বসন্তের ফুল
রচনা: হাসান-উজ-জামান
তারিখ:২১/০৭/০৬

একটি কাল্পনিক ঘটনা।

সময় কাল: ১৯৬৪ সাল

 

বসন্তের শেষ গ্রীষ্মের শুরু। অজ-পাড়া গা, ঝিঁঝিঁ পোকারা ডাকছে, আকাশে বিশাল আকারে থালার মত রূপালী চাঁদ। শিয়াল-কুকুরের ডাক শোনা যাচ্ছে। একটু দূরে জংলার ভিতর খস-খস কিসের একটা শব্দ কিছু একটা নড়া-চরা করছে। ঐদিকটায় কুকুরের চক-চকে চোখ দেখা যাচ্ছে কুকুরটি তার আশে-পাশে একবার তাকিয়ে আবার নিজের কাজে মন দিয়েছে।
একটি মৃতদেহ, ছিড়ে খুড়ে খাচ্ছে সে। মৃত মানুষের একজোড়া পা নড়ছে আস্তে আস্তে পা দুটি জংলার ভিতরের দিকে চলে যাবে।

চাঁদ ডুবে গিয়ে সুর্য উঠেছে,নদীতে জোয়ার পানির কুলু কুলু শব্দ, ছোট ছোট ঢেউ এসে আছড়ে পরছে নদীর পাড়ে। পাখ-পাখালির কলতান। নদীর ঘাটে একটি লঞ্চ নোঙগর করা আছে। সেখান থেকে ইঞ্জীনের ভট-ভট শব্দ। চাদড় মুড়ি দেয়া এক বৃদ্ধ শান্তর সাথে লঞ্চে উঠবে।

নদীর ঠিক পাড়েই বিশাল আকারের সানির নানা বাড়ি। এ বাড়ির সকলেই থাকে লন্ডনে। ছুটিতে ঢাকা এসেছিল সানি সে কারনেই কয়েক দিনের জন্য নানা বাড়িতে ঘুরে যাওয়া। সানির সাথে আছে তার মা। বাবা আসেনি, তার বাবা সরকারের উচ্চ পদস্ত কর্মকর্তা। লে র পুরো কেবিনই সানিদের জন্য নির্ধারন করা এবং তাদের নিরাপত্তার জন্য সাথে আছে দুজন পুলিশ।
কাজের লোক গনেষ, বিশাল দুটি সুটকেস নিয়ে উঠনে দাড়িয়ে চিৎকার করে তাড়া দিচ্ছে সানিকে লে উঠার জন্য।

সুন্দর পোশাক পরে মায়ের সাথে বের হয়ে আসবে, ১৬ বৎসর বয়সি সানি। তাকে দেখতে পরীর মত সুন্দর লাগছে।

সানি সহ সকলে লে উঠবে। লে উঠার সাথে সাথে গুঞ্জন শুরু হয়ে যাবে কেউ বলবে রাজ পরিবারের মেয়ে কেউবা বলবে বৃটিশ রানীর নাতি। অনেকেই সানিকে দেখার জন্যে উৎসুক করবে কিন্তু কাররই দোতালার কেবিনে উঠার অনুমতি মিলবে না।

শান্ত অসুস্থ পিতাকে রেখে দু তিনবার চেষ্টা করেছে সানিকে দেখার জন্য কিন্তু ব্যার্থ হয়ে ফিরে এসেছে।

ল এগিয়ে চলছে ঝরের গতিতে তার একমাত্র গন্তব্য ঢাকা। পথে আর কোথাও থামবে না। এই প্রতিজ্ঞা নিয়েই যেন সারেং তার ল চালাচ্ছে।

সানি বারান্দায় দাড়িয়ে নদীর দু’পারের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করছে। কাধে ঝোলান ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দি করে নিচ্ছে সেসব সৌন্দর্য। মা কেবিনে বসে কুশিকাটায় জামা বুনছে ।

দু’পাড় থেকে অসংখ মানুষ ডাকা ডাকি করছে ল পাড়ে ভেড়ানোর জন্য কিন্তু ল ক্ষেপা ষাড়ের মত এগিয়ে চলেছে তার নিদিৃষ্ট গন্তব্যের দিকে।

লে র নিচের অংশে সাধারন মানুষ গুলো সবাই চুপ চাপ বসে আছে। শান্ত, বাবার মুখ ঢেকে রেখেছে তার সারা সরিরে গুটি বসন্তের দাগ, শান্ত বিষয়টি লুকিয়ে রাখতে চাইছে তাই বার বার ডেকে দিচ্ছে, অন্য সকলের চখে মুখে কিসের যেন একটি ভয়ের ছাপ মনে হচ্ছে যেকন মুহুর্তে ঘটে যেতে পারে ভয়াবহ কোন ঘটনা।

লে র এক কোনে বসে থাকতে দেখা যাবে যাত্রার পোশাক পড়া একদল লোক, একই সাজে সেজে আছে ৫-৭ বৎসর বয়েষর একটি বাচ্চা মেয়ে, দলের সকলে একটু নরে চরে বসবে, তাদের হাতে আছে বিভিন্ন রকমের বাদ্য যন্ত্র, প্রথমে ভয়ে ভয়ে টুং টাং করে বাদ্য বাজাতে শুরু করবে, সকলের নির্লিপ্ততা দেখে, পুরো দমে বাজাতে শুরু করবে। বাচ্চা মেয়েটা নাচতে থাকবে। মুহুর্তে গোটা পরিস্থীতির পরিবর্তন হয়ে একটি আনন্দের আমেজ ছড়িয়ে পরবে। অনেকেই অংশ গ্রহন করবে মেয়েটার সাথে, শান্ত ও বসে থাকতে না পেরে মেয়েটার সাথে নাচবে আরো জমে উঠবে আশর।

উপরে বশে থাকা সানি গানের শব্দ পেয়ে নিচে নেমে আসবে সেও নাচ-গান উপভোগ করবে তার কাছে খুব ভালো লাগবে।

লে র সারেং তার রেডিও ঘুরিয়ে স্টেশন ধরার চেষ্টা করবে। উর্দু গান বাজবে সারেং সাথে সাথে গাইবে।

দুপুরের খাওয়া শেষে সানি আবার বারান্দায় গিয়ে দাড়াবে। ল হঠাৎ পারের দিকে যেতে দেখা যাবে। ল বার বার থেমে যাচ্ছিল তাই এখানকার গঞ্জ থেকে কিছু একটা কিনবে, কাউকে পারে নামতে নিষেদ করা হলো কিন্তু সানি তা মানলো না পারে এত সুন্দর বাগান দেখে সে সেখানে যাবে। কিছুই করার নেই রাজ পরিবারের মেয়ে তার কথা শুনতেই হবে। সে নেমে গিয়ে একের পর এক ছবি তুলতে থাকবে।

সারেং রেডিওতে সতর্ক সংকেত শুনতে পাবে, কিছুক্ষনের মধ্যে ঝর হবে, সকল ল এবং নৌকাকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হচ্ছে। সারেং ভেপু বাজিয়ে যাবে যত তাড়া তাড়ি সম্ভব গন্তব্যে পৌছতে হবে, মেয়েটার কান্ড দেখে বিরক্ত হবে। ঝড়ের কথা জানতে পেরে সকলেই সানিকে ডকতে থাকবে।

সানি তার ছবি তোলা শেষ করে ধীরে সুস্থে লে উঠবে। ল চলতে শুরু করবে। ধীরে ধীরে আকাশ মেঘলা হয়ে উঠবে। নদীতে প্রবল শ্রোত দেকা যাবে আস্তে আস্তে ঝর শুরু হবে সানির চোখে মুখে কোন ভয়ের ছাপ নেই সে নদীর ও ঝরের ছবি তুলতে থাকবে।

শুরু হবে প্রলয়ঙ্করী ঝর লে র ভিতরের মানুষ গুলো অস্থির হয়ে পরবে। কেউ দোয়া পরবে, কেউ কান্না কাটি কেউ আজান দিবে । ঝরের দাপটে ল একেকবার আছড়ে বরবে অনেক উপর থেকে নিচে। সকলেই ভয় পাবে শুধু ভয় নেই সানির। মায়ের নিষেধ থাকা সত্যেও সে জানালা খুলে ছবি তুলবে। এক সময় ক্যামেরা হাত থেকে ছুটে জানালা থেকে বারান্দার এক যায়গায় আটকে যাবে। সানি মরিয়া হয়ে উঠবে ক্যামেরার জন্য যে কোন উপায়ে সেটা উদ্ধার করতে বেরিয়ে পরবে বারান্দায়।

অন্য দিকে বাবাকে টয়লেটে নেয়ার জন্য শান্তকে বাইরে আসতে হয়েছিল, তখনই দেখতে পায় সানি ক্যামেরা উদ্ধার করতে গিয়ে নিজেই জাহাজের বাইরে পরে গেছে দুই হাতে কোন রকম ভাবে বারান্দার গ্রীল ধরে ঝুলে আছে এবং চিৎকার করে বাচানর জন্য সাহায্য চাইছে।

শান্ত নিজের বিপদের সম্ভাবনা জেনেও তাকে বাচাঁতে যাবে। সানির হাত ধরে তুলে আনার চেষ্টা করবে। কিন্তু এরই মধ্য আচমাকা ঝড়ের তিব্রতা বেড়ে গিয়ে পুরো ল টা ডুবে যেতে থাকবে। শান্ত সানিকে নিয়ে নদীতে লাফিয়ে পরবে। শ্রোতের তোরে দুজনে ছিটকে অনেক দুরে চলে যাবে, ল টা তলিয়ে যাবে পদ্মার বুকে।

কতক্ষন ঝড় ও শ্রোতের সাথে যুদ্ধ করতে হয়েছে শান্ত জানেনা এত প্রতিকুলতার মধ্যেও সানিকে সে ছেড়ে দেয়নি। এক সময় শান্তর পা মাটির ছোয়া পেল। বুঝতে দেরি হলো না এটি একটি চর সানিকে টেনে তিরে তুললো, সানি জ্ঞান হাড়িয়েছে, জ্ঞান ফিরে আসতেই কান্না কাটি শুরু করে দিল সে। তাকে শান্তনা দিতেই আর একটি কান্নার শব্দ শুনতে পেল নদীর পার থেকেই আসছে। দুজনেই ছুটে গেল সেখানে। উদ্ধার করল গানের দলের ছোট মেয়ে জ্যোতিকে। ভেষে আসতে দেখা গেল শান্তর বাবার মৃত লাশ। কান্নায় ভেঙ্গে পরল শান্ত। সানি শান্তকে শান্তনা দেয়।

অপেক্ষা করতে থাকে কখন সকাল হবে কখন তাদের কেউ উদ্ধার করবে।

অন্য দিকে ঢাকায় সানির বাবা খোঁজ খবর নিতে থাকে ল রে কি অবস্থা তিনি অর্ধেক বাংলা অর্ধেক ইংরেজীতে কথা বলে। তিনি জানতে পারে ল ডুবে গেছে, তিনি একের পর এক টেলিফোন করতে থাকে।

ছুটে যান ঘটনা স্থলে অনেক উদ্ধর কারী এসে ভীড় জমিয়েছে সেখানে কিন্তু ল র কোন অস্তিত পাওয়া যাচ্ছে না মাঝে মাঝে দু একটি লাশ পানিতে ভাসতে দেখা যাবে।
তিনি নৌকায় করে খুজে বেড়ান তার মেয়ে ও মেয়ের মাকে।

এদিকে সকাল হতেই দেখা যাবে সানি শান্ত যেখানে আছে সেটি একটি বিস্তীর্ন চর শুধু বালি আর বালি আশে পশে কোন গ্রাম নেই। তাদের উদ্ধার করার কোন লক্ষন তদের চোখে পরেনা না। তিন জনই হাটতে থাকে, শেষ মাথায় এসে দেখে আবার নদী, সকলে ভেঙ্গে পরে। শান্তু বুঝতে পারে এই চরে পরে থাকলে নিশ্চিত মৃত্যু । সে সিদ্ধান্ত নেয় নদী পাড় হবার। শান্ত, সানি ও জ্যোতিকে দুই কাধে নিয়ে নদী পার হতে থাকে, অনেক কষ্টে এক সময় পাড়ের দেখা পায়। বুঝতে পারে তারা একটি গ্রামে এসে পৌছেছে, অসুস্ত খুদার্থ অবস্থায়, হাটতে থাকে কোন মানুষের দেখা পায় না তারা। গাছ থেকে কলা আর পেপে পেরে খায়, হাটতে হাটতে একটি বাড়ির দেখা পায়, কিন্তু কোন মানুষ নেই। ঘরে প্রবেশ করে সেখানেও কেউ নেই।

শান্তু আশে পশে মানুষ খুজতে থাকে। এক সময় বাড়ির ঠিক পিছনেই একটি মৃত মানুষের লাশ দেখতে পায়। শান্তুর বুঝতে অসুভিদে হয় না এটি ঘুটি বসন্ত আক্রান্ত এলাকা এই গ্রামের অনেক মানুষ মারা গেছে সকলই ছেড়ে গেছে তাদের প্রিয় বাড়ি ঘর।

সে ফিরে এসে যেদিকে লাশ পরে ছিল সেদিকটা বাশের বেড়া দিয়ে আটকে দেয় । সানি ও জ্যোতিকে ঐ দিকটায় যেতে নিষেদ করে দেয় । এর পর বেশ কিছুদিন কেটে যায়।

অন্য দিকে পত্র পত্রিকায় ফলাও করে ছাপা হতে লাগে “বাংলাদেশে কিছু কিছু জেলায় গুটি বসন্তে গ্রামের পর গ্রাম মানুষ মরে সাফ হয়ে গেছে। সেসব এলাকায় এখন আর কোন মানুষই বেঁচে নেই। অনেকে পারি জমিয়েছে অন্যত্র।”

সানির বাবা নৌকায় করে খুজে বেড়ায় তার মেয়ের মা ও মেয়েকে।

এদিকে বেশ ভালোই কাটছে সানি ও জ্যতিকে নিয়ে শান্তর ছোট পরিবার, নিজেরাই রান্না বান্না করছে নিজেরাই খাচ্ছে। এত কষ্টের মধ্যেও একধরনে সুখ খুজে পায় তারা। সানি ও শান্তর মধ্যে ঘনিষ্টতা বৃদ্ধি পায় একে অপরকে ভালো বেসে ফেলে, এ এক অন্য রকম সুখ।

বিপত্তি ঘটে জ্যোতিকে নিয়ে। নিষেধ করার পরেও জ্যতি খেলার ছলে বাশের বেড়া পার হয়ে খেলতে থাকে সেখানে যেখানে বসন্তে আক্রান্ত মানুষে লাশ পরে আছে। খেলতে খেলতে এক সময় পড়ে যায় পচা গলা লাসের উপর। ভয় পেয়ে হাত পা পরিস্কার করে, ফিরে আসে ঘরে।
এ ব্যাপারে কাউকে কিছুই বলে না সে। কিছু দিনের মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পরে জ্যোতি সারা শরীর জুরে উঠে গুটি বসন্ত এক সময় তার জীবনের ইতি ঘটে।

এর পর পরই আক্রান্ত হয় শান্ত ও সানি দুজনেই বুঝতে পারে তারা ধিরে ধিরে মারা যাচ্ছে।

এক সকালে উঠে দুজনেই দুজনকে ধরে হাটতে হাটতে নদীর পারে যায়। কিছুক্ষন বশে থাকার পর, শান্তু একটু বেশী অসুস্থ হয়ে পরে, সে মাটিতে শুয়ে পরে। সানি তাকে সুস্থ করার জন্য ব্যাস্ত হয়ে পরে। কিছুতেই জ্ঞান ফিরে না শান্তর। সানি দৌড়ে নদীর পারে যায় পানি আনতে, পানি আনতে যেয়ে সানি দেখেতে পায় দুরে একটি নৌকা, সে চিৎকার করে ডাকে। মাঝি তার ডাক শুনতে পেয়ে পাড়ে আসতে থাকে। ভিতরে নির্লিপ্ত ভাবে বসে থাকতে দেখা যায় পাগল প্রায় সানির বাবাকে।

