নাটক
বাবা
রচনা: হাসান-উজ-জামান
পরিচালনা: শাহীনা আকতার
ব্যাপ্তি : ৪৫ মি:

কুশিলব
১. শওকত-৬০ রিফাতের বাব ***
২. মিনু-২২ শওকত সাহেবের স্ত্রী *
৩. রিফাত-৩৫ শওকত সাহেবের বড়ছেলে ***
৪. শামিমা-৩০ রিফাতের স্ত্রী **
৫. সাগর-২০ শওকত সাহেবের ছোট ছেলে ***
৬. লিনা-১৮ সাগরের কাজিন **
৭. আলী চাচা জমির ব্রোকার **
৮. ডাক্তার-২জন *
ম্যানেজার *
মিস-২৫*

শিশু শিল্পী

রিফাত-৪ রিফাতের ছোট বেলা
সাগর-৩ সাগরের ছোট বেলা
বাবু-৫ রিফাতের ছেলে

সেট: বাড়ি মাঝারী মানের , একটি নিচু মানের হলে ভালো হয়। অফিস দুটি। হাসপাতাল। লন বা পার্ক। ঔষধের দোকান।

সামগ্রী: ডাক্তারী সমগ্রী, ছোটদের এ্যপ্রন, ইঞ্জিনীয়ারদের ক্যাপ (ছোট), ছবি, জমির দলিল, টাকার ব্যান্ডিল, ইসিজি পেপার, নাস্তা-১, নাস্তা-২, ঔষধ,

দৃশ্য-১
শওকত সাহেবের বেড/দিন
শওকত

শওকত সাহেব বিপতিœক, দুই ছেলে, বড় ছেলে বিয়ে করেছে নাতি আছে, ছোট ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে পরে। রিটায়ার্ডমেন্টের পর এই একতলা বাড়িটি করতে পেরেছিলেন। মোটা মুটি সুখি পরিবার।

শওকত সাহেব ঘুম থেকে উঠে বুকে ব্যাথা অনুভব করছেন। ইদানিং প্রায়ই এই ব্যাথা অনুভব করেন তিনি।
বিছানা উল্টে ঔষধ খুজবেন । অনেক গুলো ঔষধের খোসা দেখা যাবে তার কোনটিতেই ঔষধ নেই।
বিছানা থেকে উঠে জামার পকেটে হাত দিবে।
সেখানে কিছু ভাংতি টাকা দেখতে পাবে।
জামা গায়ে দিবে।
এক গ্লাস পানি মুখে দিয়ে।
ঘর থেকে বের হবে।
কাট

দৃশ্য-২
রিফাতের রুম/দিন
রিফাত, শামিমা
রিফাত অফিসে যাওয়ার জন্য তৈরী হচ্ছে। শামিমা আলমিরা খুলে একটি স্লিপ ধরিয়ে দিবে।

রিফাত : এটা কি?
শামিমা : পরে দেখ।
রিফাত : ১৬ হাজার টাকা ! গত মাসে না ৭ হাজার
টাকা দিলাম!
শামিমা : গত মাসে না, গত দু মাস আগে। ১৬
হাজার টাকা তাদের সেশন ফি..
রিফাত : আমিতো জানতাম এরা এমনই করবে কি দরকার ছিল বাবুকে ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ানো..
শমিমা : তাহলে কি বাংলা মিডিয়ামে পড়াব..
রিফাত : হ্যা..
শমিমা : তুমি যা বলনা বাংলা মিডিয়ামে পড়াশোনা
হয়?
রিফাত : কেন হবে না আমরা পরিনি?
শমিমা : তোমাদের সময় আর এখনকার সময় এক
না..
রিফাত : যাই হোক আমি এত টাকা দিতে পারব
না..
শমিমা : ত হলে কি করব পড়াশোনা বন্ধ করে
দিব?
রিফাত : যা ইচ্ছে কর কত করে বললাম আমি পারছিনা আমার এ মাসে সমস্যা আছে..সাগর টাকা চাইছে..এদিকে ব্যাঙ্কের দু মাসের কিস্তির টাকা বাকি পরিছে..
শামিমা : এ সব কথা আমাকে বলছ কেন? সাগরের আবার টাকা দরকার পরল কেন? যাই হোক এটা তোমাদের ব্যাপার শোন ভাবি গত কয়েক মাস ধরে চাপ দিচ্ছে।
রিফাত : কেন?
শামিমা : কেন আবার টাকার জন্য!
রিফাত : উনার কাছে না গহনা বন্ধক আছে?
শামিমা : তাতে কি উনিকি সারা জীবনের জন্য টাকা দিয়েছে নাকি? স্পস্ট জানিয়ে দিয়েছে আগামী মাসের মধ্যে টাকা না দিলে উনি গহনা গুলো বিক্রি করে দিবে।
রিফাত : যা ইচ্ছে করুক আমি আগামী মাসে টাকা
দিতে পারব না।
শমিমা : কী বলে­?
রিফাত : কী বলেছি শুনেছ..
শমিমা : তুমি গহনা গুলো আনবে না?
রিফাত : বলমতো না..(চিৎকার করে উঠবে)
শামিমা : তা পারবে কেন সেগুলোতো আমার আজ যদি সেগুলো তোমার বা তোমার পরিবারের কারো হতো….(কথাগুলো ঝগড়ার শুরে বলবে)

কাট টু
দৃশ্য-৩
ড্রইং রুম /দিন
শওকত
সওকত সাহেব দরজায় এসে দাড়াবে। ভিতরে ঝগড়ার শব্দ পেয়ে দরজা ধাক্কা না দিয়ে ফিরে আসবে। প্রধান দরজা খুলে শিড়ি বেয়ে নিচে নামবে। তার বুকে খুব ব্যাথা সে ঔষধের দোকানের দিকে যাবে।
কাট

দৃশ্য-৪
ঔষধের দোকান/দিন
শওকত
সওকত সাহেব একটি ঔষধের দোকানের সামনে এসে দাড়াবে। দোকান বন্ধ। ঘড়ি দেখবে।
স্বগত: মাত্র সারে আটটা বাজে নটার আগেতো দোকান খুলবে না। এতক্ষন অপেক্ষা করতে হলেত মারা যাব।
দোকানের সামনে পায়চারী করবে।
কাট

