দৃশ্য-১
রাজনের ডাইনিং রুম/দিন
রাজন, সুমনা।

সুন্দর, সাজানো-গুছানো সুমনার ডাইনিংরুম। ছোট্ট একটি টেবিল চারটি চেয়ার বাধান ফল-মুলের ছবি। পরিপাটি জানালার পর্দা। আসবাব বলতে এই, তবু সুন্দর তার ডাইনিং রুম দুজনে নাস্তা করতে বসেছে। স্বব্জি ভাজি আর হাতে বানান রুটি। রাজন অফিসে যাওয়ার জন্য রেডি হয়ে নাস্তা খাচ্ছে।

সুমনা : তোমাদের কম্পানিটি কি সত্যি সত্যি বন্ধ হয়ে
যাচ্ছে?
রাজন : হু..(র্নিলিপ্ত উত্তর)
সুমনা : কি করবে ঠিক করেছ?
রাজন : একনও ঠিক করিনি আজ একটি কম্পানিতে
যাওয়ার কথা আছে। নতুন ঔষধ কম্পানি দেখি
কিছু হয় কিনা।
সুমনা : আজ না তোমাদের বেতন হয়ার কথা, হবে?
রাজন : দুমাস ধরেতো একই কথা শুনছি। বাড়িওয়ালা
এসেছিলো?
সুমনা : হু, আমি আজকের কথা বলেছি।
রাজন : (সুমনার দিকে তাকাবে, কিছুই বলবে না)
সুমনা : পারলে আজ একটু বাজার করো ঘরে কিচ্ছু
নেই।
রাজন : (রাজন খাওয়া শেষ করে পানি খাবে)
সুমনা : তোমারকি ফিরতে দেরী হবে?
রাজন : হ্যা…
সুমনা : আচ্ছা বলে­নাতো তোমাদের কম্পানি বন্ধ করে
দিচ্ছে কেন?
রাজন : এত এত এলপ্যাধি ঔষধ কম্পানি হয়েছে, এখন আর আয়ুর ব্যাধি চলে না, প্রতি মাসে কম্পানি লস গুনছিলো। বন্ধ করে সেখানে ঔষধ ফেক্টিরী করবে।
সুমনা : সেখানে লোক লাগবে না।
রাজন : লাগবে। এলসি করে মেশিন পত্র আনতে প্রায় এক-দেড় বৎসর লাগবে ততদিন মালিক কাউকে বেতন দিয়ে পুষবেন না। আর তা ছাড়া সেখানে আমার মত সিম্পল বি, কম পাশ একাউন্টেন্টের কোন পদ নেই সেখানে নিবে চার্টাড একাউন্টেন্ট..
সুমনা : হু ! তারা কি তোমার চেয়ে ভালো হিসাব বোঝে!
রাজন : (হাসবে, উঠে দাড়াবে) দরজাটা বন্ধ করে দিও।
দুজনে উঠবে।
ফ্রেম আউট
কাট

দৃশ্য-২
ড্রইং/দিন
সুমনা, রাজন, বাড়িওয়ালা।
সাজানো গুছান ছোট্ট ড্রইং এক সেট সোফা একটি শোকেস।

রাজন ও সুমনা ডাইনিং পেরিয়ে ড্রইং রুমে প্রবেশ করবে। দরজা খুলতেই দেখবে বাড়িওয়ালা দাড়িয়ে আছে।
রাজন : সালামুয়ালাইকুম।
বাড়িওয়ালা : ওয়ালাইকুম সালাম বের হচ্ছিলেন নাকি।
রাজন : জী আসুন ভিতরে আসুন।
(সকলে সোফায় বসবে।)
বাড়িওয়ালা : আমি বেশিক্ষন ডিস্টার্ব করব না। আপনার সাথে অনেকদিন দেখা হয়না। তাই ভাবলাম..
রাজন : জী ভালো করেছেন।
বাড়িওয়ালা : আপনাদের অফিসের সমস্য সমাধান হয়নি?
রাজন : না মানে।
বাড়িওয়ালা : আপনি এত সংকোচ করবেন না মানুষের সুবিধা অসুভিদে তো থাকবেই। আপনি যদি আরো দুই মাস ভাড়া না দিতে পারেন কোন অসুভিদা নেই তবে যদি ছাড়তে চান আমারে একটু আগে ভাগে জানাবেন। বাড়িটা গলির ভিতরেতো, ভাড়া হতে একটু সময় লাগে।
রাজন : জী..
বাড়িওয়ালা : তাই বলে ভাববেন না আমি আপনাদের চলে যেতে বলছি। আপনাদের দুজনকে আমার ভালো লাগে। তবে বিয়ের তিন বৎসরে কোন ছেলে মেয়ে নেই এই বিষয়টা একটু খারাপ লাগে।
(রাজন ও সুমনা মাথা নিচু করবে।)
শুনলাম ভাবিকে ডাক্তার দেখিয়েছেন, কি বলল
ডাক্তার।
রাজন : একটু জটিলতা আছে লাখ দুয়েক টাকা হলে সব
ঠিক হয়ে যাবে।
বাড়িওয়ালা : ভালো দু লাখ টাকাতো এখনকার যুগে কোন
টাকই না। দোয়া করি যেন সব ঠিক হয়ে যায়। আমি তাহলে আসি আপনার দেরী হয়ে যাচ্ছে, আজ কি হবে? সন্ধার সময় আসব?
রাজন : জী হলে আমি নিজে গিয়ে দিয়ে আসব।
বাড়িওয়ালা : আচ্ছা! আচ্ছা ! আপনি আবর কিছু মনে করবেনা আমার একটু সমস্যা তাই..আচ্ছা ঠিক আছে আসি…চলেন এক সাথে বের হই নাকি…
রাজন : আমি একটু পরে নামছি।
বাড়িওয়ালা : আচ্ছা আচ্ছ..(প্রস্থান)
সুমনা : লোকটি কথা বলে মিষ্টি করে কিন্তু…. যাকে
বলে মিশ্রির ছুরী..
রাজন : এই শহরে কত রকমের মানুষ যে আছে ।
সুমনা : এই লোকটিকে আমার একদম ভালো লাগে না আমাদের ছেলে-পুলে নেই তাতে তার এত মাথা ব্যাথা কেন।
রজন : কিছু কিছু মানুষের নিজের সমস্যার চেয়ে অন্যের সমস্যাই মাধা ব্যাথা বেশি। দরজা বন্ধ করে দাও।
সুমনা : তারা তারি এসো।
রাজন : আচ্ছ।( প্রস্থান)
সুমনা : (দরজা বন্ধ করে সোফা ঠিক করবে। রুম থেকে বের হয়ে ডাইনিং গুছাবে। বারান্দায় এসে দাড়াবে। বাইরের দিকটা দেখবে।)
কাট