সানি এসে শান্তুকে বলার চেস্টা করে তারা ফিরে যেতে পারবে নৌকা দেখা গেছে, সানি বার বার শান্তকে চোখ মেলতে বলে কিন্তু শান্তু চোখ খোলে না।

তীরে এসে সানিকে দেখতে পেয়ে বাবা মেয়েকে বুকে জরীয়ে ধরে, মেয়েকে বলে চীকিৎসা করলে সে ভালো হয়ে যাবে । কিন্তু সানি শান্তুকে রেখে কিছুতেই যেতে রাজি হয় না। সানির এই জেদকে মেনে না নিয়ে মেয়েকে জোর করে নৌকায় তুলে নেয়। চলতে শুরু করে নৌকা । অনেকটা পথ যাওয়ার পর শান্তু মাথা উচু করে দেখে সানিকে। শান্তর ঠোটের কোনে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠে এই ভেবে তার অনাগত সন্তান হয়তো বেঁচে যাবে। শান্ত আবার চোখ বন্ধ করে ফেলে ।

সানির নৌকা চলতে থাকে সানিকে ও তাদের অনাগত সন্তান বসন্তের ফুল নিয়ে…

বসন্তের শেষ শেষ দিকে নদীতে জোয়ার পানির কুলু-কুলু শব্দ। আলো-আধারীতে ছোট ছোট ঢেউ এসে আছড়ে পরছে নদীর কুলে। নদীতে চাঁদের প্রতিচ্ছবী । আকাশে থালার মত রূপালী চাঁদ।
ঝী-ঝী পোকা এবং শিয়াল-কুকুরের ডাক, জঙ্গলের ভিতর কিসের একটা শব্দ, কিছু একটা নড়া চরা করছে।
কুকুরের চক-চকে চোখ। ভরা পূর্নিমার চাদের আলো পরেছে তার চখে তাই হয়তো এমনটি দেখা যাচ্ছে সে তার আশে-পাশে তাকিয়ে আবার নিজের কাজে মন দিয়েছে। কিছু একটা ছিড়ে-ছিড়ে খাচ্ছে।
মৃত মানুষের একজোড়া পা নড়তে দেখা যাবে। আস্তে আস্তে পা দুটি জঙ্গলের ভিতরে চলে যাবে। মনে হবে কেউ যেন মৃত লাশ টেনে নিয়ে আচ্ছে।
চাঁদ ডুবে গিয়ে সুর্য উঠছে। পাখ-পাখালির কলতান শোনা যাবে।

পাখির শব্দ বিলিন হয়ে ইঞ্জীনের ভট্ ভট্ শব্দ তীব্র হবে।
দুরে একটি ল তিরে ভিরছে। আয়েসি এক সারেং খুব সতর্কতার সাথে তার স্টেয়ারিং ঘুরাচ্ছে। ভদ্রলোককে কেউ মাছ বাজারে দেখলেও বলে দিতে পারবে যে, সে সারেং আকাশের দিখে মুখ করা তার বাহারী গোফ মোটা মুটি শাস্তবান চুল গুলো তেল দিয়ে মাঝখানে সিথী করে পরিপাটি ভাবে আচরে রাখে চিরুনিটা তার পকেটেই থাকে। নোঙর ফেলার পর স্টার্ট বন্ধের ঘন্টা বাজিযে। পকেট থেকে চিরনি বের করে মাথাটা আচরাবে, সামনেই কাঠের ফ্রেমে বাধন আয়নায় নিজেকে এক বার দেখবে গুন গুন করে দু লাইন গাইবে।

ল থেকে নেমে আসবে ষাট বৎসরের বৃদ্ধ গনেষ। তার পরনে ধুতি পাঞ্জাবী, বগলে ছাতা। সে খুব ব্যাস্ততার সাথে ল থেকে নামবে।

যাত্রীরা জানালা দিয়ে কৌতুহলী হয়ে উঁকি দিবে কিছুই দেখতে পাবে না। তাদের চোখ মুখ দেখেই বোঝা যাবে তারা খুব আকর্শনিয় কিছু একটা দেখার অপেক্ষায় আছে। তুচ্ছ বিষয়েও মানুষের আকর্শন চিরকালের আর যদি হয় বাঙ্গালি তা হলেতো কথাই নেই। এক হাতে বানর আর অন্য হাতে ডুগ-ডুগি আর ডুগ-ডুগিতে দু’চারটি বাড়ি দিতেই বিরানভুমিতেও মুহুতে শত শত লোক জমে জাবে। শুধু বানর আর ডুগ-ডুগি কেন শাপ আর বিন অথবা কোথাও একটু খোড়াখুরি হচ্ছে, সেখানেও উৎসুক মানুষে অভাব নেই, আর এতো হচ্ছে সাক্ষাত বিদেশি তার উপরে রানি বিক্টরীয়ার নাতনি, হোক সেটা দুর সম্পের্কের। এক সাথে একই লে যাবে পরম ভাগ্য ছাড়া আর কি হতে পারে।

গনেষকে দেখা যাচ্ছে খুব দ্রুত পায়ে এগুচ্ছে। ঘাট থেকে বাড়ি কতটা দুরে কে যানে।

নদীর পার ধরে গরু নিয়ে নিয়ে আসছিল ১৩-১৪ বৎসরের এক বালক তার নাম রতন। তার পাশ দিয়ে মোটা মুটি দৌড়ে যাচ্ছে গনেষ।

বালকটি ব্যেঙ্গ করে বলবে,
-কাহা সকাল সকাল দৌড়াও কে?
গনেষ বক্র চোখে রতনের দিকে তাকাবে, বুঝতে বাকি রইল না যে, সে বজ্জাত রতনের পাল­ায় পরেছে এই বদটা এখন তার সাথে বজ্জাতি করবে। গ্রামের প্রতিটি মানুষ এই ছেলেটির প্রতি বিরক্ত। এর গাছের আম ওর গাছের কাঠাল সে তার নিজের মনে করেই পেরে নিয়ে আসে যেন পুর গ্রামটাই তার ঠাকুরদার দান কিন্তু তার পরেও তাকে কেউ কিছু বলে না। গ্রামের মানুষের বিপদে-আপদে এটা সেটা করে দেয়াতে তার কোন জুরী নেই। গনেষ বিরক্ত বঙ্গিতে উত্তর দেয়..
-কথা কইস না নিজের কামে যা।
-কাহা চেত কে? বাড়ির সবাই বালা?
-বালা..
-বাড়ির গরু ছাগল হাস মুরগী সবাই বালা?
গনেষ রেগে গিয়ে ছাতা উঠিয়ে তার করে।
-এই বজ্জাত তর বজ্জাতি এখনো গেল না।
রতন উল্টো দিকে দৌড় দেয়।

গনেষ তার পিছু তারা করে কিছু দুর গিয়ে ফিরে আসতেই। রতন আবার চিৎকার করে বলে।
-আট কুড়া বুইড়া…হি! হি!!
হাসে এবং আবারো একই কথা বলে
-আট কুড়া বুইড়া…হি! হি!!
গনেষ আবরও রেগে গিয়ে ।
-তবেরে..
দৌড়াতে দৌড়াতে রতনকে পানিতে নামিয়ে ছাড়ে।
রতন এক ডুবে নদীর প্রায় মাঝ খানে গিয়ে উঠে।

গনেষ গজ গজ করতে করতে নিজের গন্তব্যে হাটতে থাকে।
– বজ্জাত, শাস্ত্রে কি আর সাধে জাতের কথা বলা আছে। বজ্জাত কোথাকার…
রতন মাঝ নদী থেকে চিৎকার করে বলতে থাকবে।
-আট কুড়া বুইড়া! আট কুড়া বুইড়া!! হি ! হি !!
হাসতে হাসতে পাড়ের দিকে আসে

গনেষ তার হাটার গতি আরো বাড়িয়ে দেয় অন্যদিনর মত আজ তার হাতে সময় নেই তাকে আজ একটি জরুরী কাজ করতে হবে, এমনিতেই অনেক দেরী হয়ে গেছে।

লে রে কাছে এসে শান্ত ও তার বাবা আলম উপরে উঠতে নিবে লে র হেল্পার তাদের বাধা দিবে।

শান্ত আলম সাহেবের এক মাত্র সন্তান বয়স ২০ মেডিকেল কলেজে পরছে। অসম্ভব সুন্দর তার গায়ের রঙ্গ বড় বড় চোখ ঘন কাল তার চোখের ভুরু, সুন্দুর ঘন ভ্র“রর কারনে হয়ত তাকে আরো বেশি সুন্দর লাগে সুন্দর কমলার মত ঠোট দাত নাক সবই খুব সুন্দর আল­াহ্ যেন তাকে নিজের হাতে বানিয়েছে। তার বাবা ঠিক তার উল্টো, বলতে গেলে তিনি প্রায় একা-একাই থাকে বাপ-দাদার যেটুকু জমি-জমা আছে তা বর্গা দিয়ে তার ভালোই চলে যায়। আগে নিজেই দু একটি খেত করত কিন্তু এখন আর পারে না। দু’বৎসর হলো শান্তুর মা পরলোকে চলে গেছে, স্ত্রীর মৃত্যুর পর হঠাৎই যেন একটু বেশী বুরো হয়ে গেছে সে। শান্তর মায়ের ইচ্ছেতেই শান্তু ডাক্তারী পরছে। শান্তকে দেখে তার নিজির মনের অজান্তেই সন্দেহ জাগে শান্ত তার ছেলেতো? শান্তনা পায় এই ভেবে যে শান্ত হয়েছে তার মা’র মত তার মায়ের গায়ের রঙ ছিল কাচা হলুদের মত। কি জানি কি বাতাশ লাগলো মাত্র পাঁচ দিনের জ্বরে শান্তুর মা এ পৃথিবী ছেড়ে চলে গেল। এই গ্রামে কোন ডাক্তার নেই আর মাত্র দুই বৎসর পর শান্তু ডাক্তার হবে, গর্বে আলমের বুক ভরে উঠে।
পড়াশুনার সত ব্যাস্ততার মধ্যেও বাবার অসুস্থতার কথা শুনে ঢাকায় নিয়ে যেতে এসেছে শান্তু।

উইঠেননা আর কোন লোক নেয়ন যাইব না।
লে র হেল্পার গেটের কাছে দাড়িয়ে শান্তকে উপরে উঠতে নিষেদ করছে। শিড়ি থেকে লগি সরিয়ে নিয়েছে।

শান্ত নির্লিপ্ত ভাবে বললো
আমরা কেবিনে যাব।
শান্ত যানে কেবিন গুলো সাধারনত খালিই থাকে। কেবিন বলতে লে র স্টাফদের ঘুমানোর জন্য তিন ফুট বাই ছয় ফুট জায়গা সেখানে একটি চকি পাতা থাকে। তেল চিট চিটে বালিশ বিছানার চাদরে ঘুমট একটি গন্ধ। তার পরেও অনেক টাকা ভাড়া গুনতে হয়। এই ল টি অবশ্য সেরকম না তুলনা মুলক ভাবে এর ক্যেবিনটি বেশ বড়। এ অ লের বিষেশ ব্যক্তিরা এই ল টিতেই যাতায়াত করে। ল টির নাম মনিহার, সারেং যেখানে বসে তার সামনে দুটি ময়ুরের ছবি আঁকা আছে মনিহারের সাথে ময়ুরের কি সম্পর্ক তা বোঝা কঠিন।
ক্যাবিনে বিষেশ ব্যাক্তি কেউ বুকিং করলে হেল্পাররা বোধ হয় একটু বেশি গর্ভ বোধ করে। যেমন কোন জমিদার যদি বুকিং করে তাহলে সে নিজেকেই জমিদার ভাবতে থাকে অন্যেদের সাথে সে জমিদারী ভাব নিয়ে কথা বলে, এই মুহুর্তে সে তেমন ভাবেই বললো
কেবিনেত আরো আগে নেয়ন যাইব না।
শান্ত এবার একটু অবাক..
-কেন?
– কেন জানেন না আপনেগ গ্রাম থাইকা আইজ ব্রীটিশ নাতনি ঢাকা যাইব পুরা কেবিন বুক। পুলিশ দেখতাছেন না।

কেবিনের গেইটে দুজন পুলিশকে দেখা যাবে। তারা একটু নরে চরে দাড়াবে। ভাব দেখে মনে হবে আর একটি কথা বললে গুলি করে দিবে। চখে মুখে সিমা হিন বিরক্তি..
শান্ত একটু অবাক এই গ্রামে বৃটিশ আসবে কি মরতে, একবার বাবার দিকে তাকিয়ে নিজের স্থুল রাগকে সামলে নিয়ে অনুরোধের শুরে বলবে..
-দেখুন আমি ঢাকা থেকে আসছি বাবাকে নিতে, উনি খুব অসুস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা দরকার।
– কি হইছে আপনের বাপের বসন্ত নাত?
শান্ত একটু বিব্রত বোধ করবে..
-নানা বুকে বেথা..
লে র জানালা দিয়ে মুখ বের করে এক যাত্রি চিৎকার করে বলে উঠবে।
– আরে ভাই এত কইরা কইতাছে আসতে দেও। এত মানুষের জায়গা হইছে আর দুইজন মানুষে যয়গা হইব না।
লে র ভিতর থেকে আরো কিছু মানুষ এক সঙ্গে চিৎকার করে উঠবে…
-হ, হ ছাড় মিয়া।
হেল্পার কিছু ক্ষন চুপ করে ধাকবে যাত্রিরা আবার চিৎকার করে উঠতেই লগিটি শিড়ির উপর ধরবে। শান্ত ও তার বাবা লে উঠবে।
এরই মধ্যে রমিজ লে র সামনে এসে দাড়াবে শান্তু রমিজকে উদ্দেশ্য করে বলবে..
ধন্যবাদ।
কি বললা?
আপনি অনেক উপকার করলেন।
রমিজই প্রথম শান্তদের লে উঠার ব্যাপারে হেল্পারকে বলেছিল।
যাও যাও বাপেরে নিয়া ভিতরে যাও মনে হইতাছে দাড়াই থাকতে পারতাছে না।
জী..
শান্তু বাবাকে নিয়ে ভিতরে চলে যাবে।
রমিজ বির বির করে বলতে থাকবে।
হায়রে মানুষ রানীর নাতনী লে যাইবো তাই রুগীরেও লে তুলব না। আক থু..
এক দলা থুতু ফেলবে পানিতে, এটা রমিজের মুদ্রা দোষ। রমিজ এই গ্রামের কেউ না, পূর্ব পুরুষ বিহারী ঢাকাতেই থাকে এদিকে প্রায়ই আসে। পেশায় সে একজন মুরগীর ব্যাবসায়ী পেশাগত কারনেই তাকে এদিকে আসতে হয়। এবার মুরগী না কিনেই ফিরে যাচ্ছে। গ্রামের পরিস্থিতি খুব একটা ভালো না।

অনেকখানি জায়গা নিয়ে সানির নানা বাড়ি। ডেউটিন ও কাঠের নিপূণ শৌলীতে নির্মিত এই বাড়িটি মাঝখানে উঠান তিন দিকে দুই কামরা বিশিষ্ট ঘর। তিনটি ঘরের মধ্যে একটি একটু উচু, সম্ভবত দোতালা দুটি-দুটি চারটি চানালা রয়েছে দোতালায় এখানেই থাকতো সানির নানা-নানি তারা এখন আর কেউ বেঁচে নেই।
গনেষ পায়ে হাটা পথ ধরে অনেকটা দৌড়েই প্রবেশ করে উঠনে।
গজ গজ করতে বলে..
Ñএত বেলা হইছে মুরগী গুলা না খায়া আছে।
সে খোয়ার থেকে মুরগি ছাড়বে। সারাক্ষন গজ গজ করা তার সভাব তাতে কি এ বয়সে সে খুব কর্মঠ সেই ছোট বেলা থেকেই এ বাড়ি দেখা শুনা করছে। জাতে হিন্দু হলেও এ বাড়িতে তার কোন অসুভিদে হয়নি।

বাড়ির এক পাশে স্বব্জীর টালা (স্বব্জী বাগান) সেখানে একটি গরু গোয়াল থেকে ছুটে গিয়ে স্বব্জী গাছ খাচ্ছে।

গরু গাছ খাচ্ছে, সানি ছবি তুলছে। তার মুখ দেখা যাচ্ছে না। সে একের পর এক ছবি তুলে যাচ্ছে।
তার মাথায় বিদেশী ক্যাপ গায়ে ম্যারি ড্রেসের মতো ড্রেস।

গনেষে সেদিকে তাকাতেই গজ গজ করে উঠবে..