দৃশ্য-৫
ডাইনিং /দিন
সাগর, রিফাত, শামিমা

সাগর ও রিফাত নাস্তা করছে শামিমার প্রবেশ।

শামিমা : বাবাতো রুমে নেই।
সাগর ও রিফাত অবাক
রিফাত : বাবাতো ইদানিং মর্নিং ওয়াকে যায়না।
সাগর : বাইরে গেলেতো বলে যায়, বাথরুমে
নেইতো?
শামিমা : না বাথরুমে নেই সেখানে খুজেছি..
সাগর : ইদানিং অবশ্য বাবা ঔ ঔষধের দোকানটায় যায় সেখানে কিছুক্ষন বসে, ভাইয়া তোমকে যে বলেছিলাম তুমি কি ম্যানেজ করতে পাবেবে..
রিফাত : চুপ করে থাকবে..
শামিমা : তুমি টাকা দিয়ে কি করবে?
সাগর : ঢাকা মেডিকেলে এত সহজে চাঞ্ছ পাওয়া যায়না তাই ভাবছিলাম প্রাইভেট মেডিকেলে ভর্তি হব।
শামিমা : সেখানেতো অনেক টাকার ব্যাপার।
রিফাত : আর একটু মনযোগী হয়ে টেস্ট পরিক্ষাটা দিলেই হতো..তোর রেজাল্টতো খারাপ ছিলো না..
সাগর : এত এত ম্যারিড ছেলেদের মধ্যে চাঞ্ছ পাওয়া সো-টাফ..আমি বলছিলাম কি ভাইয়া গ্রামের বাড়িতে আমাদের যে জমিটা আছে..তা বিক্রী করে দিলে হয়তো আমাদের সব সমস্যার সমাধান হতো..
সাগর : বাবা রাজি হবে না..
শামিমা : কেন রাজি হবে না, গ্রামের বাড়িতেতো আমারা কেউ থাকব না সেটা বিক্রী করে দিয়ে যদি লোন শোধ করে বাড়িটা কúিÍড করা যায় তাহলে মনে হয় খারাপ হবে না তুমি বাবাকে একবার বলে দেখ।
রিফাত : মা বেঁচে থাকতে একবার বলেছিলাম মা বাবাকে এই কথা বলতে নিষেধ করেছে..
সাগর : মাকে নিয়ে গ্রামে বাবার অনেক স্মৃতি তাই হয়তো বলেছিল এখনতো মা নেই আমার মনে হয় বাবা অমত করবে না..
রিফাত : ঠিক আছে বলে দেখব বাবুকে কি তুমি নিয়ে আসবে নাকি আমার যেতে হবে..
শামিমা : আমিই নিয়ে আসব পারলে স্কুলের টাকাটা
একটু ম্যানেজ করো..
সাগর : ভাইয়া কি বের হবে?
সাগর : হ্যা..
সাগর : আমিও যাব আমাকে একটু নামিয়ে দিও..
সকলে উঠবে
কাট

দৃশ্য-৬
দোকান/দিন
শওকত, দোকানদার।
দোকনদার এসে দেখবে দোকানের সামনে বুকে হাত দিয়ে সওকত সাহেব দাড়িয়ে আছে।
দোকনাদার : কী ব্যাপার চাচা ঔষধ লাগব?
শওকত : হ্যা বুকটা ব্যাথা করছে প্রেসারও মনে হয়
বেড়েছে।
দোকানদার : দারান আমি দেখতাছি। (দোকান খুলবে, উভয়ে প্রবেশ করবে, প্রেসার মাপবে) প্রেসারতো অনেক । বুকের কোন যায়গায় ব্যাথা…
শওকত : (হাত দিয়ে বুকের বা দিকটা দেখাবে)
দোনদার : ব্যাথা কি অনেক বেশি?
শওকত : হু…
দোকানদার : আমি ঔষধ দিতাছি, তবে আমার মনে হয়
ডাক্তার দেখান উচিৎ..
শওকত : আপাতত ঔষধ দাও খেয়ে দেখি…।
দোকানদার : (ঔষধ দিবে) ডাক্তার আজই দেখাইবেন (একটা কার্ড দিবে) এই নেন ওনি এখন বাংলাদেশে সবচেয়ে ভালো হার্ড স্পেশালিস্টি..।
শওকত : ঠিক আছে যাব, তোমার কত হয়েছে?
দোকানদার : সত্তুর টেকা..
শওকত : আমার কাছেতো এতো হবে না..
দোকানদার : যা আছে দেন বাকিটা পরে দিলে হবে..
শওকত : ঠিক আছে এই নাও এখানে বিশ টাকা
আছে..
দোকানদার : ব্যাথার ঔষধটা নাস্তা খাওয়ার পর
খাবেন..
শওকত : আচ্ছা (প্রস্থান)
কাট

দৃশ্য-৭
ড্রইং কাম ডাইনিং/দিন
সওকত, শামিমা

শামিমা দরজা খুলে দিবে, সওকত সাহেবের প্রবেশ। ডাইনিং টেবিলে বসবে।
শামিমা : কোথায় গিয়েছিলেন?
শওকত : রিফাত কি চলে গেছে?
শামিমা : হ্যা আমরাতো সবাই আপনাকে খুজে
খুজে অস্থির…
শওকত : সাগর উঠেছে?
শামিমা : হ্যা ওরা দুজনতো একসাথে বের হয়ে
গেল?
শওকত : আমাকে একটু নাস্তা দাও বুকটা ব্যাথা করছে, ঔষধ খেতে হবে। পারলে রিফাতকে একটু খবর দাও আমার মনে হয় ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।
শামিমা : বাবা ও বিকেলে চলে আসবে আর এই টাইমে কোন ডাক্তার পাওয়া যাবে না। আপনি বসুন আমি নাস্তা নিয়ে আসছি। (প্রস্থান)
শওকত সাহেব বুকে হাত দিয়ে ব্যাথা অনুভব করবে, তার খুব অস্থির লাগছে। সে একবার চেয়ার ছেড়ে উঠবে আবার বসবে, একটু পায়চারী করবে।
কাট

দৃশ্য-৮
রান্না ঘর/দিন
শামিমা

রান্না ঘরে প্রবেশ করে ব্রেড ও কলা নিয়ে আসতে নিবে, আবার থেমে যাবে (স্বগত) “বাবা ডিম পোস খেতে পছন্দ করে।” নাস্তা প্লেট রেখে চুলা জালাবে।

