ঘরে বসে নাগরিক সেবা প্রাপ্তি এবং মেয়রের কাছে অভিযোগ জানানোর সুযোগ করে দিতে আগামী পহেলা জানুয়ারি ‘সবার ঢাকা’ মোবাইল অ্যাপ চালু করছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।
মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম মঙ্গলবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ফেইসবুক পেইজে লাইভে এসে এই ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, “এই অ্যাপের মাধ্যমে একদিকে যেমন বাসায় বসে বিভিন্ন নাগরিক সেবা নেওয়া যাবে, তেমনি নানা বিষয়ে অভিযোগ করা যাবে।”

‘জনতার মুখোমুখি নগরসেবক’ শিরোনামে হওয়া লাইভে নগরবাসীর নানা অভিযোগ, প্রশ্ন, মতামত শোনেন মেয়র। আশ্বাস দেন সমস্যা সমাধানের।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু হওয়া লাইভ চলে প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা। এ সময় সাংবাদিকদের কাছ থেকেও নগরের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন মেয়র। লাইভ সঞ্চালনা করেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস।

ফেরদৌস জানান, নাগরিকদের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন এসেছে শহরের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে।

নগরবাসীর প্রতিনিধি হয়ে ফেরদৌস মেয়রের কাছে জানতে চান, ডিএনসিসি কবে পরিচ্ছন্ন শহর হবে?

জবাবে মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, “সবাই সবুজ, পরিচ্ছন্ন শহর চায়। কিন্তু ঢাকা শহর গড়ে তোলা হয়েছে অপরিকল্পিতভাবে। এখানে সব ওয়ার্ডে ময়লা রাখার জায়গাও নেই।

“কেন নেই? আমরা যখনই নগর পরিকল্পনা করি তখন একটি নগরকে সুন্দর রাখার জন্য নগরের কোন স্থানে ময়লা ফেলব তার জন্য কোনও জায়গা রাখা হয়নি। অনেক বড় বড় বিল্ডিং হয়, কিন্তু ময়লা ফেলার স্থান নেই। আমাদের ৭-৮ কাঠা জায়গা দিলেই আমরা এসটিএস করতে পারি। কিন্তু সেটাও পাওয়া যায় না।”

মশা মারার নতুন ওষুধ ‘মসকিটন’ ব্যবহার শুরু করেছে ডিএনসিসি। এরপরও শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে কিউলেক্স মশার উপদ্রব। এই ওষুধ কার্যকর কি না জানতে চাইলে মেয়র বলেন, বিষয়টি পরীক্ষাধীন আছে।

“গত শীতকালের চেয়ে এই শীতে মশা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রেখেছি। এটার ধারাবাহিকতা রাখতে হবে। আমরা খাল ও লেক পরিষ্কার করেছি। আমরা ফোর্থ জেনারেশন ওষুধ নিয়ে এসেছি। ৬৬৬টি স্থানে ওষুধগুলো দিয়েছি। এই ওষুধ বিভিন্ন দেশ ব্যবহার করে ভালো ফল পেয়েছে। এ কারণে আমরাও এটা এনেছি। এর ফল পেতে হয়ত আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে।”

নগরজুড়ে বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত প্রসঙ্গে আতিকুল ইসলাম বলেন, বেওয়ারিশ কুকুরকে বিরক্ত না করলে তারা হিংস্র হয় না। ডিএনসিসি কুকুরকে জলাতঙ্কের টিকা দিচ্ছে। এছাড়া কুকুর বন্ধ্যাকরণের কাজও করা হবে।

“এই মুহূর্তে আমাদের কাজ হচ্ছে বন্ধ্যাকরণ করতে হবে, কুকুরকে টিকা দিতে হবে। একটি বেরসকারি প্রতিষ্ঠানকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনোও কুকুরকে মারা বা স্থানান্তর করা হবে না। আমরা কুকুরকে ভ্যাকসিন ও বন্ধ্যাকরণ করব।”

নাগরিকরা জলজট, যানজট, ফুটপাত ও রাস্তাঘাট দখল, পরিবেশ দূষণ নিয়ে নানা প্রশ্ন করেন আতিকুল ইসলামকে।