-হায় হায় করে কি, সব গুলো চাড়া খাইয়া ফালাইতাছে।
সানি বেড় হয়ে আসবে। উঠানের মাঝখানে দাড়িয়ে দু’হাত ছড়িয়ে ঘুরবে। অপরূপ সুন্দরী এই মেয়েটি, বাবা ইংলিশ মা এ গ্রামের দুজনের অপুর্ব সৃষ্টি সানি সমুদ্রের পানির মত টল টলে নীল তার চখের মনি গন কাল চুল গায়ের রং গোলাপের পাপরির মত সুন্দর ফিগার বয়স সতর কি আঠার হবে। এক পলকের বিশি তাকিয়ে থাকার ক্ষমতা খুব কম মানুষের পক্ষেই সম্ভব।

মাথাটা একবার ডান দিক একবার বাদিক কাত করে তাকাবে। মনে হবে কাউকে দেখছে। খুব মিষ্টি করে বলবে…
– ওয়ান্ডার ফুল।
সানীর মা রাবেয়া, ঘর থেকে বের হয়ে উঠানে দাড়িয়েছে। খুব সুন্দর শাড়ী পরেছে, একটু সেজেছে। তাকেও খুব সুন্দর লাগছে।
মা উত্তর দিবে
– কি?
– তুমি। জান বিউটিফুল কিছু ছবি তুলেছি।
গনেষ সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠবে
এগুলাতো ফুল না সিম গাছ।
সে গরু বাধতে বাধতে কথাটি বলবে

সানি ও রাবেয়া হাসবে।

পালকি নিয়ে বেহারাদের আগমনের শব্দ পাওয়া যাবে।
উহুম না… উহুম না..
গনেষে চিৎকার করে বলে উঠবে…
-ঐ যে পালকি আইসা পরছে তাড়া তারি করেন।
সে দ্রুত ঘরে প্রবেশ করবে।

৪ বেহারার আগমন দেখা যাবে। তারা পায়ে হাটা পথ দরে তালে তালে বাড়িতে প্রবেশ করবে। উঠানে পালকি রাখবে। গনেষ সুটকেস হাতে বের হয়ে বলবে..
-তাড়া তাড়ী করেন। এখনই রওনা না হইলে সময় মত পৌছান যাইব না।
সানির আরো কিছু ছবি তোলা বাকি তাই সে মাকে উদ্দেশ্য করে বলে..
মাম তোমরা যেতে থাক আমি একটু পরে আসছি।
সানি সারা জীবন লন্ডন কাটালে বাংলা ইংলিশ সমান ভাবে বলতে পারে। মায়ের ইচ্ছার কারনেই তা সম্ভব হয়েছে।
গনেষ চিৎকার করে বলে উঠবে..
-হায় হায় কয় কি? গ্রামের অবস্তা খুব একটা ভালা না, আম্মাজী একটু বুঝান।
রাবেয়া একটু রাগি শুরে…
– সানি অনেক হয়েছে চল, পথে অনেক দৃশ্য পাবে উঠ।
সানি মন খারাপ করে পালকিতে পা ঝুলিয়ে বসবে।
-তুমি বসবে না।
– না এতটুকু পথ আমি হেটেই যেতে পারব, চলেন। (সকলে রওনা হবে)
বেহারা উহুম না শুর তুলে হাটতে থাকবে। সানি পা দুলাবে। মা ও গনেষ পাশে হাটতে থাকবে।
দুর থেকে তাদেরকে পায়ে হাটা পথ ধরে যেতে দেখা যাবে।

সারেং তার আসনে ভালো করে বসে এক হাতে আয়না ও অন্য হাতে চিরুনি দিয়ে মাথা আচরাচ্ছে। তার বেশ মটা শোটা ঘোফটির যতœ করতেও ভুলেনা আর এ কাজগুলো করার সমুয় তার নিজের অজান্তেই কন্ঠ থেকে গুন গুন করে উর্দু গান বের হয়।

বিরক্ত ভঙ্গিতে রমিজের প্রবেশ।
– ঐ মিয়া, খুব যে আরামে মুছে তা দিতাছেন। ল কখন ছারবেন?
– এই তো কিছু ক্ষনের মধ্যে..
– এই কথাতো এই নিয়া চাইর বার কইলেন।
– একটু দইরজ ধরেন বুঝেন না বিলেতি মেম, বেশি কথা বললে আপনারে নামায় দিতে হইতে পারে উপরে পুলিশ দেখন নাই।
– হু বিলেতি মেম.. (মিন মিন করে বলতে চলে যাবে)
কট


লে র নিচ তলা যাত্রিরা যে যার মত গল্প করছে সবার মন খারাপ, চখে মুখে ভয়।

মেঝেতে অলশ ভাবে বসে আছে, একটি গানের দল। তাদের সাথে আছে ৫ বৎসর বয়সি জ্যোতি। সে এদিক সেদিক তাকাচ্ছে।
শান্ত গালে হাত দিয়ে জানালার বাইরে তাকিয়ে আছে। তাকে বেশ উদাশিন মনে হবে।
আমিন বেে আধ শোয়া হয়ে আছে। হঠাৎ কাশতে থাকবে। ছেলেকে ডাকবে..
-শান্তু ..শান্তু…
শান্ত আতকে উঠে তাকাবে কাছে আসবে..
-বাবা..
আমিন কাশতে থাকবে। শান্তু একটি ব্যাগ থেকে তার স্টেথিস্কোপ বের করে বাবাকে পরিক্ষা করবে।
কাশির তিব্রতা কমে আসলে আমিন জিঙ্গেস করবে..
– ল ছারতে আর কতক্ষন?
– হয়ত কিছুক্ষনের মধ্যে..এই গ্রামে নাকি বৃটিশ রাজ পরিবারে কে থাকে তাকে নিতেই..
শান্তর কথা শেষ না হতেই আমিন বলে উঠবে,,
– হ্যা রাবেয়ার জামাই কর্নেল, শুনছি রাজ পরিবারের লোক।
– আমাকে আগে কখন বলনিত!
– তোর জন্মের আগেই রাবেয়ার বিয়া হইয়া গেছে, রাবেয়া আর আমি…(আবার কাশতে থাকবে) আমি বলিকি চল বাড়ি ফিরে যাই, এই রোগ ভালো হবে না শুধু শুধু..
চুপ কর..
স্টেথিস্কোপ রেখে আবার জানালা দিয়ে বাইরে তাকাবে।

মেঠ পথ ধরে পালকিতে বসে সানি পা দুলাতে দুলাতে আসছিল হঠাৎ লাফ দিয়ে নেমে যাবে।
রাবেয়া অবাক।
– কি হোল?
ধাত এভাবে মানুষ মানুষকে কাধে করে নিয়ে যাবে এটা আমার ভালো লাগে না। তুমি বস।
মাকে জোর করে বসাবে, সে ছবি তুলবে।
রতনকে গরু নিয়ে আসতে দেখা যাবে। গনেষকে দেখে গামছা দিয়ে নিজের মুখ ঢাকবে। কাছে আসতেই মুখ বের করে বলবে।
আটকুরা বুইড়া…
বলেই দৌড় দিবে
গনেষ সুটকেস রেখে, ছাতা গুটিয়ে পিছু নিবে
তবেরে…
রতনের পিছু নিবে ধুতিতে পা পেচিয়ে পরে যাবে।
সানি গনেষের মাটিতে পড়ে যাওয়া দেখে মজা পাবে হসবে। ছবি তুলবে।

এক সময় গনেষ ফিরে আসবে, আবার সবাই হাটতে শুরু করবে।

ল ঘাটে পালকিতে করে সানি ও তার মা পৌছাতেই লে র ভিতর একটি আলরন সৃষ্টি হবে।
সকলেই দেখার জন্য ল থেকে বের হবার চেষ্টা করবে। কিন্তু গেইটে পুলিশ। কেউ বের হতে পারবে না।
যারা বাইরে ছিল তারা শিড়ির কাছে গিয়ে দাড়িয়েছে। সেখানে ছোট খাট একটা ভির জমে আছে।
শান্তু উকি দিয়ে দেখার চেষ্টা করবে.. এক সময় সামনে গিয়ে দাড়াবে।
সানি, রাবেয়া ধিরে ধিরে উঠে আসবে। সানি শিড়ি দিয়ে উঠতে একটু ভয় পাবে। লে পা রাখতেই পরে যেতে নিবে। সাথে সাথে শান্ত ধরে ফেলবে। তাকে উপরে তুলে নিয়ে আসবে।
আর সাথে সাথে পুলিশ গার্ড গুলো শান্তকে শরিয়ে সানিকে নিয়ে উপরে চলে যাবে। দুর থেকে রমিজ দাড়িয়ে দেখবে। আস্তে আস্তে ভির কমে যাবে। রমিজ এসে শান্তর পাশে দাড়াবে। মশকরার শুরে শান্তকে বলবে..
-কিরে ভাই বিলেতি মেমের হাতের ছোয়া কেমন লাগল?
শান্ত একটু অপ্রস্তুত হয়ে উত্তর দিবে..
– ইয়ে মনে! আর একটু হলেই পরে যেত।
– গেল যাইতো, বেড়াইতে আসার মজাটা পোক্তা হইতো।
– কি বলছেন, মেয়েটা যদি সাতার না জানে ।
– তাইলেতো আরও ভালা হইতো, আপনেতো রেডিই আছিলেন একে বাড়ে জড়াইয়া ধইরা…
শান্ত রমিজের দিকে ভ্র“ কুচকে তাকিয়ে চলে যাবে।
রমিজ শব্দ করে হাসবে একটা সিগারেট ধরাবে । বাইরের দিকে তাকাবে থুতু ফেলবে।
ল চলতে শুরু করবে। আস্তে আস্তে তির দুরে শরে যেতে থাকবে। দু’কুলের অপরূপ দৃশ্য পিছনের যেতে থাকবে।

১০

রহিম ছোট্ট একটি কবর খুরে তার পাশে কোদাল হাতে দাড়িয়ে আছে।
রহিমের চোখে মুখে দ্রেরতা। কাধের কাছে পিছনে হাত দিয়ে তাকাবে সেখানে গোটা আকৃতির লালচে ফোসকা পরার মত দাগ দেখতে পাবে। আতকে উঠবে। কাক-শকুনের ডাক শোনা যাবে।
আশে-পাশে তাকাতেই শকুনদের আনাগোনা দেখতে পাবে।
দুরে কলিম মুন্সীকে দ্রুত হাটতে দেখ । রহিম কোদাল ফেলে দৌড়ে তার কাছে ছুটে যাবে।

– হুজুর কবর খুরছি আপনে শুধু আমার পোলাডার..
আরে মিয়া তুমিকি পাগল হইছ! দেখতাছ না সব গ্রামকে গ্রাম মইরা সাফ হইয়া গেছে, সবাই গ্রাম ছাইরা চইলা গেছে শুধু তোমরা আর আমি ছাড়া আর কেউ নাই, দেরী না কইরা চলো।
হাত ধারবে হাতের দিকে তাকাবে। সঙ্গে সঙ্গে হাত সরিয়ে নিবে। রহিমের হাতে দাগ দেখতে পেয়ে ভয় পাবে..
হায় হায় এইডা আমি কি করলাম।
মাটিতে হাত ঘশতে থাকবে, পরি মরি করে দৌড় দিবে।
রহিম চিৎকার করে ডাকব..
-যাইয়েন না হুজুর, আমার পোলালার জানাজা টা দিয়া যান হুজুর..
এতক্ষনে কলিম মুন্সি অনেক দুরে চলে যাবে গাছ গাছালি পিছনে হাড়িয়ে যাবে।
রহিম হতাশ হয়ে মাটিতে পরে কাদতে থাকবে, কিছু ক্ষন উঠে দাড়াবে হাটতে থাকবে।

১১

রহিমের উঠানে পরে আছে কাপরে মরান তার ছেলের মৃত দেহ, বারান্দার চৌখাটে বসে আছে তার স্ত্রী রহিমা।
হন্ত দন্ত হয়ে রহিম উঠানে প্রবেশ করেই চিৎকার করে ডাকতে থাকে..
আমেনা আমেনা কেউ আইলো না রে কেউ আইলো না তোর পোলার জানাজায় কেউ আইলো না।
তার দুচোখ দিয়ে অঝর ধারায় পানি ঝরতে থাকে।
চল আমাগ বাঁচতে হইলে শহরে যাইতে হইব এই গ্রামে আর কোন মানুষ নাই, কি হইলো উঠ।

আমেনা এক বার চোখ খুলে আবার বন্ধ করে ফেলবে, তার সারা মুখে বসন্তের গোটা কথা বলার মত সামান্য শক্তিও তার শরিরে নেই। একটু আগেও সে হাটা চলা ফেরা করেছে। অনেক শক্ত মনের পরিচয় দিয়েছে। খোকা মরার পর নিজের হাতে তাকে গোসল করিয়েছে এই রকম মরার গোসলে লোক পাওয়া যায় না সে জানতো। অনেক আদরের ছেল খোকা। এর আগেও দুই দুটি সন্তান তার জন্মের সময় মারা গেছে। খোকাকে সে কখনও চখের আড়াল হতে দিত না। খোকাও তার আচল ধরে ঘুরত।
আমেনার নির্লিপ্ততা দেখে রহিম তার কাছে গিয়ে ধাক্কা দিবে।
আমেনা ! আমেনা!
কাধে ধরতে আমেনা মাটিতে শুয়ে পরবে। রহিম হতবাক হয়ে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে হাউ মাউ করে কেদে উঠবে। তার কান্নার শব্দ আকাশের বজ্রপাতের মতই শুনাবে।

১২
বাড়ির ঠিক পিছনে গাছের ছায়া ঘেরা জংলার মত একটি যায়গা। রহিম একে একে তার স্ত্রী এবং ছেলের মৃত দেহ এনে রাখবে। তাদের সামনে এসে কিছুক্ষন কাঁদবে। চোখ মুছে হাটতে শুরু করবে।
১৩

রাহিম হাটতে থাকবে, কএকটি বাক ঘুরে তার হাটার গতি আরো বারিয়ে দিবে। এক সময় নদির কাছে কাছি এসে পরবে।