ইন্টার কাট
শওকত সাহেব ঔষধ হাতে নাস্তার জন্য অপেক্ষা করছে। বুকে ব্যাথা অনুভব করছে।
শামিমা চুলায় ডিম ভাজবে। নাস্তা নিয়ে বের হবে।
কাট

দৃশ্য-৯
ডাইনিং/দিন
শওকত, শামিমা
বাবু, মিস (টিচার) রিফাত।
টেলিফোন
শওকত সাহেব অস্থির হয়ে নাস্তার জন্য অপেক্ষা করছে, শামিমার প্রবেশ। শওকত সাহেব কোনরকম এক পিস রুটি খেয়ে ঔষধ খাবে।

শামিমা : বাবা ডিমটা খান…।
শওকত : না বৌমা শরিরটা ভালো লাগছেনা..রিফাত
কখন আসবে বললে?
শামিমা : বিকেলের মধ্যে চলে আসবে। আমি ফোন
করে বলে দিচ্ছি ।
কাছেই রাখা টেলিফোন থেকে ফোন করবে।
শোন তুমি কোথায়..
রিফাত : অফিসে..
শামিমা : বাবা বলছিলো বাবা কে নিয়ে একটু
ডাক্তারের কাছে যেতে..
রিফাত : কি হয়েছে বাবার?
শামিমা : না তেমন কিছুনা, বলছিলো বুক ব্যাথা
করছে…
রিফাত : ও.. আমার তো এখন একটা জরুরী কাজ
বাবাকে বল বিকেলে নিয়ে যাব।
শামিমা : ঠিক আছে তারা তারী এসো.. রাখছি..
রিফাত : বায়..
শওকত : কি বললো?
শামিমা : বললো এখন কি একটা জরুরী কাজ
বিকেলে এসে আপনাকে নিয়ে ডাক্তারের
কাছে যাবে।
বেল বাজবে
শামিমা দরজা খুরে দিবে। বাবু ও মিস প্রবেশ করবে। বাবুর মাথায় ব্যান্ডেজ। শামিমা আতকে উঠবে।
শামিমা : কি হয়েছে বাবুর?
মিস : তেমন কিছু না খেলতে গিয়ে আঘাত পেয়েছে। আমারা প্রাথমিক চিকিৎসা করিয়েছি।
শামিমা : ও মাই গড, কি ভাবে ব্যাথা পেয়েছ তুমি?
কোথায় লেগেছে?
মিস : আপাতত কয়েক দিন স্কুলে না গেলেও
চলবে। আমি আসি।
শামিমা : জী আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
মিস : আসি..(প্রস্থান)
শওকত : কি হয়েছে দাদু তোমার এদিকে এসো..
বাবু : খেলতে গিয়ে পরে গেছি..
শামিমা : (আবার ফোন করবে রিফাতকে) শোন, বাবু পরে গিয়ে মাথায় ব্যাথা পেয়েছে তুমি তারা তারি চলে এসো..
রিফাত : বলকি! কি ভাবে পরলো!
শামিমা : খেলতে গিয়ে..
রিফাত : ফোন রাখ আমি আসছি..
শামিমা : (ফোন রাখবে)
কাট

দৃশ্য-১০
লিনাদের বাড়ি ড্রই/দিন
লিনা, সাগর
লিনা দরজা খুলতেই সগরের প্রবেশ।
লিনা : তুমি!
সাগর : অবাক হয়ার কি আছে?
লিনা : তুমিতো আমাদের বাসায় আসতেই চাওনা ভাবলাম কারো অসুখ বিসুখ করেছে নাকি?
সাগর : আরে না তেমন কিছুন না ফুপু কোথায়?
লিনা : মা শুয়ে আছে..আমিও শুয়ে ছিলাম মনটা ভালো লাগছে না, কী করব কোথায় ভর্তি হব এত আশা ছিল ডাক্তারী পড়ব তাতো হোলই না..
সাগর : আরে এত ভেঙ্গে পরোনাতো ভাইয়ার সাথে কথা হয়েছে প্রাইভেটে ভর্তি হব..
লিনা : সেখানেতো অনেক টাকা লাগবে..
সাগর : হ্যা গ্রামে জমিটা বিক্রী করে দিব।
লিনা : মামা কি রাজি হবে?
সাগর : মনে হয় হবে তা ছাড়া ভাইয়ারও টাকা
দরকার।
লিনা : তাওতো তোমাদের আছে আমাদের
তো…
সাগর : সে জন্যইতো বললাম চিন্তা কোরনা দুজনে এক সাথে ভর্তি হওয়া যায় সে ব্যাবস্থাই করছি।
লিনা : মানে!
সাগর : ভাইয়াকে ভার্তির টাকা বাড়িয়ে বলেছি। তুমি শুধু ফুপুকে রাজি করাবে ফুপু যেন আপত্তি না করে।
লিনা : মা মনে হয় জমি কিক্রীতে রাজি হবে না সেখান থেকে যা আসে তা দিয়েইতো আমাদের সংসার চলে।
সাগর : তোমাদের জমির কথাতো বলিনি আমাদের জমি কিক্রী করার সময় ফুপুর সিগ্নেচার লাগবে তখন ফুপু যেন আপত্তি না করেন।
লিনা : ঠিক আছে আমি বলব। কিন্তু তুমি আমার ভর্তির টাকা দিবে কেন?
সাগর : আমি দিলাম কোথায় তুমি তোমার মামার কাছ থেকে নিচ্ছ। আমিতো দিব কিছুদিন পর এই ধর ডাক্তারী পাশ করার পর। যখন তুমি আমার বৌ হবে…
লিনা : ইস সখ কত..মা তোমার ব্যাপারে জিজ্ঞেস
করেছিল..
সাগর : কী?
লিনা : এই তোমার সাথে প্রতিদিন দেখা হয় কি না, আমি তোমাকে পছন্দ করি কিনা, এই সব…
সাগর : তুমি কি বলেছ?
লিনা : যা সত্যি তাই বলেছি..
সাগর : সত্যি কথাটাইতো জানতে চাচ্ছি..
লিনা : আমি বলতে পারব না…
সাগর : এখানে এসে বস..
লিনা : না..
নেপথ্যে..লিনা কে এসেছে….
লিনা : দেখে যাও কে এসেছে..
সাগর দাড়াবে..
কাট

দৃশ্য-১১
সওকত সাহেবের রুম/দিন
সওকত

সওকত সাহেব শুয়ে আছে তার মুখ দিয়ে ব্যাথার শব্দ বের হচ্ছে, সে ওঠে বসবে। পানি খাবে, আবার শুয়ে পরবে। কলিং বেলের শব্দ পাবে।
স্বগত : ঐ বুঝি রিফাত এলো।
আবার উঠে বসবে রুম থেকে বের হবে।
কাট

