটি হাত ঐশীল গলা টিপে ধরতে এগিয়ে আসবে। ঐশী ভয়ে চোখ বুজে রাখবে। লোক দু’জন সরে যাবে। এমন সময় ঈগলু হাতে আতিক গাড়িতে উঠে বসবে। ঐশী আঃ……… বলে চিৎকার করে উঠবে।]
আতিক ঃ ঐশী …… এই ঐশী …….।
ঐশী ঃ ভাইয়া ………..।
আতিক ঃ কি হয়েছে ? এমন করছিস কেন ? নে ….. ঈগলুবার। ভাল লাগবে। [ঐশী আইসক্রীম হাতে নিবে। আতিক গাড়ি ড্রাইভ করবে।]
কাট টু কাট
দৃশ্য Ñ ৯০
স্থান Ñ সি. আই. ডি. অফিস
সময় Ñ দিন।
[রূপম গাড়ি থেকে অফিসে প্রবেশ করবে। চেয়ারে বসে ইনটার-কমে রিং করে বলবে Ñ]
রূপম ঃ এক কাপ কফি পাঠাও। [ফাইল পত্র দেখতে থাকবে।] এমন সময় মৌমিতার মা রুমে প্রবেশ করবে।]
মৌমিতার মা ঃ আসব ?
রূপম ঃ মামী …… আসুন। বসুন মামী।
মৌমিতার মা ঃ তোমার এখানে বসতে আসিনি। এসেছি তুমি সেদিন আমাকে যে ওয়াদা দিয়েছিলে তা কি ভূলে গেছ ?
রূপম ঃ কেন মামী ? আমিতো আপনার সব কথাই রেখেছি।
মৌমিতার মা ঃ যদি রেখেই থাক। তাহলে আমার মেয়ের সুখের ঘরে তুমি আগুন জ্বালাতে কেন চাইছ রূপম ?
রূপম ঃ মামী ……… আমিতো আপনার কথার কিছুই বুঝতে পারছিনা। আমি যদি মৌমিতার সুখের ঘরে আগুনই লাগাতে চাইতাম …… তাহলে সেদিন তার সামনে এমন মিথ্যে প্রতারণার অভিনয় আমি করতাম না মামী !
মৌমিতার মা ঃ [গলা নামিয়ে] রূপম। তুমি শাকিবকে মিথ্যে মিথ্যে সন্দেহ করছ। ও ব্যবসা করে গাড়ি-বাড়ির মালিক হয়েছে। ওকে তুমি টি. আই. চৌধুরীর নিখোঁজের সাথে জড়িওনা রূপম। এতে আমার মৌমিতারই সম্মান ক্ষুন্ন হবে। তুমিতো আমাদে ঘরেই মানুষ। মৌমিতা যদি তোমার আপন বোন হত তাহলে তুমি কি পারতে ? হিংসুকদের কথায় নিশ্চয় তুমি নিজের বুকে থু থু ফেলতেনা। তুমি ওদের পিছনে লেগ না বাবা।
রূপম ঃ মামাী ……. আমার অন্নের ঋণের কথা আপনাকে আর বলতে হবে না। আমি কারো পিছনে লাগিনি লাগবওনা। আমি শুধু আমার কর্তব্য পালন করে যাব। এর মধ্যে যদি কেউ এসে যায়, তাহলে তাকে আমি বাদও দিতে পারবনা।
মৌমিতার মা ঃ মৌমিতার কথাটা মনে রেখ বাবা। আসি।
রূপম ঃ আপনি বসুন। একটু চা অন্তত খেয়ে যান।
মৌমিতার মা ঃ আমি এতেই খুশি বাবা। আসি।
[মৌমিতার মা রুম থেকে বের হয়ে যাবে। টেলিফোন বাজবে। রূপম টেলিফোন ধরবে।]
রূপম ঃ ণবং, জঁঢ়ড়স রং ংঢ়বধশরহম. ঝরৎ ……. ণবং ংরৎ আমি ক্ল্যু পেয়েছি স্যার। ণবং ঝরৎ ……. ণবং ংরৎ
[রূপম টেলিফোন রাখবে। ওয়েটার এক কাপ কফি দিয়ে চলে যাবে। রূপম খেতে থাকবে।]
কাট
দৃশ্য Ñ ৯১
স্থান Ñ ঐশীর বেড রুম।
সময় Ñ রাত
[ঐশী ঘুমিয়ে আছে। কাল দু’টি হাত ঐশীর গলা চেপে ধরছে। স্বপ্নে ঐশী এরূপ দৃশ্য দেখে ভয়ে চিৎকার করে জেগে উঠবে।]
ঐশী ঃ না ……….. [ ভয়ে কাঁপতে থাকবে। এমন সময় টেলিফোনে রিং হবে। ঐশী আরো ভয় পাবে। ঐশীর মা মিসেস চৌধুরী ঐশীর দরজায় এসে টোকা দিবে।]
মিসেস চৌঃ ঃ ঐশী …..। দরজা খোল মা। টেলিফোন আমি ধরছি। [ঐশী তড়িঘড়ি দরজা খুলে দিবে।]
মিসেস চৌ ঃ ভয় নেই মা, আমি দেখছি। [মিসেস চৌধুরী টেলিফোন রিসিভ করবে। ঐশী খাটে বসে থাকবে।]
টেলিফোনে শোনা যাবে ঃ “সুন্দর মুখ অসুন্দর বানাইয়া দিমু। তোর ভাই আতিক চৌধুরীরে তোর বাবার মতন নিখোঁজ কইরা দিমু। তোর মায়েরে কইবি তোদের লইয়া খুব তাড়াতাড়ি অ্যামেরিকায় ফিরা যাইতে। রাস্তা-ঘাটে তোদের পিছে ছায়ার মত আমরা লাইগা আছি। কথার ব্যতিক্রম হইলে ঐদিনের মতন রাস্তায়ই কারবার সাইরা দিমু। মনে থাকে যেন। খোদা হাফেজ।”
মিসেস চৌঃ ঃ হ্যালো ……. হ্যালো ……। আতিক …….. আতিক………।
[আতিক মায়ের ডাক শুনে ত্বড়িৎ রুমে প্রবেশ করবে।]
আতিক ঃ আম্মা …….. কি হয়েছে আম্মা ?
মিসেস চৌঃ ঃ টেলিফোনে হুমকি দিচ্ছে।
আতিক ঃ কে ? কারা ?
মিসেস চৌঃ ঃ কে বা কারা পরিচয় দিচ্ছে না। শুধু বলছে তোকে আর ঐশীকে নিয়ে শীঘ্র যেন অ্যামেরিকায় চলে যাই। নয়তো ওরা ……………..।
আতিক ঃ নয়তো ওরা …….. আমাদেরকেও মেরে ফেলবে। ওরা মগের মুল­ুক পেয়েছে ? একটা স্বাধীন দেশে এ আর চলতে দেয়া যায় না আম্মা। আমারা দেশেই থাকব। ওরা কারা ওদেরকে খুঁজে বের করব। ঐশী ঘুমাবার আগে রিসিভার তুলে রাখবি। আম্মা তুমি ঐশীকে তোমার ঘরে নিয়ে যাও।
মিসেস চৌঃ ঃ হ্যা ……. তাই কর। [ মিসেস চৌধুরী ঐশীকে নিয়ে রুম থেকে প্রস্থান হবে।] চল ঐশী।
আতিক ঃ আমি কালই সি.আই.ডি অফিসে যাবো।
কাট
দৃশ্য Ñ ৯২
স্থান Ñ সি.আই.ডি. অফিস
সময় Ñ দিন
[রূপম ফাইল দেখছে। আতিক রুমে প্রবেশ করবে।]
আতিক ঃ মে আই কাম ইন ?
রূপম ঃ ইয়েস, কাম ইন। [আতিক রুমে প্রবেশ করবে] বসুন।
আতিক ঃ দেখুন। ওরা টেলিফোনে হুমকি দিচ্ছে। শীঘ্র যদি দেশ ছেড়ে না যাই তাহলে ওরা আমাদেরকেও নিখোজ করে দিবে।
রূপম ঃ স্ট্র্যাঞ্জ। কারা ?
আতিক ঃ ওরা পরিচয় দিচ্ছে। প্রায় রাতেই টেলিফোনে ভয় দেখাচ্ছে। গতরাতেও তাই করেছে।
রূপম ঃ আই সি…………., ইয়েস ….. টেলিফোন নাম্বারটা মেমরি করেছেন ?
