৪০

প্রচন্ড ঝর হচ্ছে। সানি ঘুমিয়ে আছে। তার জ্ঞান ফিরেছে কিছুক্ষন আগে। মায়ের সাথে কিছুক্ষন কথা বলে আবার ঘুমিয়ে পরেছে।
রাবেয়া নামাজে বসে মোনাজাত শেষ করে সানির জামা কাপর গুছাবে ভেজা কাপরের মধ্যে সানির প্রিয় ক্যামেরাটা পাবে কিছুক্ষন ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে ভাববে এই ক্যামারার জন্যই ছবি তুলতে গিয়ে আজ সানির এতবর সর্বনাশ হতে যাচ্ছিল ক্যামেরাটা থেকে মুখ সরিয়ে সানির দিকে তাকাবে। সানি ঘুমাচ্ছে। জানালা খুলে ক্যামেরাটা বাইরে ফেলে দিয়ে জানালা বন্ধ করে দিবে জানালা লাগানোর শব্দে সানির ঘুম ভাংবে। রাবেয়া পাশে গিয়ে বসবে। তার মাথায় হাত বুলিয়ে জিজ্ঞেস করবে..
এখন কেমন লাগছে মা?
সানি আরমোড়া দিয়ে উঠে বসবে
– ভালো, মাম এ দেশের মানুষ নট গুড।
– সব দেশেই ভালো মানুষ ও আছে খারাপ মানুষও আছে।
– আমাদের আর কতক্ষন লাগবে পৌছাতে।
– যে ঝর বৃষ্টি শুরু হয়েছে। পৌছাতে পারব কি না কে যানে।
– আচ্ছা মাম ল টি যদি ডুবে যায়।
– চুপ কর (মেয়েকে জরিয়ে ধরবে)
– মা আমার ক্যামেরাটা দাওতো। আমি ঝরের ছবি তুলব।
রাবেয়া আতকে উঠে মেয়ের দিকে তাকাবে।

৪১
লে র নিচ তলা। বাইরে প্রচন্ড ঝড় হচ্ছে। জানালা চুয়ে পানির ঝাপটা এসে লাগছে সবার গায়ে। সবাই গুটিসুটি হয়ে বসে আছে। কেও দোয়া পরছে কেউবা আজান দিচ্ছে। এক ভয়াবহ পরিস্থিতি। শান্ত জ্যোতিকে ধরে বসে আছে। শান্তর বাবা আমিন একটু নড়ে চরে বসবে।
শান্ত বাবা আমি একটু টয়লেটে যামু।
শান্তু বাবার কথা শুনে আশে পাশের পরিবেশ বোঝার চেষ্টা করবে এ ধরনের লে র টয়লেট থাকে লে র একদম পিছনের দিকটায়। ঝরের যে পরিস্থিতি টয়লেটে যেতে হলে ভিজতেই হবে। বাবা বয়স্ক মানুষ এই কথ ভেবে বাবাকে বলবে..
– চলেন।
– কিন্তু বাইরে যে ঝড় শুরু হইছে..
– তাতে কি।
জ্যোতি উঠে দাড়াবে
আমিও যাব আপনে আমার এক হাত ধরেন আর অন্য হতে ভাইজানরে ধরেন।
আমিন উঠে দড়াবে। ঝরের কারনে নদিতে প্রচন্ড ঢেউ ল টি উথাল-পাতাল দুলছে।
শান্ত বাবা ও জ্যোতিকে নিয়ে টয়লেটের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করবে।

৪২

সারেং খুব বিচলিত এত ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেও সে ঘামছে তার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম দেখা যাবে। বশিরের প্রবেশ। তার পুরো শরির ভেজা..
– ওস্তাদ ঝরতো দেখি বাড়তাছে।
– হু..পারে ভিরান দরকার লক্ষন ভালানা।
– তেলতো শেষ যে কোন সময় বন্ধ হইয়া যাইব। বৌদ্দার বাজার থন তেল নেয়নের কথা আছিল। ওস্তাদ ভাটিতে ঘুরায় দিবেন নাকি।
– ভাটিতে ঘুরানের লগে লগে উল্টায় যাইব। তুই যাত্রিদের সাবধানে থাকতে বল যা দেরী করিস না বায়া যা আছে দিয়া দে।
বশির দ্রুত বের হয়ে যাবে।

৪৩

সানি মায়ের উপর প্রচন্ড রেগে আছে সে তার ক্যামেরা খুজে পাচ্ছে না মা বলছে যে সে সেটা ফেলে দিয়েছে। সানি বার বার একই কথা বলছে..
-মা তুমি মটেও ভালো করনি। খুব খারাপ করেছ আমি তোমকে কখন ক্ষমা করব না।
রাবেয়া এবারকেটু ভুয় পেয়ে গেছে সে জানে তার মেয়ে রেগে গেলে এর পরনিত খুব ভয়া ভহ..
– আহ আমি পানিতে ফেলিনি ঝর কমলে। বাইরে থেকে নিয়ে এলেই হবে।
– কোথায় ফেলেছ?
– জানালা দিয়ে বাইরে।
সানি সাথে সাথে জানালা খুলবে। প্রচন্ড ঝর হচ্ছে। জানালা দিয়ে মাথা বের করে ক্যামেরা দেখতে পাবে। আর একটু হলে বাইরে পরে যাবে। সে দ্রুত দরজা খুলে বের হয়ে যাবে।

৪৪

শান্তর বাবা টয়লেট থেকে বের হয়ে আসবে। শান্ত ও জ্যোতি বাইরে অপেক্ষা করছিল। উপরের দিকে তাকাতেই দেখতে পাবে।
বশির বায়া (জাহাজে ব্যবহারিত এক ধরনের জীবন রক্ষা কারী চাকা ) নিয়ে আসছে।
শান্তু বাবাকে লে র ভিতর ঢুকিয়ে দিয়ে বলবে..
– বাবা তুমি যাও আমি একটু আসছি।
আমিও যাব।
শান্তর হাত শক্ত করে ধরবে। শান্ত জ্যতিকে নিয়ে উপরে উঠে আসবে। বশিরকে জিজ্ঞেস করবে..
– কি অবস্থা?
আবস্থা ভালা না।
জ্যোতি বশিরের হাত রাখা বায়া ধরে বলবে..
– আমি এগুলা নিমু।
শান্ত হেল্পারের কাছ থেকে একটি বায়া জ্যোতির হাতে দিবে একটি নিজে রাখবে। সারেঙ্গের রুমের দিকে যেতে থাকবে।