দৃশ্য-১২
রিফাতের বেড/দিন
রিফাত, শামিমা, বাবু, ডাঃ, শওকত
বাবু শুয়ে আছে শামিমা মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। ডাক্তার বাবুকে পরিক্ষা করছে।

ডাঃ : বমি কোরেছিলো।
শামিমা : না..গায়ে জর আছে।
ডঃ : (থার্মমিটার মুখে লাগাবে)
সবাই বাবুর দিকে তাকিয়ে আছে।
ডঃ : (থার্মমিটার বের করে আনবে)
রিফাত : কত?
ডাঃ : খুব একটা বেশী না, ভয়ের খুব একটা কারন নেই তবে এখনি একটা সিটিস্ক্যান করিয়ে নেয়া ভালো। এক কাজ করুন ওকে নিয়েচলুন আমার সাথে।
শওকত সাহেবের প্রবেশ।
রিফাত বাবুকে কোলে নিবে।
শওকত : কেমন দেখলেন ডাঃ সাহেব..
ডাঃ : এখনি কিছু বলা যাচ্ছেনা..(প্রস্থান)
রিফাত : বাবা তোমার শরির এখন কেমন? বিকেলে তোমাকে নিয়ে হারুন সাহেবের চেম্বারে যাব টেলিফোনে এপয়েনম্যান্ট করেছি…।
সকলে বের হয়ে যাবে..
শওকত সাহেব বোকার মত তাকিয়ে থাকবে। তার চোখ দিয়ে পানি বের হবে। সে সব কিছু ঝাপসা দেখতে পাবে। বুকে হাত দিয়ে শুয়ে পরবে।

কাট টু

ফ্লাশ ব্যাক
দৃশ্য-১৩
হাসপাতাল/দিন
শওকত ও রিফাত
শওকত সাহেব অচেতন অবস্তায় স্বপ্ন দেখছে রিফাতে ছোট বেলার একটা ঘটনা।
রিফাতের বয়ষ তখন ৫ এ্যপেন্ডিক্স এর ব্যাথায় কাতরাচ্ছে।
বাবা রিফাতকে নিয়ে ছোটা ছুটি করছে।
ডাঃ রিফাতকে ট্রলিতে করে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে গেছে।
বাবা বাহিরে অপেক্ষা করছে।
তার কপাল বেয়ে ঘাম বের হচ্ছে,
চোখে মুখে টেনশান।

ডিজল্ভ হয়ে অপারেশনের পর রিফাতের কপালে হাত রাখবে।

ডাক শুনতে পাবে।“ বাবা..বাবা..”
কাট টু

দৃশ্য-১৪
হাসপাতাল/দিন
সওকত, রিফাত, সাগর, ডাঃ

সওকত সাহেব অচেতন হয়ে শুয়ে আছে। রিফাত বাবার কপালে হাত রেখেছে। সওকত সাহেব ধিরে ধিরে চোখ মেলবে। রিফাতকে দেখতে পাবে।
রিফাত : বাবা..বাবা..।
সওকত সাহেব অন্য দিকে চোখ ঘুরাবে। সেখানে সাগর দাড়িয়ে আছে।
সাগর : বাবা এখন কি ব্যাথা আছে?
ডাঃ প্রবেশ
ডাঃ : জ্ঞান ফিরেছে না? এখন আর দুশ্চিন্তার কিছু নেই। (হাতে ইসিজি পেপার বের করে বলবে) যা ধারনা করেছি তাই। তিনটি ব্লক আছে।
রিফাত : তাহলেতো ওপেন হার্ড সার্জরী করতে
হবে।
ডাঃ : হু..
সাগর : বিদেশ নিতে হবে?
ডাঃ : কেন আমাদের এখানেই হয়।
রিফাত : কেমন খরচ হতে পারে?
ডাঃ : এটা অবশ্য ডিপেন্ড করে..
সাগর : মুটামুটি একটা আইডিয়া..
ডাঃ : তা প্রায় লাখ দশেক..
সাগর : এত..!
ডাঃ : কমও হতে পারে বেশিও লাগতে পারে। আপনারা আমার চেম্বারে আসুন উনি কিছুক্ষন রেস্টে থাকবে।
সবাই বের হয়ে যাবে।
শওকত সাহেব তাকিয়ে থাকবে।
কাট টু
ফ্লাশ ব্যাক

দৃশ্য-১৫
বেড রুম/রাত
শওকত, রিফাত, মিনু
রিফাতের ছোট বেলার একটি স্মৃতি কল্পনা করবে, রিফাত তখন ছোট তার গায়ে প্রচন্ড জ্বর। বাইরে ভিষন বৃষ্টি। ডাঃ না পেয়ে আবার বাড়িতে ফিরেছে শওকত।

রিফাত শুয়ে আছে মিনু রিফাতের মাথায় জল পট্টি দিচ্ছে। আধা ভেজা হয়ে শওকত সাহেবের প্রবেশ।
শওকত : (ঘড়ির দিকে তাকাবে। ১০ টা ৩০ বাজে) ডাঃ পেলামনা দোকনটা বন্ধ বাইরে যে ঝড় বৃষ্টি হচ্ছে। (জামা বদলাতে বদলাতে কথা গুলো বলবে।) জ্বর কি বেড়েছে?
মিনু : হু..
শওকত : খারাপ লাগছে বাবা..
রিফাত : কোলে..
মা : শুয়ে থাকো কোলে উঠতে হবে না।
শওকত : তুমি যাও দুধটা গরম করে নিয়ে এসে।
আমি দেখছি।
মায়ের প্রস্থান
শওকত সাহেব রিফাতকে একটি কাথা মুরি দিয়ে কোলে তুলে নিবে।
শওকত : খুব খারপ লাগছে বাবা?
রিফাত : হু..।
শওকত : খুদা লেগেছে কিছু খাবে?
রিফাত : না..রাক্ষসের গল্প বল..
আকাশে বজ্র্যপাত হবে। রিফাত ভয় পাবে। শওকত সাহেব রিফাতকে জরীয়ে ধরবে।
শওকত : লাইলাহা ইল­ালাহ..(বিছানায় শুইয়ে দিবে। জ্বর দেখবে। স্বগত) “ জ্বরতো বেড়েই চলেছে” বাবা তুমি একটু থাক আমি একটু বাধরুম থেকে আসি..
রিফাত : না.তুমি যাবে না আমার ভয় করে..
শওকত : আমি এখনি চলে আসব..
রিফাত : না..
শওকত : আচ্ছা ঠিক আছে আমি যাব না..(জল পট্টি
লাগাবে)
ডিজল্ব হয়ে সকালে আলো দেখা যাবে। পাখি ডাকছে।
শওকত সাহেব ছেলের হাত ধরে পাশে বসে ঘুমিয়ে আছে। পাশে আধ শোয়া হয়ে মিনু ঘুমাচ্ছো
ডিজল্ব
কাট টু