আতিক ঃ ইয়েস …. আমি সেই নাম্বারটা সঙ্গে করে নিয়ে এসেছি। এই সেই নাম্বার। [নাম্বার দিবে।]
রূপম ঃ গুড। ভয় পাবেন না। আমরা আজ থেকে আপনাদের আশপাশেই থাকব। কোন অপরাধীই অপরাধ করে পার পায় না। তারাও পাবে না। পাপের তরী যখন কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। তখন এভাবে আপনা থেকেই পাপীরা ধরা খায়। ডন্ট ওরি আতিক সাহেব।
আতিক ঃ থ্যাংস। আসি।
রূপম ঃ ওকে…..। [আতিক রুম থেকে আউট হবে।]
অসীম ঃ স্যার
রূপম ঃ বস। আমরা বোধ হয় আরেকধাপ এগিয়ে।
বিক্রম ঃ কি রকম স্যার ?
রূপম ঃ অপরাধীরা যে নাম্বারে চৌধুরী পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিচ্ছে সেই নাম্বার এখন আমার হাতে। শোন এই নাম্বার নিয়ে আজই তার অফিসে যাও। কার নাম্বার কোথায় তার অবস্থান ডিটেইলস সংগ্রহ করবে। সেই অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ কি হবে পরে সিদ্ধান্ত নেব। নাও এই সেই নাম্বার। [অসীম নাম্বার হাতে নিবে।]
অসীম ঃ ওকে স্যার। [দুইজনই স্যালুট দিয়ে রুম থেকে প্রস্থান হবে।]
কাট
দৃশ্য Ñ ৯৩
স্থান Ñ টেলিফোন সেন্টার
সময় Ñ রাত
[অসীম ও বিক্রম দোকানে প্রবেশ করবে।]
অসীম ঃ এ নাম্বারটাতো আপনার ?
দোকানদার ঃ জি।
অসীম ঃ দেখুনতো এ নাম্বারে গতরাতে ফোন করেছিল কি না ?
দোকানদার ঃ হ্যা
বিক্রম ঃ কে করেছে ?
দোকানদার ঃ আমি ঠিক নাম জানিনা। তবে প্রায়ই আমার এখান থেকে করে।
অসীম ঃ সাধারণত কোন সময়ে আসে ?
দোকানদার ঃ এই দশটার দিকে।
বিক্রম ঃ আমরা ওনার সাথে একটু সাক্ষাৎ করতে চাই। আপনার কোন অসুবিধা হবেনাতো ?
অসীম ঃ কাষ্টমার এলে আমরা জায়গা দিব।
দোকানদার ঃ ঠিক আছে। বসুন তাহলে।
[একটু পরেই পিয়াল ও তার সহযোগী দোকানে প্রবেশ করবে।]
পিয়াল ঃ ঐ নাম্বারটা লাগনত।
দোকানদার ঃ কোন নাম্বারটা।
সহযোগী ঃ ঐ মিয়া গতকাল যেই নম্বরটা লাগাইলেন হেই নম্বরটা লাগান।
পিয়াল ঃ ঐ নাম্বারটা বলে দে। দোকানদারের বোধ হয় মনে নেই।
সহযোগী ঃ টিপেন Ñ ০৬৭২৫৬৭
[অসীম ও বিক্রম ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছে। টেলিফোন ধরার আগেই অসীম ও বিক্রম পিস্তল বের করে বলবে।]
অসীম ঃ ণড়ঁ ধৎব ঁহফবৎ ধৎৎবংঃ. ঘড় সড়াব. আমরা সি. আই. ডি. ইন্সপেক্টর। বিক্রম হাতকড়া লাগাও। [বিক্রম হাতকড়া লাগাবে।]
চল। [অসীম ও বিক্রম দু’জনকে এরেষ্ট করে দোকান থেকে বের করে গাড়িতে তুলবে।]
কাট
দৃশ্য Ñ ৯৩
স্থান Ñ সি.আই.ডি. অফিস
সময় Ñ রাত
[রিমান্ড সেল। রূপম প্রশ্ন করছে।]
রূপম ঃ বল টি. আই চৌধুরী কোথায় আছে ?
পিয়াল ঃ জানিনা।
রূপম ঃ অসীম, কথা বের কর।
[অসীম ও বিক্রম সাজা দিবে। পিয়াল জ্ঞান হারিয়ে ফেলবে। সাজা থামিয়ে দিবে। এবার পিয়ালের সহযোগীকে প্রশ্ন করবে।]
রূপম ঃ ওর অবস্থা তুই দেখছিস। যদি তেমন হতে না চাস ……… তাহলে বলে দে টি. আই. চৌধুরী কোথায় ?
সহযোগী ঃ আমি জানিনা ………।
রূপম ঃ বলবি না …….. বিক্রম চালাও।
[বিক্রম সাজা দিতে শুরু করবে।]
কাট
দৃশ্য Ñ ৯৫
স্থান Ñ রূপমের অফিস কক্ষ।
সময় Ñ রাত।
[রূপম ভাবছে। কোন কৌশলে তাদের মুখ থেকে সত্য কথা বের কারানো যায় ?]
রূপম ঃ (স্বগতঃ) দ্বিতীয়টা অনেকটা দুর্বল। ওকে যদি লোভ দেখানো যায় তাহলে বোধ হয় সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে। হুম ………..।
[রূপম রুম ছেড়ে রিমান্ড সেলে প্রবেশ করবে।]
কাট
দৃশ্য Ñ ৯৬
স্থান Ñ রিমান্ড সেল
সময় Ñ রাত
[দ্বিতীয় সহযোগী আসামীর জ্ঞান আছে। তার সামনে এসে বসবে রূপম।]
রূপম ঃ তোমার বয়স কম। বাড়িতে তোমার মা আছে, বাবা আছে, ভাইবোন আছে। তুমি নিশ্চয় চাও তাদের কাছে ফিরে যাবে। তাছাড়া তুমি এখনও কিশোর। প্রতিটি কিশোর-কিশোরীরই স্বপ্ন থাকে বিয়ে করবে সংসারী হবে অনাবিল সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন কাটাবে। আমি জানি তুমি সামান্য কিছু টাকার লোভে অপরাধীদের সাথে জড়িত হয়েছ। আচ্ছা ….. তোমাকে যদি আমি এ অপরাধ থেকে খালাস করার ব্যবস্থা করে দেই। সেই সাথে তোমার জীবন গড়ার মত কয়েক লক্ষ টাকা দেই তাহলে কি তুমি খুশি হও ?
সহযোগী ঃ জি !
রূপম ঃ হ্যা, আমি যা বলছি তা হুশেই বলছি। তুমি শুধু রাজী হলেই হয়।
সহযোগী ঃ স্যার আপনার সাথে যদি আমার আগে দেখা হত। তাহলে আমি নষ্ট হতাম না স্যার।
রূপম ঃ ঠিক আছে। তোমাদের মত বয়সে এক আধটা ভূল করতেই পার। তোমার সামনে এখনও বিস্তর জীবন বাকী আছে। তোমাকে আমি হেল্প করব। বলতো ঘটনাটা কি ঘটেছে……. কিভাবে ঘটেছে …… কে ঘটিয়েছে ?
সহযোগী ঃ আমি মুক্তি পামুত স্যার ?
রূপম ঃ নিশ্চয় ………. সে ব্যবস্থা আমি করে দিব। বল।
সহযোগী ঃ স্যার ………।
[এক এক করে সমস্ত ঘটনা রূপমের কাছে বর্ণনা করবে। মি. শাকিব হচ্ছে মূল হোতা তা রূপম নিশ্চিত হবে।]
কাট
দৃশ্য Ñ ৯৬
স্থান Ñ অফিস গেট
সময় Ñ রাত
[রূপম, অসীম ও বিক্রম গেটে গাড়ি পার্কিং করে ত্বর-ত্বর করে সিড়ি বেয়ে উপরে উঠে আসবে। ক্যামেরা শুধু ৩ জোড়া পায়ের উপর পড়বে।]
কাট
দৃশ্য Ñ ৯৭
স্থান Ñ অফিস রুম
সময় Ñ রাত
[শাকিব তার রুমে বসা আছে। দরজা খুলে রুমের ভিতর প্রবেশ করবে রূপম, অসীম ও বিক্রম।]
রূপম ঃ ণড়ঁ ধৎব ঁহফবৎ ধৎৎবংঃ মি. শাকিব।
শাকিব ঃ ডযু ?
রূপম ঃ সেটা আপনি সি.আই.ডি. অফিসে গেলেই জানতে পারবেন।
শাকিব ঃ রূপম আপনার মাথা ঠিক আছেতো ?