১৪

বেশ দুরে একটি ল নঙর করে আছে অসংখ মানুষ লে উঠছে। রহিম হাটা ছেরে দৌড়াতে থাকবে। ততক্ষনে অে র ইঞ্জিনের শব্দ বেড়ে গেছে ল টি পিছনের দিকে এগুচ্ছে। রহিম চিৎকার করে বলবে..
ঐ… আমারে লইয়া যাও….
রাহিম আরো জোরে দৌর দিবে। ঘাটের কাছে আসতে আসতে ল সামনের দিকে চলতে শুরু করবে। রাহিম চিৎকার করতে থাকবে…
– আমারে লইয়া যাও আমারে লইয়া যাও।
ল অনেকটা দুরে চলে যাবে। রহিম পাড় দিয়ে কিছু দুর দৌড়ে ল টিকে থামানর নির্দেশ করবে লে র ইঞ্জীনের শব্দ আরো তিব্র হবে। এক সময় হাপাতে হাপাতে বশে পরবে কিছুক্ষন ল টির দিকে তাকিয়ে মাটিতে হাত পা ছড়িয়ে শুয়ে পরবে নিজেকে ক্লান্ত মনে হবে। চোখ বন্ধ করে দির্ঘ শাষ নিবে। চোখ খুলতেই দেখবে আকাশে চিল-শকুন উরছে। হঠাৎ তার চোখ স্থীর হবে। সে শুনতে পাবে দুর থেকে ভেষে আসছে ইঞ্জীনে ভট ভট শব্দ। রহিম ধিরে ধিরে ফিরে তাকাবে, তার ঠোটে হাসি, এক লাফে উঠে দাড়াবে লে র দিকে দৌড়াতে থাকবে। হাত নেড়ে থামাতে বলবে।
ল টি মুহুর্তে তার সমনে দিয়ে চলে যাবে। এমনটি হবে রহিম বুঝতে পারে নি সে ভেবে ছিলো নিশ্চই থামাবে। রহিম এক মুহুর্তও সময় নষ্ট না করে পানিতে লাফিয়ে পরে সাতার দিবে ল উঠার চেষ্টা করবে কিন্তু লে র গতির সাথে পেরে উঠবেনা। চিৎকার করে বলতে থাকে..
– আমারে লইয়া যা আমারে লইয়া যা।
ল অনেক দুরে চলে যাবে। রহিম হাল ছেরে পানিতে নিজেকে ভাষিয়ে দিবে।

১৫

রমিজ লে র বারান্দায় দাড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছিল এবং রহিমের আকুতি দেখছিল পানিতে সিগারেট ফেলে। সারেঙ্গের রুমে প্রবেশ করবে।
– ঐ মিয়া লোকটারে নিলে কি হইতো?
– লে র সারেং কে আপনে না আমি ?
– আপনে।
– তাইলে আমারেই বুঝতে দেন কারে নিমু না-নিমু।
– আরে মিয়া আপনের ভিতর কি কোন রহম নাই?
– আরে মিয়া যা যানেন না তা নিয়া কথা বলতে আয়সেন না জান ভিতরে গিয়া বসেন।
– আপনের লগে কথা কওয়া আর সিমারের লগে কথা কওয়া এইই কথা।
সারেং রমিজের দিকে চোখ বড় বড় করে তাকাবে।
যাইতাছি
বলে বের হয়ে যাবে। বাইরে এসে এক দলা থুতু ফিলবে পানিতে।

১৬

লে র ভিতর, শান্ত বেে শুয়ে ছিল, উঠে বসবে। জানালা কাছে বসে বাইরে তাকাবে। বাইরের দৃশ্য দেখা যাবে, নারিকেল গাছ, খরের পালা, পাট খেত মনে হবে জন মানব শূন্য এসব গ্রাম
রমিজ প্রবেশ করে সকলের দিকে তাকাবে। সবাই চুপ চাপ বসে আছে, কারও মনে আনন্দ নেই কিসের যেন একটা বিশাদ সকলের মধ্যে বিরাজ করছে।
রমিজ শান্তর পাশে গিয়ে বসবে। মুখে বিরক্তির ভঙ্গি প্রকাশ করবে।
– কি মিয়া এমন মরা মানুষের মত বইশা রইলা কেন?

জুবু-ধুবু হয়ে বসে থাকা এক দল বাউল দলের দিকে তাকিয়ে।
এই মিয়া তোমর হাতে ঐটা কি দোতারা না? ভয় ও সংকজ নিয়ে উত্তর দিবে
বাউল : জ্বী..
তার উত্তর শুনে মনে হবে সাথে দোতারা রাখা তার অপরাধ হয়েছে।
রমিজ ব্যাঙ্গ করে বলবে..
– ঐটা বাজে না।
– বাজে।
– তাইলে বইসা রইছেন কেন বাজান গান ধরেন। ( অন্য বাদকেদের উদ্দেশ্যে করে) এই তোমরাও ধর।
বাউল দোতারাকে টুং টাং করে ঠিক করে নিয়ে একটি দুখেরে গান ধরবে।
রমিজের গানটি পছন্দ হবে না সে মুখ বিক্রিত করে বলবে..
– দুর মিয়া দুখের গান গাইতে কইছে কেডায় এমনেই সব মইরা রইছে আনন্দের গান গাও মজার গান ধর.. (শান্তর দিকে তাকিয়ে) কি কও মিয়া।
শান্তও তাই ভাবলো আন্দেদে থাকলে মানুষের মন হালকা হয় তাই সে দেরী না করে উত্তর দিলো..
– হ্যা বাউল চাচা আন্দদের গান গাও মন বলের গান গাও।
জ্যোতি দলের মাঝ থেকে উঠে এসে।
– আমি কি নাচব?
শান্তা বে থেকে দাড়িয়ে বলবে..
– অবশ্যই নাচবে। আমিও নাচব তোমার সাথে। হাত ধর..
বাউল দল তাত খনিক শুর পরিবর্তন করে চমৎকার একটি গান ধরবে। সকলের মন আন্দদে ভরে উঠবে প্রায় সকলেই নাচতে শুরু করবে।

১৭

রাবেয়া কুশি কাটা দিয়ে জামা বানাচ্ছে, সানি শুয়ে ক্যামেরা পরিস্কার করছিল তার কানে ভেসে আসবে গান। সে চট করে উঠে বসবে।

-মাম মিউজিকের শ্বব্দ পেলাম।
উঠে বেরিয়ে যাবে
রাবেয়া চিৎকার করে বলবে
-সানি শোন সানি…

১৮

শান্ত, জ্যোতি রমিজ সহ অনেক যাত্রি নাচছে। সানি এসে খুব মজা পাবে সে একের পর এক ছবি তুলবে। শান্ত সানিকে নিয়ে নাচতে থাকবে, সানিও গান নাচে সামিল হবে।
গান শেষ হতেই ল টি একটি ঝাকি দিয়ে বন্ধ হয়ে যাবে।
হেল্পার দৌারে এসে চিৎকার দিয়ে বলবে। গান বজনা বন্ধ করেন ল চরে আটকাইছে। যাত্রিদের মধ্যে ভয় মিশ্রিত গু ন শুরু হবে।

১৯

দুর থেকে দেখা যাবে ল টি নদীর প্রায় মাঝ খানে আটকে আছে। ল থেকে নেমে মাটি শরানর চেষ্টা করছে অনেকে, লগি দিয়ে ধাক্কা দেয়ার চেষ্টা করছে।
যাত্রিদের প্রায় সকলেই বাইরে দাড়িয়ে দেখছে।
একসময় ল চর থেকে পানিতে নামবে। সকলে ভিতর একটি আনন্দের গুঞ্জন শোনা যাবে।
লে র ঘন্টি বাজতে থাকবে একের পর এক, লে শব্দ বাড়তে থাকবে কিন্তু ল একটুও অগ্রসর হবে না। ইঞ্জীনের ভট্ ভট্ শ্বদ হতে থাকবে।

সারেং রুমে বসে গোফ আচরাবে, রমিজ ও শান্তর প্রবেশ করবে সারেং দেখেও না দেখার ভান করে গোফ আচরাতে থাকবে। রমি জিজ্ঞেস করবে
– কি ব্যাপার কি হইছে?
সারেং রমিজকে দেখে বিরক্ত হয়ে…
-জানিনা।
– সারেং কে আমি না আপনে?
সারেং অপমান বোদ করবে।
সারেংর এমন অবহেলা পূর্ন উত্তর শান্তর ভালো লাগলো না সে খুব সচেতন হয়ে যানতে চাইলো
– সারেং চাচা কি হয়েছে বলুনত?
– ব্লেড ভইঙ্গা গেছে।
রমিজ বিষয়ে নিয়ে জানতে চাইবে..
– হায় হায় তাহলে এখন!
শান্তা বাইরের দিকে তাকিয়ে কোন গ্রামে আছে বোঝার চেষ্টা করবে.
এক্সট্রা ব্লেড কি লে নেই?
সারেং র্নিলিপ্ত উত্তর
– না।
শান্তা- এখন তাহলে কি করবেন?
সারেং- লগি দিয়া ধাক্কাইয়া কালি পারা হাট যাইতে হইব।
রমিজ- কালি পাড়াতো প্রায় দুই মাইল। এই শ্রোতে এক হাত আগালে তিন হাত পিছাইব।
সারেং – সেইটাইতো ভাবতাছি।
শান্তা – এক কাজ করলে কেমন হয়, ল পারে নঙড় করে কাউকে কালি পাড়া পাঠালে…
সারেং – হু এইডাই করতে হইব। এই বশিরা….বশিরা..

বশির লগি রেখে আসবে।

– ওস্তাদ।
– পারে নঙড় কর। কালি পাড়া যাবি পাঙ্খা লইয়া তাড়া তারি আবি।
– আচ্ছা ওস্তাদ। (প্রস্থান)
বশির ও হেল্পার দুজনে লগি দিয়ে ঠেলে ঠেলে ল পারে ভিরানোর চেষ্টা করবে।

২০

রহিম নদির পারে বালুর চরে শুয়ে আছে। তার শরিরে অসংখ গুটি বসন্তের দাগ। সে অজ্ঞান হয়ে পরে ছিল। আস্তে আস্তে চোখ খুলবে অনেক চিল শকুন উরতে দেখা যাবে। হঠাৎ উঠে বসবে। নিজের শরির দেখে ভয় পাবে। প্রচন্ড খুদা অনুভব করবে। নদী থেকে পানি খাবে। উঠে দাড়াবে। হাটতে থাকবে।

২১
মজিদ মোল­ার বাড়ি মজিদ অজু করে আশে-পাশে দেখে ঘরে ডুকে দরজা বন্ধ করে দিবে।
মজিদ রুমে প্রবেশ করে, নামাজে দাড়াবে। এক পাশে কমলা মাটির চুলায় ভাত রান্না করছে। চুলার ধোয়া জানালা হয়ে বাইরে চলে যেতে দেখা যাবে।

রহিম মজিদের উঠানে এসে দাড়াবে।

নামাজ শেষ করে স্ত্রীর উদ্দেশ্যে..
বুঝলা গ্রামের সবাই ঢাকা চইলা গেছে। আমারতো মনে হয় আমরা দুইজন ছাড়া এই গ্রামে কোন লোকজন নাই।
আমগও চইলা যাওন উচিৎ আছিল।
– আল­ার উপর ভরসা রাখ আল­াই আমাগ দেখব। এই গ্রামে যখন কোন মানুষ নাই রোগ ছড়ানরও ভয় নাই দেও ভাত দেও।

ভাত খেতে বসবে।

রহিম মজিদের জানালায় এসে দাড়াবে।
মজিদ জানালার কাছে শ্বব্দ পেয়ে আতকে উঠবে, ঘুরে তাকাবে..
– এই কেডারে!
কমলা এদিক সেদিক তাকিয়ে..
– কারে কন?
জানালার কছে শব্দ পাইলাম।
উঠে একটি বাশের লাঠি নিয়ে ঘর থেকে বের হবে।

২৩

মজিদ বাঁশ হাতে উঠানে বের হয়ে আসবে। রহিম লুকিয়ে যাবে। মজিদ চিৎকার করে বলবে..
– ঐখানে কেডারে। বাইরো।
রহিম বের হয়ে আসবে। তার মুখ মন্ডল ভিভৎস তাকে দেখতে ভয়ঙ্ক দেখাবে.
মজিদ রহিমের বিভৎস মুখ দেখে ভয় পাবে।
– লাই লাহা ইল­ালাহ্…এই গেলি..
রহিম দু হাত জোর করে আকুতি করে বলবে..
– একটু ভাত দেও..খিদার জালায় আর চলেনা..
ভাত দিমু! গেলি..
বাঁশ উচু করে তাড়া করবে।
রহিম পরি মরি করে দৌড় দিবে।
মজিদ কিছু দুর গিয়ে খুজে না পেয়ে ফিরে আসবে। বির বির করে বলবে..
– এইডা আমি কি দেখলাম লাইলাহা ইল­ালাহ্।

২৪

রহিম একটি খালি বাড়িতে গিয়ে লুকাবে। সেখানে দেখতে পাবে বাঁেশর খুটিতে গুজে রাখা একটি বড় আকারের সেনা দা। সে দা নিয়ে হিংশ্র ভাবে তাকাবে।

২৫

মজিদ ও কমলা খেতে বসেছে। মজিদ বার বার দরজার দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে।
কমলা স্বামীর অস্থিরতা লক্ষ করবে..
-তারা তারি খাইয়া লন যেই দৌড়ানি দিছেন লোকটা আর এই তৃসিমানায় নাই।
না বৌ বুকটার ভিতর কেমন অস্থির অস্থির লাগতাছে। খাইয়া আবার দুই রাকাত নামাজ পরতে হইব। কে? কে ঐখানে?
মজিদ দরজার পাশে শব্দ পাবে, খাওয়া ছেড়ে সাবধানে উঠবে বাশের লাঠিটি হাতে নিবে, রহিমা মজীদের হাত ধরবে।
– আপনে যাইন না আমার ভয় করতাছে।
মজিদ সাবধানে হেটে দরজা কাছে যাবে, হঠাৎ দরজা খুলবে দেখবে সেখানে কেউ নেই। সুরা পরে বুকে ফু দিবে উঠানের দিকে যাবে। গাছের পিছনে কিছু একটা নরতে দেখবে।

এই বাইর হইয়া আয় কইতাছি।

বাশ নিয়ে দ্রুত এগিয়ে যাবে। রহিম গাছের আরাল থেকে দা নিয়ে বের হবে।
মজিদ দাড়িয়ে পরবে। বাশ উচু করে মারতে যাবে।
সাথে সাথে রহিম দা দিয়ে কোপ দিবে। মজিদ মাটিতে লুটিয়ে পরবে। কমলা চিৎকার করে কাছে আসতে চাইলে তাকেও কোপ দিবে। দুজনেই হাত পা নাড়তে নারতে মারা যাবে।

রহিম মজিদের ঘরে প্রবেশ করে ভাত খাবে।

২৬

পল মার্টিন সানির বাবা, বৃটিশ আর্মি অফিসার এ দেশে এসেছেন অফিসিয়াল কাজে। রহমত গাইডের দায়িত্বে আছেন।

একটি জিপ গাড়ি লনে পবেশ করবে।
এক জন সোলজার গাড়ি থেকে ব্রিফক্যেইস নিয়ে বাংলর ভিতরে প্রবেশ করবে।
অনেকটা রাজকিয় প্রোটকল লক্ষন করা যাবে।
মার্টিন এসে লনে রাখা চেয়ারে বসবে।
রহমত টি পটে চা নিয়ে আসবে।
বাবু বেগম সাহেবা কখন আসবেন?
রহমত এই বাঙ্গোর অনেক পুরন লোক মার্টিন ও রাবেয়া বেশ কয়েএক বার এসেছে এই বাঙলোতে
মার্টিন বেশীর ভাগ কথাই ইংরেজীতে বলেন কিন্তু বাংলা বোঝেন এবং মাঝে মাঝে বলেন..
– আই থিঙ্ক দে ইউল রিচড এট এইট ও ক্লক। আট্টা বাজবে।
– বাবু রেডিওতে তো ঝরের বার্তা দিচ্ছে। আজ নাকি খুব ঝর হবে।
– হয়াট?
– সাইক্লোন, এ সাইক্লোন উইল হিট আওয়ার কান্ট্রি ফরম ইভেনিং। আপনে কইলেন বেগম সাহেব নাকি ল কইরা আসব আমারতো খুব ভয় লাগতাছে।
– কে বলেছে সাইক্লন হবে?
– দুপুর থেকেইতো রেডিওতে বার বার বলছে। রেডিও মেসেজ..
ও মাই গড!
উঠে দাড়াবে দ্রুত বাংলোর ভিতরে চলে যাবে।

