আধার অরণ্য
রচনা: হাসান-উজ-জামান
রচনা: হাসান-উজ-জামান
তারিখ: ২৩-০১-০৭

কাহিনী সংক্ষেপ: সুমনা একজন গ্রীহিনী স্বামী রাজন, তিন বৎসর হলো বিয়ে হয়েছে তাদের কোন সন্তান সন্তাদি নেই। সুজন একটি প্রইভেট ফার্মে চকুরী করছিল। নিজের যোগ্যতা বলে একটি শক্ত অবস্থান করে নিয়েছিলে অফিসে। কিন্তু সমস্যা হয়েছে অফিসের মালিক হঠাৎ করে ব্যাবসা গুটিয়ে নিচ্ছে আয়ুর ব্যাধি ঔষধ কম্পানি এখন আর তেমন চলে না।
সুজন সেখানকার একাউন্ট অফিসার। সুজন অনেক গুলো অফিস ঘুরা ঘুরি করেছে কিন্তু একাউন্ট অফিসারের ডিমান্ড কোথায় নেই । হাতের কোন কাজ জানা থাকলে খুব ভালো হতো। আর কিছু হোক না হোক টেকনিকেল কাজের ডিমান্ড আছে। সুমনা এ ব্যাপারে তেমন কিছু যানে না শুধু যানে অফিস তিন মাস যাবৎ ঠিক মত বেতন দিতে পারছে না। সুমনা এ ব্যাপারে খুব একটা চিন্তিত না। তার সভাব চরিত্র খুব সাদা মাটা সুজন বাজার করে এনে দিলে রান্না করে বাকি লেন দেন সব সুজনই করে। তার দুঃখ শুধু একটাই বিয়ের তিন বৎসরেও তাদের কোন সন্তান হচ্ছে না। ডাক্তার বলেছে একটি জটিলতা আছে লাখ দুয়েক টাকা খরচ করলে সন্তান হবে। সুজনের মন-বল খুব শক্ত তার ধারনা কয়েক বৎসর চাকুরীর বেতন জমাতে পারলে দু লাখ টাকা কোন ব্যাপার না। সুমনা বুঝতে পারে দুলাখ টাকা মানে অনেক টাকা। তার উপর চাকুরীর অবস্থাও ভালো না। বাড়িওয়ালাকে গত মাসের ভাড়া দেয়া হয়নি। সুমনা, সুজনকে সান্তনা দেয়ে এত চিন্তা করো নাতো একটা ব্যাবস্থা হবেই। একদিন সুমনা টেবিল গুছিয়ে । বাড়ান্দায় গিয়ে দাড়ায়। এই বড়িতি প্রথম আসা দিনটির কথা কল্পনা করে। কল্পনা ভাঙ্গতেই দেখতে পায় একটি অল্প বয়সি লোক একটি বস্তার মত একটি ব্যাগ নিয়ে দৌড়ে আসছে, একটু দুরে কিছু পুলিশ। লোকটি মোর ঘুরেই একটি পতিত জমিতে ব্যাগটি ছুরে মেরে পালিয়ে যায়। পুলিশ ছেলেটির পিছু নেয়। সুমানা বারান্দা থেকে স্পষ্ট ব্যাগটি দেখা যায়। সুমন্ আসে পাশে তাকিয়ে। শিড়ি বেয়ে নিচে নেমে গিয়ে উক্ত স্থান থেকে ব্যাগটি তুলে নেয়। সে চার পাশ দেখে-শুনে ব্যাগটি নিয়ে বের হয়ে আসে। বের হবার সময়, বাড়ি থেকে যে, লোকটি ময়লা নিয়ে যায় তার সাথে দেখা। সে বলে, আপা আপনে এখানে! সুমনা বলে , না মানে একটা দরকারী ব্যাগ ফেলে গিয়েছিলাম তাই.. এ কথা বলে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।
