দৃশ্য-১৭
সুমনার ড্রইং/দিন
সুমান, সালমা
সালমা পাশের বাড়ির ভাড়াটে। দুজনে বসে গল্প করছে। সুমনার চখে মুখে টেনশান।
সালামা : আমিতো ভাবি অবাক এককোটি টাকা আমার চৌদ্দ পুরুষও এত টাকা এক সাথে দেখেনি। ইস টাকা গুলো যদি আমি পেতাম!
সুমনা : কি করতেন..?
সালমা : এই মেয়ে বলে কি, কি করতাম। প্রথমেই একটা ফ্লাট, না ফ্লাট না বাড়ি কিনে ফেলতাম বাড়ি কিনে যত বাকি থাকতো তা দিয়া দেশ বিদেশ ঘুরে বেরাতাম আর বসে বসে খেতাম।
সুমনা : ভাবি পুলিশ কি চলে গেছে:
সালমা : না শুনেছি আরো পুলিশ আসবে বাড়ি বাড়ি তল­াশি চালাবে। পুলিশের ধারনা আশে পাশের কেউ বস্তাটি দেখতে পেয়ে নিয়ে গেছে।
সুমনা : (ঘামতে থাকবে তার মাথা গুরাবে)
সালমা : কি হয়েছে ভাবি আপনি ঘামছেন কেন?
সুমনা : কেমন যেন শরিরটা খারাপ লাগছে, ভাবি কিছু মনে করবেন না আমি একটু রেস্ট নিব।
সালমা : সরি ভাবি আপনি রেস্ট নেন আমি আর একটু খোজ খবর নিয়ে দেখি টাকা গুলো পাওয়া গেল কিনা। (প্রস্থান)
সালমা : (দ্রুত দরাজা বন্ধ করে বেড রুমে দিকে প্রস্থান।
ফ্রেম আউট।)

দৃশ্য-১৮
বেডরুম/দিন
সুমনা
বেড রুমে প্রবেশ করে বস্তাটা ভালো করে বাধবে টেনে টেনে । ফ্রেম আউট হবে।
কাট

দৃশ্য-১৯
রান্না ঘর/দিন
সুমনা।
বস্তা নিয়ে রন্না ঘরে প্রবেশ করবে।
জানালা বন্ধ করবে।

ঘরের এক কনে রাখা চালের ড্রামের ভিতর বস্তাটা রাখার চেষ্টা করবে। ব্যার্থ হয়ে।

কিছু টাকা বের করে
দু তিনটি পাতিলের ভিতর রাখবে।

বাকিটা ড্রামে রাখবে।
কলিং বেলের শব্দে চমকে উঠবে। ঘাম মুছবে।
সুমনা : (স্বগত) কে হতে পারে পুলিশ! না আমি এই
টাকা কাউকে দিবো না।
(সে আবার ড্রাম থেকে বস্তা বের করে। টানতে টানতে বের হয়ে যাবে। অন্য দিকে বেল বেজেই যাবে।
ফ্রেম আউট
কাট

দৃশ্য-১৯
ড্রইংরুম/দিন
সুমনা।
(ড্রইং রুমে প্রবেশ করে এদিক সেদিক দেখে সোফার পিছনে কার্পেটের নিচে টাকা ভাজ করে রাখবে।) বাকিটা টেনে টেনে অন্য রুমে নিয়ে যাবে। খালি হাতে ফিরে আসবে। ঘাম মুছবে নিজেকে মানষিক ভাবে সামলাবে।
ঘুমের ভান করে দরজা খুলবে। (কে….)
অবাক হয়ে তাকাবে কেউ নেই।

আশে পাশে দেখবে। কাউকে না পেয়ে খুশি হবে।
নিচের দিকে চোখ যেতেই দেখবে। একটি চিঠি। তুলি নিয়ে রুমে প্রবেশ করবে।

সোফায় বসে চিঠি খুলবে। পরবে..

বাবা রাজন,
আমার স্নেহ ও আদন নিবা, তুমি আর বৌ কেমন আছ জানাইবা। অনেক দিন হইলো তুমি বাড়ি আসনা। তোমারে দেখতে খুব মন চাইতাছে। পারলে একবার বাড়ি আসিবা। পরসমাচার, পারলে হাজার পাঁচেক টাকা পাঠাইবা, জমিতে সার দেয়ার সময় হইছে। এই মুহুর্তে সার দিতে না পারিলে ফসল ঘরে তোলা যাইব না। গত দুই মাস তুমি কোন টাকা পাঠও নাই বড়ই হাত টানের মধ্যে আছি। বিশেষে আর কি লিখব।

ইতি
তোমার বাবা

(চিঠি কাত করে পরবে, সেখানে লেখা) ” বি: দ্র: টাকাটা খুব জররী অবশ্যই পাঠাইবা।
সুমনা : (হাসবে) বাবা আপনাকে চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করছে। পাঁচ হাজার না পাঁচ লাখ টাকা পাঠায় দিবে। রাজনের পরাশোনার জন্য আপনি যে জমি বিক্রী করেছেন তা আবার ফেরৎ আনবেন। (হঠাৎ থেমে যাবে শিড়ীতে পায়ের শব্দের মত মনে হবে, নিজেকে শক্ত করে ফেলবে। আস্তে আস্তে দরজার দিকে যাবে। এ পাশ থেকেই জিজ্ঞেস করবে।) কে…? কে…!!
(কোন শারা শব্দ পাবে না। দরজা খুলবে)
কাট টু