২৭

লে র কেবিন রাবেয়া কুশি কাটা দিয়ে জামা বানাচ্ছে। সানি শুয়ে এলবাম দেখছিল। এলবাম রেখে মায়ের গলা জরীয়ে ধরে জানতে চাইবে..
– মাম ল কখন ছারবে?
– লে র পাখা আনলেই ছারবে।
আই ফিল বোর, আমি একটু নিচে নামি?
রাবেয়ার ইচ্ছে করছিল সানিকে নিষেদ করবে কিন্তু সানি বড় হয়েছে বিলেতে আর বিলেতে
সন্তানদের আবদারে সহজে না শব্দটি ব্যাবহার করে না…
– সাথে গার্ড কাউকে নিয়ে যাও।
– কাউকে লাগবে না। আমি কাছেই থাকব দুরে যাব না।
– ঠিক আছে যাও।
– থাঙ্ক ইউ।
সানি ক্যামেরা হাতে বের হয়ে যাবে।
২৮

ল তিরে ভিরান আছে কাউকে নামতে দেয়া হচ্ছে না । অনেকে বারান্দায় দারিয়ে। ইঞ্জীন অপারেটর বশিরের আসার অপেক্ষা করছে। কখন সে পাখা নিয়ে ফিরে আসবে..
সানি লে র সামনে এসে দাড়াবে লে র হেল্পার বসে বসে বিড়ি ফুকছিল সানিকে দেখে ফেলে দিবে। সানি দেখবে সবাই তার দিকে তাকিয়ে আছে হেল্পারকে লক্ষ করে বলবে..
– আমি নিচে নামব।
– সারেঙ্গের নিষেদ আছে।
আমি নামব।
একটু জেদি কন্ঠে কথাটি বলবে।
– সারেঙ্গের ওডার ছাড়া সিড়ি ফালান যাইব না।
আমি বলছি আমি নামব।
সারেং এতটু দুরেই দাড়িয়ে ছিল সানির কথা শুনে দ্রুত তাদের কাছে চলে আসবে।
– এই ব্যাটা সিড়ি ফালা। তুই কারে না করছ। যান মা আপনে নামেন। বেশি দুরে যাইয়েনা। পাখা নিয়া এখনই বশিরা আইসা পরব।
জ্যোতি লাফাতে লাফাতে সানের কাছে এসে তার হাত ধরবে।
সানি অবাক হয়ে জ্যোতিকে জিজ্ঞেস করবে..
– কি নাম তোমার ?
– জ্যোতি ।
– জ্যোতি তুমি খুব ভালো নাচ। যাবে আমার সাথে?
জ্যোতি হ্যা সুচক মাথা নাড়াবে।
সানি জ্যোতিকে নিয়ে নিচে নামবে।
সকল যাত্রি তাদের দিকে তাকিয়ে থাকবে।
সানি ও জ্যোতি হাটতে হাটতে অনেক দুরে চলে যাবে।

২৯

সানি ও জ্যোতি কথা বলতে বলতে গাছ গাছালি ঘেরে বনের দিকে যাবে। সানি জ্যোতির কাছে অনেক কিছু জানতে চাইবে।
তুমিকি এই গ্রাম চিন।
জ্যোতি বলবে..
– হ্যা চিনি। এই গ্রামে কত পালা করছি।
– পালা কি?
– বোকা পালা বোঝে না। পালা হল গানের দল..
– তোমার মাথায় তো অনেক বুদ্ধি..
– হ সবাই কয় এই দিকে দিয়া আসেন এই দিকে একটা বাগান আছে…
– চল..
– তুমি নাকি বিদেশি মেম রানী..
সানি হাসবে
– কে বলেছে?
– লে র সবাই বলে।
– না আমি রানিও না বিদেশীও না
কথা বলতে বলতে একটি বাগানের কাছে চলে আসবে। সানি অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকবে। “ওয়াও” বলে চিৎকার দিয়ে একের পর এক ছবি তুলবে, সে অনেকটা পাগলের মত ছুটা ছুটি করতে থাকবে, জ্যোতি মজা পাবে। এক সময় একটি কাঠ বিড়ালী দেখতে পাবে। সানি কাঠ বিড়ালীর ছবি তোলার জন্য তার পিছু নিবে। সে আস্তে আস্তে জংলার ভিতরে চলে যাবে..

৩০

রহিম পেট ভরে ভাত খেয়ে মজীদের বারান্দয় বসে আছে, পাশে বিশাল আকারের দা। সে আকাশের দিকে তাকাবে। আকাশে কাল মেঘ জমেছে, অন্ধকার হয়ে আসছে চার দিক। সে রাম দা নিয়ে দাড়াবে। বারান্দা থেকে নেমে হাটতে শুরু করবে।

৩১

বশিরের হাতে লে র পাখা নিয়ে আসতে দেখা যাবে। সবাই উদবিগ্ন হয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে। সারেং বশিরকে দেখে একটু বেশি উত্তেজিত হয়ে উঠবে সে আকাশের দিকে একবার তকাবে। বশিরকে ধমকের শুরে বলবে..
– আবে বান্দির পোলা এত ক্ষন লাগে।
– ওস্তাদ গালা গালি কইরেন না অনেক কষ্টে পাইছি।
আবে কথা না কইয়া তারা তারি লাগা ঝড় আইতাছে।
যন্ত্রপাতি বশিরের কমরেই ছিল সেগুলো বের করে কোন কিছু চিনতা না করেই পানিতে ঝাপ দিয়ে ডুব দিবে।
সানির মা রাবেয়া উদবিগ্ন ভাবে সানিকে খুজতে থাকবে, সারেংকে উদ্দেশ্য করে বলবে।
– আমার মেয়েটা তো এখনো এলো না সারেং সাহেব কাউকে পাঠিয়ে দেখুন না রাস্তা হারিয়ে ফেলল কিনা।
এইই মধ্যে রমিজ রাবেয়ার পাশে এসে দাড়াবে। অনেকটা আগ বাড়িয়েই বলবে..
আপনে চিন্তা কইরেন না ভিতরে জান আমি দেখতাছি।
বলেই সে শিরর সাহায্য ছাড়া লাফ দিয়ে নিচে নেমে যাবে।
শান্ত একটু এগিয়ে এসে দেখবে রমিজ লাফ দিয়ে তার দিকে তাকিয়েছে শান্তর দিকে তাকিয়ে চোখ টিব দিবে।
শান্ত রমিজের এমন আচরনে অবাক হবে তার মনে সন্দেহ যাগবে তার মনে হবে সানি ল থেকে পরে যাওয়ার সময় তার হাত ধরে তুলে আনার বিষটি কি অসভন ভাবে বলেছিল।

৩২

মেঘলা আকাশের কারনে বনের ভিতরটা অন্ধকার হয়ে গেছে ইতি মধ্যে বাতাস ছুটতে শুরু করছে। জ্যোতি ও সানি জংলা থেকে বের হবার চেস্টা করছে।

অন্য দিকে রহিম দা হাতে জংলার রাস্তা ধরে হাটছে এবং সে এদিকেই আসছে। তার মনষিক অবস্থা এমন হয়ে গেছে সে কোন মানুষ দেখলেই দা দিয়ে কোপ দিয়ে দুটুকরো করে দিবে। কারন সে যানে কোন সুস্থ মানুষ তাকে বাচিয়ি রাখবে না। তার এই বিভৎস চেহারা দেখে যে কেউ ভয় পাবে।

এদিকে রমিজও খুজে বেড়াচ্ছে সানিকে।

৩৩

ল স্টার্ড দেয়া হয়েছে সকলে অপেক্ষা করছে, সানির জন্য। রাবেয়া ও শান্তকে উদবিগ্ন দেখা যাবে। শান্তোর কেন যেন মনে হচ্ছে রমিজের কারনে হয়ত সানি বিপদে পরবে নিজেকে ধরে রাখতে না পেরে লাফ দিয়ে ল থেকে নেমে বনের দিকে দৌড় দিবে।

৩৪

অনেকটা গহিন বনের ভিতর জ্যোতি সানিকে ধরে টানছে। সানির জামা একটি খুটিতে আটকে আছে। সানি খোলার চেষ্টা করছে

রহিম দা হাতে হাটছে সে জ্যোতির গলার শব্দ পাবে। সে তার হাটার দিক পরিবর্তন করে সানিদের দিকে এগুতে থাকবে।

৩৫

সানি জামা ছাড়াতে না পেরে ছিরে ফেলবে। বাতাস ও বৃষ্টির পরিমান এরই মধ্যে অনেক বেড়ে গেছে।
সানি তাকে টেনে নিয়ে আসতে থাকবে। এরই মধ্যে রমিজ এসে সামনে দাড়াবে রমিজ খুব আপন জনের মত করেই বলবে।
– কই যাইতাছ?
সানির জামার নিচের প্রায় অর্ধেক ছেড়া, সে একটু জর-সর হয়ে দাড়াবে।
– আমরা পথ হারিয়ে ফেলেছি।
রমিজ সানির দিকে একটু লভনিয় দৃষ্টিতে তাকাবে।
আরে আপনারাত ভুল করতাছেনা রাস্তাতো এই দিকে। (উল্টদিক দেখাবে) চলেন আমার হাত ধরেন।
সানি হাত ধরবে। সঙ্গে সঙ্গে জ্যোতি চিৎকার করে উঠবে..
– না এই দিকে। আপা এই দিকে
সানির হাত ধরে টানবে।
রমিজ জোর করে সানিকে বনের ভিতরে নিয়ে যেতে নিবে। জ্যোতি চিৎতার করে বাধা দিবে..
– এই ছাড় ছাড়..
রমিজ জ্যোতিকে ধাক্কা দিয়ে শরিয়ে দিবে। জ্যোতি একটি গাছের গুড়িতে ধাক্কা লেগে পরে যাবে।
সানি বুঝতে পাবে সামদিং রং
– এই কি করছ!
– চলেন সবাই আপনার জন্য অপেক্ষ করতাছে।
– না আমি যাব না।
রমিজ জার করে সানিকে টেনে নিয়ে যাবে)
সানি চিৎকার করতে থাকবে..
– ছারও ছারও আমাকে।
রমিজ সনিকে টেনে বনের ভিতরের দিকে নিয়ে যাবে।

৩৬

জ্যোতি দুর থেকে শান্তকে আসতে দেখবে সে চিৎকার করে ডাকবে..
ভাইজান, ভাইজান ।
শান্ত জ্যোতিকে দেখতে পাবে সে জ্যোতির কাছে আসতেই জ্যোতি খুব দ্রুত উচ্চারন করবে
– ভাইজান আপারে এদকি নিয়া গেছে..
শান্ত জ্যোতির এক হাত ধরে টান দিয়ে উঠিয়ে বনের ভিতর দিকে যাবে।

৩৭

রমিজ সনিকে জোর করে নিয়ে বনের ভিতরে একটি যায়গায় এসে দাড়াবে। সানি রমিজের হাত থেকে নিজেকে ছাড়াতে চেষ্টা করবে।

রামিজ সানির সাথে জোরা-জুরী করে না পেরে চর মারবে। সানি মাটিতে পরে মাথায় আঘাত পাবে। জ্ঞান হাড়াবে।
রমিজ লোভনিয় ভঙ্গিতে নিজের জামা খুলতে থাকবে।

শান্ত দুর থেকে রমিজকে দেখতে পাবে। তার আশে-পাশে খুজে একটি ছোট গাছ উপরে নিয়ে রমিজের দিকে এগিয়ে যাবে।
রমিজ সানির উপরে ঝাপিয়ে পরার সাথে সাথে শান্ত সজরে রমিজের মাথায় আঘাত করবে।
রমিজ শান্তকে আক্রমন করতে এলে শান্ত আবার আঘাত করবে। রমিজ পরে যাবে। জ্ঞান হারাবে।
শান্ত জ্যোতি ও জ্ঞান হিন সানিকে দু হাতে তুলে নিয়ে নিয়ে চলে আসবে। এদিকে ঝড়-বৃষ্টি পুরোপুরি শুরু হয়ে গেছে।

৩৮

প্রচন্ড ঝড়ের মধ্যেও সবাই বাইড়ে দাড়িয়ে অপেক্ষা করছে শান্তদের আসতে দেখে একটি গুঞ্জন শুরু হবে।
শান্ত সানিকে কোলে করে লে উঠে আসবে। রাবেয়া মেয়েকে পেয়ে চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করবে।
সানি মা আমার কি হয়েছে তোর।
শান্ত রাবেয়াকে উদ্দেশ্য করে বলবে।
– ও জ্ঞান হারিয়েছে কিছুক্ষন রেস্টে নিলেই জ্ঞান ফিরে আসবে।
পুলিশ দুটি এসে সানিকে ধরা ধরি করে কেবিনের দিকে চলে যাবে।
সারেং একবার শান্তর দিকে তাকিয়ে বাইরে তাকবে। রমিজকে খোজার উদ্দেশ্যে,
শান্ত ও জ্যোতির দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারবে। রমিজ র্নিঘাত কোন অপ কর্ম করেছে। সে দ্রুত তার রুমে গিয়ে ব্যাগ গিয়ারের বেল বাজাবে।
ল প্রথমে পিছনে পরে ঘুরে সামনের দিকে চলতে শুরু করবে।
শান্ত ঘাটের দিকে তাকিয়ে থাকবে।
দুর থেকে দেখা যাবে রমিজ চিৎকার করে ডাকছে।
শান্ত ঘুরে দাড়াবে।

রমিজের অবাক বিষ্ময়ে লে র চলে যওয়া দেখছে
তার ঠিক পিছনে এসে দাড়িয়েছে রহিম।
রমিজ হঠাৎ ঘুরে দাড়াবে।
রহিমের বিভৎস মুখ দেখতে পাবে
রমিজ রহিমে বিভৎস মুখ দেখে ভয়ে চিৎকার দিবে।
রহিম রাম দা উচু করে তার গলায় কোপ দিবে।

৩৯

মাটির্ন একের পর এক ফোন করে যাচ্ছে। সে খুব উদবিগ্ন। বাইরে ঝর-বৃষ্টি হচ্ছে। রহমতের রুমে প্রবেশ করে জানতে চাইবে..
– বাবু কোন খোজ পেলেন?
– না শুধু জানতে পেরেছি। দেট ওয়াজ লাস্ট শিপ। ঐ সময়ে ছেড়ে যাওয়া কোন শিপ এখনও ঘাটে পৌছাইনি।
– আমার খুব ভয় করছে বাবু।
– ভয়তো আমারও করছে। গাড়ি বের করতে বল আমি ঘাটে যাব।
– ঘাটেতো লোক গেছে।
– তারপরেও আমি যাব।
আমি এখনি বলছি।
রহমত খুব দ্রুত বের হয়ে যাবে।
মার্টিন আবার ফোনের ডায়াল ঘোড়াবে।

৪০

প্রচন্ড ঝর হচ্ছে। সানি ঘুমিয়ে আছে। তার জ্ঞান ফিরেছে কিছুক্ষন আগে। মায়ের সাথে কিছুক্ষন কথা বলে আবার ঘুমিয়ে পরেছে।
রাবেয়া নামাজে বসে মোনাজাত শেষ করে সানির জামা কাপর গুছাবে ভেজা কাপরের মধ্যে সানির প্রিয় ক্যামেরাটা পাবে কিছুক্ষন ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে ভাববে এই ক্যামারার জন্যই ছবি তুলতে গিয়ে আজ সানির এতবর সর্বনাশ হতে যাচ্ছিল ক্যামেরাটা থেকে মুখ সরিয়ে সানির দিকে তাকাবে। সানি ঘুমাচ্ছে। জানালা খুলে ক্যামেরাটা বাইরে ফেলে দিয়ে জানালা বন্ধ করে দিবে জানালা লাগানোর শব্দে সানির ঘুম ভাংবে। রাবেয়া পাশে গিয়ে বসবে। তার মাথায় হাত বুলিয়ে জিজ্ঞেস করবে..
এখন কেমন লাগছে মা?
সানি আরমোড়া দিয়ে উঠে বসবে
– ভালো, মাম এ দেশের মানুষ নট গুড।
– সব দেশেই ভালো মানুষ ও আছে খারাপ মানুষও আছে।
– আমাদের আর কতক্ষন লাগবে পৌছাতে।
– যে ঝর বৃষ্টি শুরু হয়েছে। পৌছাতে পারব কি না কে যানে।
– আচ্ছা মাম ল টি যদি ডুবে যায়।
– চুপ কর (মেয়েকে জরিয়ে ধরবে)
– মা আমার ক্যামেরাটা দাওতো। আমি ঝরের ছবি তুলব।
রাবেয়া আতকে উঠে মেয়ের দিকে তাকাবে।

