৫৮

ঝর থেমে আকাশ পরিস্কার হয়ে গেছে। আকাশে সুন্দর পূর্নিমার চাঁদ তারই আলোতে চরের মাঝ দিয়ে হেটে চলেছে তিন জন লোকালয়ের আশায়। তাদের হাটার শব্দে সাপ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের পোকা মাকর দুরে সরে যাচ্ছে। তাদের বিচরন থেকে বোঝা যাচ্ছে এই চরে মানুষের বিচরনের খুব একটা নেই।
জ্যোতি কোন একটি পোকা ধরার জন্য থেমে যাবে, যার ফলে সে তাদের চলার গতির সাথে তাল মিলাতে পাবেনা না। আবার দৌড়ে তাদের গতির সাথে তাল মিলাবে। শান্ত ও সানি টুক টাক কথা বলতে বলতে এগিয়ে যাচ্ছে। সানি জানতে চাইবে..
– আমরা কোথায় যাচ্ছি?
– আপাতত কোন বাড়িতে।
– বাড়ি কত দুর?
– বলতে পারছি না।
– তোমার কী মন খারাপ হচ্ছে না?
– কেন?
– এই যে তোমার বাবা বেচে আছে কি মরে গেছে?
শান্ত কোন কথা না বলে দাড়িয়ে যাবে মন খারাপ করবে আবার হাটতে থাকবে।
সানির কন্ঠ কান্না জড়িয়ে আছে..
– আমার কিন্তু মন খারপ লাগছে। আম্মুতো সাতার জানে না। আচ্ছা তোমার বাবা কি সাতার জানে।
– হ্যা..
– তাহলেতো উনি তিরে উঠতে পারবে।
শান্ত হঠাৎ থেমে যাবে।
– কী হলো দাড়িয়ে পরলে কেন?
শান্তর চোখে মুখে বিশ্বয় সে এদিক সেদিক তাকাবে।
সানিও তাকাবে দেখবে সামনে যতটুকু দেখা যায় কুল হিন নদী শুধু পানি আর পানি।
জ্যোতি হাসতে থাকবে…
শান্ত ও সানি তাকাবে.জ্যোতির দিকে। সানি বলবে..
– হাসছ কেন?
– আমিতো জানি এই চরে কোন গ্রাম নাই।
তাহলে এখন?
শান্তু উত্তর দিবে..
– নদী পার হতে হবে।
– আমি পারব না। আমি সাতার জানিনা।
শান্ত সানির দিকে একবার তাকিয়ে নদীতে নামার প্রস্তুতি নিবে।
জ্যোতি শান্তুর সামনে গিয়ে দাড়াবে..
– ভাইজান এদিক দিয়া না এদিক দিয়া গেলে কোন কুল পাইবেন না। আমার সাথে আসেন..
জ্যতি একটু জংলার মত যায়গার দিকে দৌড় দিবে।
সানি দাড়িয়ে পরবে..
– আমি যাব না আমি কিছুতেই নদী পার হতে পারব না। ( বসে পরবে)
শান্ত কিছুটা দুর এগিয়ে আবার ফিরে আসবে।
– দেখুন আমরা একটি সমস্যার মধ্যে আছি আপনি যদি এমন করেন তাহলে আমরা আরো বিপদে পরে যাব।
– আমি কিছুতেই যাব না।
– প্লিজ উঠুন।
সানি কিছুতেই উঠবে না। ছাগলের খামি দেয়ার মত তার অবস্থা, শান্তু তার হার হাত ধরে টানছে সানি অন্য হাতে ঘাস লতা পাতা আকড়ে ধরে আছে.. শান্ত বুদ্ধি করে সানির কাধে আঘত করেবে, মেডিক্যাল সাইন্সের গুনে সে জানতে পেরেছে মানুষের কোন যায়গায় আঘাত করলে সে সাময়িক ভাবে জ্ঞান হারায়।
সানি জ্ঞান হাড়াবে, শান্ত সানিকে কাধে তুলে হাটতে থাকবে। নদীর পারে এস দাড়াবে সেখান থেকে দুরে গ্রাম দেখা যাবে। জ্যোতি পানিতে ঝাপিয়ে পরবে। শান্ত সানিকে কাধের উপর নিয়ে সাতার দিবে।
৫৯

নদীতে একটি বোর্ড নিয়ে মার্টিন তার মেয়ে ও বৌকে খুজতে থাকবে। ডুবে যাওয়া ল থেকে বের হয়ে আসা অনেক জিনিস ভাসতে দেখবে। এসব জিনিসের ভিতরে মার্টিন খুজে বেড়াবে তার পরিরিবারের অস্তিত।