দৃশ্য-১৬
সওকত সাহেবের বাড়ি
রান্না ঘর/সকাল
শামিমা
বাড়িতে মেহমান এসেছে তাই চা বান্নাচ্ছে। চা নিয়ে প্রস্থান।

কাট টু

দৃশ্য-১৭
ড্রইং রুম/দিন
রিফাত, সাগর, আলী চাচা, শামিমা।
আলী চাচা জমির ব্রোকার। জমীর দলিল ভালো করে পরিক্ষা করছে, একটি কাগছে কি যেন লিখছে। রিফাত ও সাগর গালে হাত দিয়ে বসে আছে। চা হাতে শামিমার প্রবেশ।
শামিমা : চা নিন?
আলী : চা আনছ এসবের কি দরকার ছিল।
শামিমা : এমন আর কি শুধু চা।
আলী : আমিতো পান খাইতাছি। আবার কুলি
করতে হইব।
শামিমা : বেসিনে কুলি করুন।
আলী বেসিনে কুলি করতে যাবে।
শামিমা : আব্বার সাথে কথা বলেছ?
রিফাত : (হা সুচক মাথা নাড়াবে)
শামিমা : (সাগরের উদ্দেশ্যে) তুমি বলেছ?
সাগর : ভাইয়া বললেই হবে।
আলী ফিরে আসবে।
আলী : সব মিলাইয়া তিন বিঘার চেয়ে একটু কম ধানী জমি, আর ভিটা হইলো ১২ শতাংশ
সাগর : তিন বিঘার কম হবে কেন আমিতো জানি। ৫ বিঘার মত ধানী জমি আছে..
আলী : (একটু হেসে) পুরাটাতো তোমগ না
তোমার ফুপুর অংশ আছে না..
ইন্টার কাট

দৃশ্য-১৮
শওকত সাহেবের বেড/দিন
শওকত
আলমিরা থেকে একটি এ্যলবাম বের করবে। এ্যলবামটি নিয়ে বিছানায় বসবে।
সেখান থেকে রিফাত ও সাগরের একটি পুরান ছবি বের করবে। দেখে হাসবে।

দৃশ্য-১৯
ড্রইং রুম/দিন
রিফাত, সাগর, আলী চাচা, শামিমা।

রিফাত : সব মিলিয়ে কত দাম হয় তাই বলুন।
আলী : বলতাছি, তাই বলতাছি। তিন বিঘার একটু কম আচ্ছা ধরলাম তিন বিঘাই, তিন তিরিখে নয়…আর..
সাগর : তিন তিরিখে নয় হবে কেন আমিতো গত
বৎসরই শুনেছি চারলাখ টাকা বিঘা..
আলী : হ ঠিকই কইছ গত বৎসর আছিল এই বৎসর আবার একটু কইমা গেছে.. আর তা ছাড়া তাড়াহুড়া কইরা বেচলে একটু কমেই বেচন লাগে।
রিফাত : সব মিলিয়ে কত হয় বলুন?
আলী : বলতাছি..তিন তিরিখে নয় আর ভিটি টা বেচতে পারবা ৪ কইরা, তাইলে ১২ সতাংশের দাম আসে ২৪০০০০। তাইলে মোট হইলো নয় লাখ আর দুই লাখ ১১ লাখ ৪০ হাজার খরচ-মরচ গিয়া থাকবো ১১ লাখ।
সাগর : মাত্র এগার লাখ!

দৃশ্য-২০
শওকত সাহেবের বেড/দিন
শওকত
সওকত সাহেব একের পর এক ছবি দেখে যাচ্ছে। আবার একটি ছবি বের করবে। দু ভাই একজন ইঞ্জীনিয়রের গেট আপ অন্যজনের ডাক্তার এর এপ্রন পরা। ছবি থেকে ওয়াইড হতেই দেখা যাবে..

কাট টু
দৃশ্য-২১
পুরাতন ড্রইং/দিন
শওকত, রিফাত ও সাগর (ছোট) মিনু।
মিনু ছবি তুলে সোফায় এসে বসবে।
মিনু : এত খেলনা থাকতে তুমি আবার এসব
আনতে গেলে কেন?
শওকত : আনবোনা, আমার এক ছেলে ইঞ্জীনিয়ার আর একছেলে হবে ডাক্তার তাই এখন থেকে তাদের মনের মধ্যে বীজটা বোপন করে দিচ্ছি।
মিনু : বীজ বোপন করতে হবে না ওরা সারাদিনই নিজেদেকে ডাক্তার ইঞ্জীনিয়ার ভাবে। একজন সব খেলনা ভেঙ্গে আবার জোরা লাগায় আর একজন আছে পশুপাখির চিকিৎসা নিয়ে।
শওকত : ভেরী গুড, ইঞ্জীনিয়ার হয়ে তুমি প্রথমে কি
করবে?
রিফাত : আমাদের বাড়ি বানাব।
শওকত : আর তুমি ডাক্তর হয়ে প্রথমে কি করবে।
সাগর : প্রথমে তোমার চিকিৎসা করব।
শওকত : আমার চিকিৎসা করবে! আমারতো কিছু হয়নি আমার কি চিকিৎসা করবে..হ্যা..হ্যা..।
কাট

ফ্লাশ ইন
দৃশ্য-২২
বেড/দিন
শওকত
শওকত সাহেব ছবির দিকে তাকিয়ে কল্পনা করছিল। কল্পনা ভাঙ্গতেই হাসবে, স্বগত বলবে।
“আমার একটি আশা পুরন হযেছে আর একটি হলে মরেও শান্তি পাব।” দীর্ঘশাস নিবে” এ্যলবামটা হাতে নিয়ে আলমিরাতে রাখবে।
কাট

