৬২

ঘরের ভিতর কিছু নেই একটি খাট আর একটি পুরনো দিনের কাঠের আলমিরা। শান্ত আলমিরা খুলে সেখান থেকে একটি শাড়ি বের করে সানির দিকে এগিয়ে দিবে তাদের পরনের সমস্ত জামাকাপর ভেজা…
– এটা পরে নাও..
আমি শাড়ি পরতে পারি না। আমার ব্যাগটি দেও..
জ্যোতি ও শান্ত দুজনেই হেসে ফেলবে..
সানি বিবৃত বোধ করবে..
হাসছ কেন?
জ্যোতি বলেেব ..

তুমিনা খুব বোকা ব্যাগের সব জামাইতো ভেজা শাড়ি কি ভাবে পরতে হয় আমি দেখায় দিব।
সানি নিজের বোকামিতে লজ্জা পাবে। শান্ত মৃদু হেসে বের হয়ে যাবে।

সানি শাড়ী কাপরটি কোন রকম গায়ে জড়িয়ে জামা খুলে ফেলবে।
জ্যোতি চিৎকার করে বলে উঠবে
-এই ভাবে না…
আমাকে শিখাতে হবে না আমি এভাবেই পরব।
জ্যোতি থেমে থেমে হাসতে থাকবে
হি হি (হাসবে) পগলি বেটিদের মত পরছে.. হি হি..
– হয়াট…
– ভাইজান দেইখা জান..
শান্ত আবার রুমে প্রবেশ করে দেখবে সানি কাপরটিকে কোন রকম পেচিয়ে রেখেছে তার পুরো শুরিরই খালি, তার পরেও তাকে শুন্দর লাগছে। জ্যোতি শান্তর হাত ধরে ইসারা করে বলবে..
– দেখেন পাগলী বেটিদের মত…
শান্ত : (হাসবে)
সানি শুয়ে পরবে…
শান্তু বুঝতে পারবে সানি লজ্জা পাচ্ছে এবং সকলেই টয়ার্ড..
– জ্যোতি তুমিও শুয়ে পর।
– ভাইজান আপনে ঘুমাইবেন না।
– আমি পরে ঘুমাব। আগে গ্রামটা দেখে আসি।…
সানি কোন কথা বলবে না সে একদিকে কাত হয়ে ঘুমিয়ে পরবে। জ্যতি তাকিয়ে থাকবে তার চোখও ঘুম ঘুম.. শান্ত দুজনার দিকে একবার তাকিয়ে ঘর থেকে বের হবে। জ্যোতি তাকিয়ে থাকতে থাকতে ঘুমিয়ে পরবে।

৬৩

শান্ত এক একটি বাড়িতে প্রবেশ করবে বেড়িয়ে আসবে। অন্য বাড়িতে যাবে। জিজ্ঞেস করবে।
– বাড়িতে কেউ আছেন।
চিন্তিত ভাবে বের হয়ে আসবে। ছোটা ছুটি করবে। একটি রাস্তা ঘুরে দৌড়ে বের হবে। এক সময় নদীর পারে এসে উপস্থিত হবে। নদী খা খা করছে কোথাও কোন জন-মানব নেই নদী শান্ত.. নৌকা ল কিছুই চোখে পরবে না শুধু পানি আর পানি। মাটিতে বসবে।
মনে মনে ভাববে “শেষ পর্যন্ত বসন্ত এফেক্টেড গ্রামে এসেই পরলাম।” মাথায় হাত দিবে। সবুজ ঘাশের উপর শুয়ে পরবে। ক্লান্ত শরির চোখ বন্ধ করতেই ঘুমিয়ে পরবে। আকাশে চিল ঘুরতে দেখা যাবে। শান্তর চোখের উপর প্রখর রোদ তার গলা বেয়ে ঘাম ঝড়তে দেখা যাবে। লাফ দিয়ে উঠবে। এই ভাবে কথক্ষন ঘুমিও ছিল সে বুঝতে পাছে না।

৬৪

রেডিওতে খবর হচ্ছিল।
বসন্তের মরকে রূপ কান্দি বাতা কান্দি ঝাল কাঠি সহ আসে পাশের প্রায় বিশটিরও বেশি গ্রাম জন শুন্য হয়ে পরেছে। এ গ্রামে গুলোতে এখন আর কোন মানুষ নেই দলে দলে অন্যত্রে চলে গেছে।
টেবিলে উপর মাথা রেখে দুই হাত দুই দিকে রেখে মার্টিন খবর শুনছিল। রহমতের প্রবেশ।
– সার নৌকা রেডি। আমি ও যাব আপনার সাথে।
– নো তুমি এখানেই থাক আমি একাই যাব।
– সার আমার খুব খারাপ লাগতাছে…আই ফিল ওরি সার…আমি যেইখানে যাই সানি মা-মনির গলার শব্দ পাই । আমার মনে হয় সে আইসা বলবে রহমত আঙ্কেল তোমাকে না বলেছিলাম আমার জন্য এক জোড়া টিয়া পাখি কিনে আনতে আমার টিয়া পাখি কোথায়? আমি আজই সদর ঘাট থেকে আসার পথে এক জোরা টিয়া নিয়া আসছি…(দরজার বাইরে থেকে টিয়ার খাঁচাটি এনে দেখাবে।) এই যে দেখেন সার…(কেদে ফেলবে)
মাটির্নের চোখও অশ্র“ শিক্ত হয়ে উঠবে। রহমতের কাধে হাত রাখবে। খাচার ভিতরের টিয়া পাখিটি টি টি কর চিৎকার দিয়ে উঠবে।