দৃশ্য-৪

থেমে থাকা লঞ্চের কাছে এসে শান্ত ও তার বাবা আলম উপরে উঠতে নিবে লঞ্চের হেল্পার তাদের বাধা দিবে।

শান্ত আলম সাহেবের এক মাত্র সন্তান বয়স ২০ মেডিকেল কলেজে পরছে। অসম্ভব সুন্দর তার গায়ের রঙ্গ বড় বড় চোখ ঘন কাল তার চোখের ভুরু, সুন্দুর ঘন ভ্র“রর কারনে হয়ত তাকে আরো বেশি সুন্দর লাগে সুন্দর কমলার মত ঠোট দাত নাক সবই খুব সুন্দর আল­াহ্ যেন তাকে নিজের হাতে বানিয়েছে। তার বাবা ঠিক তার উল্টো, বলতে গেলে তিনি প্রায় একা-একাই থাকে বাপ-দাদার যেটুকু জমি-জমা আছে তা বর্গা দিয়ে তার ভালোই চলে যায়। আগে নিজেই দু একটি খেত করত কিন্তু এখন আর পারে না। দু’বৎসর হলো শান্তুর মা পরলোকে চলে গেছে, স্ত্রীর মৃত্যুর পর হঠাৎই যেন একটু বেশী বুরো হয়ে গেছে সে। শান্তর মায়ের ইচ্ছেতেই শান্তু ডাক্তারী পরছে। শান্তকে দেখে তার নিজির মনের অজান্তেই সন্দেহ জাগে শান্ত তার ছেলেতো? শান্তনা পায় এই ভেবে যে শান্ত হয়েছে তার মা’র মত তার মায়ের গায়ের রঙ ছিল কাচা হলুদের মত। কি জানি কি বাতাশ লাগলো মাত্র পাঁচ দিনের জ্বরে শান্তুর মা এ পৃথিবী ছেড়ে চলে গেল। এই গ্রামে কোন ডাক্তার নেই আর মাত্র দুই বৎসর পর শান্তু ডাক্তার হবে, গর্বে আলমের বুক ভরে উঠে।
পড়াশুনার সত ব্যাস্ততার মধ্যেও বাবার অসুস্থতার কথা শুনে ঢাকায় নিয়ে যেতে এসেছে শান্তু।

উইঠেননা আর কোন লোক নেয়ন যাইব না।
লে র হেল্পার গেটের কাছে দাড়িয়ে শান্তকে উপরে উঠতে নিষেদ করছে। শিড়ি থেকে লগি সরিয়ে নিয়েছে।

শান্ত নির্লিপ্ত ভাবে বললো
আমরা কেবিনে যাব।
শান্ত যানে কেবিন গুলো সাধারনত খালিই থাকে। কেবিন বলতে লে র স্টাফদের ঘুমানোর জন্য তিন ফুট বাই ছয় ফুট জায়গা সেখানে একটি চকি পাতা থাকে। তেল চিট চিটে বালিশ বিছানার চাদরে ঘুমট একটি গন্ধ। তার পরেও অনেক টাকা ভাড়া গুনতে হয়। এই ল টি অবশ্য সেরকম না তুলনা মুলক ভাবে এর ক্যেবিনটি বেশ বড়। এ অ লের বিষেশ ব্যক্তিরা এই ল টিতেই যাতায়াত করে। ল টির নাম মনিহার, সারেং যেখানে বসে তার সামনে দুটি ময়ুরের ছবি আঁকা আছে মনিহারের সাথে ময়ুরের কি সম্পর্ক তা বোঝা কঠিন।
ক্যাবিনে বিষেশ ব্যাক্তি কেউ বুকিং করলে হেল্পাররা বোধ হয় একটু বেশি গর্ভ বোধ করে। যেমন কোন জমিদার যদি বুকিং করে তাহলে সে নিজেকেই জমিদার ভাবতে থাকে অন্যেদের সাথে সে জমিদারী ভাব নিয়ে কথা বলে, এই মুহুর্তে সে তেমন ভাবেই বললো
কেবিনেত আরো আগে নেয়ন যাইব না।
শান্ত এবার একটু অবাক..
-কেন?
– কেন জানেন না আপনেগ গ্রাম থাইকা আইজ ব্রীটিশ নাতনি ঢাকা যাইব পুরা কেবিন বুক। পুলিশ দেখতাছেন না।

কেবিনের গেইটে দুজন পুলিশকে দেখা যাবে। তারা একটু নরে চরে দাড়াবে। ভাব দেখে মনে হবে আর একটি কথা বললে গুলি করে দিবে। চখে মুখে সিমা হিন বিরক্তি..
শান্ত একটু অবাক এই গ্রামে বৃটিশ আসবে কি মরতে, একবার বাবার দিকে তাকিয়ে নিজের স্থুল রাগকে সামলে নিয়ে অনুরোধের শুরে বলবে..
-দেখুন আমি ঢাকা থেকে আসছি বাবাকে নিতে, উনি খুব অসুস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা দরকার।
– কি হইছে আপনের বাপের বসন্ত নাত?
শান্ত একটু বিব্রত বোধ করবে..
-নানা বুকে বেথা..
লে র জানালা দিয়ে মুখ বের করে এক যাত্রি চিৎকার করে বলে উঠবে।
– আরে ভাই এত কইরা কইতাছে আসতে দেও। এত মানুষের জায়গা হইছে আর দুইজন মানুষে যয়গা হইব না।
লে র ভিতর থেকে আরো কিছু মানুষ এক সঙ্গে চিৎকার করে উঠবে…
-হ, হ ছাড় মিয়া।
হেল্পার কিছু ক্ষন চুপ করে ধাকবে যাত্রিরা আবার চিৎকার করে উঠতেই লগিটি শিড়ির উপর ধরবে। শান্ত ও তার বাবা লে উঠবে।
এরই মধ্যে রমিজ লে র সামনে এসে দাড়াবে শান্তু রমিজকে উদ্দেশ্য করে বলবে..
ধন্যবাদ।
কি বললা?
আপনি অনেক উপকার করলেন।
রমিজই প্রথম শান্তদের লে উঠার ব্যাপারে হেল্পারকে বলেছিল।
যাও যাও বাপেরে নিয়া ভিতরে যাও মনে হইতাছে দাড়াই থাকতে পারতাছে না।
জী..
শান্তু বাবাকে নিয়ে ভিতরে চলে যাবে।
রমিজ বির বির করে বলতে থাকবে।
হায়রে মানুষ রানীর নাতনী লে যাইবো তাই রুগীরেও লে তুলব না। আক থু..
এক দলা থুতু ফেলবে পানিতে, এটা রমিজের মুদ্রা দোষ। রমিজ এই গ্রামের কেউ না, পূর্ব পুরুষ বিহারী ঢাকাতেই থাকে এদিকে প্রায়ই আসে। পেশায় সে একজন মুরগীর ব্যাবসায়ী পেশাগত কারনেই তাকে এদিকে আসতে হয়। এবার মুরগী না কিনেই ফিরে যাচ্ছে। গ্রামের পরিস্থিতি খুব একটা ভালো না।

বসন্তের ফুল | Page – 4