রূপম ঃ সি.আই.ডি. অফিসার রূপমের মাথা সব সময়ই ঠিক থাকে। বরং আপনারটা সামলান। চলুন। বিক্রম …… হ্যান্ডকাপ।
[রূপম, অসীম, বিক্রম ও শাকিব রুম থেকে প্রস্থান হবে।]
ইন্টার কাট
[গেটে রাখা গাড়িতে সবাই উঠে বসবে। গাড়ি মুভ করবে।]
কাট

দৃশ্য Ñ ৯৮
স্থান Ñ সি.আই.ডি. অফিস
সময় Ñ রাত
[রিমান্ড সেলে শাকিবকে পিয়াল এবং সহযোগীকে দেখালো। ওদের দেখে শাকিব অর্ধেক দুর্বল হয়ে যাবে। এবার শাকিবকে রিমান্ড সেলে আলাদা করে বসাবে। রূপম প্রশ্ন করবে। শাকিবের চোখে-মুখে ঘাম জমবে। তাকে খুব বিমর্ষ দেখাবে।]
কাট

দৃশ্য Ñ ৯৯
স্থান Ñ শাকিবের বাসা
সময় Ñ দিন
[মৌমিতা মুখ থেকে উঠে শাকিবকে পাশে না দেখে আশ্চর্য হবে। ঘড়িতে তাকাবে। বেলা ৯টা বাজে। মৌমিতা ভোলাকে ডাকবে।]
মৌমিতা ঃ ভোলা …….. ভোলা ……. [ ভোলা রুমে প্রবেশ করবে।]
ভোলা ঃ জি আপা ?
মৌমিতা ঃ তোর সাহেব কোথায় ?
ভোলা ঃ সাহেব তো কাইল রাতে বাসায় ফিরে নাই আপা।
মৌমিতা ঃ জি !
ভোলা ঃ হ আপা। আমি অনেক রাইত পর্যন্ত অপেক্ষা কইরা ঘুমাইছি।
মৌমিতা ঃ ঠিক আছে …….. তুই যা। [ভোলা রুম থেকে প্রস্থান হবে।]
[মৌমিতা টেলিফোন করবে। টেলিফোনে রিং হবে।]
ইনটার কাট
[শাকিবের অফিস রুমে টেলিফোন বাজবে। রিসিভ করার কেউ নেই।]
ইন্টার কাট
মৌমিতা ঃ (স্বগতঃ) অফিসেও নেই। ভোলাকে পাঠিয়ে দেই। না Ñ না, ভোলা কি করতে কি করে ফেলে………… ওকে পাঠানো ঠিক হবে না। আমিই যাব। [মৌমিতা ফ্রেশ হতে বাথ রুমে প্রবেশ করবে।]
কাট

দৃশ্য Ñ ১০০
স্থান Ñ শাকিবের অফিস রুম
সময় Ñ দিন।
[মৌমিতা সিড়ি বেয়ে অফিস রুমে এসে দেখবে কক্ষে তালা দেয়া। তালাবদ্ধ রুম দেখে মন খারাপ হবে। ধীরে ধীরে নেমে আসবে। গেটে এসে দারোয়ানকে জিজ্ঞেস করবে।]
মৌমিতা ঃ শাকিব সাহেবের অফিসে তালা কেন ?
দারোয়ান ঃ ওনারেতো সি.আই.ডি. অফিসাররা আইসা ধইরা লইয়া গেছে। সি.আই.ডি. অফিসে গেলে খোঁজ পাইবেন।
[মৌমিতার চোখে-মুখে অগ্নি জ্বলছে।]
মৌমিতা ঃ (স্বগতঃ) রূপম ! [মৌমিতা গেট থেকে বের হয়ে একটা সি.এন.জি. ডেকে উঠে বসবে।]
কাট
দৃশ্য Ñ ১০১
স্থান Ñ সি.আই.ডি. অফিস
সময় Ñ দিন
[রূপম তার রুমে বসা। মৌমিতা প্রচন্ড ক্ষোভে রুমে প্রবেশ করবে। রূপম দরজার আওয়াজ পেয়ে তাকিয়ে অগ্নিমুর্তি মৌমিতাকে দেখতে পাবে।]
রূপম ঃ মৌমিতা ……..।
মৌমিতা ঃ মি. রূপম আমার নাম ধরে ডকার অধিকার আপনাকে কে দিয়েছে ?
রূপম ঃ মৌমিতা ……….।
মৌমিতা ঃ হ্যা …… তুমি আমার নাম ধরে ডাকবে না। বল কেন তুমি শাকিবকে আটকে রেখেছ ?
রূপম ঃ আমি কাউকে আটকে রাখিনি মৌমিতা । সে নিজে নিজেই আটকে গেছে।
মৌমিতা ঃ মিথ্যে কথা। তুমি তাকে আটকে রেখেছ। কারণ আমার সুখ তোমার সহ্য হচ্ছে না।
রূপম ঃ কারন ?
মৌমিতা ঃ কারন তুমি পরাজিত সৈনিক।
রূপম ঃ মৌমিতা এটা তোমার বাড়ি নয়। এটা অফিস।
মৌমিতা ঃ হ্যা ….. আর সেজন্যইতো তুমি ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছ। তুমিও মনে রেখ …… আমি তোমার কাছে পরাজয় স্বীকার করতে আসিনি। আমি আইনে লড়বো। তোমার সহানুভূতি আমি চাইব না। শুধু দেখতে এলাম তোমার মত মানুষ কতটা অকৃতজ্ঞ হতে পারে ?
[মৌমিতা প্রচন্ড ক্ষোভে রুম থেকে প্রস্থান হবে।]
রূপম ঃ [স্বগতঃ) কৃতজ্ঞতার মূল্য দিতে গিয়েই তোমার ঔদত্য সহ্য করতে হচ্ছে মৌমিতা।
কাট
দৃশ্য Ñ ১০২
স্থান Ñ মৌমিতাদের বাড়ি
সময় Ñ দিন
[মৌমিতার মা, বাবা ও দাদী রুমে বসে পান খাচ্ছে। এমন সময় মৌমিতা রুমে প্রবেশ করবে।]
মৌমিতা ঃ মা …… মা………… [কেঁদে মায়ের বুকে লুটিয়ে পড়বে।]
মৌমিতার মা ঃ মৌমিতা …….. মৌমিতা ……….। কি হয়েছে মা ?
মৌমিতা ঃ [স্বাভাবিক হয়ে] রূপম
মৌমিতার মা ঃ কি করেছে রূপম ?
মৌমিতা ঃ রূপম শাকিবকে এরেষ্ট করেছে ?
মৌমিতার মা ঃ বলিশ কি ? রূপম শাকিবকে এরেষ্ট করেছে ? কেন
মৌমিতা ঃ জানিনা।
মৌমিতার মা ঃ হ্যা ….. দেখ …….. এবার দেখ। রাস্তা থেকে তুলে এনে দুধ-কলা খাইয়িয়ে মানুষ করার ফল দেখ। একেই বলে কোলে থেকে পিঠে মারা।
মৌমিতার বাবা ঃ না জেনে শুনে আগে থেকেই এতকিছু বলা ঠিক নয়।
দাদী ঃ মৌমিতা ….. শাকিব এমন কি করেছে যে রূপম তাকে এরেষ্ট করেছে ?
মৌমিতার বাবা ঃ হ্যা ….. মা। তাই বল।
মৌমিতা ঃ বাবা, টি.আই চৌধুরীর নিখোঁজ হওয়ার সাথে শাকিব নাকি জড়িত।
মৌমিতার বাবা ঃ তাইতো বলি। রূপমতো এমন ছেলে নয়। যে সে জেনে মুনে অযথা শাকিবকে এরেষ্ট করবে।
মৌমিতার মা ঃ ও কি জানে না ? শাকিব মৌমিতার হাজবেন্ড ?
মৌমিতার বাবা ঃ হ্যা ….. হয়তো কেউ শাকিবের নাম বলেছে !
মৌমিতার মা ঃ কেউ বললেই ও বিশ্বাস করে শাকিবকে এরেষ্ট করবে ?
মৌমিতার বাবা ঃ দেখ আমি বিশ্বাস করি মিথ্যা বেশীদিন স্থায়ী হয় না। আর সত্য কোনদিন চাপা থাকে না।
মৌমিতার মা ঃ তুমি কি আর কিছু বলবে না ?
মৌমিতার বাবা ঃ আল­াহ ভরসা।
মৌমিতার মা ঃ আম্মা ……….. আপনি কিছু বলবেন না ?