দৃশ্য-২৩
ড্রইং রুম/দিন
রিফাত, সাগর, আলী চাচা, শামিমা, শওকত।
আলী : হু যদি রাজী থাক তাইলে আমি আজই কিছু বায়না কইরা যামু পার্টি রেডি, ১৫ দিনের মধ্যে রেস্ট্রি কইরা পুরা টাকা ক্যাশ কইরা দিমু।
রিফাত : চাচা আপনাকে বায়না করতে হবে না আপনি পার্টির সাথে আলাপ করেন। যত তারা তারি সম্ভব আপনি রেজেস্ট্রি ব্যাবস্থা করুন।
আলী : আল হামদুলিল­াহ্..
সাগর : ভাইয়া আর একটু দেখলে হতো না..
শামিমা : আমিও তাই বলি..
আলী : কোন অসুভিদা নাই তোমগো যদি দেখার ইচ্ছা হয় দেখতে পার আমার কোন আপত্তি নাই।
রিফাত : নানা দেখাদেখির কিচ্ছু নেই আপনি
ব্যাবস্থা করুন।
আলী : এইতো সমজদারের মত কথা..এই টাকাটা রাখ..এই খানে ১০ হাজার আছে..।
সাগর : ভাইয়াতো বললোই বায়না করতে হবে
না।
আলী : রাগ কর কেন সব কিছুরই একটা নিয়ম
আছে।
রিফাত : টেবিলেই রাখেন,
আলী : আচ্ছা, (টাকা রাখবে) এই খানে একটা সই করো। বায়না বাবদ ১০ হাজার টাকা বুইজ্জা পাইলাম এই কথাটা লেইখা একটা সই কর, সব কিছু লিখিত থাকা ভালো..
রিফাত : (কাগজটি নিয়ে লিখবে এবং সিগ্নেচার
করবে)
আলী : আমি তাইলে আসি আমি দু একদিনের
মধ্যে আবার আসমু।
রিফাত : জ্বী সালামুয়ালাইকুম।
আলী : ওয়ালাইকুম সালাম আসি মা, আসি..
(প্রস্থান)
সাগর : এটা কি করলে ভাইয়া, বাবার নিজেরইতো লাগবে প্রায় ১০ লাখ.. আমার লাগবে ৫ লাখ.. সব মিলিয়ে আসবেই ১১ লাখ..
রিফাত : কি করব..
শামিমা : কি করবে মানে আরো দু একজনের সাথে
কথা বলবে।
রিফাত : আমি আরো দুজনের সাথে কথা বলেছি তারা আরো কম বলেছে।
সাগর : প্রয়োজনে আমি কাল বাড়িতে যাব। কম পক্ষে ১৫ লাখ হলে সব সমাধান হয়। ভাইয়া তুমি একবার আমার দিকটা চিন্তা কর। আমি ভর্তি হতে না পারলে আমার লাইফটা নষ্ট হয়ে যাবে।
শওকত সাহেবের প্রবেশ।
শওকত : কি নষ্ট হবে..
শামিমা : আব্বা আপনি এই শরির নিয়ে আবার..
শওকত : কিচ্ছু হবে না, আমি বেশ ভালো আছি, কিরে আলীর না আসার কথা ছিলো।
রিফাত : হ্যা বাবা এসে চলে গেছে।
শওকত : আমাকে ডাকলিনা কেন?
সাগর : বাবা তোমার শরিরটা এখন কেমন?
শওকত : আমিতো একদম সু¯থ হয়ে গেছি। আলী
কত বললো ।
রিফাত : ১১ লাখ..
শওকত : ভালোইতো বলেছে, জমির দাম এত
বেড়ে গেছে নাকি?
সাগর : আমি একটু বাইরে যাচ্ছি..(একটু রেগে
প্রস্থান)
সকলে অবাক হয়ে সাগরের দিকে তাকাবে।
কাট টু
দৃশ্য-২৪
ছাদ/দিন
লিনা, সাগর
লিনা হেটে হেটে অন্য প্রান্তে দাড়ীয়ে থাকা সাগরের কাছে যাবে। সাগর অন্যদিকে মুখ করে আছে তার মন খুব খারাপ।
লিনা : তুমি এত রেগে আছে কেন? মামার
চিকিৎসাটাতো খুব জরুরী..
সাগর : আমি কি বাবার চিকিৎসার ব্যাপারে কিছু
বলেছি?
লিনা : তা হলে?
সাগর : আরে যে জমি চোখ বন্ধ করে ১৫ লাখ টাকায় বিক্রি করা যায় ভাইয়া ১১ লাখ টাকায় তা রাজি হয়ে গেছে।
লিনা : তুমি যদি ১৫ লাখ টাকায় বিক্রি করতে
পারে তাহলে ভাইয়াকে বল..
সাগর : কি বলব ভাইয়া বায়নার টাকা নিয়ে
নিয়েছে।
লিনা : তা হলেতো সমস্যা..। তুমি মাথা ঠান্ডা কর একটা না একটা ব্যাবস্থা হবেই। আচ্ছা রিফাত ভায়ের কি অবস্তা এই টাকাতো উনি নিজেই বেয়ার করতে পারে।
সাগর : ভাইয়ারও একই অবস্তা একটি প্রজেক্টের কাজ অর্ধেক হয়ে আটকে আছে। অল্প কিছু কাজ বাকি তাই বিল পাচ্ছে না। সে আসাতেই তো বসে ছিলাম ভাইয়ার প্রজেক্ট কমপ্লিড করার জন্যই জমিটা বিক্র করার কথা ছিল ভেবে ছিলাম সেখান থেকে আমি অর্ধেক নিয়ে ভার্তি হব। আশার গুরে বালি।
লিনা : আমিকি মাকে বলব আমাদের জমিটাও।
সাগর : না..ফারদার এ কথা আর কখনও বলবে
না।
লিনা : আচ্ছা ঠিক আছে বলব না এখন চলতো কোথাও থেকে ঘুরে আসি একদম ভালো লাগছে না।
সাগর : চল..
ফ্রেম আউট
কাট

