৬৫

সানি শুয়ে ছিল। জ্যোতি তার সামনে একটি পাখির খাচা হাতে নিয়ে দাড়িযে আছে ।
সানি চোখ মেলে তাকিয়েছে তার ঠোটে হাসি। সে পাখি দেখছে..
কোথায় পেলে?
জ্যোতি খাচাটা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখাবে..
– সুন্দর না?
হু..
সানি উঠে বসবে
– আমাকে দাও..(খাচাটা নিবে) কি সুন্দর..! দেখত আমার গায়ে জর আছে কিনা?
জ্যোতি সানির গায়ে হাত দিবে
– জরে তো আপনের গা পুইরা যাইতাছে। ভাইজান ভাইজান..
শান্ত দ্রুত প্রবেশ করবে, জ্যোতি বলবে
– কাপালে হাত দিয়া দেখেন কত জ্বর..
শান্ত সানির কপালে হাত দিবে, জ্যতিকে বলবে..
পানি আর একটা কাপর নিয়ে এসো..
সনি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করবে..
পানি দিয়ে কি করবে?
– জর কমাতে হবে..
– তুমি কি ডাক্তার..
– হ্যা আমি মডিক্যাল কলেজের ছাত্র..
সানি খুব ভালো করে শান্তকে দেখবে…
জ্যোতি বালতি করে পানি আর একটি গামসা নিয়ে আসবে..
শান্ত একটু চিন্তুা করে মনে মনে বলবে “এ গামছা ব্যাবহার করা যাবে না”
সে তার নিজের জামা খুলে বালতিতে ভিজাতে লাগবে
সানি অবাক হয়ে জানতে চাইবে..
– এ কি করছ নিজের জামা…
– কারন আছে এখন বলা যাবে না শাড়ীটা খুলুন…
– মানে..!
শান্তা লজ্জা পাবে..
– না মানে শাড়িটা খুলে আপনার জামাটা পরুন (হাতের কাছেই ছিলো এগিয়ে দিবে) শুকিয়ে গেছে। জ্যোতি শোন যত ক্ষন জ্বর না কমবে ততক্ষন কপালে পানি দিবে।
উঠে আলমারী থেকে কিছু কাপর নিয়ে বের হয়ে যাবে।
– তুমি কি কিছু বলতে পারেছ
– না..ভাইজান যখন বলছে বদলান..
– উঠবে..

৬৬

শান্ত ঘর থেকে বের হয়ে একে একে অনেক গুলো কাজ করবে। উঠানের এক পাশে রান্না গরের চুলা জালাবে, তার উপর চড়িয়ে দিবে বড় সাইজের একটি পাতিল।
জামা কাপর এনে সেগুলা সিদ্ধ করবে। দা হাতে নিয়ে, বাড়ির আস-পাশ পরিস্কার করবে।
বাড়ীর পিছনে কিছুদুর গিয়ে দেখতে পাবে সেখানে একটি পচা গলা লাশ প্রথমে কলা পাতা পরে কিছু গাছের ডাল এনে তা ঢেকে দিবে। কিছু বাশ দিয়ে বেড়া বানিয়ে সেদিকে যাবার রাস্তা বন্ধ করে দিবে।
দুপুর গড়িয়ে বেকেল হয়ে গেছে । সানি ঘর থেকে বের হয়ে আসবে আজ তাকে খুব সুন্দর লাগবে।
শান্ত অন্য একটি ঘর থেকে একটি জাল হাতে নিয়ে বের হবে মাছ মারতে যাবে। তার ভাব দেখে মনে হচ্ছে সে এ বাড়িরই কেউ এ বাড়িটি তার অতি পরিচিত।
সানি তার সামনে এসে দাড়াবে..
আপনাকে দেখে মনে হচ্ছে আপনি আর এখান থেকে ফিরে যাবেন না।
শান্তু অবাক হয়ে সানিকে দেখবে তাকে অসম্ভব সুন্দর লাগছে তার বলতে ইচ্ছে করছে “তুমি থাকলে আর কখন ফিরে যাব না।” এই প্রথম তার এই রকম কথা মনে হলো এত ক্ষন তাকে একজন সুন্দরী বিদেশীনি ভেবে আসছিল ক্ষনিকের অতিথী নিজের মনের কথা চেপে রেখে উত্তর দিল..
– হু অনেকটা তাই?
– আপনি থাকতে চান থাকুন আমি যাব..
– আপনাকে কে ধরে রেখেছে..
– আমাকে দিয়ে আসুন…আমি আর এক মুহুর্ত এখানে থাকব না।
– অপেক্ষা করা ছাড়া কোন উপায় নেই..
– আপনি মিথ্যে কথা বলছেন..নদীতে ল বা বোর্ড নিশ্চই আছে..
আসুন আমার সাথে…
শান্ত জাল কাধে নিয়ে হাটতে থাকবে সানি তার পিছু নিবে..