১১

রহিমের উঠানে পরে আছে কাপরে মরান তার ছেলের মৃত দেহ, বারান্দার চৌখাটে বসে আছে তার স্ত্রী রহিমা।
হন্ত দন্ত হয়ে রহিম উঠানে প্রবেশ করেই চিৎকার করে ডাকতে থাকে..
আমেনা আমেনা কেউ আইলো না রে কেউ আইলো না তোর পোলার জানাজায় কেউ আইলো না।
তার দুচোখ দিয়ে অঝর ধারায় পানি ঝরতে থাকে।
চল আমাগ বাঁচতে হইলে শহরে যাইতে হইব এই গ্রামে আর কোন মানুষ নাই, কি হইলো উঠ।

আমেনা এক বার চোখ খুলে আবার বন্ধ করে ফেলবে, তার সারা মুখে বসন্তের গোটা কথা বলার মত সামান্য শক্তিও তার শরিরে নেই। একটু আগেও সে হাটা চলা ফেরা করেছে। অনেক শক্ত মনের পরিচয় দিয়েছে। খোকা মরার পর নিজের হাতে তাকে গোসল করিয়েছে এই রকম মরার গোসলে লোক পাওয়া যায় না সে জানতো। অনেক আদরের ছেল খোকা। এর আগেও দুই দুটি সন্তান তার জন্মের সময় মারা গেছে। খোকাকে সে কখনও চখের আড়াল হতে দিত না। খোকাও তার আচল ধরে ঘুরত।
আমেনার নির্লিপ্ততা দেখে রহিম তার কাছে গিয়ে ধাক্কা দিবে।
আমেনা ! আমেনা!
কাধে ধরতে আমেনা মাটিতে শুয়ে পরবে। রহিম হতবাক হয়ে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে হাউ মাউ করে কেদে উঠবে। তার কান্নার শব্দ আকাশের বজ্রপাতের মতই শুনাবে।

১২
বাড়ির ঠিক পিছনে গাছের ছায়া ঘেরা জংলার মত একটি যায়গা। রহিম একে একে তার স্ত্রী এবং ছেলের মৃত দেহ এনে রাখবে। তাদের সামনে এসে কিছুক্ষন কাঁদবে। চোখ মুছে হাটতে শুরু করবে।
১৩

রাহিম হাটতে থাকবে, কএকটি বাক ঘুরে তার হাটার গতি আরো বারিয়ে দিবে। এক সময় নদির কাছে কাছি এসে পরবে।

১৪

বেশ দুরে একটি ল নঙর করে আছে অসংখ মানুষ লে উঠছে। রহিম হাটা ছেরে দৌড়াতে থাকবে। ততক্ষনে অে র ইঞ্জিনের শব্দ বেড়ে গেছে ল টি পিছনের দিকে এগুচ্ছে। রহিম চিৎকার করে বলবে..
ঐ… আমারে লইয়া যাও….
রাহিম আরো জোরে দৌর দিবে। ঘাটের কাছে আসতে আসতে ল সামনের দিকে চলতে শুরু করবে। রাহিম চিৎকার করতে থাকবে…
– আমারে লইয়া যাও আমারে লইয়া যাও।
ল অনেকটা দুরে চলে যাবে। রহিম পাড় দিয়ে কিছু দুর দৌড়ে ল টিকে থামানর নির্দেশ করবে লে র ইঞ্জীনের শব্দ আরো তিব্র হবে। এক সময় হাপাতে হাপাতে বশে পরবে কিছুক্ষন ল টির দিকে তাকিয়ে মাটিতে হাত পা ছড়িয়ে শুয়ে পরবে নিজেকে ক্লান্ত মনে হবে। চোখ বন্ধ করে দির্ঘ শাষ নিবে। চোখ খুলতেই দেখবে আকাশে চিল-শকুন উরছে। হঠাৎ তার চোখ স্থীর হবে। সে শুনতে পাবে দুর থেকে ভেষে আসছে ইঞ্জীনে ভট ভট শব্দ। রহিম ধিরে ধিরে ফিরে তাকাবে, তার ঠোটে হাসি, এক লাফে উঠে দাড়াবে লে র দিকে দৌড়াতে থাকবে। হাত নেড়ে থামাতে বলবে।
ল টি মুহুর্তে তার সমনে দিয়ে চলে যাবে। এমনটি হবে রহিম বুঝতে পারে নি সে ভেবে ছিলো নিশ্চই থামাবে। রহিম এক মুহুর্তও সময় নষ্ট না করে পানিতে লাফিয়ে পরে সাতার দিবে ল উঠার চেষ্টা করবে কিন্তু লে র গতির সাথে পেরে উঠবেনা। চিৎকার করে বলতে থাকে..
– আমারে লইয়া যা আমারে লইয়া যা।
ল অনেক দুরে চলে যাবে। রহিম হাল ছেরে পানিতে নিজেকে ভাষিয়ে দিবে।

১৫

রমিজ লে র বারান্দায় দাড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছিল এবং রহিমের আকুতি দেখছিল পানিতে সিগারেট ফেলে। সারেঙ্গের রুমে প্রবেশ করবে।
– ঐ মিয়া লোকটারে নিলে কি হইতো?
– লে র সারেং কে আপনে না আমি ?
– আপনে।
– তাইলে আমারেই বুঝতে দেন কারে নিমু না-নিমু।
– আরে মিয়া আপনের ভিতর কি কোন রহম নাই?
– আরে মিয়া যা যানেন না তা নিয়া কথা বলতে আয়সেন না জান ভিতরে গিয়া বসেন।
– আপনের লগে কথা কওয়া আর সিমারের লগে কথা কওয়া এইই কথা।
সারেং রমিজের দিকে চোখ বড় বড় করে তাকাবে।
যাইতাছি
বলে বের হয়ে যাবে। বাইরে এসে এক দলা থুতু ফিলবে পানিতে।