৪১
লে র নিচ তলা। বাইরে প্রচন্ড ঝড় হচ্ছে। জানালা চুয়ে পানির ঝাপটা এসে লাগছে সবার গায়ে। সবাই গুটিসুটি হয়ে বসে আছে। কেও দোয়া পরছে কেউবা আজান দিচ্ছে। এক ভয়াবহ পরিস্থিতি। শান্ত জ্যোতিকে ধরে বসে আছে। শান্তর বাবা আমিন একটু নড়ে চরে বসবে।
শান্ত বাবা আমি একটু টয়লেটে যামু।
শান্তু বাবার কথা শুনে আশে পাশের পরিবেশ বোঝার চেষ্টা করবে এ ধরনের লে র টয়লেট থাকে লে র একদম পিছনের দিকটায়। ঝরের যে পরিস্থিতি টয়লেটে যেতে হলে ভিজতেই হবে। বাবা বয়স্ক মানুষ এই কথ ভেবে বাবাকে বলবে..
– চলেন।
– কিন্তু বাইরে যে ঝড় শুরু হইছে..
– তাতে কি।
জ্যোতি উঠে দাড়াবে
আমিও যাব আপনে আমার এক হাত ধরেন আর অন্য হতে ভাইজানরে ধরেন।
আমিন উঠে দড়াবে। ঝরের কারনে নদিতে প্রচন্ড ঢেউ ল টি উথাল-পাতাল দুলছে।
শান্ত বাবা ও জ্যোতিকে নিয়ে টয়লেটের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করবে।

৪২

সারেং খুব বিচলিত এত ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেও সে ঘামছে তার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম দেখা যাবে। বশিরের প্রবেশ। তার পুরো শরির ভেজা..
– ওস্তাদ ঝরতো দেখি বাড়তাছে।
– হু..পারে ভিরান দরকার লক্ষন ভালানা।
– তেলতো শেষ যে কোন সময় বন্ধ হইয়া যাইব। বৌদ্দার বাজার থন তেল নেয়নের কথা আছিল। ওস্তাদ ভাটিতে ঘুরায় দিবেন নাকি।
– ভাটিতে ঘুরানের লগে লগে উল্টায় যাইব। তুই যাত্রিদের সাবধানে থাকতে বল যা দেরী করিস না বায়া যা আছে দিয়া দে।
বশির দ্রুত বের হয়ে যাবে।

৪৩

সানি মায়ের উপর প্রচন্ড রেগে আছে সে তার ক্যামেরা খুজে পাচ্ছে না মা বলছে যে সে সেটা ফেলে দিয়েছে। সানি বার বার একই কথা বলছে..
-মা তুমি মটেও ভালো করনি। খুব খারাপ করেছ আমি তোমকে কখন ক্ষমা করব না।
রাবেয়া এবারকেটু ভুয় পেয়ে গেছে সে জানে তার মেয়ে রেগে গেলে এর পরনিত খুব ভয়া ভহ..
– আহ আমি পানিতে ফেলিনি ঝর কমলে। বাইরে থেকে নিয়ে এলেই হবে।
– কোথায় ফেলেছ?
– জানালা দিয়ে বাইরে।
সানি সাথে সাথে জানালা খুলবে। প্রচন্ড ঝর হচ্ছে। জানালা দিয়ে মাথা বের করে ক্যামেরা দেখতে পাবে। আর একটু হলে বাইরে পরে যাবে। সে দ্রুত দরজা খুলে বের হয়ে যাবে।

৪৪

শান্তর বাবা টয়লেট থেকে বের হয়ে আসবে। শান্ত ও জ্যোতি বাইরে অপেক্ষা করছিল। উপরের দিকে তাকাতেই দেখতে পাবে।
বশির বায়া (জাহাজে ব্যবহারিত এক ধরনের জীবন রক্ষা কারী চাকা ) নিয়ে আসছে।
শান্তু বাবাকে লে র ভিতর ঢুকিয়ে দিয়ে বলবে..
– বাবা তুমি যাও আমি একটু আসছি।
আমিও যাব।
শান্তর হাত শক্ত করে ধরবে। শান্ত জ্যতিকে নিয়ে উপরে উঠে আসবে। বশিরকে জিজ্ঞেস করবে..
– কি অবস্থা?
আবস্থা ভালা না।
জ্যোতি বশিরের হাত রাখা বায়া ধরে বলবে..
– আমি এগুলা নিমু।
শান্ত হেল্পারের কাছ থেকে একটি বায়া জ্যোতির হাতে দিবে একটি নিজে রাখবে। সারেঙ্গের রুমের দিকে যেতে থাকবে।

৪৫

ঝরের তিব্রতা এখন চুরান্ত আকার ধারক করেছে, সন্ধা গড়িয়ে রাত হয়ে গেছে অনেক আগেই গুট গুটে অন্ধকার দু হাত সামনের কিছুও দেখা যাচ্ছে না।
লে র সামনের দিকে প্রচন্ড ঝরের মধ্যে সানি রেলিং ধরে ধরে সামনের দিকে এগুচ্ছে ক্যামেরাটা কে দেখা যাচ্ছে আর একটু হলে ক্যামেরা পানিতে পরে যাবে।
দরজায় দারিয় রাবেয়া সানিকে ডাকছে।
সানি ক্যামেরা ধরতেই ক্যামেরা নিচে পরে যাবে। ক্যামেরা নিচ তলার একটি লাঠির মধ্যে আটকে যাবে।
সানি লে র গ্রীল ডিঙ্গিয়ে ক্যামেরা আনার চেষ্টা করবে।

৪৬

সারেং তার রুম থেকে দেখতে পাচ্ছে। সানি যে ভাবে দায়িয়েছে একটু এদিক সেদিক হলে পরে যাবে।
– আরে করে কি করে কি!

৪৬

সানি গ্রীলের বাইরে দাড়িয়ে ক্যামেরা তোলার চেষ্টা করবে।
লে র অন্য প্রান্তে শান্ত ও জ্যতি ক্রস করার সময় জ্যোতি দেখতে পাবে সানি পরে যাচ্ছে। শান্তকে ডেকে দেখাবে..
– ভাইজান দেখ?
শান্ত সানিকে পরে যেতে দেখে দ্রুত সেখানে যাবে।

৪৭

সানি ক্যামেরা তোলার চেষ্টা করবে। ক্যামেরা ধরতেই পা পিছলে পরে যাবে।
শান্ত সানির এক হাত ধরে ফেলবে।

৪৮
সারেং তার রুম থেকে সানি ও শান্তকে দেখতে পাছে সে বুঝতে পারছে দুজনেই পানিতে পরে যাবে আর এই মুহুর্তে পরলে বাচার কোন আশা নাই।
– হায় হায় দুইজনই পইরা যাইবতো..
স্টেয়ারীং ছেড়ে বের হবার চেষ্টা করবে, সাথে সাথে লে র ইঞ্জন বন্ধ হয়ে যাবে। ল ঘুরে জাবে, সাথে সাথে সারেং এসে আবার স্টেয়ারীং ধরবে। ঘন্টা বাজাতে শুরু করবে।

৪৯

ইঞ্জীন রুম হেল্পার ও বশির ইঞ্জীন চালু করার প্রান পন চেষ্টা করছে।
কাট
৫০

একটু দুর থেকে দেখা যাবে ল টি একটি পাক খেয়ে এক পাশে পড়ে যাচ্ছে। মুহুর্তে মধ্যে জ্যোতি পানির মধ্যে ছিটকে পরবে, শান্ত ও সানি এক শাথে পানিতে পরে হাবু ডুবু খেতে থাকবে শ্রোতের টানে তারা ল থেকে অনেক দুরে শরে যাবে।

৫১

ল টি এক পাশে উল্টে গেছে ভিতরে সবাই নিজেগে সোজা করে নিয়ে ছোটা ছুটি করার চেষ্টা করছে প্রচন্ড বেগগে পানি ঢুকছে । কেউ কেউ জানালা খুলে বের হতে নিবে অন্যেরা তাকে ধরে বের হতে চাইবে। কেউ বের হতে পারবে না।

৫২
রাবেয়া পানির মধ্যে হাবু ডুবু খেয়ে বাচাঁর চেষ্টা করছে উপরের দিকে হাত বাড়িয়ে হাতরাচ্ছে এক সময় হাত পা ছোরা বন্ধ হয়ে যাবে অসার হয়ে পরবে তার দেহ।

৫৩

দুর থেকে লে র শেষ অংশ ডুবে যেতে দেখা যাবে।

৫৪

ঝর বৃষ্টি হচ্ছে একটি দুটি ল ঘাটে ভিরেছে মার্টিন ও রহমত দৌড়ে লে র কাছে আসছে ছোটা ছুটি করে সানি ও রাবেয়াকে খুজছে।
রহমত একটি যাত্রিকে দাড় করিয়ে জানতে চাইবে।
– ভাই অন্য লে র খবর কি?
– অনেক ল ডুবছে। নদিতে লাশ আর লাশ।
– আপনেগ পিছনে আর কোন ল কি দেখছেন?
না এইডাই শেষ ল তিন ঘন্টা দেরি করছে পাঙ্খা ভাঙ্গছিল।
এরই মধ্যে মার্টি এসে তাদের সাথে সামিল হবে..
– রহমত হয়াট হেপেন এনি নিউজ?
– নো সার।
বকুল তলা থেকে উনার মাইয়ার আসার কথা। (যাত্রিটি আগ্রহ নিয়ে বলবে)
রহমত উত্তর দিবে।
– হ ভাই তারে দেখছেন?
– না (বলে চলে যাবে)
– কী বলে?
– নাথিং সার। আমার মনে হয় ঝর বৃষ্টি দেখে আজ আসে নাই কাইল আসব।
– না রহমত আজই আশার কথা কাল আমাদের ফ্লাইট ।
আরএকটি ল এসে ভিরবে ঘাটে মার্টিন ও রহমত দ্রুত সেখানে যাবে।

৫৫

শান্ত ও সানি ঝর বৃষ্টির মধে নদীতে ভাষতে ভাষতে একসময় এসে একটি চরের মধ্যে এসে থামবে। শান্ত ক্লান্ত ভঙ্গিমায় সানিকে নিয়ে তিরে উঠবে। সানি জ্ঞান হারিয়েছে।
শান্ত সানির জ্ঞান ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবে। মুখে ফু দিয়ে শাষ প্রশাষ চালুরাখার চেষ্টা করবে উপুর করে শুয়ে পেটে চাপ দিয়ে পানি বের করবে। এক সময় সানির জ্ঞান ফিরে আসবে।
সানি জ্ঞান ফেরার সাথে সাথে চিৎকার শুরু করবে।
শান্ত সানিকে শান্তনা দিবে।
অন্য একটি কান্নার শব্দ শুনা যাবে। কান্নার শব্দ শুনে সানি তার নিজের কান্না থামাবে। দুজনে উঠে নদীর কাছে যাবে।
পানিতে ভেষে থাকা জংলার ভিতর থেকে কান্নার শব্দ আসছে কিছুই দেখা যাচ্ছে না। শান্ত পানিতে নেমে জ্যতিকে তুলে নিয়ে আসবে।
সানি জ্যোতিকে জরিয়ে ধরবে। আবার কাদতে থাকবে।
এক বড় ঘটনা গটে গেছে জ্যোতির মধ্যে কোন ভ্রক্ষেপ নেই সে খুব সাধান ভাবে সানিকে জিজ্ঞেস করে..
– কানতাছেন কেন?
আমার মা…(সানি আবারও উও মাউ করে কাদতে থাকবে)
শান্তু সানির দিকে তাকিয়ে
কেদনা আমার বাবা..(তার চখ দিয়ে পানি বের হবে)
সানি শান্তর দিকে তাকিয়ে কান্না থামিয়ে দিবে..
আমার খুদা লেগেছে।
শান্তুরই একই অবস্থা সেই সকালে খেয়েছে এমন সময় ঝড় বিষ্ট শুরু হলো সবাই খুদার কথা ভুলেই গিয়েছে। কিন্তু চার পাশ দেখে মনে হচ্ছে এটি একটি চর এই চরে খাবার পাবে কোথায়..
– চল।
– কোথায়?
– আমাদের কোন গ্রামে আশ্রয় নিতে হবে।
সকলে উঠবে। হাটতে শুরু করবে।

৫৬

মার্টিন, ব্যাকুল হয়ে নদীর দিকে তাকিয়ে আছে। একজন সোলজার এসে সেলুট দিবে।
টেলীফোন ম্যাসেজ সার

মার্টিন ও রহমত দৌড়ে সদর ঘাট অফিস রুমের দিকে যাবে।

৫৭

মার্টিন রুমে প্রবেশ করার সাথে সাথে অফিসার সিট ছেড়ে দাড়িয়ে যাবে। মার্টিন সামনের চেয়ারে বসবে।
– সিট ডাউন।
অফিসার না বসে ফোন এগিয়ে গিবে।
মার্টিন ফোন হাতে নিবে..
হ্যালো।
অপর প্রান্ত থেকে
– ব্যাড নিউজ স্যার।
– হয়ার দা ল ।
– সার ল টি আমিন বাজার পার হয়ে। কোন একটি যায়গায় ডুবে গেছে।
– ও মাই গড! এখন।
– সার আমাদের টিম অলরেডি স্পটের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে গেছে। উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
– ডু সামথিং, আই ওয়ান্ট টু গো দেয়ার।
– ওকে সার আমি ব্যাবস্থা করছি।
ফোন রেখে মার্টিন ভেঙ্গে পরবে, তার মাথাটা ফাকা ফাকা লাগবে জ্ঞান হারাবে কিনা বুঝতে পারছে না। পানিরি পিপাশা পাবে..রহমতকে ডাকবে..
-রহমত পানি…