দাদী ঃ হ্যা বউমা। আমি রূপমের সাথে দেখা করব।
মৌমিতার মা ঃ হ্যা আম্মা। আপনি তাই করুন।
দাদী ঃ মৌমিতার বাপ, তোরও একবার রূপমের সাথে সাক্ষাত করা উচিত।
মৌমিতার বাবা ঃ মা। আমাকে এমন কিছু করতে বল না যা আমার সারা জীবনের আদর্শকে ভূ-লুন্ঠিত করে দেয়।
দাদী ঃ দেখ, তুই যা ভাল মনে করিস।
মৌমিতার বাবা ঃ মা যা কিছু রটে তা কিছু ঘটে। আগেও আমি এরকম আন্দাজ কিছু করেছিলাম। যে গাছ লক-লক্ করে বেড়ে উঠে সে গাছ হঠাৎ করেই বাতাসে নুইয়ে পড়ে। আমার সন্দেহ হয়েছিল সারা জীবন চাকুরী করে মাথা গুজার একটা ঠাঁই করতে পারলাম না। আর ছাত্র জীবন শেষ না হতেই গাড়ি-বাড়ির মালিক হয়ে যাওয়া, এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ? তোমরাতো আমার কথা কেউ শুনলে না। মৌমিতার মায়ের কাছে টাকা-পয়সাই হচ্ছে সুখ। এখন যা করার মৌমিতার মা-ই করবে। আমি কিছু জানিনা।
[মৌমিতার বাবা রুম থেকে প্রস্থান হবে।]
দাদী ঃ বউ মা, তুমিই আমার সাথে চল। চল বুবু আমার ঘরে চল। [মৌমিতা ও দাদী রুম থেকে প্রস্থান হবে।]
মৌমিতার মা ঃ সারাটা জীবন আমাকে জ্বালিয়ে মেরেছে। এখন জ্বালিয়ে মারবে। [পানের কৌটা গুছাবে।]
কাট
দৃশ্য Ñ ৫৯
স্থান Ñ সি.আই.ডি. অফিস
সময় Ñ দিন।
[রূপম অফিসে ফাইল দেখছে। দাদী ও মৌমিতার মা রুমে প্রবেশ করবে।]
রূপম ঃ দাদী ………. !
দাদী ঃ হ্যা ……. এলাম।
রূপম ঃ বস দাদী।
দাদী ঃ রূপম ? তুই নাকি মৌমিতার স্বামীকে এরেষ্ট করেছিস ?
রূপম ঃ হ্যা।
দাদী ঃ মৌমিতার স্বামী তা জেনেও তুই তাকে এরেষ্ট করেছিস ?
রূপম ঃ হ্যা।
দাদী ঃ তুই কাজটি ভাল করিসনি রূপম। আমি শাকিবকে ছাড়িয়ে নিতে এসেছি। তুই তাকে ছাড়িয়ে নেয়ার ব্যবস্থা কর।
রূপম ঃ আমি যে তা পারছিনা দাদী।
দাদী ঃ কেন ? ও কি করেছে ?
রূপম ঃ দাদী …. সে জবাব যে আদালত দিতে পারবে।
দাদী ঃ কি বলিস ? শাকিব এমন কি করেছে যে তুই তাকে ছাড়তে পারছিস না ?
রূপম ঃ সে কথা আমি তোমাকে বলতে পারব না দাদী। আমাকে ক্ষমা কর।
দাদী ঃ ও কি তাহলে সত্যি সত্যি অপরাধের সাথে জড়িত ? তুই কি তার সত্য সত্য প্রমাণ পেয়েছিস ?
রূপম ঃ হ্যা দাদী। এর বেশী কিছু আর আমি বলতে পারব না।
দাদী ঃ ঠিক আছে। চল বউমা। আদালতেই তোমাকে যেতে হবে।
[দাদী ও মৌমিতার মা খারাপ মনে রুম থেকে প্রস্থান হবে। রূপম ও নিজেকে অসহায় বোধ করবে।]
কাট
দৃশ্য Ñ ১০৪
স্থান Ñ মৌমিতারদের বাসা
সময় Ñ দিন
[দাদী ও মৌমিতার মা রুমে প্রবেশ করবে। দাদী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়বে।]
দাদী ঃ বউ মা .. আমার মাথাটা ঘুরাচ্ছে। আমাকে ধরে শুইয়িয়ে দাও বউ মা।
মৌমিতার মা ঃ আম্মা ……. আসেন আম্মা। [মৌমিতার মা দাদীকে বিছানায় শুইয়িয়ে দিবে।]
দাদী ঃ বউ মা .. মৌমিতার বাবাকে ডাক বউ মা ……।
মৌমিতার মা ঃ ওগো …….. শোনছ …….. । আম্মা কেমন জানি করছে ….. শীঘ্রই এঘরে এসো।
[মৌমিতা এবং মৌমিতার বাবা ঘরে প্রবেশ করবে।]
মৌমিতার বাবা ঃ কি হয়েছে ? কি হয়েছে মা ?
মৌমিতা ঃ দাদী …. । কি হয়েছে দাদী ?
দাদী ঃ লাইলাহা …………….। [দাদী মারা যাবে।]
মৌমিতা ঃ দাদী …………..।
মৌমিতার বাবা ঃ মা …….. মা ……….।
মৌমিতার মা ঃ আম্মা ………..।
মৌমিতার বাবা ঃ ইন্নানিল­াহে ওয়া ইন্না ইলাইয়ে রাজেউন।
[সবাই কাঁদতে থাকবে।]
মৌমিতার মা ঃ রূপম ….. রূপম আম্মাকে অপমান করে ফিরিয়ে দিয়েছে। আর সে অপমান সইতে না পেরে আম্মা আমাদের সবাইকে ফেলে চলে গেল ……..।
মৌমিতা ঃ (স্বগতঃ) রূপম …… আমি তোমাকে কোনদিনও ক্ষমা করবেনা।
ইন্টার কাট
[রূপম দাদীকে এভাবে ফিরিয়ে দিয়ে তার কক্ষে ছট্ফট্ করছে। রূপম সিদ্ধান্তহীনতায় ভূগছে।]
রূপম ঃ (স্বগতঃ) হ্যা ….. দাদীকে আমার সবকিছু খুলে বলে দরকার। ভূল ভাঙ্গাতে হলে আমাকে তাই করতে হবে। হ্যা যে যাই বলুক দাদীর কাছে আমি যাব।
[রূপম রুম থেকে প্রস্থান হবে।]
ইনটার কাট
[মৌমিতার বাবা দাদীর গায়ে সাদা চাদর জড়িয়ে দিবে। এমন সময় রূপম দাদীকে ডাকতে ডাকতে রুমে প্রবেশ করবে।]
রূপম ঃ দাদী ……… দাদী …….। মামা ……..।
মৌমিতার বাবা ঃ মা এইমাত্র শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছে।
রূপম ঃ মামা ……. এ কি করে সম্ভব ?
মৌমিতার মা ঃ সম্ভব ……. তোমার জন্য সবই সম্ভব।
রূপম ঃ মামী …………।
মৌমিতার মা ঃ হ্যা ……. তোমার কারণে আম্মা মারা গিয়েছে।
রূপম ঃ [দাদীর কাছে যেতে উদ্যত] দাদী ………।
মৌমিতার মা ঃ দাঁড়াও ………। তোমার কারণে যাপর মৃত্যু হয়েছে তাকে স্পর্শ করার অধিকার তোমার নেই।
মৌমিতার ঃ হ্যা ….. এই মুহুর্তে তুমি আমাদের বাড়ি ছেড়ে চলে যাও। আর কোনদিন এ বাড়িতে তুমি আসবেনা।
রূপম ঃ মামা …… মামী …… মৌমিতা …….. [সবাই মুখ ফিরিয়ে নিবে।] ঠিক আছে ……… ঠিক আছে ……..। [রূপম প্রস্থান হয়ে যাবে।]
কাট
দৃশ্য Ñ ১০৫
স্থান Ñ আদালত
সময় Ñ দিন
[কাঠগড়ায় দাঁড়ানো শাকিব ও পিয়াল। বাদীর কাঠ গড়ায় দাঁড়ানো মিসেস চৌধুরী।]
জজ ঃ অর্ডার …… অর্ডার …। প্রসিড অন।
১ম উকিল ঃ থাংকস ইউর অনার। আসামী শাকিব ছিলেন টি. আই. চৌধুরীর বিশ্বস্ত পার্সোনাল সিকিউরিটি। এ সুযোগে আসামী শাকিব টি. আই. চৌধুরীকে অপহরণ করে। তাকে আটকে রেখে জোর করে ব্যাংক চেকে তার স্বাক্ষর নিয়ে ব্যাংকের সমস্ত টাকা আত্মসাৎ করে। জোর করে দলিলে স্বাক্ষর নিয়ে টি.আই. চৌধুরীর নব-নির্মিত বাড়িটি নিজের নামে লিখে নেয়। যখন বুঝতে পারে টি. আই. চৌধুরী বেঁচে থাকলে তার অপকর্ম ফাঁস হয়ে যাবে আর তখনি টি. আই. চৌধুরীকে হত্যা করে তার লাশ গুম করে ফেলে। আমি এমন বিশ্বাসঘাতট হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড প্রার্থনা করছি। ইউর অনার।
জজ ঃ বিবাদী পক্ষের আইনজীবির কি এ বিষয়ে কিছু বলার আছে ?