তরি ঘরি করে রুমে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে দেয় তারপর সোজা বেড রুমে ঢুকে বেড রুমের দরজাও বন্ধ করে দেয়। খাটের উপর টাকার ব্যাগটি রেখে হাফাতে থাকে , আচল দিয়ে ঘাম মুছে। সারাটা দিন কেটে যায় টাকা গুলো দিয়ে কি করবে। বাড়ির নিচে অনেক লোকের শব্দ পেয়ে বারান্দা দরজা একটু খুলে দেখবে। যে লোকটি টাকা ফেলে গেছে তাকে পুলিশ ধরে ফেলেছে। টাকা ফেলার স্থানটি তন্য তন্য করে খুজছে। কেউ তার দিকে তাকাচ্ছে না। কিন্তু দুরে দাড়িয়ে থাকা ময়লা ওয়ালা লোকটি উপরের দিকে তাকিয়ে তাকে দেখার চেস্টা করছে। সুমন দরজা বন্ধ করে দেয়। ভাবে না আমি এই টাকা কাউকে দিব না।
সারা রাত তার ঘুম আসে না যেখানে টাকা গুলো রেখেছে। সুজন যদি কোন কারনে সেখানে কিছু খুজতে যায়।
পাশের বাড়ির এক ভদ্র মহিলা আসে। আপা শুনেছেনতো ডাকাতরা ময়লার ডিবিতে নাকি দেড় কোটি টাকা লুকিয়ে রেখছিল। সুমনা চুপ করে থাকে। ভদ্র মহিলা, পুলিশ আজ সকাল থেকে এই এলাকার প্রতিটি বাড়িতে তল­াশি করছে। পুলিশ ধারনা করেছে। টাকা গুলো লুকানর সময় কেউ দেখে ফেলেছে। এবং লুকিয়ে রেখেছে। এ কথা শুনে সুমনা আবার ঘামতে থাকে। ভদ্র মহিলা চলে যাওয়ার পর সুমনার টেনশান আরো বেরে যায়। টাকার ব্যাগ কোথায় লুকাবে খুজে পায় না। একেক সময় একেক যায়গায় রাখে আবার কিছুক্ষন পর শরিয়ে ফেলে।
কলিং বেল বেজে উঠে সুমনা চমকে উঠে। মনে মনে ভাবে খুলব না। অনেক ক্ষন বাজার পর সুমনা দরজা খুলে দেখে। দরজার নিচে একটি চিঠি, গ্রামের বাড়ি থেকে পাঠিয়েছে সে আবার ঘাম মুছে। দরজা বন্ধ করে রুমে ঠুকতেই আবার বেল বাজে। সে কিছুক্ষন বসে থেকে দরজা খুলে দেখে, ময়লা ওয়ালা।
সুমনা বলে, আজ কোন ময়লা নেই। ময়লা ওয়ালা, আপা ময়লা নিতে আসি নাই। সুমনা, তাহলে? ময়লা ওয়ালা, আমারে কিছু দিয়া দেন কেউ যানবা না। সুমনা হঠাৎ করে দরজা বন্ধ করে দিবে। তার পরপরই ভাববে, না ওকে খেপানো যাবে না। সঙ্গে সঙ্গে দরজা খুলবে। দেখবে কেউ নেই, তার চোখের ভুল, বুঝতে পারবে তার হেলূসিনেশন হচ্ছে। রুমে এসে চোখে মুখে পানি দিবে। এ ভাবে কয়েক দিন কেটে যাবে। ধিরে ধিরে সুমনা অসুস্থ হয়ে পরবে।
একদিন সকালে সুজন ঘরের আসবাব পত্র গুছাবে। গ্রামে চলে যাওয়া ছাড়া তার আর কোন উপায় নেই। দিনে দিনে স্ত্রীর অসুস্ততাও তাকে চিন্তিত করে তুলেবে। সব গুছিয়ে সুমনাকে বলে, চল।
সুমনা বলে, একটু দাড়াও আমি এখনি আসছি সে ব্যাগটি নিয়ে বের হয়ে যাবে। রাস্তার ময়লার পাশে ফেলে রেখে ফিরে অসে।
দুজনে একটি রিকশায় ব্যাগটেগ নিয়ে রওনা হয়। ফেলে রাখা ব্যাগটি ক্রস করার সময় সুমনা পিছু ফেরে তাকায়। ভাবে।
যাচ্ছি আধার অরন্য ফেলে আলোর পথে।
সমাপ্ত