দৃশ্য-৬
ফ্লাশ ইন
বারান্দা/দিন
সুমনা।
বারান্দায় দাড়িয়ে আছে তার কল্পনা ভাঙ্গবে।

দুর থেকে দেখবে রিক্সায় বসে থাকা মেয়েটি কানে হাত দিয়ে বসে আছে।

সুমনা হাসবে।

রিক্সাটি ক্রস করতেই দেখবে একটি ছেলে একটি বস্তা হাতে দৌড়ে আসছে।

পুরো রাস্তায় আর কেউ নেই। তার বেশ একটু দুরে এক দল পুলিশ ছেলেটিকে তাড়া করছে।
ছেলেটি রাস্তার মোর ঘুরেই দেয়াল ঘেরা একটি পরিত্যাক্ত যায়গায়
বস্তাটি ফেলে চলে যাবে।

(পুলিশ তা দেখতে পাবে না) পুলিশ ছেলেটাকে তাড়া করবে।

সুমনার বারান্দা থেকে বস্তাটি স্পস্ট দেখা যাবে।

সুমনা এদিক সেদিক তাকিয়ে বারান্দা থেকে বের হবে।

মেইন গেইট বন্ধ করে শিড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসবে।

গলিতে কোন লোকজন নেই সে দ্রুত পরিত্যাক্ত জমিটির দিকে যাবে।

বস্তাটির কাছে গিয়ে দাড়াবে।

আসে পাশে তাকিয়ে দেখবে কেউ নেই।

বস্তাটির মুখ দড়ি দিয়ে বাধা।
সে খুলতে নিয়ে খুলবে না।
ওজন দেখবে ।

বস্তাটি নিয়ে বের হবে।

বের হবার সময় ময়লা নিয়ে যায় যে ছেলেটি তার সামনে পরবে।
গনেষ : আপা আপনে এইখানে কি করেন?
সুমনা : না কিছুনা, ভুল করে এই বস্তাটা ফেলে
দিয়েছিলাম।
গনেষ : কি আছে এর মইদ্দে।
সুমনা : ইয়ে মানে তেমন কিছু না পুরানা কাগজ পত্র।
গনেষ : মনে হইতাছে অনেক ওজন দেন আমি দিয়া
আসি।
সুমনা : লাগবে না। আমিই পারব। (হাটতে থাকবে)
গনেষ তাকিয়ে থাকবে।
সুমনা একটু এগিয়ে পিছু তাকাবে।

দেখবে গনেষ তখনও তাকিয়ে আছে।

ময়লা ওয়ালা চোখ ফিরিয়ে নিয়ে নিজের কাজে মন দিবে।

সুমনা বস্তা নিয়ে শিড়ী বেয়ে উপরে উঠে আসবে।

বেড রুমে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে দিব।

তার শরির বেয়ে ঘাম বের হবে এবং হাপাতে থাকবে।
সুমনা : (স্বগত) কি আছে এতে, আমিই বা চোরের মত এটা নিয়ে আসলাম কেন! বোমা টোমা নাতো! না এটা এখন খুলবা না রাজন আসুক তার পর। রাজন এসে যদি দেখে আজে বাজে জিনিষ তাহলে হাসবে। হি…! না হাত মুখ ধুয়ে আসি। (বস্তাটা খাটের নিচে রেখে বাথ রুমে যাবে)
কাট

দৃশ্য-৭
অফিস/দিন
রাজন, রতন।
রতনের অফিস। চকুরীর ব্যাবস্থা প্রইভেট টিউটর দেয়া ইত্যাদি তার কাজ। রতন ও রাজন একই গ্রামের ছেলে এবং বন্ধু।
রাজনের প্রবেশ।