দৃশ্য-২৫
রিফাতের অফিস/দিন
রিফাত, ডাঃ, ম্যানেজার, শওকত।
রিফাত মন খারাপ করে বসে আছে। মনেজারের প্রবেশ।
রিফাত : লোনটা হয়েছে?
ম্যানেজার : জীনা সার ডিকলাইন করেছে।
রিফাত : কারন উলে­খ করেছে?
ম্যানেজার : জীনা সার, আলম সাহেবের কাছে একবার
চেয়ে দেখবেন?
রিফাত : চেয়েছিলাম ক্যাস নেই বলেছে, আমাদর
আসলে আর কত হলে নামবে?
ম্যানেজার : সার আর মাত্র ৫-৬ লাখ হলে… বাকিটা ডিও রাখা যেতো..তারপরতো সার মাস খানেকের মধ্যে আমরা একটা পার্ট পেমেন্ট পেয়ে যাব।
ফোন বাজবে।
রিফাত : হ্যালো কে বাবা..কি হয়েছে..
শওকত : না আমার কিছু হয়নি তুই কি ব্যাস্ত..
রিফাত : না, ম্যানেজার সাহেব আপনি যান আমি
দেখছি..
(ম্যানেজারের প্রস্থান)
বাবা বল..
শওকত : শোন আমার শরির এখন ভালো তোর আমাকে নিয়ে ব্যাস্ত হোসনে, সাগরের ভর্তির ব্যাবস্তাটা কর আমার চিকিৎসা না হয় কিছুদিন পর করলি।
রিফাত : সাগর কিছু বলেছে?
শওকত : না না ও কিছু বলেনি।
রিফাত : বাবা তুমি রেস্ট নাও আমি দেখছি।
শওকত : আমি কিন্তু চিন্তা-ভাবনা করেই বলছি তুই
সাগরের ভর্তির ব্যাবস্থা কর..
রিফাত : বাবা আমি তোমর সাথে পরে আবার এ
ব্যাপারে কথা বলব।
শওকত : আচ্ছা ঠিক আছে রাখছি।
রিফাত ফোন রেখে কিছুক্ষন চিন্তা করে।
ডাঃ সাহেবকে ফোন করবে।
রিফাত : আমি রিফাত ফলছি, রিফাত কনস্ট্রাকশন
থেকে।
ডাঃ : জী আপনার বাবার শরির কেমন, কাল কি
আসছেন ?
রিফাত : জী, মানে, বাবার শরিরটা এখন খুব ভালো দেখেতো মনে হয় একদম সুস্থ।
ডাঃ : হ্যা কিছুদিন হয়তো সুস্থ লাগবে আবার যে
কোন সময় এটাক হতে পারে।
রিফাত : ডাঃ সাহেব আমি আসলে যে জন্যে ফোন করেছিলাম উনার আপারেশনটা এক মাস পরে করলে কোন সমস্যা হবে?
ডাঃ : সেটাতো বলা যাবে না তবে যত দ্রুত করা
যায় ততই ভাল।
রিফাত : না মানে বলছিলাম কি..
ডাঃ : টাকা ম্যানেজ হয়নি..
রিফাত : জ্বী মানে..
ডাঃ : ঠিক আছে আপনি ম্যানেজ করুন আশা করি দু এক মাসে তোমন কোন সমস্য হবে না।
রিফাত : তা হলে দু মাস পরে করি।
ডাঃ : ঠিক আছে. আর কিছু বলবেন?
রিফাত : জী না থ্যাঙ্কইউ.. (ফোন রাখবে)

(মিউট)
ম্যানেজার সাহেবকে ফোন করবে,
চেক বই বের করবে।
ম্যানেজার আসতেই চেক দিবে।
ম্যানেজার আন্দদীত ভঙ্গিতে চেক নিয়ে চলে যাবে।
রিফাত ফোন উঠাবে সাগরকে ফোন করবে।
সাগর লিনাকে নিয়ে পার্কে হাটছিলো।
ভাইয়ার ফোন পেয়ে খুশি হবে।
কিছুক্ষন কথা বলবে।
রিফাতের অফিসে সাগর ও লিনা আসবে।
রিফাত কয়েএকটি টাকার বান্ডিল সাগরকে দিবে।
সাগর টাকা নিয়ে চলে যাবে।
রিফাত গাড়ি নিয়ে সাইটে এসে দাড়াবে দেখবে পুরো দোমে কাজ হচ্ছে।
কাট

দৃশ্য-২৬
শওকত সাহেবের বেড /দিন
শওকত সাহেব বাধরুম থেকে বের হয়ে বুকে ব্যাথা অনুভব করবে।
কিছু ঔষধ খাবে।
তার পরও ব্যাথা কমবে না। শুয়ে পরবে।
কাট

দৃশ্য-২৬-
ডাইনিং/দিন
সাগর, শামিমা।

সাগর ডাক্তারদের এ্যপ্রন পরে ডানিং এ এসে বসবে। শামিমা নাস্তা নিয়ে আসবে।
শামিমা : কি ব্যাপার আজই কি প্রথম ক্লাস।
সাগর : হ্যা ভাবি, ভাবি ভাইয়া কোথায়?
শামিমা : তোমার ভাইয়াতো সকালে উঠেই চলে গেছে বাবুকে নামিয়ে দিয়ে সাইটে যাবে।
সাগর : বাবা উঠেনে? ভাবছি বাবাকে সালাম করে
তার পর যাব।
শামিমা : উঠেছে হয়তো, তুমি বস আমি ডাকছি। (প্রস্থান)
কাট

দৃশ্য-২৭
শওকত সাহেবের বেড/দিন
শওকত, শামিমা, সাগর
শওকত সাহেব ব্যাথা সয্য করতে পারছেনা না।
শামিমা দরজায় করা নারবে।

শামিমা : বাবা আসবো..
শওকত : এসো..
শামিমা : বাবা সাগর আজই প্রথম ক্লাসে যাচ্ছে আপনাকে সালাম করে যেতে চাইছে।
শওকত : (একটু হাসবে) যেতে বল..
শামিমা : আপনি আসুন..
শওকত সাহেব উঠতে নিবে বুকের ব্যাথায়
শুয়ে পরবে।
শামিমা : (চিৎকার করবে) সাগর… (পাশে গিয়ে
ধরবে)
সাগর : ( দ্রুত রুমে পবেশ করবে বাবাকে ধরবে)
বাবা..
শওকত সাহেব সাগরের মুখ ঘোলা দেখতে পাবে। তার চখের সামনে ভেসে আসবে (২১ নং দৃশ্য) “শওকত: তুমি ডাক্তর হয়ে প্রথমে কি করবে।

সাগর : প্রথমে তোমার চিকিৎসা করব।
শওকত : আমার চিকিৎসা করবে? আমর চিকিৎসা করবে আমারতো কিছু হয়নি আমার কি চিকিৎসা করবে..হ্যা..হ্যা..।
এ্যম্বলেন্সের শব্দ হবে।
কাট টু