দৃশ্য-৩
অফিস/দিন
রাজন,লিটন
রাজন অফিসে প্রবেশ করে প্রতি দিনের মত নিজের ফাইল-পত্র পরিস্কার করবে।
লিটনের প্রবেশ। লিটন অফিসের পিয়ন।
লিটন : সার চা দিমু।
রাজন : হ্যা, এম ডি সার আসছে?
লিটন : না, শুনছি, সার এই অফিসে আর আসব না।
রাজন : মনির সাহেব।
লিটন : মনির সারতো অন্য অফিসে চাকরী নিছে। অফিসে আমি আর আপনে ছারা কেউ আসেনা যে যার মত কাজ খুইজ্জা নিছে। ছার আপনে কোথাও চাকরী পাইলে আমারেও নিয়া যাইয়েন।
রাজন : (কিচ্ছুক্ষন চুপ থেকে) চা নিয়ে এসো।
লিটনের প্রস্থান
রাজন : (চিন্তিত হয়ে উঠবে, স্বগত) সার না এলেতো আজও বেতন হবে না। বাড়িওয়ালাকে কি জবাব দিব। সবাই বুদ্ধিমানের মত যে যার কাজ খুজে নিয়েছে। আরো আগে থেকেই একটি চাকুরী খোজা দরকার ছিল। আজ রতনের কাছে একটু যাব দেখি সে কোন ব্যাবস্থা করতে পারে কিনা।
চা হাতে লিটনের প্রবেশ।
রাজন : (চা নিবে) লিটন আজ বেতন হবার কথা চিল
না?
লিটন : জী সার কিন্ত আজ বেতন হবে না।
রাজন : তুমি কি করে জানলে?
লিটন : ম্যাডাম ফোন করছিল। আগামি রবি-সমবার বেতন হবে। আপনি সহ কেউ আসলে বলতে বলছে।
রাজন : কখন ফোন করেছিল?
লিটন : এইতো আপনে আসার একটু আগে। আপনেরে চাইলো না পাইয়া আমারে বলতে বললো। সার আপনি কতক্ষন অফিসে থাকবেন।
রাজন : কেন?
লিটন : না মানে উত্তর খান আমার এক ভাই থাকে বলছে গামেন্টসে একটা ব্যবস্থা কইরা দিব।
রাজন : ও ঠিক আছে তুমি বন্ধ করে যাও আমি এখনি
চলে যাব।
লিটন : কাপটা নিয়া যামু চাতো ঠান্ডা হইয়া গেছে আর
এক কাপ দেই।
রাজন : না লাগবে না। তুমি নিয়ে যাও।
লিটনের প্রস্থান।
রাজন : (চিন্তিত এদিক সেদিক দেখে বের হয়ে যাবে।)
কাট

দৃশ্য-৪
বারান্দা
সুমনা।
সুমনা বারান্দায় দারিয়ে নিচের দিকে তাকাবে। এক জোড়া দম্পত্তি রিকসায় করে আসছে ঠিক সুমনা যখন প্রথম রাজনের সাথে ঢাকা এসেছিল সেরেকম একটি দৃশ্য। সুমনা কল্পনায় চলে যাবে।

দৃশ্য-৫ ফ্লাশ ব্যাক
রাস্তা/দিন
সুমনা ও রাজন রিকশায় করে আসছে। তাদের সাথে বড় বড় দুটি ব্যাগ।
রাজন : যে বাড়িটা ভাড়া করেছি। বাড়িটা খুব সুন্দর।
সুমনা : ঢাকা শহরের বাড়ি আমার ভালো লাগেনা। উঠান নেই , পুকুর পার নেই, নেই কোন গাছ গাছালী।
রাজন : আমার কিছুই দরকার নেই তুমি থাকলেই হবে, তোমর কাছেই আছে উঠান, পুকুর আর গাছ গাছালী।
সুমনা : তুমি যা বলনা, আচ্ছা তুমি না বলেছিলে
ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবে।
রাজন : আরে কেলতো এলাম।
সুমনা : না আজই নিয়ে যাবে। তুমি সারাদিন অফিসে থাকবে আমি একা একা বাসায় কি করব?
রাজন : আচ্ছা ঠিক আছে যাব।
বিকট শব্দে হর্ন বাজবে।
সুমনা : (কানে হাত দিবে।) মাগো…
কাট