বসন্তের ফুল
রচনা: হাসান-উজ-জামান
তারিখ:২১/০৭/০৬

একটি কাল্পনিক ঘটনা।

সময় কাল: ৪০ এর দশক

 

দৃশ্য-১

বসন্তের শেষ শীতের শুরু। নদীতে জোয়ার। আলো-আধারীতে ছোট-ছোট ঢেউ এসে আছড়ে পরছে নদীর তীরে। আকাশে থালার মত রূপালী চাঁদ। নদীতে চাঁদের প্রতিচ্ছবি দেখা যাচ্ছে ।
ঝিঁঝিঁ পোকারা ডাকছে।
জঙ্গলের ভিতর কিসের একটা শব্দ, কিছু একটা নড়া চরা করছে।
কুকুরের চক-চোকে চোখ। পূর্ণিমার চাঁদের আলো পরেছে তার চোখে তাই হয়তো এমনটি দেখা যাচ্ছে, কুকুরটি তার আশে-পাশে তাকিয়ে আবার নিজের কাজে মন দিয়েছে।
কিছু একটা ছিঁড়ে-ছিঁড়ে খাচ্ছে।
মৃত মানুষের একজোড়া পা নড়তে দেখা যাচ্ছে। আস্তে আস্তে পা দুটি জঙ্গলের ভিতরে চলে যাবে। মনে হবে কেউ যেন মৃত লাশ টেনে নিয়ে হচ্ছে।
কেনো এই মৃত মানুষটিকে কুকুর খাচ্ছে গল্পেরে ভিতরে নিশ্চয়ই বিষয়টি যানা যাবে।

চাঁদ ডুবে গিয়ে সূর্য উঠছে। পাখ-পাখালির কলতান শোনা যাবে।

দৃশ্য-২

পাখির শব্দ বিলীন হয়ে ইঞ্জিনের ভট ভট শব্দ তীব্র হবে।
দুরে একটি লঞ্চ তীরে ভিড়ছে। আয়েশি এক সারেং খুব সতর্কতার সাথে তার স্টেয়ারিং হুইল ঘোরাচ্ছে।
ভদ্রলোকটিকে যে কেউ মাছ বাজারে দেখলেও বলে দিতে পারবে যে সে, সারেং, আকাশের দিকে বাকানো করা তার বাহারি গোঁফ, মোটা-মোটি স্বাস্থবান, চুল গুলো তেল দিয়ে মাঝখানে সিথী করে পরিপাটি ভাবে আচরান, চিরুনি টা তার পকেটেই থাকে। একটু পরপর মাথাটা আচরে গোফ গুলোকে বাকিয়ে দেন এটা তার একটি মুদ্রা দোষ হয়ে গেছে।
নোঙর ফেলার পর স্টার্ট বন্ধের ঘণ্টা বাজিয়ে। পকেট থেকে চিরনি বের করে মাথাটা আচরাবে, সামনেই কাঠের ফ্রেমে বাধন আয়নায় নিজেকে এক বার দেখবে গুন গুন করে দু লাইন গাইবে।

লঞ্চ থেকে নেমে আসবে ষাট বৎসরের এক বৃদ্ধ নাম গনেষ। তার পরনে ধুতি পাঞ্জাবী, বগলে ছাতা। সে খুব ব্যস্ততার সাথে লঞ্চ থেকে নামবে।

যাত্রীরা জানালা দিয়ে কৌতূহলী হয়ে উঁকি দিবে কিছুই দেখতে পাবে না। তাদের চোখ মুখ দেখেই বোঝা যাবে তারা খুব আকর্শনিয় কিছু একটা দেখার অপেক্ষায় আছে। তুচ্ছ বিষয়ে মানুষের আকর্শন চিরকালের আর যদি হয় বাঙ্গালী তা হলে তো কথাই নেই। এক হাতে বানর আর অন্য হাতে ডুগ-ডুগি আর ডুগ-ডুগিতে দু’চারটি বাড়ি দিতেই বিরানভুমিতেও মুহুর্তে শত-শত লোক জমে জাবে। শুধু বানর আর ডুগ-ডুগি কেন সাপ আর বিন অথবা কোথাও একটু খোড়াখুরি হচ্ছে, সেখানেও উৎসুক মানুষে অভাব নেই, আর এতো হচ্ছে সাক্ষাত বিদেশি তার উপরে রানি বিক্টরীয়ার নাতনি, হোক সেটা দুর সম্পের্কের। এক সাথে একই লঞ্চে যাবে পরম ভাগ্য ছাড়া আর কি হতে পারে।

গনেষকে দেখা যাচ্ছে খুব দ্রুত পায়ে এগোচ্ছে। ঘাট থেকে বাড়ি কতটা দুরে কে যানে।

বসন্তের ফুল | Page -2