দৃশ্য-২৮
ডাঃ চেম্বার/দিন
ডাঃ, রিফাত
রিফাত টেবিলে উপর মাথা নিচু করে বসে আছে। ডাঃ তার চেয়ারে বসে কথা বলছে।

ডাঃ :এই মুহুর্তে টাকা জোগার করতে না
পালেতো আপনার বাবাকে বাচাঁতে
পাবেননা।
রিফাত : ডাঃ সাহেব আর মাত্র কয়েএকটা দিন..
ডাঃ : সরি আপনার তিন মাসে টাকা জোগাতে পারেন নি কয়েএকটা দিনে কি ভাবে সম্ভব।
রিফাত : ডাঃ সাহেব আমি কথা দিচ্ছি আর মাত্র
কয়েএকটা দিন..
ইন্টার কম বাজবে।

ডাঃ : বলুন.. (অবাক) ইফতেকার সার নেই…..উনিই বলেছেন..। ঠিক আছে আমি আসছি.. আপনারা রিলিজের ব্যাবস্থা করুন।
সরি মিস্টার রিফাত আপনার বাবা আর
নেই..(উঠে চলে যাবে)

রিফাত শক্ত হয়ে যাবে তার কপাল বেয়ে ঘাম ঝরতে থাকবে। সে উঠে হাসপাতালে লন ধরে হাটতে থাকবে। তার চখের সামনে ভেসে আসবে ছোট বেলার বাবার সাথে স্মৃতি ময় দৃশ্য-

১। অফিস থেকে ফিরে লনে তাকে জরিয়ে ধরার দৃশ্য।
দৃশ্য-২৯
লন/দিন
শওকত, রিফাত
রিফাত বাবা বলে চিতকার করে যাবে।
শওকত সাহেব জরিয়ে ধরে শুনে তুলে তাকে ঘুরাবে।
ফ্লাশ ইন
রিফাত তার ব্লেজার খুলে হাসপাতালের লনে ফেলে দিবে।
কট

ফ্লাশ ব্যাক
২। অসুখে তাকে সেবার করার দৃশ্য।
(দৃশ্য-১৫ অংশ)
“শওকত সাহেব রিফাতকে একটি কাথা মুরি দিয়ে কোলে তুলে নিবে।
শওকত : খুব খারপ লাগছে বাবা?
রিফাত : হু..।
শওকত : খুদা লেগেছে কিছু খাবে?
রিফাত : না..রাক্ষসের গল্প বল..”

কাট

ফ্লাশ ইন
রিফাত তার টাই খুলে হাসপাতালের লনে ফেলে দিবে।

ফ্লাশ ব্যাক
৩। গল্প করে তাকে ঘুম পারানোর দৃশ্য

ফ্লাশ ব্যাক
দৃশ্য-৩০
পুরাতন বারান্দা/রাত
শওকত, রিফাত (ছাট)
রাতের বেলা চেয়ারে বাবার কোলে বসে সে রাক্ষসের গল্প শুনতো।
শওকত : তার পর গুহার ভেতর ডুকে রাজা আর
রাজ পুত্র দেখতে পেলো প্রকান্ড এক রাক্ষস
হাউ মাউ খাও মানুষের গন্ধ পাও কেরে তোরা?
-আমরা মানুষ রাক্ষস মামা বাপ আর ছেলে।
রাক্ষস বললো কাকে আগে খাবো তোকে না তোর ছেলে কে…

শওকত : বল কাকে আগে খাবে তোমাকে না
আমাকে..
রিফাত : তোমাকে..
শওকত : না তোমাকে..
রিফাত : তোমাকে..
শওকত : (জরীয়ে ধরে) রক্ষস যেন আমাকই আগে
খায়…
কাট

ফ্লাশ ইন
দৃশ্য-৩১
হাসপাতাল/দিন
শওকত, রিফাত, সাগর
স্ট্রেচার
সাগর এসে রিফাতের কাধে মাথা ঠেকাবে। রিফাত সম্মিত ফিরে পাবে।
সামনেই দেখতে পাবে কাপরে মড়োন বাবার লাশ..
রিফাত কাপর খুলে বাবাকে দেখবে। বলবে,
“রাক্ষস তোমাকেই আগে খেলো বাবা”

***** সমাপ্ত *****
বাবা

রচনা: হাসান-উজ-জামান
পরিচালনা: শাহীনা আকতার

কাহিনী সংক্ষেপ: শওকত সাহেবের দুই ছেলে শওকত ও সাগর। স্ত্রী গত হয়েছে বেশ কিছুদিন আগে। বড় ছেলে ইঞ্জীনিয়ার ছোট ছেলের ইচ্ছে ডাক্তারী পরবে। হঠাৎ করেই শওকত সাহেবের হার্ট এ্যটাক হয়, হার্ডে ব্লক ধরা পরে। চিকিৎসার জন্য প্রায় দশ লক্ষ টাকার দরকার। অন্য দিকে সাগর ঢাকা মেডিক্যালে চাঞ্ছ না পেয়ে সিদ্বান্ত নেয় প্রাইভেট মেডিক্যালে ভর্তি হওয়ার, সেখানে অনেক খরচ। বড় ভাই রিফাতেরও টাকার প্রয়োজন কিছু টাকার জন্য তার প্রোজেক্টের কাজ প্রায় বন্ধ। সব বিবেচনা করে গ্রামের জমি বিক্রি করার সিদ্বান্ত নেয় কিন্তু জমি বিক্রী করে যে পরিমান টাকা পাওয়া যাবে এতে করে বাবার চিকিৎসর পর আর কোন টাকাই থাকবে না। দু ভায়েরই খুব মন খারাপ হয়। ব্যাপারটি বাবা বুঝতে পেরে নিজের শাররিক অসুস্থতা গোপন করে। ছেলেদের মন রক্ষা করার চেষ্ঠা করে। দু’ভাই যে যার প্রয়োজনে টাকা খরচ করে ফেলে। এক সময় শওকত সাহেব যখন আবার গুরুতর অসুস্ত হয়ে পরে তখন টাকার অভাবে আর তাকে বাচানো যায় না। কি ভাবে মৃদু অবেহেলায় পরিসমাপ্তি ঘটে স্নেহময় একজন বাবার সেটাই এই গল্পে দেখানো হয়েছে।