২য় উকিল ঃ আছে ইউর অনার।
জজ ঃ বলুন।
২য় উকিল ঃ ইউর অনার। টি. আই. চৌধুরীকে হত্যা করে তার লাশ যে মি. শাকিব গুম করেছে তার অকাট্য প্রমাণ কোথায় ? চিলে কান নিয়েছে চিলের পিছনে দৌড় দিয়েছে। বিষয়টি কি এমন নয় ইউর অনার ! একজন বলল শাকিব টি. আই. চৌধুরীকে হত্যা করে তার লাশ গুম করেছে এটাই কি যথেষ্ট প্রমাণ হয়ে যায় ইউর অনার যে মি. শাকিব খুনি ? মোটেই নয়।
১ম উকিল ঃ ঙনলবপঃরড়হ ইউর অনার। আসামীর অন্যতম সহযোগী পিয়াল যে টেলিফোন সেন্টার থেকে চৌধুরী পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিয়ে যাচ্ছিল সি.আই.ডি. অফিসার মি. রূপম তাকে সেই দোকান থেকে হাতে-নাতে এরেষ্ট করেছে। আর তাদের কাছে থেকে তথ্য নিয়ে নিশ্চিত হয়েই মি. রূপম আসামী শাকিবকে এরেষ্ট করেছে। এরচেয়ে বড় সত্য আর কি হতে পারে ইউর অনার।
২য় উকিল ঃ ইউর অনার ……… সি.আই.ডি. অফিসার মি. রূপম আমার জানামতে আমার মক্কেলের স্ত্রীকে না পেয়ে প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে মি. শাকিবকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এ মামালায় জড়িয়েছে। আবার এও শোনা যাচ্ছে টি. আই. চৌধুরীর একমাত্র সুন্দরী কন্যা ঐশীর ও নাকি প্রেমে পড়েছে।
[দর্শক-শ্রোতা সবাই হেসে উঠবে।]
জজ ঃ অর্ডার —– অর্ডার। বাদী পক্ষকে অকাট্য প্রমাণ সংগ্রহ করার জন্য বলা হল। আজকে এখানে কোর্ট মুলতবী ঘোষণা করা হল।
কাট
দৃশ্য Ñ ১০৬
স্থান Ñ হাজত খানা
সময় Ñ রাত
[পিয়ালের সহযোগীকে আলাদা সেলে রাখা হয়েছে। রূপম তার সেলে প্রবেশ করবে।]
রূপম ঃ টিপু ………….. তোমার মা-বাবা নিশ্চয় তোমার সাথে দেখা করেছে।
সহযোগী (টিপু) ঃ হ্যা
রূপম ঃ নিশ্চয় তারা তোমাকে সব কিছু বলেছে ?
টিপু ঃ হ্যা
রূপম ঃ তুমি রাজী আছ ?
টিপু ঃ হ্যা।
রূপম ঃ গুড। তোমার যাতে শাস্তি না হয় আমি সে ব্যবস্থাই করে রেখেছি। টি. আই. চৌধুরীর লাশ গুম করে কোথায় রেখেছে নিশ্চয় তুমি জান ?
টিপু ঃ জি ………. না ……. হ্যা।
রূপম ঃ তাহলে আজ রাতেই আমরা ম্যাজিষ্ট্রেট সাহেবকে নিয়ে সেখানে যাচ্ছি। আসি সামনের তারিখেই তোমাকে কোর্টে সাক্ষী দিতে হবে।
[ইনটার কাটে দেখা যাবে টিপুকে পুলিশের ভ্যান গাড়িতে তুলে নিয়ে সম্মূখে চলছে।]
কাট
দৃশ্য Ñ ১০৭
স্থান Ñ আদালত
সময় Ñ দিন
[কোর্ট বসেছে। পিয়ন ডাক দিবে।]
পিয়ন ঃ সাক্ষী টিপু হাজির …….।
[টিপুকে পুলিশ কাঠগড়ায় এনে দাঁড় করাবে।]
শপথ পাঠ করাবে ঃ “ যাহা বলিব সত্য বলিব। সত্য বৈ মিথ্যা বলিব না।”
১ম উকিল ঃ ইউর অনার। এর নাম টিপু। শাকিব সাহেবের আরেক সহযোগী। সে আসামীর সকল কাজের সহযোগী। এ মামলার রাজসাক্ষী। আচ্ছা টিপু টি. আই. চৌধুরীকে অপহরণ করেছে কারা ?
টিপু ঃ আমরা ।
১ম উকিল ঃ কার নির্দেশে ?
টিপু ঃ শাকিব ভাইয়ের।
১ম উকিল ঃ শাকিব সাহেব কেন চৌধুরীকে অপহরন করেছিল ?
টিপু ঃ চৌধুরী সাহেবের বাড়ি-গাড়ি ধন-সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নেয়ার জন্য।
১ম উকিল ঃ টাকা-পয়সা বাড়ি নিজের নামে লিখে নেয়ার পর কি করল ?
টিপু ঃ টি. আই. চৌধুরী বেঁচে থাকলে সব অপকর্ম ফাঁস হয়ে যাবে এই ভয়ে আমাদেরকে বললেন চৌধুরীকে হত্যা করে গুম করে ফেলতে।
১ম উকিল ঃ এবং তাই করলে। তাই না ?
টিপু ঃ হ্যা
১ম উকিল ঃ ইউর অনার। আমার আর বলার কিছুই নেই। আপনি দেখুন গতকালের পত্রিকায় টি. আই. চৌধুরীর গুম করা লাশ ম্যাজিষ্ট্রেটের উপস্থিতিতে কবর থেকে উত্তোলন করা হয়। আর এ সম্ভব হয়েছে রাজসাক্ষী টিপুর সহযোগিতায়। টেলিফোনে হুমকির রিপোর্ট টি. আই. চৌধুরী নিখোঁজ হওয়ার সময়ে বাড়ি ক্রয়ের দলিল এবং লাশ উদ্ধার এই সময় প্রমান করে যে মি. শাকিব টি. আই. চৌধুরীর মূল হত্যাকারী। আর সত্য উদঘাটনে তরুন সি.আই.ডি. অফিসার মি. রূপম দেশের এক উজ্জল দৃষ্টান্ত। আমরা তার মত সি.আই.ডি. অফিসার দেশে কামনা করি। থ্যাংস অল ইউর অনার।
জজ ঃ অর্ডার ………. অর্ডার …..। প্রমাণের ভিত্তিতে সন্দেহাতীত ভাবে প্রমানিত হয়েছে যে, টি,আই চৌধুরীর মূল হত্যাকারী আসামী শাকিব। তাকে সহযোগিতা করেছে পিয়াল এবং টিপু। মূল হত্যাকারী মি. শাকিবকে বাংলাদেশের দন্ডবিধি ৩০২ ধারা মতে মৃত্যুদন্ড প্রদান করল। তাকে এ অপরাধে সাহায্য করার অপরাধে পিয়াল যাবৎজীবন সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করল। টিপু রাজসাক্ষী হওয়াতে এবং অল্প বয়সের হওয়াতে তাকে ১ বছরের সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করল।
[জজ রায় দিয়ে উঠে গেলেন। মৌমিতার চোখে জল। পুলিশ শাকিবকে হাজতে নিয়ে যাচ্ছে।]
শাকিব ঃ মৌমিতা ……….. আমার পাপে আমি মরছি। আমাকে ক্ষমা করে দিও।]ৎ
[পুলিশ শাকিবকে নিয়ে যাবে। ]
আদালত ভেঙ্গে যাবে।
কাট
দৃশ্য Ñ ১০৮
স্থান Ñ শাকিবের বাসা
সময় Ñ দিন
[মৌমিতা ব্যাগে নিজের কাপড় চোপড় ঘুচিয়ে নিচ্ছে। একে একে কাজের বুয়া আব্দুল চাচা ও ভোলা মিয়া দরজার সামনে দাঁড়াবে। সবার চোখে পানি। ব্যাগ নিয়ে মুভ করতেই মৌমতা তাদের দেখতে পাবে।]
মৌমিতা ঃ চাচা, বুয়া …….. তোমরা অন্যত্র কাজ খুঁজে নিও। ভোলা ……. তুই গ্রামের বাড়ি ফিরে যা। আসি ………..।
[মৌমিতা রুম থেকে প্রস্থান হবে।]
ভোলা মিয়া ঃ বুয়া ….. চাচা এই ভেলকিবাজীর শহরে থাকুমনইনা ……… গেরামেই চইলা যামু। মাফ কইরা দিও।
[ভোলা রুম থেকে প্রস্থান হবে। ধীরে ধীরে বুয়া এবং আব্দুল চাচাও প্রস্থান হবে।]
কাট
দৃশ্য Ñ ১০৯
স্থান Ñ মৌমিতাদের বাসা
সময় Ñ দিন
[মৌমিতা তার রুমে প্রবেশ করে বিছানায় পড়ে কাঁদছে। মৌমিতার বাবা পিছন দিক থেকে মৌমিতার মাথায় হাত রাখবে। মৌমিতা ফিরে বাবার বুকে মাথা রাখবে।]
মৌমিতা ঃ বাবা ………… [ফুপিয়ে কাঁদবে]
মৌমিতার বাবা ঃ যেমন কর্ম তেমন ফল। দুঃখ করিসনা মা। আল­াহ যা করেন ভালর জন্যই করেন। সবই আল­াহ ভরসা।
[মৌমিতার বাবা রুম থেকে প্রস্থান হবে।]
কাট

দৃশ্য Ñ ১১০
স্থান Ñ মৌমিতার বাবার বেড রুম।
সময় Ñ দিন
[মৌমিতার বাবা জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজ পড়বে। দুই হাত তুলে দোয়া করতে গিয়ে কেঁদে ফেলবে।]
মৌমিতার বাবা ঃ হে আল­াহ। আমিতো জেনেশুনে কোন অন্যায় করিনি। তবে কেন আমার মেয়ের জীবনটা এমন হয়ে গেল ? কেন ………….. ? আমি যে বাপ হয়ে সহ্য করতে পারছি না আল­াহ….. সহ্য করতে পারছিনা ………….।
[হঠাৎ মৌমিতার বাবা বুকে প্রচন্ড ব্যথা অনুভব করবে।]
আঃ ………. আঃ
[মৌমিতার মা রুমে প্রবেশ করবে।]
মৌমিতার মা ঃ কি হয়েছে আপনার ?