৫৮

ঝর থেমে আকাশ পরিস্কার হয়ে গেছে। আকাশে সুন্দর পূর্নিমার চাঁদ তারই আলোতে চরের মাঝ দিয়ে হেটে চলেছে তিন জন লোকালয়ের আশায়। তাদের হাটার শব্দে সাপ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের পোকা মাকর দুরে সরে যাচ্ছে। তাদের বিচরন থেকে বোঝা যাচ্ছে এই চরে মানুষের বিচরনের খুব একটা নেই।
জ্যোতি কোন একটি পোকা ধরার জন্য থেমে যাবে, যার ফলে সে তাদের চলার গতির সাথে তাল মিলাতে পাবেনা না। আবার দৌড়ে তাদের গতির সাথে তাল মিলাবে। শান্ত ও সানি টুক টাক কথা বলতে বলতে এগিয়ে যাচ্ছে। সানি জানতে চাইবে..
– আমরা কোথায় যাচ্ছি?
– আপাতত কোন বাড়িতে।
– বাড়ি কত দুর?
– বলতে পারছি না।
– তোমার কী মন খারাপ হচ্ছে না?
– কেন?
– এই যে তোমার বাবা বেচে আছে কি মরে গেছে?
শান্ত কোন কথা না বলে দাড়িয়ে যাবে মন খারাপ করবে আবার হাটতে থাকবে।
সানির কন্ঠ কান্না জড়িয়ে আছে..
– আমার কিন্তু মন খারপ লাগছে। আম্মুতো সাতার জানে না। আচ্ছা তোমার বাবা কি সাতার জানে।
– হ্যা..
– তাহলেতো উনি তিরে উঠতে পারবে।
শান্ত হঠাৎ থেমে যাবে।
– কী হলো দাড়িয়ে পরলে কেন?
শান্তর চোখে মুখে বিশ্বয় সে এদিক সেদিক তাকাবে।
সানিও তাকাবে দেখবে সামনে যতটুকু দেখা যায় কুল হিন নদী শুধু পানি আর পানি।
জ্যোতি হাসতে থাকবে…
শান্ত ও সানি তাকাবে.জ্যোতির দিকে। সানি বলবে..
– হাসছ কেন?
– আমিতো জানি এই চরে কোন গ্রাম নাই।
তাহলে এখন?
শান্তু উত্তর দিবে..
– নদী পার হতে হবে।
– আমি পারব না। আমি সাতার জানিনা।
শান্ত সানির দিকে একবার তাকিয়ে নদীতে নামার প্রস্তুতি নিবে।
জ্যোতি শান্তুর সামনে গিয়ে দাড়াবে..
– ভাইজান এদিক দিয়া না এদিক দিয়া গেলে কোন কুল পাইবেন না। আমার সাথে আসেন..
জ্যতি একটু জংলার মত যায়গার দিকে দৌড় দিবে।
সানি দাড়িয়ে পরবে..
– আমি যাব না আমি কিছুতেই নদী পার হতে পারব না। ( বসে পরবে)
শান্ত কিছুটা দুর এগিয়ে আবার ফিরে আসবে।
– দেখুন আমরা একটি সমস্যার মধ্যে আছি আপনি যদি এমন করেন তাহলে আমরা আরো বিপদে পরে যাব।
– আমি কিছুতেই যাব না।
– প্লিজ উঠুন।
সানি কিছুতেই উঠবে না। ছাগলের খামি দেয়ার মত তার অবস্থা, শান্তু তার হার হাত ধরে টানছে সানি অন্য হাতে ঘাস লতা পাতা আকড়ে ধরে আছে.. শান্ত বুদ্ধি করে সানির কাধে আঘত করেবে, মেডিক্যাল সাইন্সের গুনে সে জানতে পেরেছে মানুষের কোন যায়গায় আঘাত করলে সে সাময়িক ভাবে জ্ঞান হারায়।
সানি জ্ঞান হাড়াবে, শান্ত সানিকে কাধে তুলে হাটতে থাকবে। নদীর পারে এস দাড়াবে সেখান থেকে দুরে গ্রাম দেখা যাবে। জ্যোতি পানিতে ঝাপিয়ে পরবে। শান্ত সানিকে কাধের উপর নিয়ে সাতার দিবে।
৫৯

নদীতে একটি বোর্ড নিয়ে মার্টিন তার মেয়ে ও বৌকে খুজতে থাকবে। ডুবে যাওয়া ল থেকে বের হয়ে আসা অনেক জিনিস ভাসতে দেখবে। এসব জিনিসের ভিতরে মার্টিন খুজে বেড়াবে তার পরিরিবারের অস্তিত।

৬০

বহু কষ্টে সবাই সাতরে পাড়ে উঠবে। ততক্ষনে সকলের অবস্থাই খারাপ হয়ে গেছে সানি তখনও অচেতন। নদির পারে কিছুক্ষন শুয়ে থেকে শান্ত উঠে দাড়াবে। নদীর পাারে ভাশতে থাকা একটি ব্যাগের দিকে এগিয়ে যাবে। ব্যাগটি দেখে বুঝতে পারবে এটি সানিদের লাগেজে। নদী থেকে তুলে নিয়ে সানির কাছে রাখবে। সানির জ্ঞান ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবে। এক সময় জ্ঞান ফিরে আসবে। জ্ঞান ফিরে আসতেই সে চিৎকার শুরু করবে।
– আমি যাব না এমি এই নদী পার হতে পারব না।
জ্যোতি ও শান্ত হাসবে দুষ্টমির সুরে বলবে
তোমাকে নদী পার হতে হবে না। এটা কি তোমার ব্যাগ?
হ্যা (তার চোখে মুখে বিশ্বয়) এটা কোথায় পেলে..
জাদু করে এনেছি…চল..
আমার মা..
তুমি বুঝতে পারছ না কেন আমরা এখন প্রায় পাঁচ-সাত মাইল দুরে অবস্থান করছি..
– আমরা এখন কোথায়!
শান্ত সানির হাত ধরে টেনে রওনা হবে।
সানি পিছন ফিরে দেখতে থাকবে সে কিছুই বুঝতে পারছে না।
হাটতে হাটতে গ্রামের ভিতর প্রবেশ করবে ততক্ষনে দিগন্ত লাল করে সুর্য্য উঠবে।
সানি হাটতে হাটতে হঠাৎ বসে পরবে..
– না আমি আর হাটতে পারব না আমার প্রচন্ড খুদা লেগেছে।
জ্যোতি চিৎকার করে বলে উঠবে..
ঐ যে একটা বাড়ি দেখা যাইতাছে ঐ বাড়িতে গেলে খাবার পাওয়া যাইব।
সানি সেদিকে তাকিয়ে দেখবে বাড়িটি তাদের কাছ থেকে এখেনো অনেক দুর..
না অসম্ভব আমি এতদুর যেতেই পারব না।
শান্ত সানির দিকে তাকিয়ে বুজতে পারবে সত্যিই মেয়েটির গায়ে আর একটু সক্তিও নেই..
বস আমি আসছি।
সে একটি কলা গাছের দিকে এগিয়ে যাবে। কলা পেকে আছে। কলা পেরে নিয়ে আসবে।
সকলে খাবে। আবার রওনা হবে।

৬১
রাতে বৃষ্টি হওয়াতে সব কিছু খুব পরিস্কার-পরিচ্ছন দেখা যাচ্ছে। উঠান ঘেড়া বাড়ি সানি, শান্ত ও জ্যোতি দাড়িয়ে আছে। এদিক সেদিক উকি ঝুকি দিচ্ছে..শান্ত চিৎকার করে ডাকবে..
– বাড়িতে কেউ আছেন?
কোন সাড়া শব্দ পাওয়া যাবে না।
জ্যোতি উঠান পেরিয়ে ঘরের ভিতর প্রবেশ করবে ফিরে এসে বলবে বাড়িতে তো কেউ নাই।
শান্তও সানি উঠানে বসবে। সানি খুব ক্লান্ত..
– আমি ঘুমাব আমার ঘুম পাচ্ছে।
– একটু অপেক্ষা কর নিশ্চই কেউ না কেউ আসবে।
জ্যোতি ছুটে এসে বলবে
– আপনেরা বসেন আমি দিখি পাশের বাড়ির কাউরে পাওয়া যায় নাকি।
অন্য বাড়ি গুলোর দিকে ছুটে যাবে।
শান্ত ও সনি অপেক্ষা করবে। সানি ঘরের খুটিতে হেলান দিয়ে ঘুম ঘুম চোখে বসে থাকবে।
জ্যোতি ফিরে আসবে..
ভাইজান কোন বাড়িতেইতো মানুষ নাই।
শান্ত উঠে দাড়াবে..
– ঠিক আছে ভিতরে চল তোমরা রেস্ট নাও আমি দেখছি।
সানিকে টেনে তুলবে। ঘরের ভিতর প্রবেশ করবে।

৬২

ঘরের ভিতর কিছু নেই একটি খাট আর একটি পুরনো দিনের কাঠের আলমিরা। শান্ত আলমিরা খুলে সেখান থেকে একটি শাড়ি বের করে সানির দিকে এগিয়ে দিবে তাদের পরনের সমস্ত জামাকাপর ভেজা…
– এটা পরে নাও..
আমি শাড়ি পরতে পারি না। আমার ব্যাগটি দেও..
জ্যোতি ও শান্ত দুজনেই হেসে ফেলবে..
সানি বিবৃত বোধ করবে..
হাসছ কেন?
জ্যোতি বলেেব ..

তুমিনা খুব বোকা ব্যাগের সব জামাইতো ভেজা শাড়ি কি ভাবে পরতে হয় আমি দেখায় দিব।
সানি নিজের বোকামিতে লজ্জা পাবে। শান্ত মৃদু হেসে বের হয়ে যাবে।

সানি শাড়ী কাপরটি কোন রকম গায়ে জড়িয়ে জামা খুলে ফেলবে।
জ্যোতি চিৎকার করে বলে উঠবে
-এই ভাবে না…
আমাকে শিখাতে হবে না আমি এভাবেই পরব।
জ্যোতি থেমে থেমে হাসতে থাকবে
হি হি (হাসবে) পগলি বেটিদের মত পরছে.. হি হি..
– হয়াট…
– ভাইজান দেইখা জান..
শান্ত আবার রুমে প্রবেশ করে দেখবে সানি কাপরটিকে কোন রকম পেচিয়ে রেখেছে তার পুরো শুরিরই খালি, তার পরেও তাকে শুন্দর লাগছে। জ্যোতি শান্তর হাত ধরে ইসারা করে বলবে..
– দেখেন পাগলী বেটিদের মত…
শান্ত : (হাসবে)
সানি শুয়ে পরবে…
শান্তু বুঝতে পারবে সানি লজ্জা পাচ্ছে এবং সকলেই টয়ার্ড..
– জ্যোতি তুমিও শুয়ে পর।
– ভাইজান আপনে ঘুমাইবেন না।
– আমি পরে ঘুমাব। আগে গ্রামটা দেখে আসি।…
সানি কোন কথা বলবে না সে একদিকে কাত হয়ে ঘুমিয়ে পরবে। জ্যতি তাকিয়ে থাকবে তার চোখও ঘুম ঘুম.. শান্ত দুজনার দিকে একবার তাকিয়ে ঘর থেকে বের হবে। জ্যোতি তাকিয়ে থাকতে থাকতে ঘুমিয়ে পরবে।

৬৩

শান্ত এক একটি বাড়িতে প্রবেশ করবে বেড়িয়ে আসবে। অন্য বাড়িতে যাবে। জিজ্ঞেস করবে।
– বাড়িতে কেউ আছেন।
চিন্তিত ভাবে বের হয়ে আসবে। ছোটা ছুটি করবে। একটি রাস্তা ঘুরে দৌড়ে বের হবে। এক সময় নদীর পারে এসে উপস্থিত হবে। নদী খা খা করছে কোথাও কোন জন-মানব নেই নদী শান্ত.. নৌকা ল কিছুই চোখে পরবে না শুধু পানি আর পানি। মাটিতে বসবে।
মনে মনে ভাববে “শেষ পর্যন্ত বসন্ত এফেক্টেড গ্রামে এসেই পরলাম।” মাথায় হাত দিবে। সবুজ ঘাশের উপর শুয়ে পরবে। ক্লান্ত শরির চোখ বন্ধ করতেই ঘুমিয়ে পরবে। আকাশে চিল ঘুরতে দেখা যাবে। শান্তর চোখের উপর প্রখর রোদ তার গলা বেয়ে ঘাম ঝড়তে দেখা যাবে। লাফ দিয়ে উঠবে। এই ভাবে কথক্ষন ঘুমিও ছিল সে বুঝতে পাছে না।

৬৪

রেডিওতে খবর হচ্ছিল।
বসন্তের মরকে রূপ কান্দি বাতা কান্দি ঝাল কাঠি সহ আসে পাশের প্রায় বিশটিরও বেশি গ্রাম জন শুন্য হয়ে পরেছে। এ গ্রামে গুলোতে এখন আর কোন মানুষ নেই দলে দলে অন্যত্রে চলে গেছে।
টেবিলে উপর মাথা রেখে দুই হাত দুই দিকে রেখে মার্টিন খবর শুনছিল। রহমতের প্রবেশ।
– সার নৌকা রেডি। আমি ও যাব আপনার সাথে।
– নো তুমি এখানেই থাক আমি একাই যাব।
– সার আমার খুব খারাপ লাগতাছে…আই ফিল ওরি সার…আমি যেইখানে যাই সানি মা-মনির গলার শব্দ পাই । আমার মনে হয় সে আইসা বলবে রহমত আঙ্কেল তোমাকে না বলেছিলাম আমার জন্য এক জোড়া টিয়া পাখি কিনে আনতে আমার টিয়া পাখি কোথায়? আমি আজই সদর ঘাট থেকে আসার পথে এক জোরা টিয়া নিয়া আসছি…(দরজার বাইরে থেকে টিয়ার খাঁচাটি এনে দেখাবে।) এই যে দেখেন সার…(কেদে ফেলবে)
মাটির্নের চোখও অশ্র“ শিক্ত হয়ে উঠবে। রহমতের কাধে হাত রাখবে। খাচার ভিতরের টিয়া পাখিটি টি টি কর চিৎকার দিয়ে উঠবে।

৬৫

সানি শুয়ে ছিল। জ্যোতি তার সামনে একটি পাখির খাচা হাতে নিয়ে দাড়িযে আছে ।
সানি চোখ মেলে তাকিয়েছে তার ঠোটে হাসি। সে পাখি দেখছে..
কোথায় পেলে?
জ্যোতি খাচাটা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখাবে..
– সুন্দর না?
হু..
সানি উঠে বসবে
– আমাকে দাও..(খাচাটা নিবে) কি সুন্দর..! দেখত আমার গায়ে জর আছে কিনা?
জ্যোতি সানির গায়ে হাত দিবে
– জরে তো আপনের গা পুইরা যাইতাছে। ভাইজান ভাইজান..
শান্ত দ্রুত প্রবেশ করবে, জ্যোতি বলবে
– কাপালে হাত দিয়া দেখেন কত জ্বর..
শান্ত সানির কপালে হাত দিবে, জ্যতিকে বলবে..
পানি আর একটা কাপর নিয়ে এসো..
সনি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করবে..
পানি দিয়ে কি করবে?
– জর কমাতে হবে..
– তুমি কি ডাক্তার..
– হ্যা আমি মডিক্যাল কলেজের ছাত্র..
সানি খুব ভালো করে শান্তকে দেখবে…
জ্যোতি বালতি করে পানি আর একটি গামসা নিয়ে আসবে..
শান্ত একটু চিন্তুা করে মনে মনে বলবে “এ গামছা ব্যাবহার করা যাবে না”
সে তার নিজের জামা খুলে বালতিতে ভিজাতে লাগবে
সানি অবাক হয়ে জানতে চাইবে..
– এ কি করছ নিজের জামা…
– কারন আছে এখন বলা যাবে না শাড়ীটা খুলুন…
– মানে..!
শান্তা লজ্জা পাবে..
– না মানে শাড়িটা খুলে আপনার জামাটা পরুন (হাতের কাছেই ছিলো এগিয়ে দিবে) শুকিয়ে গেছে। জ্যোতি শোন যত ক্ষন জ্বর না কমবে ততক্ষন কপালে পানি দিবে।
উঠে আলমারী থেকে কিছু কাপর নিয়ে বের হয়ে যাবে।
– তুমি কি কিছু বলতে পারেছ
– না..ভাইজান যখন বলছে বদলান..
– উঠবে..