রতন : রাজন আয় বস। তোদের কোম্পানিটা কি একে বারে বন্ধ হয়ে গেছে?
রাজন : হু…
রতন : বেতন দিয়েছে?
রাজন : না..
রতন : শুনলাম ফার্মসিউটিকেল্স দিবে টাকার তো
অভাব থাকার কথা না।
রাজন : আবারো ডেট দিয়েছে, আগামী সপ্তাহে নাকি দিবে। তোকে না একটি চাকুরী কথা বলেছিলাম?
রতন : চাকুরীর বাজার খুব খারাপ একটি চাকরী আছে তুই করতে পারতি। বেতনও ভালো কিন্তু লাখ দুয়েক টাকা খরচ করতে হবে।
রাজন : (চুপ করে থাকবে।)
রতন : এ ছাড়া আর একটা আছে এখনি দিতে পারি বেতন খুব কম পাঁচ হাজার দিবে কিন্তু তুই তো কম্পিউটার জানিষ না।
রাজন : ক¤িপউটার অপারেটর?
রতন : হ্য..
রাজন : শিখে নিলে হবে না?
রতন : উহু..তাদের এই মুহুর্তেই দরকার দু এক দিনের মধ্যে নিয়ে নিবে। আর তা ছাড়া এই বেতনে তোর চলবে না, তুই এক কাজ কর টাকা ম্যানেজ কর যা পারিষ বাকিটা আমি ভরে দিব বেতন পেয়ে আমাকে দিয়ে দিষ।
রাজন : কত?
রতন : লাখ কানেক। তুই কি কিছুক্ষন বসবি বাইরে
কয়েএকজন বসে আছে।
রাজন : আমি চলে যাচ্ছি, তুই দেখ কম্পিউটার অপারেটরের চকুরীটা পাওয়া যায় নাকি আমি এক মাসের মধ্যে শিখে নিব।
রতন : মনে হয় সম্ভব না তার পরেও আমি দেখব।
রাজন : আসি তাহলে কাল একবার আসব তুই খোজ
নিয়ে রাখিস।
রতন : ঠিক আছে।
রাজন : আসি (হ্যান্ডসেক করে প্রস্থান)
রতন : তাকিয়ে থেকে মাথা নাড়াবে।

কাট

দৃশ্য-৮
সুমনার বেড/দিন
সুমনা
সুমনা বাথ রুম থেকে বের হয়ে মুখ মুছবে। খাটের নিচ থেকে
বস্তাটা বের করে খাটের উপর রাখবে খুলতে নিবে। (স্বগত) যদি অনেক টাকা হয়।…ফ্লাশ ব্যাক।

দৃশ্য-৯
ফ্লাশ ব্যাক
সুমনার বেড/রাত
রাজন, সুমনা
রাজন, শুয়ে শুয়ে বই পরছে। সুমনা, ড্রেসিং টেবিলে চুল বাধছে। রাজন, বইয়ের পাতা উল্টাতেই একটি লটারীর টিকিট বের হয়ে আসবে। রাজন হাতে নিয়ে অবাক হবে।
রাজন : লটারী কথাথেকে এলো!
সমনা : আমি রেখেছি।
রাজন : কোথায় পেলে?
সুমনা : কিনেছি, কালইতো ড্র দেখত!
রাজন : ১২ ই জানুয়ারী, হা কালই ড্র..
সুমনা : (বিছানায় এসে বসবে) এই শোন না আমরা যদি প্রথম পুরুস্কারটা পেয়ে যাই তাহলে এত টাকা দিয়ে কি করব?
রাজন : হাসবে।
সুমনা : হাসবে না, বলনা কি করবে?
রজন : তুমি কি করতে চাও?
সুমনা : আমি! আমার এত টাকা লাগবে না দু লাখ টাকা হলেই হবে। ডাক্টার বলেছে দু’লাখ টাকা হলেই আমাদের বাবু হবে ঐ টাকাটা হলেই হবে।
রাজন : তুমি এত ভেবোনা তোমার চিকিৎসার জন্য মাত্র দু লাখ টাকাতো সেটার একটা ব্যাবস্থা আমি করব। তুমি এদিক এসোত..
কাট