মৌমিতার বাবা ঃ মৌমিতার মা …….. আমি বাম দিকটা নাড়াতে পারছিনা। হ্যা মৌমিতার মা আমার মনে হয় আমার বাম দিকটা পঙ্গু হয়ে গেছে।
মৌমিতার মা ঃ কি বলছেন আপনি ?
মৌমিতার বাবা ঃ হ্যা ……. তুমি মৌমিতাকে ডাক।
মৌমিতার মা ঃ মৌমিতা …………..
মৌমিতার বাবা ঃ মৌমিতা তার ঘরেই আছে।
মৌমিতার মা ঃ মৌমিতা ……… মৌমিতা ……….।
[মৌমিতা দ্রুত রুমে প্রবেশ করবে।]
মৌমিতার মা ঃ মৌমিতা ……… তোর বাবা কেমন যেন করছে।
মৌমিতা ঃ বাবা ………… ।
মৌমিতার বাবা ঃ আমার বাম দিকটা নাড়াতে পারছিনা মৌমিতা।
মৌমিতা ঃ বাবা ……….।
মৌমিতার বাবা ঃ সবই আল­াহ ভরসা। আমি বোধ হয় পঙ্গু হয়ে গেলাম রে মা।
মৌমিতা ঃ না বাবা না। মা তুমি বাবার পাশে থাক। আমি গাড়ি দেখছি। এক্ষুণি বাবাকে হাসপাতালে নিতে হবে। [মৌমিতা রুম থেকে প্রস্থান হবে।]
কাট
দৃশ্য Ñ ১১১
স্থান Ñ রাস্তা
সময় Ñ দিন
[এম্বুলেন্স হাসপাতালের দিকে ছুটে যেতে দেখা যাবে।]
কাট
দৃশ্য Ñ ১১২
স্থান Ñ হাসপাতাল
সময় Ñ দিন
[সি.আই.ডি. অফিসে রূপম তার রুমে বসা। খুব চিন্তিত।]
রূপম ঃ [স্বগতঃ] কাজটা কি ঠিক করলাম ? মৌমিতা বিধবা হল। আর আমি তার জন্য কিছুই করতে পারলাম না ?
[এমন সময় অসীম ও বিক্রম রুমে প্রবেশ করবে।]
অসীম ঃ আসতে পারি স্যার ?
রূপম ঃ ইয়েস। [অসীম ও বিক্রম অন্যমনস্কতা লক্ষ্য করবে।]
অসীম ঃ স্যার কি অসুস্থ ?
রূপম ঃ না।
বিক্রম ঃ স্যারের কি মন খারাপ ?
রূপম ঃ হ্যা ………
অসীম ঃ স্যার ……. আমরা কি জানতে পারি ?
রূপম ঃ অসীম ………. আমার কিইবা করণীয় ছিল ? দায়িত্ব এবং কর্তব্যের কাছে আমার যে হাত-পা বাঁধা।
অসীম ঃ বুঝেছি স্যার। আপনার মামা বড় ভাল মানুষ। তার দিকে চেয়ে দায়িত্ব থেকে একটু সরে গেলেই পারতেন স্যার।
রূপম ঃ না অসীম। এ শিক্ষা আমার মামাই আমাকে দেন নি।
বিক্রম ঃ তাহলে স্যার মন খারাপ করার তো কিছুই নেই। আপনার বরং আপনার মামার সাথে দেখা করা উচিত।
অসীম ঃ হ্যা স্যার। আপনার চাকুরী জীবনের প্রথম সাফল্য। আপনার মামা বরং খুশিই হবেন। কারণ ওনারই আদর্শে গড়া মানুষ আপনি।
রূপম ঃ হ্যা। মামার সাথে দেখা করাই আমার শ্রেয়।
বিক্রম ঃ স্যার …… আজ আমাদের বিয়েতে যাওয়ার কথা।
রূপম ঃ কোথায় যেন ?
অসীম ঃ আতিক চৌধুরীর স্যার।
রূপম ঃ অহ্ হ্যা। আমরাতো যাব বলে কথা দিয়েছিলাম।
অসীম ঃ জী স্যার।
রূপম ঃ তোমরা কি তৈরী হয়ে এসেছ ?
বিক্রম ঃ জী স্যার।
রূপম ঃ ওকে চল তাহলে।
অসীম ঃ স্যার। যাওয়ার পথে একটা গিফ্ট কিনে যেতে হবে।
রূপম ঃ ফাইন।
অসীম ঃ ওকে স্যার
[সবাই রুম থেকে প্রস্থান হবে।]
কাট
দৃশ্য Ñ ১১৪
স্থান Ñ চৌধুরী বাড়ি
সময় Ñ রাত
[শাকিব যে বাড়িতে থাকত, সে বাড়িতেই বিয়ে। বাড়িটি আলোক সজ্জায় সজ্জিত। অতিথি অভ্যর্থনায় আতিক চৌধুরী ব্যস্ত। রূপম, অসীম ও বিক্রম বাড়ির ভিতর প্রবেশ করবে। আতিক চৌধুরী খুশিতে ড্রইং রুমে আলাদা এনে বসাবে।]
আতিক ঃ আসুন রূপম সাহেব। আসুন। বসুন। ও ধস ংড় সঁপয যধঢ়ঢ়ু যে আপনারা এসেছেন। আম্মা ………… ঐশী ……… ওনারা এসেছেন ……..।
[মিসেস চৌধুরী রুমে প্রবেশ করবে।]
রূপম ঃ স্লামালিকুম।
মিসেস চৌধুরী ঃ ওয়ালাইকুম আস্ সালাম। বস বাবা … বস তোমরা। আমি তোমাদে বুঝাতে পারবনা বাবা তোমরা এসেছ আমি যে কত খুশি হয়েছি। আতিক ……….. যা বউমাকে এখানে নিয়া আয়।
আতিক ঃ জি আম্মা । [আতিক রুম থেকে প্রস্থান হবে।]
মিসেস চৌধুরী ঃ নাও বাবা। একটু শরবত পান কর। ঐশী তুলে দে মা। [ঐশী হাতে হাতে শরবত দিবে।] সবাই শরবত পান করবে। এমন সময় আতিক নববধু লুচিকে নিয়ে রুমে প্রবেশ করবে। লুচি ঐশীর পাশে দাঁড়িয়ে বলতে শুরু করবে]
লুচি ঃ আপনাদের সবাইকে শুভ সন্ধ্যা। আপনি নিশ্চয় মি. রূপম। আপনার কথা ওর মুখে আমি অনেক শুনেছি। আপনি অতি সৎ মানুষ। এ যুগে আপনার মত মানুষ পাওয়া ভাগ্যের ব্যপার। আপনার জন্যে ওরা সব ফিরে পেয়েছে। ঐশী আপনার প্রশংসায় প মুখ। আপনি সব সময় আমাদের বাসায় আসবেন।
মিসেস চৌঃ ঃ বউ মা ………..।
লুচি ঃ জি …… আমি একটু কম কথা পছন্দ করি কিনা , তাই !
রূপম ঃ জি ….. কম বলেন বিধায় রক্ষা, বেশী কথা বললে না জানি উপায় কি হত ?