৬৬

শান্ত ঘর থেকে বের হয়ে একে একে অনেক গুলো কাজ করবে। উঠানের এক পাশে রান্না গরের চুলা জালাবে, তার উপর চড়িয়ে দিবে বড় সাইজের একটি পাতিল।
জামা কাপর এনে সেগুলা সিদ্ধ করবে। দা হাতে নিয়ে, বাড়ির আস-পাশ পরিস্কার করবে।
বাড়ীর পিছনে কিছুদুর গিয়ে দেখতে পাবে সেখানে একটি পচা গলা লাশ প্রথমে কলা পাতা পরে কিছু গাছের ডাল এনে তা ঢেকে দিবে। কিছু বাশ দিয়ে বেড়া বানিয়ে সেদিকে যাবার রাস্তা বন্ধ করে দিবে।
দুপুর গড়িয়ে বেকেল হয়ে গেছে । সানি ঘর থেকে বের হয়ে আসবে আজ তাকে খুব সুন্দর লাগবে।
শান্ত অন্য একটি ঘর থেকে একটি জাল হাতে নিয়ে বের হবে মাছ মারতে যাবে। তার ভাব দেখে মনে হচ্ছে সে এ বাড়িরই কেউ এ বাড়িটি তার অতি পরিচিত।
সানি তার সামনে এসে দাড়াবে..
আপনাকে দেখে মনে হচ্ছে আপনি আর এখান থেকে ফিরে যাবেন না।
শান্তু অবাক হয়ে সানিকে দেখবে তাকে অসম্ভব সুন্দর লাগছে তার বলতে ইচ্ছে করছে “তুমি থাকলে আর কখন ফিরে যাব না।” এই প্রথম তার এই রকম কথা মনে হলো এত ক্ষন তাকে একজন সুন্দরী বিদেশীনি ভেবে আসছিল ক্ষনিকের অতিথী নিজের মনের কথা চেপে রেখে উত্তর দিল..
– হু অনেকটা তাই?
– আপনি থাকতে চান থাকুন আমি যাব..
– আপনাকে কে ধরে রেখেছে..
– আমাকে দিয়ে আসুন…আমি আর এক মুহুর্ত এখানে থাকব না।
– অপেক্ষা করা ছাড়া কোন উপায় নেই..
– আপনি মিথ্যে কথা বলছেন..নদীতে ল বা বোর্ড নিশ্চই আছে..
আসুন আমার সাথে…
শান্ত জাল কাধে নিয়ে হাটতে থাকবে সানি তার পিছু নিবে..

৬৭

দুজনে দাড়িয়ে আছে শান্তর কাধে জাল। সানি অবাক বিশ্বয়ে নদীর দিকে তাকাবে সমুদ্রের মত পদ্মা। কুল কিনারা কিছুই দেখা যায় না কোথাও কিছু নেই। পানি আর পানি
শান্ত সানির দিকে তাকিয়ে বলবে…
– তুমি এখানে বসে বসে দেখ কোন ল বা নৌকা দেখা যায় কিনা তাহলে তোমাকে দিয়ে আসব।
– তার মানে আমরা কোন দিনে ফিরে যেতে পারব না।
– পারব সময় লাগবে। তুমি বশ..
সানি পাড়ে বশে পরবে
শান্ত হাটু পানিতে নেমে জাল মারবে।
জাল খুব একটা ছড়াবে না
সানি মন খারাপ করে শান্তর মাছ ধরা দেখবে।
শান্ত জাল গুছিয়ে নিয়ে আসবে। দেখবে একটি মাছও নেই..
সানি হাসবে..
শান্ত লজ্জা পাবে…কিছু দুর এগিয়ে গিয়ে আবার জাল ফেলবে। এবারও মাছ পাবে না। কিছু সামনে গিয়ে আবার ফেলবে। এবার জাল তুলতেই দেখবে বেশ বড় একটি মাছ উঠেছে..
সানি লাফ দিয়ে উঠবে। দৌে পানিতে নামতে যাবে। শান্ত এসে সানিকে ধরে ফেলবে।
– কি করছ?
– আমিও মাছ ধরব।
– এখনিতো ডুবে যেতে..
– তাতে কি তুমি আছ না..মাছটা আমাকে দাও (মাছটা দু হাতে নিয়ে নদীর পারে দৌড়াতে থাকবে।) শোন আমি কোন দিন ফিরে যাব না এখানেই থাকব।
শান্ত তার ছেলে মানুষি দেখে হাসবে

গান-৩

৬৮

জ্যোতি খাচা থেকে পাখিটি বের করতে নিবে সাথে সাথে পাখিটি বের হয়ে উরে চলে যাবে। শান্ত যেদিকটা বাশের বেড়া দিয়ে আটকে রেখেছে পাখিটি সেদিকেই যাবে। জ্যোতি ব্যাড়ার ফাকা দিয়ে সেদিকে যাবে। পাখিটি, গাছ পালা দিয়ে ঢেকে রাখা লাশের উপরে গিয়ে বসবে। জ্যোতি পাখিটি ধরতে গিয়ে লাশের উপর পরে যাবে। লাশ দেখে ভয় পাবে। শরির মুছতে মুছতে ফিরে আসবে।

৬৯

রাতের আধঅরে কুপি জালিয়ে শান্ত মাছ ভাজছে, সানি মুখে দিচ্ছে। সে খুব মজা পাচ্ছে। শান্তুকে জিজ্ঞেস করছে…
– তুমি রান্না করতে পার?
– হু বিপদে পরলে পারি।
– তুমি বিপদে পরেছ? আমার কিন্তু ভালোই লাগছে।
– সানির দিকে তাকাবে…

৭০

হ্যারিক্যানের আলো জলছে। জ্যোতি শুয়ে শুয়ে তার শরির চুলকাচ্ছে। পিঠের দিক থেকে জামা উঠিয়ে দেখবে। তার শররি লাল হয়ে ফোসকার মত হয়ে যাচ্ছে। সে ভয় পাবে।

৭১

রহমতের মুখ বিভৎস অনেকটা পোচে যাওয়ার মত। দা হাতে জঙ্গল দিয়ে হেটে আসবে।
তার বাড়িতে আলো জলতে দেখে দাড়াবে।

৭২

শান্ত মাছ ভেজে প্লেটে রাখবে। সানি উঠিয়ে শান্তর মুখে তুলে দিবে।
আশে পাশে শব্দে শুনতে পাবে। শান্ত হঠাৎ বোঝার চেষ্টা করবে কিসের শব্দ। সানি জনতে চাইবে..
– হয়াট হেপেন?
শান্তা সানিকে ইশারায় চুপ করতে বলবে। আর কোন শব্দ শুনতে না পেয়ে নিজের কাজে মন দিবে।

৭৩
জ্যোতি দাড়িয়ে পুরে শুরর দেখার চেষ্টা করবে অনেক যয়গায় ফোসকা দেখতে পাবে। বিছানায় শুয়ে পরবে। তার গায়ে জ্বর। জানালার কাছে শব্দ পেয়ে জানালার দিকে তাকাবে। রহমতের বিভৎস মুখ দেখতে পাবে। জ্যোতি ভয় পেয়ে চিৎকার দিবে।
রহমত সরে যাবে।

৭৪

সানি ও শান্ত চিৎকারের শব্দ পেয়ে। জ্যোতির কাছে ছুটে যাবে।

৭৫

সানি ও শান্ত ঘরে প্রবেশ করবে।
ভুত..ভুত
জ্যোতি চিৎকার করবে। কাপতে থাকবে।
শান্ত চার পাশ দেখবে। ঘরথেকে একটি দা নিয়ে বের হয়ে যাবে।
সানি জ্যতিকে জরীয়ে ধরে শান্তনা দিবে।

৭৬

চাদর মুড়ি দেয়া রহমতকে পালিয়ে যেতে দেখবে। শান্ত তার পিছু নিবে। কিছু দুর যাবার পর তাকে না পেয়ে ফিরে আসবে।

৭৭

সানি জ্যতিকে শান্তনা দিয়ে কপালে হাত রাখবে।
তোমার গায়েতো অনেক জ্বর। শুয়ে পর। পিছনে হাত দিয়ে শোয়াতে নিবে। জ্যোতি “উহ্” বলে চিৎকার করে উঠবে।
আনি বিশ্বয়ে জিানতে চাইবে..
পিঠে কি হয়েছে? দেখি।

জামা উচু করে দেখবে অনেক ক্ষত দাগ..হাত দিয়ে দেখতে নিবে..
শান্তর প্রবেশ…
ডোন্ট টাচ..
শান্ত হাতে একটি গামছা পেচিয়ে জ্যতির জামা খুলে চার দিক দেখবে।
ও মাই গড..
সানি শান্তুর মুখের দিকে তাকিয়ে যানতে চাইবে…
– কি হয়েছে…!
– সি ইজ ইনফেক্টেড বাই পক্স…। এই গ্রামে থাকা আমাদের জন্য নিরাপদ না।
– কিন্তু কি ভাবে যাব..
– পায়ে হাটা রাস্তা জানা থাকলে ভালো হতো.
আমি চিনি কাল তোমাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে যাব।
জ্যোতি উৎসাহ নিয়ে বলবে
– ঠিক আছে এখান ঘুমিয়ে পর।
– ঘুম আসেনা ব্যাথা..
শান্ত সানিকে বলবে..
– তুমি এক কাজ কর গরম পানি করে নিয়ে এসো.. পরিস্কার করে একটু সেক দিলে আরাম পাবে।
সারারাত তারা জ্যোতিকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পরবে। ধিরে ধিরে জ্যোতির অবস্থা খারাপের দিকে যাবে।
সানি গরম পানি করবে। শান্ত পরিস্কার করে শেক দিবে। জ্যোতি অনেকবার বোমি করবে।
– ভাইজান আমি কি মইরা জামু..
শান্ত কোন কথা বলবে না সে জ্যোতির কথায় কষ্ট পাবে সানি কেদে ফেলবে।
– ভাইজান সকাল হইতে আর কতক্ষন?
– কেন?
– আপনেগ পথ চিনাইয়া লইয়া যামু…
– এখন চুপ থাক..
একটা গান শুনবেন…
দু’লাইন গান গাইবে। এক সময় তার শরির নিস্তেজ হয়ে পরবে সে মারা যাবে।
শান্ত জ্যোতি করে চিতৎকার করবে তার নাড়ি দেখবে তার দিকে পাথরের মত তাকিয়ে থাকবে।
সানি তখনও জ্যোতির মাথায় জল পট্টি দিচ্ছিল..
– কি হয়েছে?
– চাদর দিয়ে জ্যোতিকে ঢেকে দিবে।
– নো…. বলে কান্নায় ভেঙ্গে পরবে।

৭৮

শান্ত কোদাল দিয়ে কবর দেয়ার কাজ শেষ করবে। একটু দুরে সানি পাথরের মত দাড়িয়ে থাকবে।
সানি জ্যতির মজার মজার কথা গুলো কল্পনা করবে।
শান্ত কবর দেয়া শেষ করে সানিকে ডাকবে। – চল..
সানি কিছু ক্ষন পর সম্মিত ফিরে পাবে, শান্তর পিছু পিছু হাটতে থাকবে। নদির পার এসে দাড়াবে।
সূর্য ডুবতে দেখা যাবে।

৭৯

সানি শুয়ে ছিল হারিক্যানের আলো বাড়াবে।

জঙ্গলের ভিতর দিয়ে রহমত দা হাতে আসছে।

সানির ভয় ভয় লাগছে হারিক্যান নিয়ে বের হবে।

৮০

শান্ত মাথার নিচে হাত রেখে চিন্তা করছিল। সানির প্রবেশ। হারিকেন রেখে শান্তর পাশে বসবে।
– ভয় করছে..
– কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে হাত বাড়াবে।
সানি তার হাত কাপতে থাকবে, শান্ত অন্য হাতে সানির চিবুকে হাত রেখে তাকাবে।
সানি শান্তর বুকে মাথা রাখবে। শান্ত হ্যারিক্যানের আলো নিভেয়ে দিবে।

৮১

চাদের আলোয় সানি কুয়া থেকে পানি তুলে গোসল করছে। তার দেহ অনেকটাই নগ্ন আলো আধারিতে তার পিছনের দিকটা দেখা যাচ্ছে। সামনে থেকে একটি জামা বুকের উপর নিয়ে ঘুরতেই দেখা যাবে। রহমত তাকে জরিয়ে ধরে মুখে হাত চাপা দিয়ে তুলে নিয়ে যাবে।
৮২

শান্তু শব্দ পেয়ে বিছানা থেকে লাফ দিয়ে উঠবে। বের হয়ে আসবে।

৮৩

শান্ত দৌড়ে উঠানে আসবে। কুয়া তলায় যাবে..
সানি….সানি…
চিৎকার করে ডাকবে সারা শব্দ না পেয়ে খুজতে থাকবে।

৮৪

সানি, রহমত, শান্ত
সানিকে জঙ্গলের ভিতর এনে ফেলে দিবে।
সানি ছাড়া পেয়ে দৈড়াতে থাকবে।
এক সময় হোচট খেয়ে পরে যাবে।
রহমত আস্তে আস্তে এগিয়ে এসে দা উচু করে কোপ দিতে নিবে।
পিছন দিকে থেকে শান্ত একটি বাশ দিয়ে রহমতের মাথায় আঘাত করবে।
রহমত মাটির উপর লুটিয়ে পরে যাবে।
সানি এসে শান্তকে ধরবে।
শান্ত রহমতের পরে যাওয়া দাটি তুলে নিবে।
একটি কলা গাছে কোপ দিবে। গাছটি পরে যাবে।

৮৫

শান্ত একের পর এক কলা গাছ কাটবে। সেগুলো তুলে নিয়ে নদীর পার জরো করবে।
এ ভাবে কয়েএকটা দিন কেটে যাবে।

৮৬

ঘর থেকে বের হয়ে বমি করবে। প্রথমে কষ্ট অনুভব করবে পরে হাসবে। উঠানে এসে বসবে। পা চুলকাতে থাকবে। পা থেকে জামা সরিয়ে দেখবে। জ্যোতির মত তার পায়েও একই ইনফেক্শন। সে উঠান ছেড়ে শান্তর উদ্দেশে দৌড় দেয়।

৮৭

শান্ত বেশ বড় সর একটি কলার ভেলা তৌরী করে ফেলেছে। শেষ বারের মত ভেলাটি বাধতে গিয়ে সে দেখতে পাবে তার শরির চুলকাচ্ছে। জামা খুলে দেখে, বসন্ত তাকেও স্পর্শ করেছে।
দুর থেকে সানির ডাক শুনতে পাবে।
সানি কাছে এসে বসে পরে বমি করবে । শান্ত তাকে জরীয়ে ধরবে।
সানি বলবে।
– শুখবর আছে….
শান্ত বুঝতে পারে এ অন্য কিছু না তাদের সন্তান আসছে। শান্ত তাকে জরীয়ে ধরে উচু করে ঘুরাতে থাকবে…কিন্তু শক্তির অভাবে পরে যাবে…
শান্ত বুঝতে পারে তার গায়ে আর শক্তি নেই..
– শান্ত চল যে করেই হোক আমাদের শহরে যেতে হবে..
– কিন্তু আমিতো শক্তি পাচ্ছি না..
– দুজনে মিলে চেষ্টা করলে পারব…চল..
দুজনে দুটা বাশের লগি নিয়ে ভেলায় উঠে চালাতে থাকবে। এভাবে কতটা সময় চলে গেছে বুঝতে পারবে না। এক সময় শান্ত খুব বেশি অসুস্ত হয়ে পরবে..ভেলার উপর শুয়ে পরবে। সানি একাই চালাতে থাকবে তার খুব কষ্ট হবে। দুরে একটি নৌকা দেখতে পাবে। শান্তকে ডাকবে…
– শান্ত উঠ একটি বোর্ড দেখা যাচ্ছে, শান্ত উঠ…
একসময় নৌকাটি কাছে আসবে। নৌকার ভিতর থেকে বের হয়ে আসবে মার্টিন। ততক্ষনে সনি ভেলার উপর শুয়ে পরবে..মার্টিন সানিকে নৌকায় তুলে নিবে..শান্তর ভেলাকে দুরে শরিয়ে দিবে।
সানি হঠাৎই বুঝতে পাবে শান্তকে না নিয়েই তাকে নিয়ে চলে যাচ্ছে সে উঠে চিৎকার করবে..
– শান্ত..আমি শান্তকে না নিয়ে যাব না, ছেড়ে দাও..
মার্টিন মেয়েকে জোর করে ধরে রাখবে।

ধিরে ধিরে সানিদের নৌকা অনেক দুরে চলে যাবে।
শান্ত মাথা উচু করে দেখবে। শান্তর ঠোটের কোনে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠবে এই ভেবে তার অনাগত সন্তান হয়তো বেঁচে যাবে। শান্ত আবার চোখ বন্ধ করে ফেলে।

সানির নৌকা চলতে থাকে সানিকে ও তাদের অনাগত সন্তান বসন্তের ফুল নিয়ে…

সমাপ্ত