দৃশ্য-৫

অনেকখানি জায়গা নিয়ে সানির নানা বাড়ি। ডেউটিন ও কাঠের নিপূণ শৌলীতে নির্মিত এই বাড়িটি মাঝখানে উঠান তিন দিকে দুই কামরা বিশিষ্ট ঘর। তিনটি ঘরের মধ্যে একটি একটু উচু, সম্ভবত দোতালা দুটি-দুটি চারটি চানালা রয়েছে দোতালায় এখানেই থাকতো সানির নানা-নানি তারা এখন আর কেউ বেঁচে নেই।
গনেষ পায়ে হাটা পথ ধরে অনেকটা দৌড়েই প্রবেশ করে উঠনে।
গজ গজ করতে বলে..
এতো বেলা হইছে মুরগী গুলা না খায়া আছে।
সে খোয়ার থেকে মুরগি ছাড়বে। সারাক্ষন গজ গজ করা তার সভাব তাতে কি এ বয়সে সে খুব কর্মঠ সেই ছোট বেলা থেকেই এ বাড়ি দেখা শুনা করছে। জাতে হিন্দু হলেও এ বাড়িতে তার কোন অসুভিদে হয়নি।

বাড়ির এক পাশে স্বব্জীর টালা (স্বব্জী বাগান) সেখানে একটি গরু গোয়াল থেকে ছুটে গিয়ে সবজি গাছ খাচ্ছে।

গরু গাছ খাচ্ছে, সানি ছবি তুলছে। তার মুখ দেখা যাচ্ছে না। সে একের পর এক ছবি তুলে যাচ্ছে।
তার মাথায় বিদেশী ক্যাপ গায়ে ম্যারি ড্রেসের মতো ড্রেস।

গনেষে সেদিকে তাকাতেই গজ গজ করে উঠবে..

-হায় হায় করে কি, সব গুলো চাড়া খাইয়া ফালাইতাছে।
সানি বেড় হয়ে আসবে। উঠানের মাঝখানে দাড়িয়ে দু’হাত ছড়িয়ে ঘুরবে। অপরূপ সুন্দরী এই মেয়েটি, বাবা ইংলিশ মা এ গ্রামের দুজনের অপুর্ব সৃষ্টি সানি সমুদ্রের পানির মত টল টলে নীল তার চখের মনি গন কাল চুল গায়ের রং গোলাপের পাপরির মত সুন্দর ফিগার বয়স সতর কি আঠার হবে। এক পলকের বিশি তাকিয়ে থাকার ক্ষমতা খুব কম মানুষের পক্ষেই সম্ভব।

মাথাটা একবার ডান দিক একবার বাদিক কাত করে তাকাবে। মনে হবে কাউকে দেখছে। খুব মিষ্টি করে বলবে…
– ওয়ান্ডার ফুল।
সানীর মা রাবেয়া, ঘর থেকে বের হয়ে উঠানে দাড়িয়েছে। খুব সুন্দর শাড়ী পরেছে, একটু সেজেছে। তাকেও খুব সুন্দর লাগছে।
মা উত্তর দিবে
– কি?
– তুমি। জান বিউটিফুল কিছু ছবি তুলেছি।
গনেষ সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠবে
এগুলাতো ফুল না সিম গাছ।
সে গরু বাধতে বাধতে কথাটি বলবে

সানি ও রাবেয়া হাসবে।

পালকি নিয়ে বেহারাদের আগমনের শব্দ পাওয়া যাবে।
উহুম না… উহুম না..
গনেষে চিৎকার করে বলে উঠবে…
-ঐ যে পালকি আইসা পরছে তাড়া তারি করেন।
সে দ্রুত ঘরে প্রবেশ করবে।

৪ বেহারার আগমন দেখা যাবে। তারা পায়ে হাটা পথ দরে তালে তালে বাড়িতে প্রবেশ করবে। উঠানে পালকি রাখবে। গনেষ সুটকেস হাতে বের হয়ে বলবে..
-তাড়া তাড়ী করেন। এখনই রওনা না হইলে সময় মত পৌছান যাইব না।
সানির আরো কিছু ছবি তোলা বাকি তাই সে মাকে উদ্দেশ্য করে বলে..
মাম তোমরা যেতে থাক আমি একটু পরে আসছি।
সানি সারা জীবন লন্ডন কাটালে বাংলা ইংলিশ সমান ভাবে বলতে পারে। মায়ের ইচ্ছার কারনেই তা সম্ভব হয়েছে।
গনেষ চিৎকার করে বলে উঠবে..
-হায় হায় কয় কি? গ্রামের অবস্তা খুব একটা ভালা না, আম্মাজী একটু বুঝান।
রাবেয়া একটু রাগি শুরে…
– সানি অনেক হয়েছে চল, পথে অনেক দৃশ্য পাবে উঠ।
সানি মন খারাপ করে পালকিতে পা ঝুলিয়ে বসবে।
-তুমি বসবে না।
– না এতটুকু পথ আমি হেটেই যেতে পারব, চলেন। (সকলে রওনা হবে)
বেহারা উহুম না শুর তুলে হাটতে থাকবে। সানি পা দুলাবে। মা ও গনেষ পাশে হাটতে থাকবে।
দুর থেকে তাদেরকে পায়ে হাটা পথ ধরে যেতে দেখা যাবে।

দৃশ্য-৬

সারেং তার আসনে ভালো করে বসে এক হাতে আয়না ও অন্য হাতে চিরুনি দিয়ে মাথা আচরাচ্ছে। তার বেশ মটা শোটা ঘোফটির যতœ করতেও ভুলেনা আর এ কাজগুলো করার সমুয় তার নিজের অজান্তেই কন্ঠ থেকে গুন গুন করে উর্দু গান বের হয়।

বিরক্ত ভঙ্গিতে রমিজের প্রবেশ।
– ঐ মিয়া, খুব যে আরামে মুছে তা দিতাছেন। ল কখন ছারবেন?
– এই তো কিছু ক্ষনের মধ্যে..
– এই কথাতো এই নিয়া চাইর বার কইলেন।
– একটু দইরজ ধরেন বুঝেন না বিলেতি মেম, বেশি কথা বললে আপনারে নামায় দিতে হইতে পারে উপরে পুলিশ দেখন নাই।
– হু বিলেতি মেম.. (মিন মিন করে বলতে চলে যাবে)

বসন্তের ফুল | Page – 5