[ঐশী হেসে ফেলবে। তা দেখে সবাই হাসতে শুরু করবে।]
রূপম ঃ হাসতে হাসতে ক্ষুধা লেগে গেছে। এবার ভাবী খেতে দিন।
লুচি ঃ হ্যা ….. নিশ্চয় …….. আসুন …….. আসুন …………. আমি নিজ হাতে আপনাদের খাওয়াব। আতিক ভাই ………. তুমিও চল।
[লুচি স্বামীকে ভাই বলে জিহŸায় কামড় কাটবে। আবার ও সবাই হেসে ফেলবে।]
কাট
দৃশ্য Ñ ১১৫
স্থান Ñ ডাইনিং রুম
সময় Ñ রাত
[লুচি এবং ঐশী খাবার পরিবেশন করছে। রূপম, অসীম, বিক্রম, আতিক ও মিসেস চৌধুরী খাচ্ছে।]
মিসেস চৌধুরী ঃ রূপম …… তুমি নিশ্চয় শুনেছ ঐশী তোমার প্রশংসায় প মুখ।
রূপম ঃ জি …………. ঐশী খুব ভাল মেয়ে।
মিসেস চৌধুরী ঃ রূপম, যদি কিছু মনে না কর। তাহলে তোমাকে একটা কথা বলতে চাই বাবা।
রূপম ঃ না …….. না …. মনে করার কি আছে ? বলুন।
মিসেস চৌধুরী ঃ আমি যদি ঐশীকে তোমার হাতে তুলে দিতে চাই …… তোমার কি তাতে আপত্তি আছে ?
রূপম ঃ জি … ! এ বিষয়ে আমি এখনও চিন্তা করিনি।
মিসেস চৌধুরী ঃ না Ñ না Ñ [ঐশী লজ্জা পেয়ে চলে যাবে] তুমি চিন্তা করেই জানিও। নাও বাবা আরেকটু নাও। বউ মা আরেকটা রোস্ট দাও।
রূপম ঃ না Ñ না Ñ প্লীজ ভাবী।
লুচি ঃ [চুপিচুপি] ননদীর জামাই হলে পরে যদি বদনাম করেন ?
[রূপমের বাসন ভর্তি করে ফেলবে মাংস দিয়ে। রূপম হা করে তাকিয়ে থাকবে।]
কাট
দৃশ্য Ñ ১১৬
স্থান Ñ মৌমিতাদের বাসা
সময় Ñ দিন।
[মৌমিতার বাবা খাট্ েশোয়া। মৌমিতা বাবাকে টেবলেট খাওয়াচ্ছে। এমন সময় রূপম বাসায় প্রবেশ করবে।]
রূপম ঃ মামা ……..।
মৌমিতার বাবা ঃ কে ?
রূপম ঃ মামা …… আমি রূপম।
মৌমিতার বাবা ঃ আয় ……. বস। [মৌমিতা বাবার উপর রাগ করে রুম থেকে বের হয়ে যাবে।]
রূপম ঃ মামা …….. আপনার কি শরীর খারাপ ?
মৌমিতার বাবা ঃ শরীরের কি আর দোষ বল। সময় ফুরিয়ে এলে এমন হওয়াটাই যে স্বাভাবিক।
রূপম ঃ মাম … আমি বিশ্বাস করি আমাকে আপনি ভূল বুঝবেন না। তাই আমি কিছু টাকা দিতে চাই।
[মৌমিতার মা রুমে প্রবেশ করবে।]
মৌমিতার মা ঃ অহ্ ……..। সুযোগ বুঝে তুমি আমাদের করুণা দেখাতে এসেছ ? নাকি ভিক্ষা দিতে এসেছ ?
রূপম ঃ মামী …. ।
মৌমিতার মা ঃ তুমি আর কত সর্বনাশ আমাদের করতে চাও ? বল ….. আমার একটা ভুলের কারণে আমাদের উপর তুমি একটার পর একটা প্রতিশোধ নিচ্ছ। আমার মেয়ের সুখের সংসার তুমি তছনছ করে দিয়েছ। আবার এসেছ কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দিতে ?
রূপম ঃ মামী …. ।
মৌমিতার মা ঃ খবরদার। তুমি আমাকে মামী বলে ডাকবেনা। যত তাড়াতাড়ি পার এ বাড়ি তুমি ত্যাগ কর।
[মৌমিতার মা দ্রুত রুম থেকে প্রস্থান হয়ে যাবে।]
মৌমতার বাবা ঃ যে দিতে জানে সে নিতে জানে নারে বোকা। যতদিন আমি বাঁচব ততদিন নিজের টাকায়ই বাঁচব। কোন মা-ই এ অবস্থায় ভাল থাকতে পারে না। আল­াহ ভরসা। যা তুই ভাল থাকিস। [রূপম নিরুপায় হয়ে রুম থেকে বের হবে।]
কাট
দৃশ্য Ñ ১১৭
স্থান Ñ মৌমিতার রুম
সময় Ñ দিন
[রূপম মৌমিতার রুমে প্রবেশ করবে। মৌমিতা আপসেট]
রূপম ঃ মৌমিতা …… আমাকে তুমি ………….।
মৌমিতা ঃ একজন মহিলার রুমে প্রবেশ করার আগে একজন বেগানা পুরুষের যে অনুমতি নিতে হয় এ মিনিমাম ভদ্রটাও কি শিখিয়ে দিতে হবে ?
রূপম ঃ মৌমিতা আমি তোমার কাছে এতটাই দূরের মানুষ হয়ে গেলাম ?
মৌমিতা ঃ হ্যা ………. কারণ এখনও আমি একজনের বিবাহীতা স্ত্রী।
রূপম ঃ তা আমি জানি।
মৌমিতা ঃ জানলে এ ঘরেতো ঢুকবার কথা নয়।
রূপম ঃ মৌমিতা তুমি যত পার আমাকে অপমান কর। আমি তাতে কষ্ট পাব না। কারণ আমি যা করেছি তা কোন প্রতিহিংসার কারণে নয়। দায়িত্ব এবং কর্তব্যের মাঝে পড়ে আমাকে তা করতে হয়েছে। দায়িত্ব আর কর্তব্য তোমার যে এত বড় সর্বনাশ করে দিয়েছে তার শান্ত্বনা দেবার ভাষা আমার নেই। তোমারে একা এ ভার বইতে দিব না। আমিও তা বয়ে বেড়াব। অকৃতজ্ঞতা কোনদিনই আমাকে স্পর্শ করতে পারবে না। এ আমার প্রতিজ্ঞা।
[রূপম ধীরে ধীরে রুম ত্যাগ করবে।]
কাট
দৃশ্য Ñ ১১৮
স্থান Ñ টেবিল
সময় Ñ দিন
[টেবিলের উপর একটা দৈনিক পত্রিকা। লেখা আছে “ফাঁসির রায় কার্যকর”]
কাট
দৃশ্য Ñ ১১৯
স্থান Ñ মৌমিতার রুম
সময় Ñ দিন
[মৌমিতার বিধাবার বেশে দক্ষিণের জানালায় দাঁড়ানো। দক্ষিণের বাতাস মৌমিতার চুলগুলো এলোমেলো করে দিচ্ছে।]
মৌমিতা ঃ [ঋষধংয নধপশ এ রূপমের কথাটা শোনা যাবে] “তোমাকে একা এ ভার বইতে দিব না, আমিও তা বয়ে বেড়াব”। [স্বগতঃ] এ ভার শুধু আমার একার। এ ভার একাই আমাকে বয়ে বেড়াতে হবে। এখানে কাউকে অংশীদার করা যায় না।
[চোখে মুখে অব্যক্ত যন্ত্রণা।]
কাট
দৃশ্য Ñ ১২০
স্থান Ñ সি.আই.ডি. অফিস
সময় Ñ দিন
[রূপম অফিস করছে। পত্রিকা হাতে অসীম ও বিক্রম প্রবেশ করবে।]
অসীম ঃ ঈড়হমৎধঃঁষধঃরড়হ ঝরৎ ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়েছে। এই দেখুন পত্রিকা।
বিক্রম ঃ পত্রিকাগুলোতে আপনার প্রচুর প্রশংসা ছাপা হয়েছে স্যার।
অসীম ঃ আপনার সহ-যোদ্ধা হিসাবে আমরাও গর্বিত স্যার।
বিক্রম ঃ আমরা তাহলে আসি স্যার। [সম্মান দেখিয়ে অসীম ও বিক্রম রুম থেকে বের হবে।]
রূপম ঃ [স্বগতঃ] “মৌমিতা …. বিশ্বাস কর ……. সকাল বেলাতে বিকেলের গান এ আমি চাইনি……।”
কাট
দৃশ্য Ñ ১২১
স্থান Ñ মৌমিতাদের বাস
সময় Ñ দিন
[অসুস্থ মৌমিতার বাবা মৌমিতাকে ডাকবে।]
মৌমিতার বাবা ঃ মৌমিতা ……….. । [মৌমিতা সাদা শাড়ী পরে রুমে প্রবেশ করবে। মৌমিতার বাবা মৌমিতার এরূপ দেখে গুমরে কেঁদে ফেলবে।]
মৌমিতা ঃ বাবা …….. তুমি কাঁদছ কেন ?
মৌমিতার বাবা ঃ কই …… আমি কাঁদছি কই ? আমিতো তোকে দেখছি।
মৌমিতা ঃ বাবা তোমার অসুখটা কি বেড়েছে ?
মৌমিতার বাবা ঃ হ্যা …….. নতুন করে অসুখটা বেড়েছে। তাই একটু কাঁদলাম। আল­াহ ভরসা। তিনি ভাঙ্গেন তিনি জোড়ান সব তারই খেলা।
মৌমিতা ঃ বাবা। কিছু ভাঙ্গা আছে জোড়া লাগলেও তাতে দাগ থেকেই যায়।
মৌমিতার বাবা ঃ সব তারই ইচ্ছা। আমাকে ধরে বারান্দায় নিয়ে চলরে মা। মুক্ত বাতাসে একটু নিঃশ্বাস ফেলতে চাই।
[মৌমিতা অসুস্থ বাবাকে ধরে বারান্দায় নিয়ে আসবে। চেয়ারে বসে মৌমিতার বাবা দূর আকাশে তাকাবে।]
মৌমিতা ………. আমার সামনে একটু বস মা।
[মৌমিতা বাপের সামনে বসবে।]
মৌমিতার বাবা ঃ মারে ……… রূপমকে তোরা ভূল বুঝিস না। এতে রূপমের কোন দোষ নেই। জন্ম-মৃত্যু-বিয়ে এ সবই আল­াহর হাতে। রূপম তার দায়িত্ব সতাতার সাথে পালন করেছে। রূপম আমার গর্ব। সে আমার আদর্শে যে সত্যিকারের মানুষ হয়েছে, একজন সৎ অফিসার হয়ে আমার স্বপ্ন পূরণ করেছে। এমন সৎ অফিসার যদি আমাদের ঘরে ঘরে জন্ম দিতে পারতাম। তাহলে এদেশ দূর্ণীতিতে সেরা এমন কথা কেউ খবরের কাগজে ছাপাতে পারত না। বরং ছাপা হত নীতিতে এদেশ সবার সেরা। রূপমদের মত অফিসাররা আমাদের গর্ব। মৌমিতা …. রূপম যদি তোদের কাছে আসে তাকে তোরা দূরে ঠেলে দিস না। ও বড্ড ভাল ছেলেরে মা। ও কখনো তোর অমঙ্গল চায়নি, চাইবেও না। শুধু শুধু তোর মা ওকে বাধ্য করেছে ওকে দূরে চলে যেতে।
মৌমিতা ঃ কি বলছ বাবা ? মা বাধ্য করেছে ওকে দূরে চলে যেতে ?
মৌমিতার বাবা ঃ হ্যা …….
মৌমিতা ঃ [স্বগতঃ] না বাবা …. আমি তা বিশ্বাস করি না। ও আমাকে কোনদিনই চায়নি।
মৌমিতার বাবা ঃ মৌমিতা Ñ এবার আমাকে ঘরে নিয়ে চল মা।
[মৌমিতা বাপকে ঘরে ঘরের ভিতর নিয়ে আসবে।]
কাট
দৃশ্য Ñ ১২২
স্থান Ñ পার্ক
সময় Ñ দিন
[রূপম বিষন্নমনে পার্কে বসে আছে। সম্মূখ দিক দিয়ে লুচি এবং ঐশী বাদাম খেতে খেতে এগিয়ে আসবে। হঠাৎ লুচি রূপমকে দেখে কাছে আসবে।]
লূচি ঃ হ্যালো ………. কেমন আছেন আপনি ?
রূপম ঃ আপনি ………….. ?
লুচি ঃ আমি চৌধুরী বাড়ির বউ লুচি। ও আমার একমাত্র ননদ ঐশী। মনে মনে আপনাকেই খুজছিলাম। পেয়ে গেলাম ভালই হল। দেখুন আমার ননদী কিন্তু কম সুন্দর নয়। কয়েক পত্রিকা থেকেই অফার দিচ্ছে ফটোসেশন করার জন্য। ওরা বলছে অবশ্যই আমার ননদী ফটোসেশনে অংশগ্রহন করলে সেরা ফটোসুন্দরী অবশ্যই হবে। আচ্ছা আপনিই বলুন কথাগুলি ঠিক বলছি না ! দেখুন আমি একটু কম কথা বলি কিনা ….. তাই ঐশী বিশ্বাসই করতে চায়না যে ও আসলেই সুন্দরী। আমার মনে হয় আপনি বললে নিশ্চয় ও বিশ্বাস করবে।
ঐশী ঃ আহ ……. ভাবী, তুমি না …….।
লুচি ঃ অহ্ …… আমি একটু কম কথা বলি কিনা …….. তাই। ঠিক আছে বাপু এবার তোমরা কথা বল আমি শুনি। আচ্ছা আপনিই বলুনতো আমি কি ভুল কিছু বলেছি ?
রূপম ঃ একদম না। দশে দশ।
লুচি ঃ আরে আপনি দেখছি ঐশীর সাথে হুবহু মিলে গেছেন।
রূপম ঃ জি ?
লুচি ঃ হ্যা ……. ঐশীওতো কথায় কথায় বলে দেয় একদম ঠিক, দশে দশ। শোনেন না ঐশী আর তার ভাই যেদিন আমাদের বাসায় গেল, সেদিন দেশ এবং বিদেশ নিয়ে শুরু করলাম বিতর্ক। আমি দেশের পক্ষে ঐশীর ভাই বিদেশের পক্ষে। আমি যা যুক্তি দেই ঐশী হুবহু বলে দেয় একদম ঠিক দশে দশ। ওর ভাই আমার যুক্তির কাছে পাত্তাই পেল না।
রূপম ঃ ভাবী ….. আপনারটা বিতর্ক নয় তর্ক।
লুচি ঃ হ্যা …. ঐ একইতো কথা। তর্কে আমাকে হারাতে পারবেনা। কারণ আমি একটু কম কথা বলি কিনা ………… তাই।
ঐশী ঃ ভাবী ………. দয়া করে থামবে ?
রূপম ঃ আচ্ছা ভাবী ……….. আপনি একটু বেশী কথা বলেনতো দেখি কেমন লাগে শুনি।
লুচি ঃ না ভাই ……. আমি কিন্তু বেশী কথা বলতে পারি না। তবে আমার ননদী আপনাকে কিন্তু খুব পছন্দ করে। আপনিও নিশ্চয় পছন্দ করেন ?
ঐশী ঃ এইতো ভাবী একটা বেশী কথা বলে ফেললে।
লুচি ঃ না ………. না আমি একদম বেশী কথা পছন্দ করি না। কি ভাই ঠিক বলছিনা ?
রূপম ঃ একদম ঠিক, দশে দশ।
লুচি ঃ এইতো ………… দেখলে তো।
ঐশী ঃ প্লীজ কিছু মনে করবেন না। আপনি বাসায় আসবেন। চল ভাবী।
লুচি ঃ হ্যা ……. আপনি নিশ্চয় আমাদের বাসায় আসবেন। আমরা খুব খুশি হব। আসি তাহলে ………. বাই ……।
[ঐশী ও লুচি প্রস্থান হবে। রূপম সেই স্থানটিতে বসে আছে যে স্থানটিতে মৌমিতাও বসত। রূপমের চোখের সামনে একবার ঐশীর মুখ আবার মৌমিতার মুখ ভেসে উঠছে।]
রূপম ঃ [স্বগতঃ] ঐশী খুব ভাল মেয়ে। কিন্তু মৌমিতা ………. ? মৌমিতা আমার রক্তে-মাংসে।
[এমন সময় মৌমিতা পার্কে প্রবেশ করবে। ঐ স্থানটিতে রূপমকে দেখে ফিরে চলবে। রূপম মৌমিতাকে দেখে ফেলবে।]
রূপম ঃ মৌমিতা ………..। [মৌমিতা ধীরে পায়ে হাঁটছে, রূপম মৌমিতার কাছে আসবে।] মৌমিতা ………. কোথায় যাবে ?
মৌমিতা ঃ জাহান্নামে।
রূপম ঃ সেখানে বুঝি খুব সুখ ?
মৌমিতা ঃ হ্যা
রূপম ঃ তাহলেতো আমাকেও যেতে হয়। নিবে ?

চলমান ……… দৃশ্য …….. ১২২